📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

📄 শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ


[৬২.] উসমান ইবনু আফফান রা. বলেন, 'নবি ﷺ-এর ইন্তেকালের পর, নবি ﷺ-এর সাহাবিদের মধ্যে কয়েকজন এতটাই শোকাহত হয়ে পড়েন যে, তাদের আশেপাশে কী হচ্ছে সে সম্পর্কে তারা ছিলেন বেখবর। তাদের একজন ছিলাম আমি। আমি একটি ছোটো দুর্গের ছায়ায় বসে আছি, এমন সময় উমর আমার পাশ দিয়ে যান এবং আমাকে সালাম দেন। কিন্তু আমি টেরই পাইনি যে, তিনি পাশ দিয়ে গিয়েছেন এবং সালাম দিয়েছেন। উমর চলে যান। এরপর তিনি আবূ বকর-এর কাছে গিয়ে বলেন,
“কী আশ্চর্য! আমি উসমানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন না!”
আবূ বকর ইতোমধ্যে খলীফা মনোনীত হয়েছেন। উমর ও আবূ বকর উভয়ে এসে সালাম দেন। এরপর আবূ বকর বলেন,
"আপনার ভাই উমর এসে বললেন-তিনি আপনার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সালাম দিয়েছেন, কিন্তু আপনি তার সালামের জবাব দেননি। এ কাজ করার কারণ কী?"
আমি বলি, "আমি এ কাজ করিনি।” তখন উমর আমাকে বলেন, "শপথ আল্লাহর! আপনি এ কাজ করেছেন। বানু উমাইয়া! এটা মূলত আপনাদের অহংকারের ফল!”
আমি বলি, "শপথ আল্লাহর! আমি তো টেরই পাইনি যে, আপনি পাশ দিয়ে গিয়েছেন এবং সালাম দিয়েছেন।"
আবূ বকর বলেন, "উসমান সত্য বলেছে। আপনি সম্ভবত কোনও বিষয়ে দুশ্চিন্তা করছিলেন, যার ফলে এটি টের পাননি।"
আমি বলি, "হ্যাঁ!” তিনি বলেন, "কী নিয়ে দুশ্চিন্তা করছিলেন?"[১]
আমি বলি, "মুক্তির উপায় কী-এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করার আগেই আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি-কে নিয়ে গেলেন!"[২]
আবূ বকর বলেন, "আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম।” তখন আমি তাঁর উদ্দেশে দাঁড়িয়ে। বলি, "আপনি আমার কাছে আমার পিতা-মাতার মতোই সম্মানের পাত্র! আপনিই এ প্রশ্ন করার অধিক যোগ্য ব্যক্তি!!” আবূ বকর বলেন, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম-"আল্লাহর রাসূল! মুক্তি লাভের উপায় কী?"[৫] তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছিলেন,
مَنْ قَبِلَ مِنِّي الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُ عَلَى عَنِّي فَرَدَّهَا عَلَيَّ فَهِيَ لَهُ نَجَاةٌ
'আমি আমার চাচার সামনে যে বাক্য পেশ করেছিলাম, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, [৬] যে-ব্যক্তি ওই বাক্য আমার কাছ থেকে গ্রহণ করে, সেটিই হবে তার মুক্তির উপায়।'[৭]
আহমাদ ১/৬ (২০) মারফু' অংশটুকু সহীহ বিশ-শাওয়াহিদ; একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে যুহরি তাকে বিশ্বস্ত আখ্যায়িত করেছেন (হাইসামি); ১/৬ (২৪), ১/৭-৮ (৩৭); আবূ ইয়া'লা ১/২০-২১ (৯), ১/২১-২২ (১০), ১/২৮ (১৯), ১/১২১-১২২ (১৩৩); আবদুর রাযযাক ১১/২৮৫-২৮৬ (২০৫৫৪); বাযযার (কাশফ) ১/৮ (১); তাবারানি, আওসাত ২/১৫০ (২৮৩৯); ইবনু আদি ৪/১৫৫৮; ইতহাফ ১/৪৯ (৫), ১/৫৩-৫৪ (১৫), ১/৫৫-৫৬ (১৭); কানযুল উম্মাল ১/৫২ (১৬০), ১/৫৯ (১৯৪), ১/২৯০ (১৪০৪), ১/২৯১ (১৪০৬), ১/২৯২ (১৪১০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৪ (১), ১/১৫ (২), ১/৩২ (৮১), ১/৩৩ (৮৫); জামউল ফাওয়াইদ ২৪।

টিকাঃ
[১] '(জবাবে) উসমান বলেন, "শয়তান একান্তে এসে আমার মনে এমন কিছু (সংশয়) সৃষ্টি করতে লাগল, দুনিয়ার সবকিছু আমাকে দিয়ে দিলেও যা প্রকাশ করা আমার পছন্দ নয়। শয়তান আমার মনে এ সংশয় সৃষ্টি করার পর, আমি নিজে নিজে বলি-হায়! আমি যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, শয়তান আমাদের মনে যে-কথার উদয় ঘটায় তা থেকে মুক্তির উপায় কী?" আবু বকর বলেন, "শপথ আল্লাহর! আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এ অনুযোগ পেশ করেছিলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম-শয়তান আমাদের মনে যে-কথার উদয় ঘটায় তা থেকে মুক্তির উপায় কী? জবাবে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছিলেন -يُنْجِيْكُمْ مِنْ ذَلِكَ أَنْ تَقُوْلُوْا مِثْلَ الَّذِي أَمَرْتُ بِهِ عَمِّي عِنْدَ الْمَوْتِ فَلَمْ يَفْعَلْ "আমার চাচাকে মৃত্যুর সময় যে-কথা বলতে বলেছিলাম অথচ তিনি তা বলেননি, সে কথাই তোমাদেরকে এ-ক্ষেত্রে মুক্তি দেবে।" (আবূ ইয়া'লা ১/১২১-১২২ (১৩০))|
[২] "আমার একান্ত ইচ্ছা ছিল আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করব-শয়তান আমাদের মধ্যে যে উপদ্রব সৃষ্টি করবে, তা থেকে মুক্তির উপায় কী?” (আহমদ ১/৭-৮ (৩৭))|
[৩] 'তাকে আলিঙ্গন করে' (আবু ইয়া'লা ১/২০ (৯))。
[৪] "(নবি ﷺ কী বলেছিলেন) তা আমাকে একটু জানান।” (বাযযার (কাশফুল আস্তার) ১/৮ (১))|
[৫] 'এ উম্মাহর মুক্তি কীসে?' (তাবারানি, আওসাত ২৮৩৯)।
[৬] অর্থাৎ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللَّهِ এ মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল” (তাবারানি, আওসাত ৩/১৭৪ (২৮৩৯))|
[৭] فِي الْكَلِمَةِ الَّتِي أَرَدْتُ عَلَيْهَا عَمِّي فَأَبَاهَا شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ (এ উম্মাহর মুক্তি নিহিত) সেই কথার মধ্যে, যা আমি আমার চাচার সামনে পেশ করেছিলাম, কিন্তু তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। এ মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বার্তাবাহক” (তাবারানি, আওসাত ৩/১৭৪ (২৮৩৯)); مَنْ شَهِدٌ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فَهُوَلَهُ نجا “যে-ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয়-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনও অংশীদার নেই, তা হলে সেটি হবে তার মুক্তির উপায়” (আবূ ইয়া'লা ১/২৮ (১৯))|

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সোষণকারী ব্যক্তিকেও উদ্ধার করে আনবে

📄 ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সোষণকারী ব্যক্তিকেও উদ্ধার করে আনবে


[৬৩.] আবূ হুরায়রা রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، نَفَعَتْهُ يَوْمًا مِنْ دَهْرِهِ ، وَلَوْ بَعْدَ مَا يُصِيبُهُ الْعَذَابُ
“যে-ব্যক্তি বলবে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তার জীবনের কোনও একদিন সেটি তার উপকারে আসবে, শাস্তি ভোগ করার পরে হলেও।"
তাবারানি, সগীর ৩৯৩; তাবারানি, আওসাত ২/৩৪২ (৩৪৮৬), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); আবদুর রাযযাক ৩/৩৮৭ (৬০৪৫); বাযযার ১/১০ (৩); বাইহাকি, শুআব ১/১০৯ (৯৭), ১/১০৯-১১০ (৯৮), ১/১১০ (৯৯); হিলইয়া ৫/৪৬; কানযুল উম্মাল ১/৪১৮ (১৭৭৮); আত-তারগীব ২/৪১৪ (৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৭ (১৩); আলবানি, আস-সহীহা ১৯৩২।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ভিত্তিতে জানমাল সুরক্ষিত থাকবে, আর বিচারের দায়িত্ব আল্লাহর
[৬৪.] ইয়াদ আনসারি থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন,
إِنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ كَلِمَةٌ عَلَى اللهِ كَرِيمَةٌ ، لَهَا عِنْدَ اللهِ مَكَانُ، مَنْ قَالَهَا صَادِقًا أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ وَمَنْ قَالَهَا كَاذِبًا حَقَنَتْ دَمَهُ، وَأَحْرَزَتْ مَالَهُ، وَلَقِيَ اللَّهَ غَدًا فَحَاسِبُهُ
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া দাসত্ব-লাভের অধিকারী কেউ নেই)-এমন এক বাক্য যা আল্লাহর কাছে সম্মানিত, আল্লাহর কাছে এর একটি মর্যাদা আছে-
» যে সত্যনিষ্ঠ হয়ে এটি বলে, আল্লাহ তাকে এর বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন;
» আর যে মিথ্যা মনে করে এটি বলে, এ বাক্য তার প্রাণ বাঁচাবে ও সম্পদের সুরক্ষা দেবে, এরপর আগামীকাল আল্লাহর সঙ্গে তার দেখা হবে, তখন তিনি তার হিসাব নেবেন।"'
বাযযার (কাশফ) ১/১০ (৪), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); উসদুল গবাহ ৪/৩২১-৩২২; আল-ইসাবা ৭/১৯০; কানযুল উম্মাল ১/৬৩-৬৪ (২২৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২৬ (৫৬); জামউল ফাওয়াইদ ২৮।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কাফির ঘোষণার বিধিনিষেধ

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কাফির ঘোষণার বিধিনিষেধ


[৬৬.] ইবনু উমর রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
كُفُوْا عَنْ أَهْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ لا تُكَفِّرُوْهُمْ بِذَنْبٍ، فَمَنْ أَكْفَرَ أَهْلَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَهُوَ إِلَى الْكُفْرِ أَقْرَبُ
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কোনও গোনাহের দরুন কাফির আখ্যায়িত করা থেকে বিরত থাকো; যে-ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের কাফির আখ্যায়িত করে, তার অবস্থান কুফরের অধিক কাছাকাছি।”'
তাবারানি, কাবীর ১২/২৭২ (১৩০৮৯), আলি ইবনু যাইদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন দাহহাক ইবনু হুমরা, দুজনের প্রামাণিকতা নিয়ে মতবিরোধ আছে (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ৩/৬৩৫ (৮২৭০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪০৫)।
[৬৭.] আনাস ইবনু মালিক-এর ব্যাপারে ইয়াযীদ রক্কাসি বলেন, 'আমি বললাম, "আবূ হামযা, কিছু লোক আমাদের বিরুদ্ধে কুফর ও শির্কের সাক্ষ্য দিচ্ছে।” আনাস বলেন, “এরা সৃষ্টিকুল ও বিশ্বজগতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।”
আবূ ইয়া'লা, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৪১৪, বর্ণনাসূত্রে ইয়াযীদ রক্কাসি আছেন, অধিকাংশের মতে তিনি ত্রুটিযুক্ত, তবে আবু আহমাদ ইবনু আদি'র মতে বিশ্বস্ত (হাইসামি); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৯৫ (২৯৭৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৭ (৪১৪)।
[৬৮.] আবূ সুইয়ান বলেন, 'আমি জাবির-কে (কিছু বিষয়) জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন তিনি মক্কার পাশে বানু ফিহরের এলাকায় থাকতেন। একব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, "আপনারা কি কিবলার অনুসারী কাউকে মুশরিক বলতেন?” তিনি বললেন, "আল্লাহর আশ্রয় চাই!” প্রশ্ন শুনে তিনি আঁতke ওঠেন। লোকটি বলল, "আপনারা কি আপনাদের কাউকে কাফির বলতেন?" তিনি বললেন, "না।”'
আবু ইয়া'লা ৪/২০৭ (২৩১৭), ইসনাদটি সহীহ (দারানি); তাবারানি, আওসات ৫/২৮৭ (৭৩৫৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৭ (৪১৫)।
[৬৯.] আলি ও জাবির রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى ثَلَاثَةٍ : أَهْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، لَا تُكَفِّرُوْهُمْ بِذَنْبٍ، وَلَا تَشْهَدُوا عَلَيْهِمْ بِشِرْكٍ، وَمَعْرِفَةُ الْمَقَادِيرِ خَيْرِهَا وَشَرِّهَا مِنَ اللهِ، وَالْجِهَادُ مَاضٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، مُذْ بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا إِلَى آخِرِ عِصَابَةٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، لَا يَنْقُضُ ذَلِكَ جَوْرُ جَائِرٍ وَلَا عَدْلُ عَادِلٍ
"ইসলামের ভিত্তি তিনটি (মূলনীতি)'র ওপর:
» যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারী, তাদেরকে কোনও গোনাহের দরুন তোমরা কাফির আখ্যায়িত করবে না, তাদের বিরুদ্ধে শির্কের সাক্ষ্য দেবে না;
» জেনে রাখবে-তাকদীরের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত; আর
» জিহাদ চলতে থাকবে কিয়ামাত পর্যন্ত-আল্লাহ যেদিন মুহাম্মাদ ﷺ-কে (রাসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন, সেদিন থেকে নিয়ে মুসলিমদের সর্বশেষ দল পর্যন্ত; জালিমের জুলুম অথবা সুবিচারকারীর সুবিচার কোনোকিছুই একে বাতিল করতে পারবে না।”'
তাবারানি, আওসাত ৩/৩৩৭-৩৩৮ (৪৭৭৫), বর্ণনাসূত্রের ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া তাইমি ত্রুটিযুক্ত, তার বিরুদ্ধে (হাদীস জাল করার) অভিযোগ আছে (দারানি); কানযুল উম্মাল ১/২৭৭ (১৩৭০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪১০, ৪১১)।
[৭০.] আবূ সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন-
لَنْ يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنَ الْإِيْمَانِ إِلَّا بِجُحُوْدِ مَا دَخَلَ فِيْهِ
“একজন ব্যক্তি যেসব বিষয় মেনে নিয়ে ঈমানে ঢুকে, সেগুলো অস্বীকার করার আগ-পর্যন্ত সে ঈমান থেকে কিছুতেই বের হবে না।"'
তাবারানি, আওসات ৩/২৩২ (৪৪৩৩), বর্ণনাসূত্রের ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া তাইমি ত্রুটিযুক্ত, তার বিরুদ্ধে (হাদীস জাল করার) অভিযোগ আছে (দারানি); কানযুল উম্মাল ১/৯১ (৩৮৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬ (৪১২)।
[৭১.] আয়িশা রা. বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি-
لا تُكَفِّرُوْا أَحَدًا مِنْ أَهْلِ قِبْلَتِكُمْ بِذَنْبٍ وَإِنْ عَمِلُوا بِالكَبَائِرِ وَصَلُّوا مَعَ كُلِّ إِمَامٍ، وَجَاهَدُوا مَعَ كُلِّ أَمِير
"তোমাদের কিবলা অনুসরণ করে-এমন কাউকে গোনাহের দরুন কাফির আখ্যায়িত কোরো না, যদি তারা
> কবীরা গোনাহ করে, আবার
> প্রত্যেক ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায় করে এবং
> প্রত্যেক নেতার সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করে।"
তাবাবানি, আওসات ২/১৫১ (২৮৪৪), বর্ণনাসূত্রের আলি ইবনু আবী সারাহ ত্রুটিযুক্ত ও তার হাদীস পরিত্যাজ্য (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/২১৫ (১০৭৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১০৬-১০৭ (৪১৩)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর চেয়ে ভারী কিছুই নেই

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর চেয়ে ভারী কিছুই নেই


[৭২] আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন,
إِنَّ اللهَ سَيُخَلِّصُ رَجُلًا مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيَنْشُرُ لَهُ تِسْعَةً وَيَسْعِينَ سِجِلًا كُلُّ سِجِلٌ مِثْلُ مَدَّ الْبَصَرِ ، ثُمَّ يَقُولُ : أَتَنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا أَظَلَمَتَكَ كَتَبَتِي الحَافِظُونَ؟ فَيَقُولُ: لَا يَا رَبِّ، فَيَقُولُ : أَفَلَكَ عُذْرُ؟ فَيَقُولُ : لَا يَا رَبِّ. فَيَقُولُ تعالى: بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةٌ، فَإِنَّهُ لا ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ، فَيَخْرِجُ بِطَاقَةٌ فِيهَا: أَشْهَدُ أَنْ لا إلهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ: احْضُرُ وَزْنَكَ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلَّاتِ؟ فَقَالَ: فَإِنَّكَ لَا تُظْلَمُ فتُوضَعُ السِّجِلَّاتُ فِي كَفَّةِ وَالْبِطَاقَةُ فِي كَفَّةٍ، فَطَاشَتِ السِّجِلَّاتُ. وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ، وَلَا يَنْقُلُ مَعَ اسم الله شَيْءٌ
"কিয়ামাতের দিন আল্লাহ আমার উম্মাহর একজনকে সকল সৃষ্টির সামনে আলাদা করে নেবেন। তারপর তার সামনে নিরানব্বইটি নথি ছড়িয়ে দেবেন, প্রত্যেকটি খাতা দৃষ্টি যতদূর যায় ততদূর বিস্তৃত হবে। এরপর আল্লাহ বলবেন: 'তুমি কি এখানকার কোনোকিছু অস্বীকার করো? আমার নিযুক্ত সংরক্ষক লেখকগণ কি তোমার প্রতি কোনও জুলুম করেছে?'
সে বলবে: 'না, রব আমার!'
আল্লাহ বলবেন: 'তোমার কি কোনও অজুহাত আছে?'[১]
সে বলবে: 'না, রব আমার!'
আল্লাহ বলবেন: 'কেন নয়? অবশ্যই! আমার কাছে তোমার একটি ভালো কাজ জমা আছে! আজ তোমার প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।'
এরপর একটি কার্ড বের হবে, যার মধ্যে থাকবে-আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক।
তখন আল্লাহ বলবেন: 'তোমার দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আসো।'
সে বলবে: 'মনিব আমার! এসব খাতার বিপরীতে এ কার্ডের কী গুরুত্ব আছে?'
আল্লাহ বলবেন: 'তোমার প্রতি কোনও জুলুম করা হবে না।'
এরপর খাতাগুলো এক পাল্লায় আর কার্ডটি অপর পাল্লায় রাখা হবে। তখন খাতাগুলো হালকা আর কার্ডটি ভারী হয়ে যাবে। কোনোকিছুই আল্লাহর নামের চেয়ে বেশি ভারী হবে না!"'
তিরমিযি ২৬৩৯, হাসান গরীব; আহমাদ ২/২১৩ (৬৯৯৪); ইবনু মাজাহ্ ৪৩০০; হাকিম ১/৬ (৯), মুসলিমের শর্তে সহীহ; জামউল ফাওয়াইদ ৩১।

টিকাঃ
]১[ حَسَنَةٌ "তোমার কি কোনও ভালো কাজ আছে?" সে ভয় পেয়ে বলবে, "না।” (আহমাদ ২/২১৩ (৬৯১৪)) |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00