📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহর ভয় ও ধৈর্য

📄 আল্লাহর ভয় ও ধৈর্য


[১৩২.] আনাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
ثلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ اسْتَوْجَبَ الثَّوابَ وَاسْتَكْمَلَ الْإِيْمَانَ خُلُقُ يَعِيشُ بِهِ فِي النَّاسِ وَوَرَعُ يَحْجُزُهُ عَنْ مَحَارِمِ اللهِ وَحِلْمٌ يَرُدُّهُ عَنْ جَهْلِ الْجَاهِلِ
“তিনটি বিষয় যার মধ্যে থাকবে, সে অবশ্যই তার প্রতিদান পাবে এবং তার ঈমানকে পরিপূর্ণ করে নেবে:
» উত্তম আচরণ, মানুষের সঙ্গে আচরণের সময় যার প্রতিফলন সে ঘটায়;
» আল্লাহভীতি, যা তাকে আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমা অতিক্রম করা থেকে বাধা দিয়ে থাকে; এবং
» ধৈর্য, যা তাকে মূর্খের মূর্খতা (সুলভ আচরণ) থেকে ফিরিয়ে রাখে।”'
বাযযার (দ্রষ্টব্য: কাশফুল আস্তার) ১/২৬ (৩১), বাযযারের মতে বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু সুলাইমান তার কয়েকটি হাদীসে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি (হাইসামি); আত-তারগীব ২/৫৬০ (১০); কানযুল উম্মাল ১৫/৮০৯ (৪৩২১৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৭ (১৮৬); জামউল ফাওয়াইদ ৬৯।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 কোমল ব্যবহার ও মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা

📄 কোমল ব্যবহার ও মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা


[১৩৩.] আবু সাঈদ খুদরি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحَاسِنُهُمْ أَخْلَاقًا ، الْمُوَطَّؤُوْنَ أَكْنَافًا ، الَّذِينَ يَأْلَفُوْنَ وَيُؤْلَفُوْنَ ، وَلَيْسَ مِنَّا مَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ
"মুমিনদের মধ্যে তাদের ঈমান অধিক পূর্ণাঙ্গ-
» যাদের আচরণ অধিক সুন্দর,
» ব্যবহার কোমল,
» যারা অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং যাদের সঙ্গে অন্যরাও সুসম্পর্ক বজায় রাখে।
যে-ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে না এবং যার সঙ্গে অন্যরাও সুসম্পর্ক বজায় রাখে না-সে আমাদের দলভুক্ত নয়।"
তাবারানি, আওসات ৩/২২৯ (৪৪২২), ইসনাদটি হাসান (দারানি); বাইহাকি, শুআব ৬/২৩২ (৭৯৮৩); কানযুল উম্মাল ৩/১২ (৫১৭৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৮ (১৯৭)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 বিপদকে নিয়ামত মনে করা ও নামাজের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে থাকা

📄 বিপদকে নিয়ামত মনে করা ও নামাজের জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে থাকা


[১৩৪.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَيْسَ بِمُؤْمِنٍ مُسْتَكْمِلِ الْإِيْمَانِ مَنْ لَمْ يَعُدَّ الْبَلَاءَ نِعْمَةً وَالرَّخَاءَ مُصِيبَةٌ
"সে-ব্যক্তির ঈমান পূর্ণাঙ্গ নয়, যে বিপদকে নিয়ামাত আর আরামদায়ক অবস্থাকে মুসিবত মনে করে না।"
তারা বললেন, "আল্লাহর রাসূল, কীভাবে?"
তিনি বললেন-
لأَنَّ الْبَلَاءَ لَا يَتْبَعُهُ إِلَّا الرَّخَاءُ، وَكَذَلِكَ الرَّخَاءُ لَا تَتْبَعُهُ إِلَّا الْمُصِيبَةُ
"কারণ, বিপদের পর আসে আরাম, আর একইভাবে আরামের পর আসে মুসিবত।"
وَلَيْسَ بِمُؤْمِنٍ مُسْتَكْمِلِ الْإِيْمَانِ مَنْ لَمْ يَكُنْ فِي غَمَّ مَا لَمْ يَكُنْ فِي صَلَاةٍ
"সে-ব্যক্তির ঈমান পূর্ণাঙ্গ নয়, যে নামাজ শুরু করার আগ-পর্যন্ত পেরেশানিতে থাকে না।”
তারা বললেন, "আল্লাহর রাসূল, কেন?”
তিনি বললেন-
لأَنَّ الْمُصَلِّي يُنَاجِي رَبَّهُ وَإِذَا كَانَ فِي غَيْرِ صَلَاةٍ إِنَّمَا يُنَاجِيْ ابْنَ آدَمَ
"কারণ, নামাজ আদায়ের সময় ব্যক্তি তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে, আর নামাজের বাইরে তার আলাপ হয় আদম-সন্তানের সঙ্গে।”'
তাবারানি, কাবীর ১১/৩২ (১০৯৪৯), বর্ণনাসূত্রে আবদুল আযীয ইবনু ইয়াহইয়া মাদানি আছে, যার ব্যাপারে বুখারি বলেন-সে হাদীস জাল করত (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/১৬৬ (৭২৯), ৩/৩৩৫ (৬৮১০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৬-৯৭ (৩৪৮)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ভালোবাসা, ঘৃণা, দান, বঞ্চনা—সবই আল্লাহর উদ্দেশে হওয়া

📄 ভালোবাসা, ঘৃণা, দান, বঞ্চনা—সবই আল্লাহর উদ্দেশে হওয়া


[১৩৫.] আবূ উমামা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الْإِيْمَانَ وَإِنَّ مِنْ أَقْرَبِكُمْ إِلَيَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحَاسِنَكُمْ أَخْلَاقًا
“যে-ব্যক্তি
» আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশে ভালোবাসে,
» আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশে ঘৃণা করে,
» আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশে দান করে, এবং
» আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশে বঞ্চিত করো।
-সে তার ঈমান পরিপূর্ণ করে নিল। তোমাদের মধ্যে যার আচরণ অধিক সুন্দর, কিয়ামাতের দিন সে থাকবে আমার অধিক নিকটে।”
তাবারানি, কাবীর ৮/২০৮ (৭৭৩৭), ৮/২০৮ (৭৬১৩), দুটি সনদের একটির বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি ৮/২৪); তাবারানি, আওসাত ৬/৩৬৩ (৯০৮৩); আবু দাউদ ৪৬৮১, সহীহ; তিরমিযি ২৫২১; আহমাদ ৩/৪৩৮ (১৫৬১৭), ৩/৪৪০ (১৫৬৩৮); বাইহাকি, শুআব ৬/৪৯২ (৯০২১); ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশুক ১৭/১৬৮; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৩৪৬৯; আমিউল উসূল ২৪, ২৫; কানযুল উম্মাল ৯/১০ (৩৪৬৭৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯০ (৩১১); জামউল ফাওয়াইদ ৭২।
[১৩৬.] ইবনু মাসউদ বলেন, "ঈমানের একটি দিক হলো-একজন ব্যক্তি তার ভাইকে একমাত্র আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশে ভালোবাসবে।”
তাবারানি, কাবীর ৯/১৯৩ (৮৮৬০), বর্ণনাসূত্রে ইসহাক দাবারি আছেন, আবদুর রাযযাক ও ইসহাকের মাঝখানে সূত্রটি বিচ্ছিন্ন (হাইসামি); আবদুর রাযযাক ১১/২০১ (২০৩২৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯০ (৩১২)।
[১৩৭.] মুজাহিদ ইবনু উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। 'তিনি আমাকে বলেছেন-
أَحِبُّ فِي اللهِ ، وَأَبْغِضُ فِي اللهِ ، وَوَالِ فِي اللهِ ، وَعَادِ فِي اللهِ ، فَإِنَّهُ لَا تُنَالُ وِلَايَةُ اللَّهِ إِلَّا بِذَلِكَ، وَلَا يَجِدُ رَجُلٌ طَعْمَ الْإِيمَانِ - وَإِنْ كَثُرَتْ صَلَاتُهُ وَصِيَامُهُ - حَتَّى يَكُونَ كَذَلِكَ، وَصَارَتْ مُؤَاخَاةُ النَّاسِ فِي أَمْرِ الدُّنْيَا ، وَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَجْزِي عَنْ أَهْلِهِ شَيْئًا
"আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসবে, আল্লাহর উদ্দেশে ঘৃণা করবে, আল্লাহর উদ্দেশে বন্ধুত্ব করবে, আর আল্লাহর উদ্দেশে শত্রুতা করবে; কারণ এর মাধ্যমেই কেবল আল্লাহর বন্ধুত্ব/অভিভাবকত্ব লাভ করা যায়। কোনও ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পাবে না-তার নামাজ-রোযার পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন-যতক্ষণ-না সে এসব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে।
মানুষের ভ্রাতৃত্ববোধ দুনিয়াকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, অথচ এ-ধরনের ভ্রাতৃত্ববোধ ব্যক্তির কোনও উপকারে আসবে না।"
ইবনু উমর আমাকে বলেন-
إِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالْمَسَاءِ ، وَإِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالصَّبَاحِ ، وَخُذْ مِنْ صِحَتِكَ لِسَقَمِكَ ، وَمِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ ، فَإِنَّكَ يَا عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ لَا تَدْرِي مَا اسْمُكَ غَدًا
"সকাল হলে মনে মনে বিকালের পরিকল্পনায় মেতে ওঠো না[১], আর সন্ধ্যায় উপনীত হলে মনে মনে সকালের পরিকল্পনা করো না[২]।
অসুস্থতার আগে সুস্থতাকে কাজে লাগাও, আর মৃত্যুর আগে কাজে লাগাও জীবনকে; কারণ, আবদুল্লাহ ইবনু উমর! তুমি জানো না, আগামীকাল তোমার নাম কী হবে (জীবিত, নাকি মৃত)।”'
তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ আমার শরীরের অংশবিশেষ[৩] ধরে বলেছিলেন-
كُنْ فِي الدُّنْيَا غَرِيبًا أَوْ عَابِرَ سَبِيلٍ ، وَعُدَّ نَفْسَكَ فِي أَهْلِ الْقُبُورِ
"দুনিয়ায় অচেনা মানুষ অথবা মুসাফিরের মতো থেকো, আর নিজেকে কবরবাসীদের [৪] একজন হিসেবে গণনা কোরো।"'
তাবারানি, কাবীর ১২/৪১৭ (১৩৫৩৭), বর্ণনাসূত্রের লাইস ইবনু আবী সুলাইম অধিকাংশের মতে ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); বুখারি ৬৪১৬; তিরমিযি ২৩৩৩; আহমাদ ২/২৪ (৪৭৬৪); ইবনু আদি ২/৬৬১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯0 (৩১৩)।
[১৩৮.] মুআয (ইবনু আনাস জুহানি) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে সর্বোত্তম ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, নবি ﷺ বলেন-
"সর্বোত্তম ঈমান হলো-
أَفْضَلُ الْإِيْمَانِ أَنْ تُحِبَّ لِلهِ ، وَتُبْغِضَ فِي اللهِ ، وَتُعْمِلَ لِسَانَكَ فِي ذِكْرِ اللَّهِ
> তুমি আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসবে;
> আল্লাহর উদ্দেশে ঘৃণা করবে; আর
> তোমার জিহ্বাকে আল্লাহর যিকরের কাজে লাগিয়ে রাখবে।"
তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল! আর কী?”
নবি ﷺ বলেন-
وَأَنْ تُحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ ، وَتَكْرَهُ لَهُمْ مَا تَكْرَهُ لِنَفْسِكَ ، وَأَنْ تَقُوْلَ خَيْرًا أَوْ تَصْمُتَ
"আর তুমি
> নিজের জন্য যা পছন্দ করো, (অপর) মানুষের জন্য তা পছন্দ করবে;
> নিজের জন্য যা অপছন্দ করো, তাদের জন্য তা অপছন্দ করবে; আর
> ভালো কথা বলবে, নতুবা চুপ থাকবে।”'
আহমাদ ৫/২৪৭ (২২১৩২), সহীহ লি গাইরিহী (আরনাউত), ৫/২৪৭ (২২১৩০); তাবারানি, কাবীর ২০/১৯১ (৪২৫), ২০/১৯১ (৪২৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬১ (২১২), ১/৮৯ (৩০৬)।
[১৩৯.] বারা ইবনু আযিব বলেন, 'আমরা নবি ﷺ-এর কাছে বসে ছিলাম। তখন তিনি বলেন-
أَيُّ عُرَى الإِسْلَامِ أَوْثَقُ
"ইসলামের কোন খুঁটিটি সবচেয়ে মজবুত?”
তারা বলেন, "নামাজ।”
নবি ﷺ বলেন, حَسَنَةٌ وَمَا هِيَ بِهَا "এটি একটি ভালো কাজ।[৩] তবে (আমি যেটি জিজ্ঞেস করেছি) এটি সেটি নয়।”
তারা বলেন, "যাকাত।”
নবি ﷺ বলেন, حَسَنَةٌ وَمَا هِيَ بِهَا "এটি ভালো কাজ। তবে এটি সেটি নয়।”
তারা বলেন, "রমজান মাসে রোযা।”
নবি ﷺ বলেন, حَسَنُ وَمَا هُوَ بِهِ "এটি ভালো কাজ। তবে এটি সেটি নয়。”
তারা বলেন, "হজ।”
নবি ﷺ বলেন, حَسَنُ وَمَا هُوَ بِهِ “এটি ভালো কাজ। তবে এটি সেটি নয়।”
তারা বলেন, "জিহাদ।”
নবি ﷺ বলেন, حَسَنُ وَمَا هُوَ بِهِ “এটি ভালো কাজ। তবে এটি সেটি নয়।”
(পরিশেষে) নবি ﷺ বলেন—
إِنَّ أَوْسَطَ عُرَى الْإِيْمَانِ أَنْ تُحِبُّ فِي اللَّهِ وَتُبْغِضَ فِي اللَّهِ
"ঈমানের মধ্যবর্তী খুঁটি।[২] হলো-আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা।"'
আহমদ ৪/২৮৬ (১৮৫২৪), হাসান বিশ-শাওয়াহিদ (আরনাউত); তায়ালিসি ৭৮৩; ইবনু আবী শাইবা ১১/৪১ (৩১০৫৯), সহীহ বিশ- শাওয়াহিদ (আওয়ামা), ১৩/২২৯ (৩৫৪৭৯); ইবনু আবী শাইবা, আল-ঈমান ১১০; রূয়ানি ৩৯৯; বাইহাকি, শুআব ১/৪৫-৪৬ (১৩), ১/৪৬ (১৪), ৭/৬৯-৭০ (৯৫১১); আত-তামহীদ ১১/২৬৬; আত-তারগীব ৪/২৪ (৩০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৯-৯০ (৩০৭)।
]১৪০.] আবদুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন يَا ابْنَ مَسْعُود "ইবনু মাসঊদ!”
আমি বলি, "হাজির!”
তিনবারের পর নবি ﷺ বলেন—
هَلْ تَدْرُوْنَ أَيُّ عُرَى الْإِيمَانِ أَوْثَقُ؟
"তোমরা কি জানো, ঈমানের কোন খুঁটিটি অধিক মজবুত?”
আমি বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।"
তিনি বলেন-
الْوَلَايَةُ فِي اللهِ، وَالْحُبُّ فِي اللهِ ، وَالْبُغْضُ فِي اللهِ
"(কাউকে) আল্লাহর উদ্দেশে বন্ধু বানানো, আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসা ও আল্লাহর উদ্দেশে ঘৃণা করা।"
তিনি বলেন, يَا ابْنَ مَسْعُودٍ "ইবনু মাসঊদ!”
আমি বলি, "আল্লাহর রাসূল, আমি হাজির।”
তিনি বলেন-
أَيَّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْضَلَ؟
"মুমিনদের মধ্যে কে সর্বোত্তম?”
আমি বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।”
তিনি বলেন-
إِذَا عَرَفُوا دِينَهُمْ أَحْسَنُهُمْ عَمَلًا
"যদি তাদের মধ্যে দ্বীনের জ্ঞান থাকে, তখন তাদের মধ্যে যার আমল বা কাজ সবার চেয়ে সুন্দর (সে-ই সর্বোত্তম) [১]।"
এরপর তিনি বলেন-
يَا ابْنَ مَسْعُودٍ ، هَلْ تَدْرِي أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَعْلَمُ؟
"ইবনু মাসঊদ!তুমি কি জানো, মুমিনদের মধ্যে অধিক জ্ঞানী কে?”
আমি বলি, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।”
তিনি বলেন-
إِذَا اخْتَلَفُوْا أَبْصَرُهُمْ بِالْحَقِّ ، وَإِنْ كَانَ فِي عَمَلِهِ تَقْصِيرُ ، وَإِنْ كَانَ يَزْحَفُ زَحْفًا
“লোকজন যখন মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ে"-এ-কথা বলার সময় তিনি তাঁর আঙুলগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে দেন- “তখন তাদের মধ্যে যে-ব্যক্তি সত্য-উদ্‌ঘাটনে অধিক অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্না, যদিও তার আমলে কিছুটা ঘাটতি থাকে, যদিও তার চলার গতি কিছুটা মন্থর [৪]"
এরপর তিনি বলেন-
يَا ابْنَ مَسْعُودٍ، هَلْ عَلِمْتَ أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ افْتَرَقُوا عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً، لَمْ يَنْجُ مِنْهَا إِلَّا ثَلَاثُ فِرَقِ فِرْقَةً أَقَامَتْ فِي الْمُلُوكِ وَالْجَبَابِرَةِ، فَدَعَتْ إِلَى دِينِ عِيسَى، فَأُخِذَتْ فَقُتِلَتْ بِالْمَنَاشِيرِ، وَحُرِّقَتْ بِالنِّيرَانِ، فَصَبَرَتْ حَتَّى لَحِقَتْ بِاللهِ
ثُمَّ قَامَتْ طَائِفَةٌ أُخْرَى لَمْ تَكُنْ لَهُمْ قُوَّةٌ، وَلَمْ تُطِقِ الْقِيَامَ بِالْقِسْطَ، فَلَحِقَتْ بِالْجِبَالِ، فَتَعَبَّدَتْ وَتَرَهَّبَتْ، وَهُمُ الَّذِينَ ذَكَرَهُمُ اللهُ فَقَالَ وَرَهْبَانِيَّةٌ ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ)
وَفِرْقَةٌ مِنْهُمْ آمَنَتْ، فَهُمُ الَّذِينَ آمَنُوا وَصَدَّقُونِي، وَهُمُ الَّذِينَ رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا، وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ، وَهُمُ الَّذِينَ لَمْ يُؤْمِنُوا بِي وَلَمْ يُصَدِّقُونِي، وَلَمْ يَرْعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا، وَهُمُ الَّذِينَ فَسَّقَهُمُ الله
“ইবনু মাসঊদ! তুমি কি জানো, বানু ইসরাঈলের লোকজনা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল? সেখান থেকে মাত্র তিনটি দল (পরকালীন) মুক্তি পেয়েছো:
» [৩] একটি দল [৪] শাসক ও ক্ষমতাধরদের মধ্যে থেকে ঈসা-এর দ্বীনের দিকে ডাকে; ফলে তাদের গ্রেফতার করে করাত দিয়ে হত্যা করা হয়, আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়; কিন্তু তারা ধৈর্য ধরে এবং একপর্যায়ে আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়।
» তারপর আরেকটি দল দাঁড়িয়ে যায়, যাদের না ছিল [কোনও শক্তি, আর না ছিল সত্যকে কায়েম রাখার কোনও সামর্থ্য], ফলে তারা পাহাড়-পর্বতে চলে যায়, সেখানে গিয়ে তারা উপাসনায় আত্মনিয়োগ করে বৈরাগী হয়ে যায়。[১] এসব লোকের কথাই উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন—
আর বৈরাগ্যবাদের নীতি আমি তাদের ওপর বাধ্যতামূলক করে দিইনি, (বরং) তারা এটি আবিষ্কার করে নিয়েছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে, কিন্তু যথাযথভাবে এর হক আদায় করতে পারেনি। তারপর তাদের যেসব লোক ঈমান এনেছে, আমি তাদের প্রতিদান দিয়েছি; তবে তাদের অনেকেই অবাধ্যতার পথে চলতে আগ্রহী। (সুরা আল-হাদীদ ৫৭:২৭)।
> তাদের একটি দল ঈমানদার। তারাই আমার প্রতি ঈমান এনেছে, আমাকে সত্যায়ন করেছে, আর এরাই যথাযথভাবে এর হক আদায় করতে পেরেছে। তবে তাদের অনেকেই অবাধ্যতার পথে চলতে আগ্রহী, আর তারাই আমার প্রতি ঈমান আনেনি, আমাকে সত্যায়ন করেনি, যথাযথভাবে এর হক আদায় করতে পারেনি, আর আল্লাহ এদেরকেই অবাধ্যতার পথে ধাবিত করে দিয়েছেন।”
তাবারানি, কাবীর ১০/২১২-২১২ (১০৩৫৭), এটি তাবারানি দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন, একটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে বুকাইর ইবনু মারুফ বাদে বাকি সবাই বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন; বুকাইরের মধ্যে কিছুটা ত্রুটি থাকলেও আহমাদ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ তাকে ‘বিশ্বস্ত’ আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি ৭/২৬০-২৬১), সহীহ বিশ শাওয়াহিদ (আওয়ামা ৩১০৮৩), ১০/২৭১-২৭২ (১০৫৩১); তাবারানি, আওসাত ৩/২৪৬ (৪৪৭৯); তাবারানি, সগীর ৬২৪; ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ ১১/৪১ (৩১০৫৯), ১১/৪১ (৩১০৬০), ১১/৪৮ (৩১০৮৩), ১৩/২২৯ (৩৫৪৭৯); ইবনু আবী শাইবা, আল-ঈমান ১৩৪; তায়ালিসি ৩৭৬; উকাইলি ৩/৪০৯; হাকিম ২/৪৮০ (৩৭৯০); হিল্‌ইয়া ৪/১৭৭; বাইহাকি, কুবরা ১০/২৩৩ (২১১১১); বাইহাকি, শুআব ৭/৬৮ (৯৫০৯), ৭/৬৯ (১৫১০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯০ (৩১০)।
[১৪১.] আবূ যার বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ বের হয়ে আমাদের কাছে এসে বলেন—
أَتَدْرُونَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟
“তোমরা কি জানো, আল্লাহর কাছে কোন কাজ সবচেয়ে বেশি প্রিয়?”
একজন বলল, “নামাজ ও যাকাত।”
আরেকজন বলল, “জিহাদ।”
নবি ﷺ বলেন—
إِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ الْحُبُّ فِي اللَّهِ، وَالْبُغْضُ فِي اللهِ
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় [১] কাজ হলো—আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসা আর আল্লাহর উদ্দেশে ঘৃণা করা।"
আহমদ ৫/১৪৬ (২১৩০৩), হাসান লি-গাইরিহী (আরনাউত); আবু দাউদ ৪৫৯৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯০ (৩০৮)।
[১৪২.] আনাস থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন,
ثَلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيْمَانِ أَنْ يَكُونُ اللهُ وَرَسُولُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ
"তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করে: [৩]
> আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়;
> কাউকে ভালোবাসলে, কেবল আল্লাহর উদ্দেশেই ভালোবাসে; [৫] এবং
> কুফর বা অবাধ্যতার জীবনে ফিরে যাওয়াকে সেভাবে অপছন্দ করে, যেভাবে সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।[৮]"
বুখারি ১৬, ২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১৬৫/৬৭ (৪৩), ১৬৬/৬৮ (...), ১৬৭ (...); তায়ালিসি ২৬১৭; আহমাদ ২/২৯৮ (৭৯৬৭), ২/৫২০ (১০৭৩৮), ৩/১০৩ (১২০০২), ৩/১৭২ (১২৭৬৫), ৩/১৭৪ (১২৭৮৩), ৩/২০৭ (১৩১৫১), ৩/২০৭ (১৩১৫২), ৩/২৩০ (১৩৪০৭), ৩/২৪৮ (১৩৫৯২), ৩/২৭৫ (১৩৯১২), ৩/২৭৮ (১৩৯৫৯, প্রথম অংশ), ৩/২৮৮ (১৪০৭০); তিরমিযি ২৬২৪; নাসাঈ ৪৯৮৭, ৪৯৮৮, ৪৯৮৯; ইবনু মাজাহ্ ৪০৩৩; বাযযার (কাশফ) ১/৫০ (৬৩); আবূ ইয়া'লা ৬/৩৫ (৩২৭৯); তাবারানি, কাবীর ১/২৫১- ২৫২ (৭২৪), ৮/৩১৪ (৮০১৯); তাবারানি, আওসات ১/৩২০ (১১৪৯), ২/৬৭ (২৫৪০), ৩/৩৮৬ (৪৯০৫); তাবারানি, সগীর ৭২৮; আবদ ইবনু হুমাইদ ১৩২৮; হাকিম ১/৩ (৩), ৪/১৬৮ (৭৩১২); ইবনু হিব্বান ১/৪৭৩ (২৩৭); মুসনাদুশ শিহাব ১/২৭০-২৭১ (৪৪O); হিলইয়া ১/২৭, ২/২৮৮, ৭/২০৪; তারীখু বাগদাদ ২/১৯৯; বাইহাকি, শুআব ৬/৪৯১ (৯০১৮), ৬/৪৯১-৪৯২ (৯০২০), ৭/৭০ (১৫১২); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ২১; জামিউল উসূল ২০; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৫ (১৭৬), ১/৫৬ (১৭৯); ১/৮৮-৮৯ (৩০২), ১/৯০ (৩০৯); কানযুল উম্মাল ৯/১০ (২৪৬৭৯); জামউল ফাওয়াইদ ৬৫, ৬৬।

টিকাঃ
وَاَنْكَحَ لِلَّهِ تَعَالَى [১] “এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) উদ্দেশে (অধীনস্থদের) বিয়ে দিয়ে দেয়” (আহমাদ ১৫৬১৭, ১৫৬৩৮)) |
[১] 'বিকালের অপেক্ষায় থেকো না' (বুখারি ৬৪১৬)。
[২] 'সকালের অপেক্ষায় থেকো না' (বুখারি ৬৪১৬)。
[৩] 'আমার কাঁধ' (বুখারি ৬৪১৬)。
[৪] فِي الْمَوْتُى “মৃতদের” (আহমাদ ২/২৪ (৪৭৬৪))。
[১] أَتَدْرُونَ “তোমরা কি জানো?” (তায়ালিসি ৭৮৩)。
]২[ الْإِيْمَانِ “ঈমানের?” (তায়ালিসি ৭৮৩)。
]৩[ وَلَيْسَ بِذَلِكَ “তবে (আমি যেটি জিজ্ঞেস করেছি) এটি সেটি নয়।” (তায়ালিসি ৭৮৩)。
[৪] 'তারা ইসলামের বিভিন্ন বিধান উল্লেখ করলেন। যখন নবি ﷺ দেখলেন, তাদের কারোর উত্তর সঠিক হয়নি, তখন তিনি বলেন-' (বাইহাকি, শুআব ১৪)。
]৫[ أَوْثَنُ عُرَى الْإِيْمَانِ “ঈমানের সবচেয়ে মজবুত খুঁটি” (তায়ালিসি ৭৮৩(; إِنَّ أَوْثَقَ عُرَى الإِسْلَامِ "ইসলামের সবচেয়ে মজবুত খুঁটি” (আত-তানহীদ ১১/২৬৬)。
]১[ فَإِنَّ أَفْضَلَ النَّاسِ أَفْضَلُهُمْ عَمَلاً إِذَا فَقِهُوا فِي دِينِهِمْ "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যার কাজ সবার চেয়ে উত্তম, যদি তাদের মধ্যে দ্বীনের গভীর উপলব্ধিবোধ থাকে।” (তাবারানি, আওসات ৩/২৪৬ (৪৪৭৯))|
[২] 'আমি বলি, "আল্লাহর রাসূল, আমি হাজির!” তিনি বলেন-' (তাবারানি, কাবীর ১০/২৭১-২৭২ (১০৫৩১))|
]৩[ أَعْلَمُهُمْ بِالْحَقِّ “সত্য সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী” (তায়ালিসি ৩৭৬)。
[৪] আক্ষরিক অর্থ "যদিও সে (শিশুদের মতো) নিতম্বের ওপর হেঁচড়ে চলে” (তাহযীবুল লুগাহ)。
[১] مَنْ كَانَ قَبْلِي “আমার আগের লোকজন” (তাবারানি, কাবীর ১০/২৭১-২৭২ (১০৫০১)); مَنْ كَانَ قَبْلَنَا "আমাদের আগের লোকজন" (হাকিম ২/৪৮০ (৩৭৯০))。
[২] وَمُلَكَ سَائِرُهُمْ “আর অন্য সবাই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে” (তাবারানি, আওসাত ৩/২৪৬ (৪৪৭৯))
[৩] فِرْقَةُ آزَتِ الْمُلُوكَ، فَقَاتَلُوهُمْ عَلَى دِينِهِمْ وَدِينِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ فَأَخَذُوهُمْ فَقَتَلُوهُمْ وَقَطَّعُوهُمْ بِالْمَنَاشِيرِ শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং নিজেদের দ্বীন ও ঈসা ইবনু মারইয়াম -এর দ্বীনের খাতিরে শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। ফলে শাসকরা তাদের গ্রেফতার করে হত্যা করে, করাত দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে।” (তাবারানি, আওসাত ৩/২৪৬ (৪৪৭৯); তাবারানি, কাবীর ১০/২৭১-২৭২ (১০৫৩১))。
[৪] وَفِرْقَةٌ لَّمْ يَكُن لَّهَا طَاقَةٌ بِمُوَازَاةِ الْمُلُوْكِ فَـ “শাসকদের মোকাবিলা করার শক্তি না থাকায়” (উকাইলি ৩/৪০৯)。
[৫] بَيْنَ ظِهْرَنَيْ قَوْمِهِمْ “নিজেদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে” (উকাইলি ৩/৪০৯)。
[৬] بِمُوَازَاةِ الْمُلُوْكِ “শাসকদের মোকাবিলা করার” (উকাইলি ৩/৪০১)。
[৭] وَلَا بِأَنْ يُقِيمُوا بَيْنَ ظَهْرَانَيْ قَوْمِهِمْ فَيَدْعُوْنَهُمْ إِلَى دِينِ اللَّهِ وَدِيْنِ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ নিজেদের জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে, তাদেরকে আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনু মারইয়াম-এর দ্বীনের দিকে ডাকার কোনও সুযোগ” (উকাইলি ৩/৪০১)。
[১] وَفِرْقَةٌ لَمْ تَكُنْ لَهُمْ طَاقَةٌ بِمُوَازَاةِ الْمُلُوكِ، وَلَا بِأَنْ يُقِيمُوا بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ يَدْعُوْنَهُمْ إِلَى دِينِ اللَّهِ وَ دِيْنِ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ، فَسَاحُوا فِي الْبِلَادِ وَتَرَهَّبُوا করার সামর্থ্য, আর না তারা শাসকদের সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনু মারইয়াম -এর দ্বীনের দিকে তাদের ডাকতে পারছিল। ফলে তারা দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈরাগ্যবাদের নীতি গ্রহণ করে।” (তাবারানি, আওসাত ৩/২৪৬ (৪৪৭৯)) |
]2[ وَمَنْ لَّمْ يَتَّبِعْنِي فَأُولَئِكَ هُمُ الْهَالِكُونَ "আর যারা আমার অনুসরণ করে না, তাদের ধ্বংস অনিবার্য।” (তাবারানি, আওসাত ৩/২৮৬ (৪৪৭৯)); فَالْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِي وَصَدَّقُوْنِي وَالْفَاسِقُونَ الَّذِينَ كَذَّبُونِي وَجَحَدُونِي ;((889) 0/286 1165
“অতএব, মুমিন তারা, যারা আমার প্রতি ঈমান এনেছে ও আমাকে সত্যায়ন করেছে; আর ফাসিক তারা, যারা আমাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছে ও প্রত্যাখ্যান করেছে।” (উকাইলি ৩/৪০৯)。
]১[ أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ "সর্বোত্তম কাজ" (আবু দাউদ ৪২৯৯)。
]২[ الإِسْلَام "ইসলামের" (নাসাঈ ৪৯৮১)。
]৩[ وَطَعْمَهُ "ও স্বাদ" (নাসাঈ ৪৯৮৭)。
]৪[ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى "তোমাদের কেউ মুমিন হবে না, যতক্ষণ-না (তার মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকে:(" (আহমদ ৩/২৭৮ (১৩৯৫৯))。
]৫[ مَنْ كَانَ يُحِبُّ لِلَّهِ وَيُبْغِضُ لِلَّهِ “যে আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসে এবং আল্লাহর উদ্দেশে ঘৃণা করে" (তাবারানি, কাবীর ১/২৫১ (৭২৫)); مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَجِدَ طَعْمَ الْإِيمَانِ فَلْيُحِبَّ الْمَرْةَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ “যে-ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেতে চায়, সে যেন মানুষকে কেবল আল্লাহ তাআলার উদ্দেশেই ভালোবাসে" (আহমাদ ৭৯৬৭, ১০৭৩৮)。
]৬[ بَعْدَ إِذْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ "আল্লাহ তাকে (কুফর বা অবাধ্যতার জীবন থেকে) উদ্ধার করার পর, ..." (বুখারি ২১, ৬০৪১)。
]۹[ مِنْ أَنْ يَرْجِعَ يَهُرْدِيًّا أَوْ نَصَرَانِبًا "পুনরায় ইহুদি বা খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়াকে" (মুসলিম ১৬৭ (...); أَنْ يَرْجِعَ عَنِ الإِسْلَام "ইসলাম থেকে ফিরে যাওয়াকে" (আহমাদ ১৯৭৫); أَنْ يَرْتَدَّ عَنْ دِيْنِهِ "নিজের দ্বীন ছেড়ে মুরতাদ হয়ে যাওয়াকে" (তাবারানি, কাবীর ১/২৫১ (৭২৪)。
]৮[ وَأَنْ تُوْقَدَ نَارٌ عَظِيمَةٌ، فَيَقَعَ فِيهَا أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يُشْرِكَ بِاللَّهِ شَيْئًا “সে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করবে, এর চেয়ে তার কাছে অধিক প্রিয় হলো—প্রকাণ্ড আগুন জ্বালানো হলে সে তাতে পড়ে যাবে।” (নাসাঈ ৪৯৮৭)。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00