📄 আবু বকর (রাঃ)-কে উমর (রাঃ)-এর বাধা
[৪৭.] আবূ বকর রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন,
أُخْرُجْ فَنَادٍ فِي النَّاسِ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
"যাও! মানুষের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে দাও-যে-ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই', তার জন্য জান্নাত অবধারিত।"
আমি বেরিয়ে পড়ি। উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর সঙ্গে দেখা হলে, তিনি বলেন "আবূ বকর! আপনার কী খবর?” আমি বলি, "আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বলেছেন। মানুষের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে দাও-যে-ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে "আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই", তার জন্য জান্নাত অবধারিত।' উমর রা. বলেন, "আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে ফিরে যান, কারণ আমার আশঙ্কা হচ্ছে-লোকজন এর ওপর ভরসা করে বসে থাকবে।" আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে ফিরে গেলে, তিনি জিজ্ঞেস করেন-
"ফিরে এলে কেন?"
আমি নবি ﷺ-কে উমর রা.-এর মন্তব্যটি জানালে, তিনি বলেন-
"তার কথা সত্য।"
আবু ইয়া'লা ১/১০০-১০১ (১০৫), ইসনাদের একজন বর্ণনাকারী মাতরূক/পরিত্যাজ্য (হাইসামিয়; যাওয়াইদ উম্মাল ১/২৯১ (১৪০৭)।
📄 আবু মুসা (রাঃ)-কে রাসূল ﷺ-এর কাছে কে দ্রুত পাঠাতো
[৪৮.] আবূ মূসা রা. থেকে বর্ণিত, 'আমার গোত্রের একদল লোকের সঙ্গে আমি নবি ﷺ-এর কাছে আসি। আমাদের দেখে নবি ﷺ বলেন,
أَبْشِرُوا وَبَشِّرُوا مَنْ وَرَاءَكُمْ إِنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ صَادِقًا بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
"সুসংবাদ লও এবং তোমাদের পেছনের লোকদের সুসংবাদ দাও! যে-ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে সাক্ষ্য দেয়-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" [১] লোকদের এ সুসংবাদ দেওয়ার জন্য আমরা নবি ﷺ-এর কাছ থেকে বেরিয়ে আসি। উমরের সঙ্গে দেখা হলে, তিনি আমাদের নিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো লোকেরা এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে, কাজ করবে না!'[৩] এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল ﷺ চুপ থাকেন।'
আহমাদ ৪/৪০২ (১৯৫৯৭), বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি), ৪/৪১১ (১৯৬৮৯), সহীহ; তাহাতি, শারহু মুশকিল ১০/১৬৮ (৪০০৩); তাবাবানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ৭; কানযুল উম্মাল ১/৪৭-৪৮ (১৩১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৬ (৭); জামউল ফাওয়াইদ ৯।
টিকাঃ
[১] অর্থাৎ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য থেকে যেসব দায়দায়িত্ব আসে, সেগুলো পালন করে (তহাভি, শারহু মুশকিল ১০/১৬৯)।
[২] 'তারা বেরিয়ে এসে লোকদের এ সুসংবাদ দিতে থাকেন' (আহমদ ৪/৪১১ (১৯৬৮৯))。
[৩] 'তারা উমর-কে এ সুসংবাদ দিলে, তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন। আল্লাহর রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করেন, مَنْ رَبُّكُمْ "কে তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছে?" তারা বলেন, 'উমর।' রাসূল ﷺ জিজ্ঞেস করেন, وَهُمْ يَا عُمَرُ তুমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছ কেন?" উমর বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে তো লোকেরা এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে, কাজ করবে না!' (আহমদ ৪/৪১১ (১৯৬৮৯); তহাভি, শারহু মুশকিল ১০/১৬৮ (৪০০৩))。
📄 মুআয (রাঃ)-কে বাধা প্রদান
[৪৯.] আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, কোনও একদিন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছিলেন,
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
"যে-ব্যক্তি বলবে—আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।"
এ কথা শুনে মুআয রা. বাইরে গিয়ে লোকদের এ সুসংবাদ দেওয়ার জন্য নবি ﷺ -এর কাছে অনুমতি চান। নবি ﷺ তাকে অনুমতি দিলে, তিনি খুশিমনে দ্রুত বেরিয়ে পড়েন। উমর রা. -এর সঙ্গে দেখা হলে তিনি বলেন, 'তোমার কী অবস্থা?' তিনি তাকে বিষয়টি জানালে, উমর রা. বলেন, 'যেভাবে আছেন সেভাবেই থাকুন, তাড়াহুড়া করবেন না!' এরপর তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর কাছে গিয়ে বলেন, 'হে আল্লাহর নবি! সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনিই সর্বোত্তম। (তবে) এ কথা শুনলে তো লোকেরা এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে, আমল (কাজ) করবে না!' নবি ﷺ বলেন, "তাহলে তাকে ফিরিয়ে আনো।" এরপর তিনি তাকে ফেরত আনেন।'
বাযযার (দ্রষ্টব্য: কাশফুল আস্তার) ১/১২ (৮), হাইসামির মতে একজন বর্ণনাকারী দুর্বল, ইবনু হাজার আসকালানির মতে (ফাতহুল বারী, আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যা সংস্করণ, ১/২২৭) ইসনাদটি হাসান; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৭ (১৫); জামউল ফাওয়াইদ ১০।
📄 বিলাল (রাঃ)-এর কথার পরিপ্রেক্ষিতে নবি ﷺ-এর মন্তব্য
[৫০.] বিলাল রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
يَا بِلالُ نَادٍ فِي النَّاسِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ أَوْ شَهْرٍ أَوْ جُمُعَةٍ أَوْ يَوْمٍ أَوْ سَاعَةٍ
"বিলাল! মানুষের মধ্যে এ ঘোষণা দিয়ে দাও—যে-ব্যক্তি মৃত্যুর এক বছর কিংবা এক মাস অথবা এক জুমুআ অথবা একদিন অথবা কিছুক্ষণ পূর্বে বলে'১), 'আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
বিলাল রা. বলেন, 'তাহলে তো লোকেরা এর ওপরই নির্ভর করে বসে থাকবে!'
তিনি বলেন, وَإِن اتَّكَلُوا "নির্ভর করে বসে থাকলেও।”১[
তাবারানি, কাবীর ১/৩৬৬ (১১২৩), স্মৃতিশক্তি ভালো না থাকায় একজন বর্ণনাকারী ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি); বাযযার ১/২৭৬ (১৭৪); কাশফুল আসতার ১/১৩ (১১); ইবনু খুযাইমা, আত-তাওহীদ ২/৮০৩-৮০৪ (৫২৭); কানযুল উম্মাল ১/৬৪ (২৩১); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৬-১৭ (১১), ১/১৮ (১৯); জামউল ফাওয়াইদ ১১-১২।
টিকাঃ
]১[ شهد "সাক্ষ্য দেয়” (বাযযার ১/২৭৬ (১৭৪)।
[২] 'এর পরিপ্রেক্ষিতে উমর বলেন, 'তাহলে তো এরা এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে বসে থাকবে!' নবি ﷺ বলেন, دَعْهُمْ يَتَّكِلُوا "তাদের নির্ভর করে বসে থাকতে দাও!”' (বাযযার ১/২৭৬ (১৭৪))。