📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সঙ্গে কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করতে হবে

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সঙ্গে কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করতে হবে


[৩৮.] রিফাআ ইবনু আরাবা জুহানি বলেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে (মক্কা থেকে) আসছি। কাদীদ এলাকায় আসার পর, আমাদের কিছু লোক নিজেদের পরিবার-পরিজনদের কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইতে থাকে। রাসূল ﷺ তাদের অনুমতি দেন। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করে বলেন,
مَا بَالُ رِجَالٍ يَكُوْنُ شِقُّ الشَّجَرَةِ الَّتِي تَلِي رَسُوْلَ اللَّهِ أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الشَّقِّ الْآخَرِ
"কিছু লোকের হলো কী? গাছের যে অংশটি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছাকাছি, তা তাদের কাছে অন্য অংশের তুলনায় অধিক ঘৃণ্য!” (অর্থাৎ রাসূল ﷺ যে দিকে যাচ্ছেন, তা তাদের পছন্দ হচ্ছে না, তারা অন্যদিকে যাচ্ছে)।
এ কথা শোনার পর সাহাবিদের সবাইকে কাঁদতে দেখা যায়। তখন একব্যক্তি বলেন, "এর পর যে-ব্যক্তি (চলে-যাওয়ার জন্য) অনুমতি চাইবে, সে নিশ্চিত নির্বোধ।”[৬] তখন নবি ﷺ আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করেন। বলেন,
أَشْهَدُ عِنْدَ الله لَا يَمُوتُ عَبْدٌ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ، ثُمَّ يُسَدِّدُ إِلَّا سُلِكَ فِي الْجَنَّةِ
"আমি আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি-যে বান্দা
» সাক্ষ্য দেয় এবং অন্তর দিয়ে সত্যায়ন করে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর আমি আল্লাহর বার্তাবাহক, এরপর
> কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করে,
সে মারা গেলে তাকে অবশ্যই জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।" এরপর নবি ﷺ বলেন,
وَقَدْ وَعَدَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِي (الجنة) سَبْعِينَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلَا عَذَابٌ، وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ (لا) يَدْخُلُوهَا حَتَّى تَبَوَّهُوا أَنْتُمْ، وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِكُمْ وَأَزْوَاجِكُمْ وَذُرِّيَّاتِكُمْ مَسَاكِنَ فِي الْجَنَّةِ
"আমার মহান রব আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন-তিনি আমার উম্মাহর সত্তর হাজার লোককে (জান্নাতে) ঢুকাবেন, যাদের না হবে কোনও হিসাব আর না হবে কোনও শাস্তি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস-তোমরা এবং তোমাদের সৎকর্মশীল পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানরা জান্নাতে বাসস্থান খুঁজে নেওয়ার আগে, সেসব লোক সেখানে ঢুকবে না।" এরপর তিনি বলেন,
إِذَا مَضَى نِصْفُ اللَّيْلِ أَوْ ثُلُنَا اللَّيْلِ يَنْزِلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُوْلُ لَا أَسْأَلُ عَنْ عِبَادِي أَحَدًا غَيْرِي مَنْ ذَا يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ مَنِ الَّذِي يَدْعُوْنِي فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ حَتَّى يَنْفَجِرَ الصُّبْحُ
"রাতের অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হলে, আল্লাহ তাআলা নিকটতম আকাশে এসে বলেন, 'আমার বান্দাদের সম্পর্কে অন্য কারও কাছে জানতে চাইব না। এমন কে আছে, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। কে আছে, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। এমন কে আছে, যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে সেটি দেবো।'
সুবহে সাদিক পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে।"
আহমাদ ৪/১৬ (১৬২১৫) ইসনাদটি সহীহ, ৪/১৬ (১৬২১৬), ৪/১৬ (১৬২১৭), ৪/১৬ (১৬২১৮); তায়ালিসি ১৩৮৭, ১৩৮৮; বাযযার (কাশফ) ৪/২০৬ (৩৫৪৩); ইবনু মাজাহ, ১৩৬৭, ৪২৮৫; নাসাঈ, কুবরা ১০২৩৬; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ৪৭৫; তাবারানি, কাবীর ৫/৪৯-৫০ (৪৫৫৬), ৫/৫০-৫১ (৪৫৫৭), ৫/৫১ (৪৫৫৮), ৫/৫১-৫২ (৪৫৫৯), ৫/৫২ (৪৫৬০); ইবনু খুযাইমা, আত-তাওহীদ ১/৩১২-৩১৫ (৩৭); ইবনু হিব্বান ১/৪৪৪-৪৪৫ (২১২), ইবনু হিব্বান (মাওয়াবিদ) ৯; হিলইয়া ৬/২৮৬; বাইহাকি, শুআব ১/৩৬৪ (৪০৪); কানযুল উম্মাল ১০/৪৭৭ (৩০১৪৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২০-২১ (২৯); আমউল ফাওয়াইদ ২৬।

টিকাঃ
[৪] 'কুদাইদ' অথবা 'আরাফা' (আহমদ ৪/১৬ (১৬২১৭, ১৬২১৮))。
[৫] 'হতভাগা' (বাযযার (কাশফ) ৪/২০৬ (৩৫৪৩))。
[৬] '(তখন) আবূ বকর রা. বলেন, "এরপর যে-ব্যক্তি (চলে-যাওয়ার জন্য) আপনার কাছে অনুমতি চাইবে, আমার বিবেচনায় সে একটা নিশ্চিত নির্বোধ” (আহমাদ ৪/১৬ (১৬২১৬); ইবনু হিব্বান ২১২)।
[৭] 'নবি ﷺ শপথ করলে বলতেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ "শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ!” (ইবনু হিব্বান ২১২)。
[১] إِنَّ اللَّهَ يُمْهِلُ حَتَّى "আল্লাহ তাআলা অবকাশ দেন। এরপর..." (ইবনু মাজাহ ১৩৬৭)。
[২] এ "এক-তৃতীয়াংশ” (তাবারানি, কাবীর ৫/৫১ (৪৫৫৭, ৪৫৫৮))
]0[ لا يَسْأَلَنَّ عِبَادِي غَيْرِي "আমার বান্দারা আমার কাছে ছাড়া অন্য কারও কাছে কিছু চাইবে না।” (ইবনু মাজাহ ১৩৬৭) |

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ওপর অটল থেকে মারা গেলে জান্নাতের ওয়াদা

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ওপর অটল থেকে মারা গেলে জান্নাতের ওয়াদা


[৩৯.] আবূ যার রা. থেকে বর্ণিত, 'আমি নবি ﷺ-এর কাছে এসে দেখি, তিনি একটি সাদা কাপড় গায়ে দিয়ে ঘুমুচ্ছেন। পরে আবার আসি; তখনও তিনি ঘুমুচ্ছেন। এরপর আবার আসি; ততক্ষণে তিনি জেগে উঠেছেন। আমি তাঁর পাশে বসলে তিনি বলেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ
"যে-বান্দা বলবে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং এর ওপর মারা যাবে, '' সে জান্নাতে যাবেই।"
আমি বলি, 'ব্যভিচার করলেও? চুরি করলেও?'
তিনি বলেন, وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ "ব্যভিচার করলেও, চুরি করলেও।”
আমি বলি, 'ব্যভিচার করলেও? চুরি করলেও?'
তিনি বলেন, وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَق "ব্যভিচার করলেও, চুরি করলেও।”
এভাবে আমি তিনবার বলি। চতুর্থবার নবি ﷺ বলেন, على رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ "আবূ যারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও!"'
এরপর আবূ যার রা. এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে আসেন, 'আবু যারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও।'
মুসলিম ২৭৩/১৫৪ (...); আহমাদ ৫/১৬৬ (২১৪৬৬); ৬/৪৪২ (২৭৪৯১); বুখারি ৫৮২৭, ১২৩৭; তিরমিযি ২৬৪৪ (সংক্ষেপে); নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ১১২৪, ১১২৫, ১১২৬, ১১২৭; তাবারানি, কাবীর ২২/৩১৩ (৭৯০); তাবারানি, আওসাত ২/১৭৬ (২৯৩২); বাযযার (দ্রষ্টব্য: কাশফুল আসতার) ১/১১ (৫); ইবনু খুযাইমা, কিতাবুত তাওহীদ ২/৮১৪ (৫৩৬); ইবনু হিব্বান (দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদ) ১০; বুখারি, আত-তারীখ ৮/৬৫; হিলইয়া ১/২২৬; উসদুল গবাহ ৬/১৬৯; আল-ইসাবা ১১/১৯৭; তুহফাতুল আশরাফ ৮/২২২ (১০৯৩৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৬ (৮), ১/১৮ (২২); জামউল ফাওয়াইদ ১৫।
[৪০.] আবূ ওয়াইল বলেন, আমাকে বলা হয়েছে-'তালহা রা.-এর সঙ্গে আবূ বকর রা.-এর দেখা হলে, আবূ বকর রা. বলেন "ব্যাপার কী? আপনাকে ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে যে!” তালহা রা. বলেন, “একটি কথার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছিলাম যে, তা (জান্নাত) অবধারিত করে দেয়। কিন্তু সে-সম্পর্কে রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করতে পারলাম না!" আবূ বকর রা. বলেন, "আমি জানি, কথাটি কী।” তালহা রা. জানতে চান, "কী সেটি?” আবূ বকর এ বলেন, "কথাটি হলো-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই।"
আবু ইয়া'লা ১/৯৯ (১০২), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে সনদটি বিচ্ছিন্ন (হাইসামি); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৪৮ (২৮৪২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৫ (৩)।

টিকাঃ
[১] অর্থাৎ আল্লাহর উলুহিয়্যাত বা দাসত্ব লাভের অধিকারের কথা মুখে একবার স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়, মৃত্যু পর্যন্ত এর ওপর অটল থাকা জরুরি। স্বয়ং রাসূল ﷺ-কেও আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ (৭৭) "পরম নিশ্চায়ক বস্তু (অর্থাৎ, মৃত্যু) আসার আগ পর্যন্ত তোমার রবের গোলামি করতে থাকো।” (সূরা আল-হিজর ১৫:১১) |

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 তাওহীদের পাশাপাশি রিসালাতের সাক্ষ্য: হাসসান (রাঃ)-এর একটি কবিতা

📄 তাওহীদের পাশাপাশি রিসালাতের সাক্ষ্য: হাসসান (রাঃ)-এর একটি কবিতা


[৫৫.] হাবীব ইবনু আবী সাবিত বলেন, 'হাসান ইবনু সাবিত রা. নবি ﷺ-এর সামনে কয়েকটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন:
شهِدْتُ بِإِذْنِ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ الَّذِي فَوْقَ السَّمَاوَاتِ مِنْ عَلُ وَأَنَّ أَبَا يَحْيِي وَيَحْيِي كِلَاهُمَا لَهُ عَمَلٌ فِي دِينِهِ مُتَقَبَّلُ يَقُولُ بِذَاتِ اللَّهِ فِيْهِمْ وَيَعْدِلُ وَأَنَّ أَخَا الْأَحْقَافِ إِذْ قَامَ فِيْهِمْ
"আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-মুহাম্মাদ তাঁর বার্তাবাহক, যিনি আছেন মহাকাশের ঊর্ধ্বে, অনেক ঊর্ধ্বে। ইয়াহইয়ার পিতা ও ইয়াহইয়া উভয়ই এমন, যাদের রয়েছে দ্বীনের ক্ষেত্রে কবুলযোগ্য আমল। আহকাফ জনগোষ্ঠীর ভাই (হৃদয়) দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে, ঘোষণা করেছিলেন আল্লাহর (অবিনশ্বর) সত্তার কথা, আর করেছেন সুবিচার।"
তখন নবি ﷺ বলেন, অ্যয়িও (এরূপ সাক্ষ্য। দিচ্ছি)
আবু ইয়া'লা ৫/৬১ (২৬৫৩), মুরসাল (মাইমামিয়; যাওয়াইদ ১/২৪ (৪৩)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য হতে হবে সন্দেহমুক্ত

📄 তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য হতে হবে সন্দেহমুক্ত


[৫৬.] আবূ হুরায়রা রা. অথবা আবু সাঈদ রা. বলেন: 'তাবুক যুদ্ধের সময় সাহাবিগণ প্রচণ্ড ক্ষুধার কবলে পড়েন। তখনা। তারা বলেন, "আল্লাহর রাসূল! আপনি অনুমতি দিলে আমাদের উটগুলো জবাই করে খেতে পারি এবং চর্বিগুলো জমা করে রাখতে পারি।" আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, "إِفْعَلُوا )কারী(” তখন উমর রা. এসে বলেন, "আল্লাহর রাসূল! এ কাজ করলে বাহনের সংখ্যা কমে যাবে! আপনি বরং তাদের বলুন, তারা যেন নিজেদের অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্যগুলো নিয়ে আসে। এরপর তাতে বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বরকত দেবেন।" নবি ﷺ বলেন, ঠিক আছে।”
এরপর তিনি একখণ্ড চামড়া আনার নির্দেশ দেন। তা এনে বিছানো হলে, অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্যগুলো আনতে বলেন। কেউ নিয়ে আসে একমুঠ যব, কেউ আনে একমুঠ খেজুর, আবার কেউ আনে রুটির ওপরের শক্ত অংশ। এভাবে চামড়ার অল্প একটু অংশে তা জমা হয়। ২০
* এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ সেগুলোতে বরকতের দুআ করে বলেন,
"তোমাদের পাত্রগুলোতে (এগুলো) ভরে নাও।" خُذُوا فِي أَوْعِيَتِكُمْ
তারা নিজেদের পাত্রে সেগুলো নেওয়ার পর, সেনাবাহিনীর প্রত্যেকটি পাত্রই তারা ভরে ফেলেন। এরপর সবাই পেটভরে খাওয়ার পরও কিছু খাবার উদ্বৃত্ত ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ، لَا يَلْقَى اللَّهَ بِهِمَا عَبْدُ غَيْرُ شَالٌ ، فَيُحْجَبَ عَنِ الْجَنَّةِ
"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, আর আমি আল্লাহর রাসূল। কোনও বান্দা যদি কোনও সন্দেহ-সংশয় না রেখে এ দুটি বাক্য নিয়ে আল্লাহর কাছে হাজির হয়।১০),
এরপর তাকে জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে—এমনটি হবে না।"'
মুসলিম ১৩৯/৪৫ (...), ১৩৮/৪৪ (২৭); আহমাদ ২/৪২১-৪২২ (৯৪৬৬), ৩/১১ (১১০৮০), ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯); নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ১১৪০; তাবারানি, কাবীর ১/২১১-২১২ (৫৭৫); তাবারানি, আওসাত ১/৩০-৩১ (৬৩); ইবনু হিব্বান ১/৪৫৪-৪৫৫ (২২১); আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০), ২/৪১১-৪১২ (১১৯৯); হাকিম ২/৬১৮-৬১৯ (৪২৩৪); ইবনু মান্‌দাহ, কিতাবুল ঈমান ৩৬; বাইহাকি, দালাইল ৬/১২১; উসদুল গবাহ ৬/২৩১; তুহফাতুল আশরাফ ৬/২৩৬ (১২০৭৩); কানযুল উম্মাল ১/৪৯ (১৩৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৯-২০ (২৮)।

টিকাঃ
[১] 'আমরা বলি, "আল্লাহর রাসূল! শত্রুবাহিনী উপস্থিত! তাদের পেট ভরা, কিন্তু আমাদের লোকজন ক্ষুধার্ত।”' (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০)) |
[২] "আমরা কি আমাদের উটগুলো জবাই করে লোকদের খাওয়াব না?” (আবু ইয়া'লা ১/১৯১ (২৩০))|
[৩] 'আমরা নবি ﷺ-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। লোকজনের রসদ ফুরিয়ে এলে, কেউ কেউ নিজেদের বাহন (উট) জবাই করতে উদ্যত হন।' (মুসলিম ১৩৮/৪৪ (২৭)); 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর নেতৃত্বাধীন এক যুদ্ধে মুসলিমদের রসد ফুরিয়ে আসে। খাবারের প্রয়োজন দেখা দিলে তারা উট জবাইয়ের জন্য আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে অনুমতি চান। নবি ﷺ তাদের অনুমতি দেন।' (আহমাদ ২/৪২১-৪২২ (১৬৪৬))|
]8[ 'নবি ﷺ বলেন, ی يَا عُمَرُ ঊমরা তা হলে তোমার কী মত?" উমর বলেন,...' (তাবারানি, কাবীর ১/২১১-২১২ (৫৭৫)) |
[৫] "উটগুলো তাদের বহন করে শত্রুবাহিনীর কাছে নিয়ে যাবে। তারা এগুলো জবাই করে ফেলবে? আল্লাহর রাসূল! [তা হলে তো আগামীকাল আমাদের শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে পায়ে হেঁটে, ক্ষুধার্ত অবস্থায়! (আহমাদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯))] আপনি বরং (তাদের) অবশিষ্ট রসদ নিয়ে আসার জন্য বলুন, এরপর তাতে বরকতের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করুন!" (আহমাদ ২/৪২১-৪২২ (১৬৪৬)) |
]৬] 'নবি ﷺ বলেন, مَعَهُ فَضْلُ طَعَامٍ فَلْيَجِئ بِهِ ব্রার ক্লাছে অবশিষ্ট খাবার আছে, সে যেন তা নিয়ে আসে।" (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))。
[১] 'তাদের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ পরিমাণ এনেছিলেন, তিনি এনেছিলেন এক সা' খেজুর' (আহমদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯))|
[২] 'পুরো বাহিনীর মধ্যে থাকা খাবারের পরিমাণ ছিল বিশ সা'-এর একটু বেশি।' (আবূ ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))|
[৩] 'তখন যার কাছে গম ছিল তিনি গম নিয়ে আসেন, আর যার কাছে খেজুর ছিল তিনি নিয়ে আসেন খেজুর।' মুজাহিদ বলেন, 'যার কাছে খেজুরের বিচি ছিল, তিনি নিয়ে আসেন খেজুরের বিচি।' আমি জিজ্ঞেস করি, 'খেজুরের বিচি দিয়ে তারা কী করতেন?' তিনি বলেন, 'তারা তা চোষার পর পানি পান করতেন।' (মুসলিম ১৩৮/৪৪ (২৭))|
]8[ وَلَا تَنْتَهِبُرًا “তবে কাড়াকাড়ি করবে না” (আবূ ইয়ালা ১/১৯৯ (২৩০))。
[৫] 'কেউ কেউ জামার হাতা বেঁধে তাতে (খাবার) ভরে নেয়' (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))|
[৬] 'বিপুল পরিমাণ' (আহমদ ২/৪২১-৪২২ (৯৬৪৬)); 'আগের মতোই' (আহমদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯)); 'সবাই নেওয়ার পর দেখা গেল, খাবারের পরিমাণ শুরুতে যেমন ছিল তেমনই রয়ে গিয়েছে' (আবু ইয়া'লা ১/১৯৯ (২৩০))|
[৭] 'এরপর নবি ﷺ একটি পাত্র আনতে বলেন। পাত্রটি তাঁর সামনে রাখা হলে, তিনি পানি আনার নির্দেশ দেন। এরপর তাতে পানি ঢেলে হালকা থুতু ছিটান। এরপর কিছু পাঠ করে তাতে নিজের কনিষ্ঠ আঙুল ঢুকিয়ে দেন। শপথ আল্লাহর! আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম-আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর আঙুলগুলো থেকে পানির ঝরনাধারা ছুটছে! এরপর নবি ﷺ-এর আদেশমতো লোকজন এসে পানি পান করে, অন্যদের পান করায় এবং নিজেদের পাত্রগুলোতে পানি ভর্তি করে নেয়।' (তাবারানি, কাবীর ১/২১১-২১২ (৫৭৫)।
[৮] 'এ দৃশ্য দেখে আল্লাহর রাসূল ﷺ হাসি দেন। সেই হাসিতে তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল। এরপর...' (আহমদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯))|
]৯[ عَبْدُ اللَّهِ وَ “আল্লাহর গোলাম ও” (আহমদ ২/৪২১-৪২২ (১৬৪৬))。
]১০[ إِنَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ “সে জান্নাতে যাবে।” (মুসলিম ১৩৮/৪৪ )১৯(( إِلا دَخَلَ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ "সে জান্নাতে যাবে, তার অবস্থা যাই হোক না কেন” (তাবাবানি, কাথীর ১/২১১-২১২ )إِلْاحْجِبَتْ عَنْهُ النَّارُيَوْمَ الْقِيَامَةِ ;((٢٩٥ "কিয়ামাতের দিন জাহান্নামের আগুনকে তার কাছ থেকে দূরে রাখা হবে” (আহমাদ ৩/৪১৭-৪১৮ (১৫৪৪৯)); ইِلا وَقَاهُ اللَّهُ حَرَّ النَّارِ “আল্লাহ তাকে জাহান্নামের উত্তাপ থেকে সুরক্ষিত রাখবেন” (আবু ইয়ালা ১/১৯৯ (২৩০))。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00