📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 চারটি বিষয় মেনে না নিলে মুমিন হওয়া যায় না

📄 চারটি বিষয় মেনে না নিলে মুমিন হওয়া যায় না


[১০১.] আলি রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
لَا يُؤْمِنُ عَبْدٌ حَتَّى يُؤْمِنَ بِأَرْبَع : يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُولُ الله، بَعَثَنِي بِالْحَقِّ، وَيُؤْمِنُ بِالْمَوْتِ، ويؤمن بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَيُؤْمِنُ بِالْقَدَرِ
"কোনও বান্দা মুমিন হবে না, যতক্ষণ না সে চারটি বিষয়কে সত্য বলে মেনে নিচ্ছে:
» এ মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, খে আর আমি আল্লাহর রাসূল, তিনি আমাকে মহাসত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন;
» মৃত্যুর ওপর বিশ্বাস;
» মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে সত্য বলে স্বীকার করা;
» তাকদীর বা নিয়তিকে মেনে নেওয়া।”
তিরমিযি ২১৪৫, সহীহ; ইবনু মাজাহ্ ৮১; আহমাদ ১/৯৭ (৭৫৮), ১/১৩৩ (১১১২); হাকিম ১/৩২-৩৩ (৯০), ১/৩৩ (৯২); জামিউল উসূল ৯; জামউল ফাওয়াইদ ৫১।

টিকাঃ
[১] لن "কখনও” (আহমাদ ১১১২)।
[২] وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ “তিনি একক, তাঁর কোনও ভাগীদার নেই” (ইবনু মাজাহ ৮১)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 কেউ মুমিন কি না, তা যাচাই করার জন্য কিছু প্রশ্ন

📄 কেউ মুমিন কি না, তা যাচাই করার জন্য কিছু প্রশ্ন


[১০২,] শারীদ ইবনু সুওয়াইদ বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বলি, "আমার মা তার পক্ষ থেকে একটি দাসী মুক্ত করে দেওয়ার জন্য অসিয়ত করেছিলেন। আমার কাছে এক নূবিয়া [৫] দাসী আছে। তাকে মুক্ত করে দিলে, সেটি কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে?" ]*[ নবি ﷺ বলেন, إِثْتِنِي بِهَا "তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।”
আমি তাকে নিয়ে এলে, [১] নবি ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করেন, مَنْ رَبُّكِ "তোমার রব কে?” সে জবাব দেয়, "আল্লাহ।”[৩] তিনি বলেন, مَنْ أَنَا "আমি কে?” সে বলে, [৪] "আপনি আল্লাহর রাসূল।”[৫] নবি ﷺ বলেন, أَعْتِقُهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ "তাকে মুক্ত করে দাও, সে মুমিন নারী।”'
নাসাঈ ৩৬৫৩, হাসান; ১২১৮ (শেষাংশ); মুসলিম ১১৯৯/৩৩ (৫৩৭, শেষাংশ); আহমাদ ২/২৯১ (৭৯০৬), ৪/২২২ (১৭৯৪৫), ৪/৩৮৮ (১৯৪৫৫), ৪/৩৮৯ (১৯৪৬৬), ৫/৪৪৭ (২৩৭৬২), ৫/৪৪৮ (২৩৭৬৭ শেষাংশ); আবু দাউদ ৯৩০ (শেষাংশ), ৩২৮২, ৩২৮৩, ৩২৮৪; নাসাঈ, কুবরা ৫৬১, ১১৪২, ৬৪৪৭; তাবারানি, আওসাত ২/৮২ (২৫৯৮); বাযযার (কাশফ) ১/২৮-২৯ (৩৭), ১/২৯ (৩৮); আত-তামহীদ ৯/১১৫; কানযুল উম্মাল ১০/৩৩৩ (২৯৬৮৭); জামিউল উসূল ১১, ১২, ১৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৩-২৪ (৪২); জামউল ফাওয়াইদ ৫২।
[১০৩.] উবাইদুল্লাহ ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, 'আনসারদের একব্যক্তি তার এক কৃষ্ণাঙ্গী দাসী নিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বলে, "আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি মুমিন দাসী মুক্ত করতে হবে। আপনি যদি তাকে মুমিন মনে করতেন, তা হলে তাকে মুক্ত করে দিতাম।” এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল ﷺ সেই দাসীকে বলেন,
"তুমি কি এ-মর্মে সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই?”
সে বলে, "হ্যাঁ!”
নবি ﷺ বলেন, أَشْهَدِينَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
"তুমি কি এ-মর্মে সাক্ষ্য দাও যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বার্তাবাহক?"
সে বলে, "হ্যাঁ!”
নবি ﷺ বলেন, أَشْهَدِينَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ
"মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের ব্যাপারে তোমার কি নিশ্চিত বিশ্বাস আছে?”
সে বলে, "হ্যাঁ!”
তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, أَتُوقِنِينَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ أَعْتِقْهَا
"তাকে মুক্ত করে দাও।"'
মালিক ১৫৪৪, মুরসাল; আহমাদ ৩/৪৫১-৪৫২ (১৫৭৪৩); আবদুর রাযযাক ৯/১৭৫ (১৬৮১৪), মাওসূল, তবে আনসার সাহাবির নাম উল্লেখ করা হয়নি; তাবারানি, আওসাত ২/৮২ (২৫৯৮); বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা ৭/৩৮৮ (১৫৩৬৩), ১০/৫৭ (২০০০৮), ১০/৫৭ (২০০০৯), ১০/৫৭ (২০০১০); জামিউল উসূল ১০; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৩ (৪১)।

টিকাঃ
[৩] "মুমিন” (আহমদ ১৭৯৪৫)।
[৪] "কৃষ্ণাঙ্গী” (আহমাদ ১৭১৪৫); "অনারব” (আহমাদ ৭৯০৬) |
[৫] প্রাচীন মিশরের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকার নাম নূবা; সেখানকার লোকজন গাভির পূজা করত (জামিউল উসূল ১/১৫২, টীকা)।
[৬] মুআবিয়া ইবনুল হাকাম সুলামি বলেন, 'আমার এক দাসী উহুদ ও জাওয়ানিয়্যা এলাকার সামনের অংশে আমার মেষ চরাত। একদিন গিয়ে দেখি, নেকড়ে তার মেষের পাল থেকে একটি মেষ নিয়ে গিয়েছে। আমিও একজন মানুষ; অন্যান্য মানুষ যেভাবে রেগে যায়, আমিও সেভাবে রেগে গিয়েছিলাম। তবে (এর প্রতিক্রিয়ায়) আমি তাকে একটা থাপ্পড় মারি। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এলে, তিনি আমার সামনে বিষয়টির বিভীষিকা তুলে ধরেন। আমি বলি, "আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে আযাদ করে দেবো না?"...' (মুসলিম ১১৯৯/৩৩ (৫৩৭, শেষাংশ); আবু দাউদ ৯৩০, ৩২৮২)।
[১] আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি একটি কৃষ্ণাঙ্গী দাসী নিয়ে নবি ﷺ-এর কাছে এসে বলেন, "আমাকে একটি মুমিন দাসী আযাদ করতে হবে।" তখন নবি ﷺ সেই দাসীটিকে বলেন...' (তাবারানি, আওসাত ২৫৯৮)।
[২] 'সে আকাশের দিকে ইশারা করে...' (তাবারানি, আওসাত ২৫১৮)।
]৩] 'নবি ﷺ বলেন, أين الله "আল্লাহ কোথায়?” সে বলে, "আকাশে” (আবু দাউদ ১৮০, ৩২৮২; মুসলিম ৫৩৭ (১১৯৯); আহমাদ ২৩৭৬২, ২৩৭৬৭); 'সে তার তর্জনী বা শাহাদাৎ আঙুল দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে' (আহমদ ৭৯০৬; আবু দাউদ ৩২৮৪)।
[৪] 'সে তার হাত দিয়ে জমিনের দিকে ইশারা করে বলে...' (তাবারানি, আওসাত ২৫৯৮)।
[৫] 'জবাবে দাসীটি আঙুল দিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ ও আকাশের দিকে ইশারা করে; অর্থাৎ, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন...' (আহমদ ৭৯০৬; আবু দাউদ ৩২৮৪)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য

📄 ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য


[১০৪.] আবদুল্লাহ রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ، وَلَا اللَّعَانِ، وَلَا الْفَاحِشِ، وَلَا الْبَدِيِّ
“মুমিন (অপরকে) অপমান করে না, অভিশাপ দেয় না, অশ্লীল কথা বলে না, নোংরা কাজ করে না।"'
তিরমিযি ১৯৭৭, হাসান; ইবনু আবী শাইবা ১১/১৮ (৩০৯৭৪); আহমাদ ১/৪০৪-৪০৫ (৩৮৩৯), ১/৪১৬ (৩৯৪৮); বাযযার (কাশফ) ১/৬৮ (১০১); তাবারানি, কাবীর ১০/২৫৫-২৫৬ (১০৪৮৩); ইবনু হিব্বان ১/৪২১ (১৯২); হাকিম ১/১২ (২৯), ১/১২ (৩০), ১/১২-১৩ (৩১); বাইহাকি, কুবরা ১০/১৯৩ (২০৮৩১), ১০/২৪৩ (২১১৮০); বাইহাকি, শুআব ৪/২৯৩ (৫১৪৯), ৪/২৯৩ (৫১৫০); বুখারি, মুফরাদ ৩১২, ৩৩২; আবূ ইয়া'লা ৯/২০ (৫০৮৮), ৯/২৫০ (৫৩৬৯), ৯/২৫৮ (৫৩৭৯); তারীখু বাগদাদ ৫/৩৩৯; হিলইয়া ৪/২৩৫, ৫/৫৮; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ৩৫৫৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৯৭ (৩৪৯)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহর ওলি কারা?

📄 আল্লাহর ওলি কারা?


[১০৫.] আমর ইবনুল জামূহ রা. থেকে বর্ণিত, 'তিনি নবি ﷺ-কে বলতে শুনেছেন,
لَا يَحِقُ الْعَبْدُ حَقَّ صَرِيحِ الْإِيْمَانِ حَتَّى يُحِبَّ لِلَّهِ وَيُبْغِضَ لِلهِ فَإِذَا أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَحَقَّ الْوَلَاءَ مِنَ اللهِ وَإِنَّ أَوْلِيَائِي مِنْ عِبَادِي وَأَحِبَّانِي مِنْ خَلْقِي الَّذِينَ يُذْكَرُوْنَ بِذِكْرِي وَأُذْكَرُ بِذِكْرِهِمْ
"বান্দা সুস্পষ্ট ঈমানের অধিকারী হয় না, যতক্ষণ-না তার ভালোবাসা ও ঘৃণা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে হয়। যখন তার ভালোবাসা ও ঘৃণা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশে হয়, তখন সে আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভের অধিকারী হয়। (আর আল্লাহ বলেন,) আমার বান্দাদের মধ্যে তারাই আমার ওলি (বন্ধু) আর আমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে তারাই আমার কাছে প্রিয়-
> আমার স্মরণের সময় যাদের স্মরণ করা হয় এবং
> যাদের স্মরণের সময় আমাকে স্মরণ করা হয়।"'
আহমদ ৩/৪৩০ (১৫৫৪৯), বর্ণনাসূত্রে রিশদীন ইবনু সাদ আছেন, (সুত্রটি) বিচ্ছিন্ন, ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); তাবারানি, আওসাত ১/১৯৪-১৯৫ (৬৫১); কানযুল উম্মাল ১/৪১ (৯৮), ১/৪২ (৯৯, ১০০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৮ (১৯৩), ১/৮৯ (৩০৪, ৩০৫); জামউল ফাওয়াইদ ৭৪।

টিকাঃ
حَقِيقَةَ الْإِيْمَانِ “ঈমানের মৌলিক গুণের অধিকারী” (তাবারানি, আওসাত ১/১৯৪-১৯৫ (৬৫১)।
[২] فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدِ اسْتَحَقَّ حَقِيقَةَ الْإِيْمَانِ “ এরূপ করার মাধ্যমে সে ঈমানের মৌলিক গুণের অধিকারী হয়ে ওঠে” (তাবারানি, আওসাত ১/১৯৪-১৯৫ (৬৫১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00