📄 উত্তম আচরণ
[১২৯.] উমাইর ইবনু কাতাদা থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি বলে, "আল্লাহর রাসূল! নামাজের কোন অংশটি সর্বোত্তম?”
নবি ﷺ বলেন, طُوْلُ الْقُنُوْتِ "দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।”
লোকটি বলে, “কোন ধরনের দান সর্বোত্তম?”
নবি ﷺ বলেন, جَهْدُ الْمُقِل "অল্প সম্পদের অধিকারী লোকের কষ্টের দান।”
লোকটি বলে, “মুমিনদের মধ্যে কার ঈমান অধিক পূর্ণাঙ্গ?”
নবি ﷺ বলেন, أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا “তাদের মধ্যে যার আচরণ অধিক সুন্দর।"'
তাবারানি, কাবীর ১৭/৪৮ (১০৩), ইসনাদটি হাসান (দারানি); তাবারানি, আওসাত ৬/৯৪ (৮১২৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৮ (১৯৪)।
[১৩০.] জাবির বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
"মুমিনদের মধ্যে তার ঈমান অধিক পূর্ণাঙ্গ, যার আচরণ অধিক সুন্দর'১]।”'
বাযযার (কাশফ) ১/২৭ (৩৪), ইসনাদটি সহীহ (দারানি); তাবারানি, আওসات ৩/২২৯ (৪৪২০); কানযুল উম্মাল ৩/১৫ (৫২০২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৮ (১৯৫)।
[১৩১.] আনাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
إِنَّ أَكْمَلَ النَّاسِ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا ، وَإِنَّ حُسْنَ الْخُلُقِ لَيَبْلُغُ دَرَجَةَ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ
"মানুষের মধ্যে তার ঈমান অধিক পূর্ণাঙ্গ, যার আচরণ অধিক সুন্দর; আর (মর্যাদার দিক দিয়ে) সুন্দর আচরণ রোযা ও নামাজের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।”
বাযযার ১/২৭ (৩৫), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); আবূ ইয়া'লা ৭/১৮৪ (৪১৬৬); আল-মাতালিবুল আলিয়া ২/৩৮৮ (২৫৪১); কানযুল উম্মাল ৩/১২ (৫১৮৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৮ (১৯৬)।
টিকাঃ
]1[ وَخَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ "আর তোমাদের মধ্যে সে সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম" (তাবারানি, আওসাত ৪৪২০)।
📄 আল্লাহর ভয় ও ধৈর্য
[১৩২.] আনাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
ثلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ اسْتَوْجَبَ الثَّوابَ وَاسْتَكْمَلَ الْإِيْمَانَ خُلُقُ يَعِيشُ بِهِ فِي النَّاسِ وَوَرَعُ يَحْجُزُهُ عَنْ مَحَارِمِ اللهِ وَحِلْمٌ يَرُدُّهُ عَنْ جَهْلِ الْجَاهِلِ
“তিনটি বিষয় যার মধ্যে থাকবে, সে অবশ্যই তার প্রতিদান পাবে এবং তার ঈমানকে পরিপূর্ণ করে নেবে:
» উত্তম আচরণ, মানুষের সঙ্গে আচরণের সময় যার প্রতিফলন সে ঘটায়;
» আল্লাহভীতি, যা তাকে আল্লাহর নিষিদ্ধ সীমা অতিক্রম করা থেকে বাধা দিয়ে থাকে; এবং
» ধৈর্য, যা তাকে মূর্খের মূর্খতা (সুলভ আচরণ) থেকে ফিরিয়ে রাখে।”'
বাযযার (দ্রষ্টব্য: কাশফুল আস্তার) ১/২৬ (৩১), বাযযারের মতে বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনু সুলাইমান তার কয়েকটি হাদীসে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেননি (হাইসামি); আত-তারগীব ২/৫৬০ (১০); কানযুল উম্মাল ১৫/৮০৯ (৪৩২১৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৭ (১৮৬); জামউল ফাওয়াইদ ৬৯।
📄 কোমল ব্যবহার ও মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা
[১৩৩.] আবু সাঈদ খুদরি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحَاسِنُهُمْ أَخْلَاقًا ، الْمُوَطَّؤُوْنَ أَكْنَافًا ، الَّذِينَ يَأْلَفُوْنَ وَيُؤْلَفُوْنَ ، وَلَيْسَ مِنَّا مَنْ لَا يَأْلَفُ وَلَا يُؤْلَفُ
"মুমিনদের মধ্যে তাদের ঈমান অধিক পূর্ণাঙ্গ-
» যাদের আচরণ অধিক সুন্দর,
» ব্যবহার কোমল,
» যারা অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং যাদের সঙ্গে অন্যরাও সুসম্পর্ক বজায় রাখে।
যে-ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে না এবং যার সঙ্গে অন্যরাও সুসম্পর্ক বজায় রাখে না-সে আমাদের দলভুক্ত নয়।"
তাবারানি, আওসات ৩/২২৯ (৪৪২২), ইসনাদটি হাসান (দারানি); বাইহাকি, শুআব ৬/২৩২ (৭৯৮৩); কানযুল উম্মাল ৩/১২ (৫১৭৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৮ (১৯৭)।
📄 বিপদকে নিয়ামত মনে করা ও নামাজের জন্য উদ্গ্রীব হয়ে থাকা
[১৩৪.] ইবনু আব্বাস বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَيْسَ بِمُؤْمِنٍ مُسْتَكْمِلِ الْإِيْمَانِ مَنْ لَمْ يَعُدَّ الْبَلَاءَ نِعْمَةً وَالرَّخَاءَ مُصِيبَةٌ
"সে-ব্যক্তির ঈমান পূর্ণাঙ্গ নয়, যে বিপদকে নিয়ামাত আর আরামদায়ক অবস্থাকে মুসিবত মনে করে না।"
তারা বললেন, "আল্লাহর রাসূল, কীভাবে?"
তিনি বললেন-
لأَنَّ الْبَلَاءَ لَا يَتْبَعُهُ إِلَّا الرَّخَاءُ، وَكَذَلِكَ الرَّخَاءُ لَا تَتْبَعُهُ إِلَّا الْمُصِيبَةُ
"কারণ, বিপদের পর আসে আরাম, আর একইভাবে আরামের পর আসে মুসিবত।"
وَلَيْسَ بِمُؤْمِنٍ مُسْتَكْمِلِ الْإِيْمَانِ مَنْ لَمْ يَكُنْ فِي غَمَّ مَا لَمْ يَكُنْ فِي صَلَاةٍ
"সে-ব্যক্তির ঈমান পূর্ণাঙ্গ নয়, যে নামাজ শুরু করার আগ-পর্যন্ত পেরেশানিতে থাকে না।”
তারা বললেন, "আল্লাহর রাসূল, কেন?”
তিনি বললেন-
لأَنَّ الْمُصَلِّي يُنَاجِي رَبَّهُ وَإِذَا كَانَ فِي غَيْرِ صَلَاةٍ إِنَّمَا يُنَاجِيْ ابْنَ آدَمَ
"কারণ, নামাজ আদায়ের সময় ব্যক্তি তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে, আর নামাজের বাইরে তার আলাপ হয় আদম-সন্তানের সঙ্গে।”'
তাবারানি, কাবীর ১১/৩২ (১০৯৪৯), বর্ণনাসূত্রে আবদুল আযীয ইবনু ইয়াহইয়া মাদানি আছে, যার ব্যাপারে বুখারি বলেন-সে হাদীস জাল করত (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/১৬৬ (৭২৯), ৩/৩৩৫ (৬৮১০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৬-৯৭ (৩৪৮)।