📄 তাওহীদের পাশাপাশি রিসালাতের সাক্ষ্য: হাসসান (রাঃ)-এর একটি কবিতা
[৫৫.] হাবীব ইবনু আবী সাবিত বলেন, 'হাসান ইবনু সাবিত রা. নবি ﷺ-এর সামনে কয়েকটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন:
شهِدْتُ بِإِذْنِ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ الَّذِي فَوْقَ السَّمَاوَاتِ مِنْ عَلُ وَأَنَّ أَبَا يَحْيِي وَيَحْيِي كِلَاهُمَا لَهُ عَمَلٌ فِي دِينِهِ مُتَقَبَّلُ يَقُولُ بِذَاتِ اللَّهِ فِيْهِمْ وَيَعْدِلُ وَأَنَّ أَخَا الْأَحْقَافِ إِذْ قَامَ فِيْهِمْ
"আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-মুহাম্মাদ তাঁর বার্তাবাহক, যিনি আছেন মহাকাশের ঊর্ধ্বে, অনেক ঊর্ধ্বে। ইয়াহইয়ার পিতা ও ইয়াহইয়া উভয়ই এমন, যাদের রয়েছে দ্বীনের ক্ষেত্রে কবুলযোগ্য আমল। আহকাফ জনগোষ্ঠীর ভাই (হৃদয়) দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে, ঘোষণা করেছিলেন আল্লাহর (অবিনশ্বর) সত্তার কথা, আর করেছেন সুবিচার।"
তখন নবি ﷺ বলেন, অ্যয়িও (এরূপ সাক্ষ্য। দিচ্ছি)
আবু ইয়া'লা ৫/৬১ (২৬৫৩), মুরসাল (মাইমামিয়; যাওয়াইদ ১/২৪ (৪৩)।
📄 তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য হতে হবে সন্দেহমুক্ত
[৫৬.] আবূ হুরায়রা রা. অথবা আবু সাঈদ রা. বলেন: 'তাবুক যুদ্ধের সময় সাহাবিগণ প্রচণ্ড ক্ষুধার কবলে পড়েন। তখনা। তারা বলেন, "আল্লাহর রাসূল! আপনি অনুমতি দিলে আমাদের উটগুলো জবাই করে খেতে পারি এবং চর্বিগুলো জমা করে রাখতে পারি।" আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, "إِفْعَلُوا )কারী(” তখন উমর রা. এসে বলেন, "আল্লাহর রাসূল! এ কাজ করলে বাহনের সংখ্যা কমে যাবে! আপনি বরং তাদের বলুন, তারা যেন নিজেদের অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্যগুলো নিয়ে আসে। এরপর তাতে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বরকত দেবেন।" নবি ﷺ বলেন, ঠিক আছে।”
এরপর তিনি একখণ্ড চামড়া আনার নির্দেশ দেন। তা এনে বিছানো হলে, অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্যগুলো আনতে বলেন। কেউ নিয়ে আসে একমুঠ যব, কেউ আনে একমুঠ খেজুর, আবার কেউ আনে রুটির ওপরের শক্ত অংশ। এভাবে চামড়ার অল্প একটু অংশে তা জমা হয়। ২০
* এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ সেগুলোতে বরকতের দুআ করে বলেন,
"তোমাদের পাত্রগুলোতে (এগুলো) ভরে নাও।" خُذُوا فِي أَوْعِيَتِكُمْ
তারা নিজেদের পাত্রে সেগুলো নেওয়ার পর, সেনাবাহিনীর প্রত্যেকটি পাত্রই তারা ভরে ফেলেন। এরপর সবাই পেটভরে খাওয়ার পরও কিছু খাবার উদ্বৃত্ত ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ، لَا يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرُ شَالٌ ، فَيُحْجَبَ عَنِ الْجَنَّةِ
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, আর আমি আল্লাহর রাসূল। কোনও বান্দা যদি কোনও সন্দেহ-সংশয় না রেখে এ দুটি বাক্য নিয়ে আল্লাহর কাছে হাজির হয়।১০),
এরপর তাকে জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে—এমনটি হবে না।"'
মুসলিম ১৩৯/৪৫ (...), ১৩৮/৪৪ (২৭); আহমাদ ২/৪২১-৪২২ (৯৪৬৬), ৩/১১ (১১০৮০), ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯); নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ১১৪০; তাবারানি, কাবীর ১/২১১-২১২ (৫৭৫); তাবারানি, আওসাত ১/৩০-৩১ (৬৩); ইবনু হিব্বান ১/৪৫৪-৪৫৫ (২২১); আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০), ২/৪১১-৪১২ (১১৯৯); হাকিম ২/৬১৮-৬১৯ (৪২৩৪); ইবনু মান্দাহ, কিতাবুল ঈমান ৩৬; বাইহাকি, দালাইল ৬/১২১; উসদুল গবাহ ৬/২৩১; তুহফাতুল আশরাফ ৬/২৩৬ (১২০৭৩); কানযুল উম্মাল ১/৪৯ (১৩৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৯-২০ (২৮)।
টিকাঃ
[১] 'আমরা বলি, "আল্লাহর রাসূল! শত্রুবাহিনী উপস্থিত! তাদের পেট ভরা, কিন্তু আমাদের লোকজন ক্ষুধার্ত।”' (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০)) |
[২] "আমরা কি আমাদের উটগুলো জবাই করে লোকদের খাওয়াব না?” (আবু ইয়া'লা ১/১৯১ (২৩০))|
[৩] 'আমরা নবি ﷺ-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। লোকজনের রসদ ফুরিয়ে এলে, কেউ কেউ নিজেদের বাহন (উট) জবাই করতে উদ্যত হন।' (মুসলিম ১৩৮/৪৪ (২৭)); 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নেতৃত্বাধীন এক যুদ্ধে মুসলিমদের রসد ফুরিয়ে আসে। খাবারের প্রয়োজন দেখা দিলে তারা উট জবাইয়ের জন্য আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে অনুমতি চান। নবি ﷺ তাদের অনুমতি দেন।' (আহমাদ ২/৪২১-৪২২ (১৬৪৬))|
]8[ 'নবি ﷺ বলেন, ی يَا عُمَرُ ঊমরা তা হলে তোমার কী মত?" উমর বলেন,...' (তাবারানি, কাবীর ১/২১১-২১২ (৫৭৫)) |
[৫] "উটগুলো তাদের বহন করে শত্রুবাহিনীর কাছে নিয়ে যাবে। তারা এগুলো জবাই করে ফেলবে? আল্লাহর রাসূল! [তা হলে তো আগামীকাল আমাদের শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে পায়ে হেঁটে, ক্ষুধার্ত অবস্থায়! (আহমাদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯))] আপনি বরং (তাদের) অবশিষ্ট রসদ নিয়ে আসার জন্য বলুন, এরপর তাতে বরকতের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন!" (আহমাদ ২/৪২১-৪২২ (১৬৪৬)) |
]৬] 'নবি ﷺ বলেন, مَعَهُ فَضْلُ طَعَامٍ فَلْيَجِئ بِهِ ব্রার ক্লাছে অবশিষ্ট খাবার আছে, সে যেন তা নিয়ে আসে।" (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))。
[১] 'তাদের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ পরিমাণ এনেছিলেন, তিনি এনেছিলেন এক সা' খেজুর' (আহমদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯))|
[২] 'পুরো বাহিনীর মধ্যে থাকা খাবারের পরিমাণ ছিল বিশ সা'-এর একটু বেশি।' (আবূ ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))|
[৩] 'তখন যার কাছে গম ছিল তিনি গম নিয়ে আসেন, আর যার কাছে খেজুর ছিল তিনি নিয়ে আসেন খেজুর।' মুজাহিদ বলেন, 'যার কাছে খেজুরের বিচি ছিল, তিনি নিয়ে আসেন খেজুরের বিচি।' আমি জিজ্ঞেস করি, 'খেজুরের বিচি দিয়ে তারা কী করতেন?' তিনি বলেন, 'তারা তা চোষার পর পানি পান করতেন।' (মুসলিম ১৩৮/৪৪ (২৭))|
]8[ وَلَا تَنْتَهِبُرًا “তবে কাড়াকাড়ি করবে না” (আবূ ইয়ালা ১/১৯৯ (২৩০))。
[৫] 'কেউ কেউ জামার হাতা বেঁধে তাতে (খাবার) ভরে নেয়' (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))|
[৬] 'বিপুল পরিমাণ' (আহমদ ২/৪২১-৪২২ (৯৬৪৬)); 'আগের মতোই' (আহমদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯)); 'সবাই নেওয়ার পর দেখা গেল, খাবারের পরিমাণ শুরুতে যেমন ছিল তেমনই রয়ে গিয়েছে' (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))|
[৭] 'এরপর নবি ﷺ একটি পাত্র আনতে বলেন। পাত্রটি তাঁর সামনে রাখা হলে, তিনি পানি আনার নির্দেশ দেন। এরপর তাতে পানি ঢেলে হালকা থুতু ছিটান। এরপর কিছু পাঠ করে তাতে নিজের কনিষ্ঠ আঙুল ঢুকিয়ে দেন। শপথ আল্লাহর! আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম-আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর আঙুলগুলো থেকে পানির ঝরনাধারা ছুটছে! এরপর নবি ﷺ-এর আদেশমতো লোকজন এসে পানি পান করে, অন্যদের পান করায় এবং নিজেদের পাত্রগুলোতে পানি ভর্তি করে নেয়।' (তাবারানি, কাবীর ১/২১১-২১২ (৫৭৫)।
[৮] 'এ দৃশ্য দেখে আল্লাহর রাসূল ﷺ হাসি দেন। সেই হাসিতে তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল। এরপর...' (আহমদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯))|
]৯[ عَبْدُ اللَّهِ وَ “আল্লাহর গোলাম ও” (আহমদ ২/৪২১-৪২২ (১৬৪৬))。
]১০[ إِنَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ “সে জান্নাতে যাবে।” (মুসলিম ১৩৮/৪৪ )১৯(( إِلا دَخَلَ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ "সে জান্নাতে যাবে, তার অবস্থা যাই হোক না কেন” (তাবাবানি, কাথীর ১/২১১-২১২ )إِلْاحْجِبَتْ عَنْهُ النَّارُيَوْمَ الْقِيَامَةِ ;((٢٩٥ "কিয়ামাতের দিন জাহান্নামের আগুনকে তার কাছ থেকে দূরে রাখা হবে” (আহমাদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯)); ইِلا وَقَاهُ اللَّهُ حَرَّ النَّارِ “আল্লাহ তাকে জাহান্নামের উত্তাপ থেকে সুরক্ষিত রাখবেন” (আবু ইয়ালা ১/১৯৯ (২৩০))。
📄 ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সম্পর্কে বিশেষ বৈঠকে নবি ﷺ-এর ঘোষণা
[৫৭.] ইয়া'লা ইবনু শাদ্দাদ বলেন, আবু শাদ্দাদ ইবনু আউস (এটি) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আর উবাদা ইবনুস সামিত রা. উপস্থিত থেকে তা সত্যায়ন করেছেন। আবু শাদ্দাদ রা. বলেন, 'আমরা নবি ﷺ-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় তিনি বলেন, هَلْ فِيْكُمْ غَرِيبٌ “তোমাদের মধ্যে বহিরাগত কেউ আছে?” অর্থাৎ, আহলুল কিতাব (ইহুদি-খ্রিষ্টান)-দের কেউ আছে কি না। আমরা বললাম, “না, আল্লাহর রাসূল!” তখন তিনি দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ارْفَعُوا أَيْدِيكُمْ وَقُوْلُوْا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ "তোমরা হাত তুলে বলো-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া দাসত্ব-লাভের অধিকারী কেউ নেই)।" আমরা হাত তুলে কিছুক্ষণ রাখি। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ হাত নামিয়ে বলেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ ، اللَّهُمَّ بَعَثْتَنِي بِهَذِهِ الْكَلِمَةِ ، وَأَمَرْتَنِي بِهَا ، وَوَعَدْتَنِي عَلَيْهَا الْجَنَّةَ ، وَإِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ "প্রশংসা সবই আল্লাহর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এ বাক্য দিয়ে পাঠিয়েছ, আমাকে এর আদেশ দিয়েছ, আমাকে এর ভিত্তিতে জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছ, তুমি ওয়াদার ব্যতিক্রম করো না।" এরপর বলেন, أَبْشِرُوا ، فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ غَفَرَ لَكُمْ "সুসংবাদ লও! আল্লাহ তাআলা তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।”'
আহমাদ ৪/১২৪ (১৭১২১), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/১৩ (১০); তাবারানি, কাবীর ৭/৩৪৭ (৭১৬৩); তাবারানি, মুসনাদুশ শামিয়্যীন ১১০৪; হাকিম ১/৫০১ (১৮৪৪); আত-তারগীব ২/৪১৫; কানযুল উম্মাল ১/৪৯ (১৩৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৮-১৯ (২৩)।
📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ভিত্তিতে রাসূল ﷺ-এর সুপারিশ লাভ
[৫৮.] আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আমি জিজ্ঞেস করি, 'আল্লাহর রাসূল! কিয়ামাতের দিন আপনার সুপারিশ লাভের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি সবচেয়ে সৌভাগ্যবান?' তিনি বলেন,
لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْ لَا يَسْأَلُنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلُ مِنْكَ، لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ على الحَدِيثِ، أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه خَالِصًا مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ
"আবু হুরায়রা! হাদীসের প্রতি তোমার যে আগ্রহ দেখেছি তা থেকে মনে হলো, এ বিষয়ে তোমার আগে কেউ প্রশ্ন করবে না! কিয়ামাতের দিন আমার সুপারিশ লাভের ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে সৌভাগ্যবান, যে অন্তর থেকে পরম নিষ্ঠার সঙ্গে বলে-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই)।" ৬৫ খৃশ্যন্তি ৯; ২/৩০৭(৮০৭০), ২/৩৭৩ (৮৮৫৮), ২/৫১৮ (১০৭১৩); জামউল সপ্ত ওয়াইদ
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' জান্নাতের চাবি
[৫৯.] মুআয ইবনু জাবাল রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বলেছেন,
مَفَاتِيحُ الْجَنَّةِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
"জান্নাতের চাবি হলো এ মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই।"
৫/ আজহাদ ২২১০২), বর্ণনাসূত্রটি দুর্বল (আরনাউত); (কালফ্যর/১ (২); আত-তারগীব ২/৪১৬ (১৬); মাজমাউযযাওয়াইত০)। ইসলামিল ৪/১৩৫৬;
টিকাঃ
]১[ عَلَى الْعِلْمِ [2] "জ্ঞানের (প্রমিত ২/৩০৭ (৮০৭০), ২/৫১৮ (১০৭১৩))。
[২] আবূ হুরায়রা রা. বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, "সুপারিশের ব্যাপারে আপনার রব আপনাকে কী জবাব দিলেন?” নবি ﷺ বলেন, وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَقَدْ ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَوَّلُ مَنْ يَسْأَلُنِي عَنْ ذَلِكَ مِنْ أُمَّتِي، لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الْعِلْمِ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَمَا يُهِمُنِي مِنَ الْقِصَانِهِمْ عَلَى أَبْوَابِ الْجَنَّةِ أَهَمُّ عِنْدِي مِنْ تَمَامِ شَفَاعَتِي، وَشَفَاعَتِي لِمَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله مُخْلِصًا، يُصَدِّقُ قَلْبُهُ لِسَانَهُ وَلِسَانُهُ قَلْبَهُ "শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! জ্ঞানের প্রতি তোমার যে আগ্রহ দেখেছি, তা থেকে মনে হলো-আমার উম্মাহর মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম এ-বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করবে। শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! জান্নাতের দরজার সামনে তাদের যে প্রচণ্ড ভিড় আমাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে, তা আমার কাছে আমার সুপারিশের পূর্ণতার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ (স্মোলময়)। আমার সুপারিশ তার জন্য প্রযোজ্য হবে, যে পরম নিষ্ঠার সঙ্গে সাক্ষ্য দেয়-'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ আল্লাহ ছাড়া ইবাদাত-লাভের অধিকারী কেউ নেই', (পরম নিষ্ঠার মানে হলো-) সে মুখে যা বলছে তার অন্তরে তা-ই আছে, আর অন্তরে যা আছে তা-ই সে মুখে প্রকাশ করছেয়টি ২/৩০৭ (৮০৭০), ইসনাদটি হাসান পর্যায়ের)।