📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 এক সফরে নবি ﷺ-এর ভাষণ

📄 এক সফরে নবি ﷺ-এর ভাষণ


[৪৫.] সুহাইল ইবনুল বাইদা থেকে বর্ণিত, 'এক সফরে আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে ছিলাম। আমি ছিলাম তাঁর পেছনে তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
يَا سُهَيْلَ ابْنَ الْبَيْضَاءِ
"সুহাইল ইবনুল বাইদা!”
তিনি উচ্চ আওয়াজে দু-তিনবার ডাক দেন। তাঁর প্রত্যেকটি ডাকে সুহাইল সাড়া দেন। 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কণ্ঠ শুনে। লোকজনের ধারণা হয়, তিনি তাদের চাচ্ছেন। ফলে তাঁর সামনের লোকদের আটকে দেওয়া হয়, [৮] আর পেছনের লোকেরা এসে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। লোকজন সমবেত হলে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
إِنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ، وَأَوْجَبَ لَهُ الْجَنَّةَ
"যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ্ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, [১০] আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত করে দেবেন।"
আহমাদ ৩/৪৫১ (১৫৭৩৮) সহীহ লি-গাইরিহী, ৩/৪৫১ (১৫৭৩৯), ৩/৪৬৬-৪৬৭ (১৫৮৩৯), ৩/৪৬৭ (১৫৮৪০); আব্দ ইবনু হুমাইদ, আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদ ৪৭২; ইবনু আবী আসিম, আল-আহাদ ওয়াল মাসানী ২/১৩৪-১৩৫ (৮৫৪); তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর ৬/২১০ (৬০৩৩), ৬/২১০ (৬০৩৪); ইবনু হিব্বান ১/৪২৮ (১৯৯); মাওয়ারিদুয যমআন ৩; হাকিম ৩/৬৩০ (৬৬৪৬); আল- ইসাবা ৪/২৮৩; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৫-১৬ (৬); কানযুল উম্মাল ১/৬৮ (২৩২); জামউল ফাওয়াইদ ৪।

টিকাঃ
[১] বানু আব্দিদ দার গোত্রের (আহমাদ ৩/৪৫১ (১৫৭৩৯))。
[২] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর উটের ওপর, পেছনের সহ-আরোহী হিসেবে' (তাবারানি, কাবীর ৬০৩৩)।
[৩] 'এক রাতে' (আহমাদ ৩/৪৬৬-৪৬৭ (১৫৮৩৯))。
[৪] 'বেশ কয়েকবার' (আহমদ ৩/৪৬৬-৪৬৭ (১৫৮৩৯))。
[৫] 'সুহাইল বলেন, "জি, আমি হাজির!”' (তাবারানি, কাবীর ৬০৩৩)。
[৬] 'আওয়াজ শুনে আমাদের পেছনের ও সামনের লোকজন সমবেত হন' (আহমাদ ৩/৪৬৬-৪৬৭ (১৫৮৩৯))。
[৭] 'তিনি কোনও একটি বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন' (আহমাদ ৩/৪৬৬-৪৬৭ (১৫৮৩৯))。
[৮] 'ফলে তাঁর সামনের লোকজন বসে যান' (তাবারানি, কাবীর ৬০৩৪)。
[৯] J "বলে” (আহমাদ ৩/৪৬৬-৪৬৭ (১৫৮৩৯))。
[১০] "এর বিনিময়ে" (আহমাদ ৩/৪৬৮-৪৬৭ (১৫৮৩৯))。

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 যেসব হাদীসে এক-দুটি কাজের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে মূলনীতি

📄 যেসব হাদীসে এক-দুটি কাজের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলোর ব্যাপারে মূলনীতি


যেসব হাদীসে এক-দুটি কাজের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেসব হাদীসের তাৎপর্য বোঝার ক্ষেত্রে ইমাম ইবনু হিব্বান একটি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন:
هذَا خَبَرٌ خَرَجَ خِطَابُهُ عَلَى حَسْبِ الْحَالِ وَهُوَ مِنَ الضَّرْبِ الَّذِي ذَكَرْتُ فِي كِتَابٍ فُصُولِ السُّنَنِ أَنَّ الْخَبَرَ إِذَا كَانَ خِطَابُهُ عَلَى حَسْبِ الْحَالِ لَمْ يَجُزْ أَنْ يُحْكَمَ بِهِ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ وَكُلُّ خِطَابٍ كَانَ مِنَ النَّبِيِّ عَلَى حَسْبِ الْحَالِ فَهُوَ عَلَى ضَرْبَيْنِ أَحَدُهُمَا وُجُودُ حَالَةٍ مِنْ أَجْلِهَا ذُكِرَ مَا ذُكِرَ لَمْ تُذْكَرْ تِلْكَ الْحَالَةُ مَعَ ذَلِكَ الْخَبَرِ وَالثَّانِي أَسْئِلَةٌ سُئِلَ عَنْهَا النَّبِيُّ فَأَجَابَ عَنْهَا بِأَجُوبَةٍ فَرُوِيَتْ عَنْهُ تِلْكَ الْأَجْوِبَةُ مِنْ غَيْرِ تِلْكَ الْأَسْئِلَةِ فَلَا يَجُوزُ أَنْ يُحْكَمَ بِالْخَبَرِ إِذَا كَانَ هُذَا نَعْتُهُ فِي كُلِّ الْأَحْوَالِ دُوْنَ أَنْ يُضَمَّ مُجْمَلُهُ إِلَى مُفَسَّرِهِ وَمُخْتَصَرُهُ إِلَى مُتَقَصَّاهُ
"নবি ﷺ-এর এ ভাষণটি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছে। এটি সেই শ্রেণির হাদীসের অন্তর্ভুক্ত, যার ব্যাপারে আমি 'ফুসূলুস সুনান' গ্রন্থে আলোচনা করেছি। নবি ﷺ বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনও ভাষণ দিলে, এর বিধান সর্বাবস্থায় প্রয়োগ করা বৈধ নয়। নবি ﷺ-এর বিশেষ-পরিস্থিতিতে-দেওয়া ভাষণগুলো দু ধরনের: (১) একটি বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যার দরুন নবি ﷺ সেই কথাটি বলেছিলেন, তবে হাদীসের এ বর্ণনায় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়নি; (২) নবি ﷺ-কে কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল, যার জবাব তিনি দিয়েছেন, কিন্তু হাদীসের বর্ণনায় নবি ﷺ-এর জবাবগুলো উল্লেখ করা হলেও প্রশ্নগুলো উল্লেখ করা হয়নি। সুতরাং, ঘটনা এরূপ হয়ে থাকলে, সেই হাদীসের বিধান সর্বাবস্থায় প্রয়োগ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ-না সংক্ষিপ্ত বিবরণীর সেই হাদীসটিকে সেসব হাদীসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যেখানে এর বিস্তৃত রূপ উল্লেখ করা হয়েছে।” (ইবনু হিব্বান, সহীহ, বাইতুল আফকার সংস্করণ, পৃ. ৮২-৮৩)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 আল্লাহর উলুহিয়াতের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জান্নাত: বিষয়টি উমর (রাঃ) যেভাবে বুঝেছেন

📄 আল্লাহর উলুহিয়াতের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জান্নাত: বিষয়টি উমর (রাঃ) যেভাবে বুঝেছেন


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 এ-তত্ত্ব প্রচার করতে গেলে আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে উমর (রাঃ)-এর বাধা

📄 এ-তত্ত্ব প্রচার করতে গেলে আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে উমর (রাঃ)-এর বাধা


[৪৬.] আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর পাশে আমরা একদল লোক বসা। সঙ্গে আছেন আবূ বকর ও উমর রা.। একপর্যায়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের সামনে থেকে উঠে যান। অনেকক্ষণ পরও তিনি ফিরে আসেননি! আমরা ভয় পেয়ে যাই-একলা পেয়ে তাঁর ওপর কেউ আক্রমণ করে বসল না তো! আমাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় আমরা উঠে যাই। সর্বপ্রথম আমি আঁতকে উঠি; তাই আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর খোঁজে বেরিয়ে পড়ি। একপর্যায়ে বানুন নাজ্জারের আনসারদের একটি প্রাচীর-বেষ্টিত বাগানের কাছে আসি। চারপাশে চক্কর দিয়ে দেখি (ভেতরে ঢুকার) কোনও রাস্তা পাওয়া যায় কি না। না, কোনও রাস্তা পেলাম না। হঠাৎ নজরে পড়ে-বাইরের একটি কুয়ো থেকে পানির একটি স্রোতধারা দেওয়ালের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। খ্যাঁকশিয়ালের মতো নিজেকে গুটিয়ে নিই। এরপর ভেতরে ঢুকে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে যাই। তিনি বলেন, أَبُوْهُرَيْرَةَ؟ "আবূ হুরায়রা?” আমি বলি, 'হ্যাঁ! হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি জিজ্ঞেস করেন, مَا شَأْتُكَ "তোমার কী অবস্থা?” বলি-'আপনি আমাদের সামনে ছিলেন। তারপর যে উঠে এলেন, আর তো ফিরলেন না! তাই আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, একলা পেয়ে কেউ আপনার ক্ষতি করে বসল কি না! আমরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। সর্বপ্রথম আমি আঁতকে উঠেছিলাম। তাই এই দেওয়ালের কাছে আসি। এরপর খ্যাঁকশিয়ালের মতো নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করি। এসব লোক (অর্থাৎ অন্যান্য সাহাবি) আমার পেছনে আছেন।' তিনি বলেন, أَبُوهُرَيْرَةَ "আবূ হুরায়রা!” (এ কথা বলে) তিনি তাঁর জুতা-দুটি আমাকে দেন। তারপর বলেন,
اذْهَبْ بِنَعْلَيَّ هَاتَيْنِ فَمَنْ لَقِيتَ مِنْ وَرَاءِ هُذَا الْحَائِطِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنَا بِهَا قَلْبُهُ فَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ
"আমার এই জুতা-জোড়া নিয়ে যাও। এ দেওয়ালের ওপাশে যাকে দেখবে-অন্তরে অটল বিশ্বাস রেখে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও।"
আমার সঙ্গে প্রথমে দেখা হয় উমরের। তিনি বলেন, 'এই জুতা-জোড়া কী (জন্য)?' আমি বলি, 'এগুলো আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর জুতা। তিনি আমাকে এগুলো দিয়ে পাঠিয়েছেন; যাকে দেখব অন্তরে অটল বিশ্বাস রেখে সাক্ষ্য দিচ্ছে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবো!' এ কথা শুনে উমর আমার বুকে এত জোরে ধাক্কা দেন যে, আমি নিতম্বের ওপর পড়ে যাই। তিনি বলেন, 'আবূ হুরায়রা! ফিরে যাও!' আমি কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নিকট ফিরে যাই। উমর আমার পিছু পিছু আসেন।
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, يَا أَبَا هُرَيْرَةَ আবূ হুরায়রা! তোমার কী হলো?” আমি বলি, 'আমার সঙ্গে উমরের দেখা হলে আমি তাকে তাই বলি, যা বলার জন্য আপনি আমাকে পাঠিয়েছিলেন। কথা শুনে তিনি আমার বুকে এত জোরে ধাক্কা দেন যে, আমি নিতম্বের ওপর পড়ে যাই। তারপর বলেন, 'ফিরে যাও'।' আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا فَعَلْتَ مَا رَلَ তুমি এ কাজ করেছ কেন?" তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি আমার পিতামাতা কুরবান হোক! আপনি কি আবূ হুরায়রাকে আপনার জুতা-জোড়া দিয়ে এজন্য পাঠিয়েছেন, যাকে দেখবে-অন্তরে অটল বিশ্বাস রেখে সাক্ষ্য দিচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তাকে সে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দেবে?' তিনি বলেন," উমর বলেন, 'এমনটি করবেন না; আমার আশঙ্কা হচ্ছে, লোকজন এর ওপর ভরসা করে বসে থাকবে; বরং তাদেরকে আমল করার জন্য ছেড়ে দিন!' এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, তবে তাদের ছেড়ে দাও।” (১)
মুসলিম ১৪৭/৫ জায়েজ ফাওয়াইদ ৮।

টিকাঃ
]১[ مْ تَرَكُوا م্ ছেড়ে দাও, তারা আমল করুক" (আহমাদ ৫/২৩২ (২২০২৮), সহীহ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00