📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আখিরাতে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, যারা তাঁকে দুনিয়ায় অভিভাবক মানে

📄 আখিরাতে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, যারা তাঁকে দুনিয়ায় অভিভাবক মানে


[৮১.] শাইবা খুদরি বলেন, 'আমরা উমর ইবনু আব্দিল আযীয -এর কাছে ছিলাম। তখন আয়িশা রা.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে উরওয়া ইবনুয যুবাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
ثَلَاثُ أَحْلِفُ عَلَيْهِنَّ لَا يَجْعَلُ اللهُ مَنْ لَهُ سَهُم فِي الْإِسْلَامِ كَمَنْ لَا سَهْمَ لَهُ وَأَسْهُمُ الْإِسْلَامِ الثَّلَاثَةُ الصَّلاةُ وَالصَّوْمُ وَالزَّكَاة وَلَا يَتَوَلَّى الله عَبْدٌ فِي الدُّنْيَا فَيُوَلِّيْهِ غَيْرَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُحِبُّ رَجُلٌ قَوْمًا إِلَّا جَعَلَهُ اللهُ مَعَهُمْ وَالرَّابِعَةُ لَوْ حَلَفْتُ عَلَيْهَا رَجَوْتُ أَنْ لَا آثَمَ لَا يَسْتُرُ اللهُ عَبْدًا فِي الدُّنْيَا إِلَّا سَتَرَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
"তিনটি বিষয় আমি হলফ করে বলতে পারি:
>> ইসলামে যার কোনও অংশ আছে, আল্লাহ তাকে ওই ব্যক্তির মতো বানাবেন না, যার ইসলামে কোনও অংশ নেই, আর ইসলামের অংশ হলো তিনটি-নামাজ, রোযা ও যাকাত;
> কোনও বান্দা দুনিয়ায় আল্লাহকে অভিভাবক মানলে, কিয়ামাতের দিন আল্লাহই হবেন তার অভিভাবক; এবং
> কেউ কোনও জাতিকে পছন্দ করলে, আল্লাহ তাকে ওই জাতির সঙ্গেই রাখবেন।
আর চতুর্থ এ বিষয়টির ব্যাপারে যদি আমি হলফ করি, তা হলে দৃঢ়ভাবে আশা করি আমার কোনও গোনাহ হবে না-
>> আল্লাহ যদি কোনও বান্দাকে দুনিয়ায় আড়াল করে রাখেন, কিয়ামাতের দিন (ও) আল্লাহ তাকে আড়াল করে রাখবেন।"
এ হাদীস শুনে উমর ইবনু আব্দিল আযীয বলেন, "কাউকে যদি উরওয়া'র মতো আয়িশা-এর মাধ্যমে নবি ﷺ সম্পর্কে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করতে শোনো, তা হলে তা সংরক্ষণ করে রেখো।"
আহমাদ ৬/১৪৫ (২৫১২১), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি), ৬/১৬০ (২৫২৭১); আবু ইয়া'লা ৮/৪৯-৫০ (৪৫৬৬), ৮/৫০ (৪৫৬৭); আবদুর রাযযাক ১১/১৯৯ (২০৩১৮); তাবারানি, কাবীর ৮/৩১৫ (৮০২৩), ১/১৭৫-১৭৬ (৮৭৯৯), ৯/১৭৬ (৮৮০০); তহাতি, মুশকিল ৩/৫০; তুহফাতুল আশরাফ ১২/৮ (১৬৩৪৬); হাকিম ১/১৯ (৪৯), ৪/৩৮৪ (৮১৬১); বাইহাকি, শুআব ৬/৪৮৯ (১০১২), ৬/৪৯০ (৯০১৪); আত-তারগীব ১/২৪৪-২৪৫, ৫১৭-৫১৮; কানযুল উম্মাল ১৫/৮৬০ (৪৩৪২২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৭ (১০৬, ১০৭, ১০৮); জামউল ফাওয়াইদ ৬৪।

টিকাঃ
2[ إِنَّا جَاءَ مَعَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "কিয়ামাতের দিন সে তাদের সঙ্গেই উপস্থিত হবে” (আহমাদ ২৫২৭১(; إِ بَعْتَهُ مَعَهُمْ “)কিয়ামাতের দিন) আল্লাহ তাকে তাদের সঙ্গে ওঠাবেন” (তাবারানি, কাবীর ৮/৩১৫ (৮০২৩(( |
[৩] "(বান্দার) গোনাহকে” (আহমদ ২৫২৭১)。
[৪] অর্থাৎ তার গোনাহকে (আহমদ ২৫২৭১)|

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ওহিকে সত্য হিসেবে মেনে না নেওয়ার পরিণতি জাহান্নাম

📄 ওহিকে সত্য হিসেবে মেনে না নেওয়ার পরিণতি জাহান্নাম


[৮৪.] আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, ‘নবি ﷺ বলেন,
وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يَسْمَعُ بِي أَحَدٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيُّ وَلَا نَصْرَانِيُّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنُ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ
"শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এ উম্মাহর কোনও ইহুদি বা খ্রিষ্টান যদি আমার সম্পর্কে শুনতে পায়, তারপর আমাকে যে বার্তা দিয়ে পাঠানো হয়েছে তাকে সত্য হিসেবে মেনে না নিয়ে মারা যায়, তাহলে সে নির্ঘাত জাহান্নামবাসী হবে।"'
মুসলিম ৩৮৬/২৪০ (১৫৩); আহমাদ ২/৩১৭ (৮২০৩), ২/৩৫০ (৮৬০৯); জামউল ফাওয়াইদ ২০।

টিকাঃ
[১] এ “উম্মাহর কোনও ব্যক্তি অথবা কোনও ইহুদি কিংবা কোনও খ্রিষ্টান” (আহমাদ ২/৩১৭ (৮২০৩), সহীহ)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 তিনটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারীর জন্য জাহান্নাম হারাম

📄 তিনটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারীর জন্য জাহান্নাম হারাম


[৮৫.] নাওফাল ইবনু মাসঊদ বলেন, আমরা আনাস-এর কাছে গিয়ে বলি, "আমাদের এমন কিছু বলুন, যা আপনি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে শুনেছেন। (এর পরিপ্রেক্ষিতে) আনাস রা. বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি-
ثَلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ حُرِّمَ عَلَى النَّارِ وَحُرِّمَتِ النَّارُ عَلَيْهِ : إِيْمَانُ بِاللهِ ، وَحُبُّ اللَّهِ ، وَأَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ فَيُحْرَقَ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَرْجِعَ فِي الْكُفْرِ
"যার মধ্যে তিনটি (বৈশিষ্ট্য) থাকবে, তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেওয়া হবে এবং জাহান্নامকে তার জন্য হারাম করে দেওয়া হবে:
» আল্লাহর প্রতি ঈমান;
» আল্লাহর ভালোবাসা; এবং
» (এমন অনুভূতি জাগ্রত থাকা যে,) কুফর বা আল্লাহর অবাধ্যতার জীবনে ফিরে যাওয়ার চেয়ে আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়ে ভস্মীভূত হওয়া তার কাছে অধিক পছন্দের।"'
আহমদ ৩/১১৩-১১৪ (১২১২২), ইসনাদটি জাইয়িদ (দারানি); আবূ ইয়া'লা ৭/২৬৬ (৪২৮২); হিল্ইয়া ৮/৩৯০; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৫ (১৭৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00