📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 হালাল-হারাম মেনে চলা

📄 হালাল-হারাম মেনে চলা


[৭৭.] জাবির রা. থেকে বর্ণিত, “’একব্যক্তি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করে, ৩এ-বিষয়ে আপনার কী মত? আমি যদি—
> ফরজ নামাজগুলো আদায় করি,
>> রমজানের রোযা রাখি,
> হারামকে হারাম মেনে চলি,
> হালালকে হালাল মেনে চলি, আর
> এর চেয়ে বেশি কিছু না করি
—আমি কি জান্নাতে যেতে পারব?”
নবি ﷺ বলেন, “হ্যাঁ!”
সে বলে, “শপথ আল্লাহর! আমি এর চেয়ে বেশি কিছু করব না।”
মুসলিম ১১০/১৮ (...), ১০৮/১৬ (১৫), ১০৯/১৭ (...); আহমাদ ৩/৩১৬ (১৪৩৯৪), ৩/৩৪৮ (১৪৭৪৭); আবূ ইয়া'লা ৩/৪৪৫ (১৯৪০), ৪/১৯৫ (২২৯৫); আবূ আওয়ানা ৫, ৬; ইবনু মানদাহ, আল-ঈমান ১৩৭, ১৩৮, ১৩৯; ইবনু কানি, মু'জামুস সাহাবা ৩/১৪৫- ১৪৬।

উপরিউক্ত হাদীসে অন্যান্য ফরজ বিধানগুলোর কথা উল্লেখ করা না হলেও, সেগুলো এর মধ্যে চলে আসে, কারণ যে-কোনও ফরজ বিধান লঙ্ঘন করা হারাম; আর এখানে হারামকে হারাম মেনে চলার কথা বলা আছে। (ইমাম সিনদি'র বরাতে শুআইব আরনাউত, ইমান আহমাদের মুসনাদ গ্রন্থের টীকা ২২/২৮১।) এখানে আরেকটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন: এ-হাদীসে প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি ছিলেন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবি নুমান ইবনু কওকাল, যিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন; তখনও পর্যন্ত ইসলামের অনেক বিধান ফরজ করা হয়নি।

টিকাঃ
[১] ‘আনসার সাহাবিদের’ (ইবনু মানদাহ, ঈমান ১৩৭)।
[২] ‘নুমান ইবনু কওকাল’ (মুসলিম ১০৮/১৬ (১৫))。
[৩] “আল্লাহর রাসূল!” (মুসলিম ১০৮/১৬ (১৫))。

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 হালাল-হারাম নির্ধারণের এখতিয়ার আল্লাহর

📄 হালাল-হারাম নির্ধারণের এখতিয়ার আল্লাহর


উপরিউক্ত হাদীসে হালাল-হারাম মেনে চললে, জান্নাতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে—কোনোকিছুকে হালাল বা হারাম ঘোষণার এখতিয়ার আল্লাহর; তাঁর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কোনোকিছুকে হালাল বা হারাম ঘোষণা করা শুধু গোনাহের কাজই নয়, বরং আল্লাহ তাআলার এখতিয়ারে অবৈধ হস্তক্ষেপের শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন—
قُلْ أَرَأَيْتُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ لَكُم مِّن رِّزْقٍ فَجَعَلْتُم مِّنْهُ حَرَامًا وَحَلَالًا قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ (٥١)
:বল-আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসব জীবনোপকরণ পাঠালেন, সেগুলো থেকে তোমরা নিজেরা কোনোটাকে হারাম আর কোনোটাকে হালাল বানিয়ে নিয়েছ; (এর পরিণতি) ভেবে দেখেছ? বলো-আল্লাহ কি তোমাদের (এ-কাজের) অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর নামে মিথ্যাচার করছো?" (সূরা ইউনুস ১০:৫৯)।
وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ ﴿١١٦)
"এটা হালাল আর এটা হারাম-এভাবে তোমাদের মুখের জোরে মিথ্যাচার করো না, সেটা হবে আল্লাহর নামে তোমাদের মিথ্যা রটনার শামিল; যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।" (সূরা আন-নাহল ১৬:১১৬)।
[৭৮.] মুআয ইবনু জাবাল রা. বলেন, 'এক সফরে আমি ছিলাম নবি ﷺ-এর সঙ্গে। একদিন সফর চলাকালে আমি তাঁর কাছাকাছি হয়ে গেলে, আমি বলি “হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলুন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।”
নবি ﷺ বলেন,
لَقَدْ سَأَلْتَنِي عَنْ عَظِيمٍ، وَإِنَّهُ لَيَسِيرُ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ الله عليه، تَعْبُدُ اللهِ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ
"তুমি আমার কাছে একটি বিরাট বিষয় জানতে চেয়েছ! তবে আল্লাহ যার জন্য বিষয়টি সহজ করে দেন, সেটি তার জন্য অত্যন্ত সহজ; (বিষয়টি হলো)-
» তুমি আল্লাহর দাসত্ব করবে;
» তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না;
» নামাজ কায়েম রাখবে;
» যাকাত দেবে;
» রমজান মাসে রোযা রাখবে; এবং
» (আল্লাহর) ঘরের হজ করবে।"
এরপর তিনি বলেন, أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الخير؟ "আমি কি তোমাকে কল্যাণের কী কী দরজা আছে তা বলে দেবো না?”
আমি বলি, "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!”
নবি ﷺ বলেন,
الصَّوْمُ جُنَّةُ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ، وَصَلَاةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ شعار الصالحين
» “রোযা ঢালস্বরূপ;
> যাকাত ও দান গোনাহকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করে, যেভাবে আগুন নিভিয়ে দেয় পানিকে; আর
> গভীর রাতে নামাজ আদায় -এগুলো হলো সৎলোকদের নিদর্শন।”
এরপর নবি ﷺ আল্লাহ তাআলার এ বাণী পাঠ করেন:
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴿١٦﴾ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُم مِّن قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (۱۷)
"তাদের পিঠ থাকে বিছানা থেকে আলাদা, নিজেদের রবকে ডাকে ভয় ও আশা নিয়ে আর আমি তাদের যেসব জীবিকা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। তারপর কেউ জানে না তাদের কাজের পুরস্কার হিসেবে তাদের চোখের শীতলতার কী সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখা হয়েছে!” (সূরা আস-সাজদাহ ৩২:১৬-১৭)
তারপর নবি ﷺ বলেন, أَلَا أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الْأَمْرِ وَعَمُودِهِ وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ "আমি কি তোমাকে দ্বীনের মূল, খুঁটি ও চূড়া কোনটি-তা বলে দেবো না?"
আমি বলি, "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!"
নবি ﷺ বলেন,
رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ، وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ
> “দ্বীনের মূল হলো ইসলাম বা আল্লাহর সামনে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ,
> এর খুঁটি হলো নামাজ, আর
> এর চূড়া হলো জিহাদ।”
এরপর তিনি বলেন, أَلَا أُخْبِرُكَ بِمَلَاكِ ذَلِكَ كله "আমি কি তোমাকে বলব না, এর সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে কোন জিনিস?”
আমি বলি, "অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল!”
নবি ﷺ নিজের জিহ্বা ধরে বলেন, كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا "এটাকে নিয়ন্ত্রণে রেখো।”
আমি বলি, "হে আল্লাহর নবি! আমাদের কথার জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে?"
তিনি বলেন, تَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ - أَوْ قَالَ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ - إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِم ؟! "মুআয! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে কান্নাকাটি করুক!! যে-জিনিসটি মানুষকে মুখের ওপর অথবা নাকের ওপর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে, তা কি তাদের জিহ্বার ফসল ছাড়া অন্য কিছু?"'
তিরমিযি ২৬১৬, হাসান সহীহ; আহমাদ ৫/২৩১ (২২০১৬); নাসাঈ, কুবরা ১১৩৩০; ইবনু মাজাহ ৩৯৭৩; জামউল ফাওয়াইদ ২৯।

টিকাঃ
[১] এটি একটি আরবি প্রবাদবাক্যের আক্ষরিক অনুবাদ; বাংলায় এর কাছাকাছি অর্থ হয়- 'আফসোস! কী যে বলো!' ইত্যাদি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00