📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কাফির ঘোষণার বিধিনিষেধ

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কাফির ঘোষণার বিধিনিষেধ


[৬৬.] ইবনু উমর রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
كُفُوْا عَنْ أَهْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ لا تُكَفِّرُوْهُمْ بِذَنْبٍ، فَمَنْ أَكْفَرَ أَهْلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَهُوَ إِلَى الْكُفْرِ أَقْرَبُ
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কোনও গোনাহের দরুন কাফির আখ্যায়িত করা থেকে বিরত থাকো; যে-ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কাফির আখ্যায়িত করে, তার অবস্থান কুফরের অধিক কাছাকাছি।”'
তাবারানি, কাবীর ১২/২৭২ (১৩০৮৯), আলি ইবনু যাইদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন দাহহাক ইবনু হুমরা, দুজনের প্রামাণিকতা নিয়ে মতবিরোধ আছে (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৬৩৫ (৮২৭০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪০৫)।
[৬৭.] আনাস ইবনু মালিক-এর ব্যাপারে ইয়াযীদ রক্কাসি বলেন, 'আমি বললাম, "আবূ হামযা, কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে কুফর ও শির্কের সাক্ষ্য দিচ্ছে।” আনাস বলেন, “এরা সৃষ্টিকুল ও বিশ্বজগতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।”
আবূ ইয়া'লা, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৪১৪, বর্ণনাসূত্রে ইয়াযীদ রক্কাসি আছেন, অধিকাংশের মতে তিনি ত্রুটিযুক্ত, তবে আবু আহমাদ ইবনু আদি'র মতে বিশ্বস্ত (হাইসামি); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৯৫ (২৯৭৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৭ (৪১৪)।
[৬৮.] আবূ সুইয়ান বলেন, 'আমি জাবির-কে (কিছু বিষয়) জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তিনি মক্কার পাশে বানু ফিহরের এলাকায় থাকতেন। একব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, "আপনারা কি কিবলার অনুসারী কাউকে মুশরিক বলতেন?” তিনি বললেন, "আল্লাহর আশ্রয় চাই!” প্রশ্ন শুনে তিনি আঁতke ওঠেন। লোকটি বলল, "আপনারা কি আপনাদের কাউকে কাফির বলতেন?" তিনি বললেন, "না।”'
আবু ইয়া'লা ৪/২০৭ (২৩১৭), ইসনাদটি সহীহ (দারানি); তাবারানি, আওসات ৫/২৮৭ (৭৩৫৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৭ (৪১৫)।
[৬৯.] আলি ও জাবির রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى ثَلَاثَةٍ : أَهْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، لَا تُكَفِّرُوْهُمْ بِذَنْبٍ، وَلَا تَشْهَدُوا عَلَيْهِمْ بِشِرْكٍ، وَمَعْرِفَةُ الْمَقَادِيرِ خَيْرِهَا وَشَرِّهَا مِنَ اللهِ، وَالْجِهَادُ مَاضٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، مُذْ بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا إِلَى آخِرِ عِصَابَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، لَا يَنْقُضُ ذَلِكَ جَوْرُ جَائِرٍ وَلَا عَدْلُ عَادِلٍ
"ইসলামের ভিত্তি তিনটি (মূলনীতি)'র ওপর:
» যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারী, তাদেরকে কোনও গোনাহের দরুন তোমরা কাফির আখ্যায়িত করবে না, তাদের বিরুদ্ধে শির্কের সাক্ষ্য দেবে না;
» জেনে রাখবে-তাকদীরের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত; আর
» জিহাদ চলতে থাকবে কিয়ামাত পর্যন্ত-আল্লাহ যেদিন মুহাম্মাদ ﷺ-কে (রাসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন, সেদিন থেকে নিয়ে মুসলিমদের সর্বশেষ দল পর্যন্ত; জালিমের জুলুম অথবা সুবিচারকারীর সুবিচার কোনোকিছুই একে বাতিল করতে পারবে না।”'
তাবারানি, আওসাত ৩/৩৩৭-৩৩৮ (৪৭৭৫), বর্ণনাসূত্রের ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া তাইমি ত্রুটিযুক্ত, তার বিরুদ্ধে (হাদীস জাল করার) অভিযোগ আছে (দারানি); কানযুল উম্মাল ১/২৭৭ (১৩৭০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪১০, ৪১১)।
[৭০.] আবূ সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন-
لَنْ يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنَ الْإِيْمَانِ إِلَّا بِجُحُوْدِ مَا دَخَلَ فِيْهِ
“একজন ব্যক্তি যেসব বিষয় মেনে নিয়ে ঈমানে ঢুকে, সেগুলো অস্বীকার করার আগ-পর্যন্ত সে ঈমান থেকে কিছুতেই বের হবে না।"'
তাবারানি, আওসات ৩/২৩২ (৪৪৩৩), বর্ণনাসূত্রের ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া তাইমি ত্রুটিযুক্ত, তার বিরুদ্ধে (হাদীস জাল করার) অভিযোগ আছে (দারানি); কানযুল উম্মাল ১/৯১ (৩৮৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪১২)।
[৭১.] আয়িশা রা. বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি-
لا تُكَفِّرُوْا أَحَدًا مِنْ أَهْلِ قِبْلَتِكُمْ بِذَنْبٍ وَإِنْ عَمِلُوا بِالكَبَائِرِ وَصَلُّوا مَعَ كُلِّ إِمَامٍ، وَجَاهَدُوا مَعَ كُلِّ أَمِير
"তোমাদের কিবলা অনুসরণ করে-এমন কাউকে গোনাহের দরুন কাফির আখ্যায়িত কোরো না, যদি তারা
> কবীরা গোনাহ করে, আবার
> প্রত্যেক ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায় করে এবং
> প্রত্যেক নেতার সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করে।"
তাবাবানি, আওসات ২/১৫১ (২৮৪৪), বর্ণনাসূত্রের আলি ইবনু আবী সারাহ ত্রুটিযুক্ত ও তার হাদীস পরিত্যাজ্য (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/২১৫ (১০৭৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬-১০৭ (৪১৩)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর চেয়ে ভারী কিছুই নেই

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর চেয়ে ভারী কিছুই নেই


[৭২] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন,
إِنَّ اللهَ سَيُخَلِّصُ رَجُلًا مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيَنْشُرُ لَهُ تِسْعَةً وَيَسْعِينَ سِجِلًا كُلُّ سِجِلٌ مِثْلُ مَدَّ الْبَصَرِ ، ثُمَّ يَقُولُ : أَتَنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا أَظَلَمَتَكَ كَتَبَتِي الحَافِظُونَ؟ فَيَقُولُ: لَا يَا رَبِّ، فَيَقُولُ : أَفَلَكَ عُذْرُ؟ فَيَقُولُ : لَا يَا رَبِّ. فَيَقُولُ تعالى: بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةٌ، فَإِنَّهُ لا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ، فَيَخْرِجُ بِطَاقَةٌ فِيهَا: أَشْهَدُ أَنْ لا إلهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ: احْضُرُ وَزْنَكَ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلَّاتِ؟ فَقَالَ: فَإِنَّكَ لَا تُظْلَمُ فتُوضَعُ السِّجِلَّاتُ فِي كَفَّةِ وَالْبِطَاقَةُ فِي كَفَّةٍ، فَطَاشَتِ السِّجِلَّاتُ. وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ، وَلَا يَنْقُلُ مَعَ اسم الله شَيْءٌ
"কিয়ামাতের দিন আল্লাহ আমার উম্মাহর একজনকে সকল সৃষ্টির সামনে আলাদা করে নেবেন। তারপর তার সামনে নিরানব্বইটি নথি ছড়িয়ে দেবেন, প্রত্যেকটি খাতা দৃষ্টি যতদূর যায় ততদূর বিস্তৃত হবে। এরপর আল্লাহ বলবেন: 'তুমি কি এখানকার কোনোকিছু অস্বীকার করো? আমার নিযুক্ত সংরক্ষক লেখকগণ কি তোমার প্রতি কোনও জুলুম করেছে?'
সে বলবে: 'না, রব আমার!'
আল্লাহ বলবেন: 'তোমার কি কোনও অজুহাত আছে?'[১]
সে বলবে: 'না, রব আমার!'
আল্লাহ বলবেন: 'কেন নয়? অবশ্যই! আমার কাছে তোমার একটি ভালো কাজ জমা আছে! আজ তোমার প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।'
এরপর একটি কার্ড বের হবে, যার মধ্যে থাকবে-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক।
তখন আল্লাহ বলবেন: 'তোমার দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আসো।'
সে বলবে: 'মনিব আমার! এসব খাতার বিপরীতে এ কার্ডের কী গুরুত্ব আছে?'
আল্লাহ বলবেন: 'তোমার প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।'
এরপর খাতাগুলো এক পাল্লায় আর কার্ডটি অপর পাল্লায় রাখা হবে। তখন খাতাগুলো হালকা আর কার্ডটি ভারী হয়ে যাবে। কোনোকিছুই আল্লাহর নামের চেয়ে বেশি ভারী হবে না!"'
তিরমিযি ২৬৩৯, হাসান গরীব; আহমাদ ২/২১৩ (৬৯৯৪); ইবনু মাজাহ্ ৪৩০০; হাকিম ১/৬ (৯), মুসলিমের শর্তে সহীহ; জামউল ফাওয়াইদ ৩১।

টিকাঃ
]১[ حَسَنَةٌ "তোমার কি কোনও ভালো কাজ আছে?" সে ভয় পেয়ে বলবে, "না।” (আহমাদ ২/২১৩ (৬৯১৪)) |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00