📄 ঈমানের সর্বোত্তম শাখা—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’
[৩৭.] আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেন,
الْإِيْمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُوْنَ أَوْ بِضْعُ وَسِتُوْنَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيْقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ
"ঈমানের শাখা সত্তরের বা ষাটের অধিক; এর সর্বোত্তম শাখা হলো এ কথা বলা-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া; লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।"
মুসলিম ১৫৩/৫৮ (...), ১৫২/৫৭ (৩৫); বুখারি ৯; নাসাঈ ৫০০৪, ৫০০৫, ৫০০৬; আহমাদ ২/৩৭৯ (৮৯২৬), ২/৪১৪ (৯৩৬১), ২/৪৪২ (৯৭১০), ২/৪৪৫ (৯৭৪৮); আবু দাউদ ৪৬৭৬; তিরমিযি ২৬১৪; ইবনু মাজাহ ৫৭; তাবারানি, আওসাত ৫/১৭২ (৬৯৬২), ৬/৩৪৫ (৯০০৪); জামিউল উসূল ১৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬-৩৭ (১০৪); জামউল ফাওয়াইদ ৬০, ৬১, ৬২।
টিকাঃ
[১] أَرْبَعَةُ وَسِتُوْنَ “চৌষট্টিটি” (আহমাদ ৮৯২৬)।
[২] أَرْفَعُ / أَعْلَا “সর্বোচ্চ” (তাবারানি, আওসাত ৬৯৬২, ৯০০৪)।
[৩] الْعَظم “হাড়গোড়” (আবু দাউদ ৪৬৭৬)।
📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সঙ্গে কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করতে হবে
[৩৮.] রিফাআ ইবনু আরাবা জুহানি বলেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে (মক্কা থেকে) আসছি। কাদীদ এলাকায় আসার পর, আমাদের কিছু লোক নিজেদের পরিবার-পরিজনদের কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইতে থাকে। রাসূল ﷺ তাদের অনুমতি দেন। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করে বলেন,
مَا بَالُ رِجَالٍ يَكُوْنُ شِقُّ الشَّجَرَةِ الَّتِي تَلِي رَسُوْلَ اللَّهِ أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الشَّقِّ الْآخَرِ
"কিছু লোকের হলো কী? গাছের যে অংশটি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছাকাছি, তা তাদের কাছে অন্য অংশের তুলনায় অধিক ঘৃণ্য!” (অর্থাৎ রাসূল ﷺ যে দিকে যাচ্ছেন, তা তাদের পছন্দ হচ্ছে না, তারা অন্যদিকে যাচ্ছে)।
এ কথা শোনার পর সাহাবিদের সবাইকে কাঁদতে দেখা যায়। তখন একব্যক্তি বলেন, "এর পর যে-ব্যক্তি (চলে-যাওয়ার জন্য) অনুমতি চাইবে, সে নিশ্চিত নির্বোধ।”[৬] তখন নবি ﷺ আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করেন। বলেন,
أَشْهَدُ عِنْدَ الله لَا يَمُوتُ عَبْدٌ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ، ثُمَّ يُسَدِّدُ إِلَّا سُلِكَ فِي الْجَنَّةِ
"আমি আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি-যে বান্দা
» সাক্ষ্য দেয় এবং অন্তর দিয়ে সত্যায়ন করে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর আমি আল্লাহর বার্তাবাহক, এরপর
> কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করে,
সে মারা গেলে তাকে অবশ্যই জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।" এরপর নবি ﷺ বলেন,
وَقَدْ وَعَدَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِي (الجنة) سَبْعِينَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلَا عَذَابٌ، وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ (لا) يَدْخُلُوهَا حَتَّى تَبَوَّهُوا أَنْتُمْ، وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِكُمْ وَأَزْوَاجِكُمْ وَذُرِّيَّاتِكُمْ مَسَاكِنَ فِي الْجَنَّةِ
"আমার মহান রব আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন-তিনি আমার উম্মাহর সত্তর হাজার লোককে (জান্নাতে) ঢুকাবেন, যাদের না হবে কোনও হিসাব আর না হবে কোনও শাস্তি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস-তোমরা এবং তোমাদের সৎকর্মশীল পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানরা জান্নাতে বাসস্থান খুঁজে নেওয়ার আগে, সেসব লোক সেখানে ঢুকবে না।" এরপর তিনি বলেন,
إِذَا مَضَى نِصْفُ اللَّيْلِ أَوْ ثُلُنَا اللَّيْلِ يَنْزِلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُوْلُ لَا أَسْأَلُ عَنْ عِبَادِي أَحَدًا غَيْرِي مَنْ ذَا يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ مَنِ الَّذِي يَدْعُوْنِي فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ حَتَّى يَنْفَجِرَ الصُّبْحُ
"রাতের অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হলে, আল্লাহ তাআলা নিকটতম আকাশে এসে বলেন, 'আমার বান্দাদের সম্পর্কে অন্য কারও কাছে জানতে চাইব না। এমন কে আছে, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। কে আছে, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। এমন কে আছে, যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে সেটি দেবো।'
সুবহে সাদিক পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে।"
আহমাদ ৪/১৬ (১৬২১৫) ইসনাদটি সহীহ, ৪/১৬ (১৬২১৬), ৪/১৬ (১৬২১৭), ৪/১৬ (১৬২১৮); তায়ালিসি ১৩৮৭, ১৩৮৮; বাযযার (কাশফ) ৪/২০৬ (৩৫৪৩); ইবনু মাজাহ, ১৩৬৭, ৪২৮৫; নাসাঈ, কুবরা ১০২৩৬; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ৪৭৫; তাবারানি, কাবীর ৫/৪৯-৫০ (৪৫৫৬), ৫/৫০-৫১ (৪৫৫৭), ৫/৫১ (৪৫৫৮), ৫/৫১-৫২ (৪৫৫৯), ৫/৫২ (৪৫৬০); ইবনু খুযাইমা, আত-তাওহীদ ১/৩১২-৩১৫ (৩৭); ইবনু হিব্বান ১/৪৪৪-৪৪৫ (২১২), ইবনু হিব্বান (মাওয়াবিদ) ৯; হিলইয়া ৬/২৮৬; বাইহাকি, শুআব ১/৩৬৪ (৪০৪); কানযুল উম্মাল ১০/৪৭৭ (৩০১৪৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২০-২১ (২৯); আমউল ফাওয়াইদ ২৬।
টিকাঃ
[৪] 'কুদাইদ' অথবা 'আরাফা' (আহমদ ৪/১৬ (১৬২১৭, ১৬২১৮))。
[৫] 'হতভাগা' (বাযযার (কাশফ) ৪/২০৬ (৩৫৪৩))。
[৬] '(তখন) আবূ বকর রা. বলেন, "এরপর যে-ব্যক্তি (চলে-যাওয়ার জন্য) আপনার কাছে অনুমতি চাইবে, আমার বিবেচনায় সে একটা নিশ্চিত নির্বোধ” (আহমাদ ৪/১৬ (১৬২১৬); ইবনু হিব্বান ২১২)।
[৭] 'নবি ﷺ শপথ করলে বলতেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ "শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ!” (ইবনু হিব্বান ২১২)。
[১] إِنَّ اللَّهَ يُمْهِلُ حَتَّى "আল্লাহ তাআলা অবকাশ দেন। এরপর..." (ইবনু মাজাহ ১৩৬৭)。
[২] এ "এক-তৃতীয়াংশ” (তাবারানি, কাবীর ৫/৫১ (৪৫৫৭, ৪৫৫৮))
]0[ لا يَسْأَلَنَّ عِبَادِي غَيْرِي "আমার বান্দারা আমার কাছে ছাড়া অন্য কারও কাছে কিছু চাইবে না।” (ইবনু মাজাহ ১৩৬৭) |
📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ওপর অটল থেকে মারা গেলে জান্নাতের ওয়াদা
[৩৯.] আবূ যার রা. থেকে বর্ণিত, 'আমি নবি ﷺ-এর কাছে এসে দেখি, তিনি একটি সাদা কাপড় গায়ে দিয়ে ঘুমুচ্ছেন। পরে আবার আসি; তখনও তিনি ঘুমুচ্ছেন। এরপর আবার আসি; ততক্ষণে তিনি জেগে উঠেছেন। আমি তাঁর পাশে বসলে তিনি বলেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ
"যে-বান্দা বলবে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং এর ওপর মারা যাবে, '' সে জান্নাতে যাবেই।"
আমি বলি, 'ব্যভিচার করলেও? চুরি করলেও?'
তিনি বলেন, وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ "ব্যভিচার করলেও, চুরি করলেও।”
আমি বলি, 'ব্যভিচার করলেও? চুরি করলেও?'
তিনি বলেন, وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَق "ব্যভিচার করলেও, চুরি করলেও।”
এভাবে আমি তিনবার বলি। চতুর্থবার নবি ﷺ বলেন, على رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ "আবূ যারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও!"'
এরপর আবূ যার রা. এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে আসেন, 'আবু যারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও।'
মুসলিম ২৭৩/১৫৪ (...); আহমাদ ৫/১৬৬ (২১৪৬৬); ৬/৪৪২ (২৭৪৯১); বুখারি ৫৮২৭, ১২৩৭; তিরমিযি ২৬৪৪ (সংক্ষেপে); নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ১১২৪, ১১২৫, ১১২৬, ১১২৭; তাবারানি, কাবীর ২২/৩১৩ (৭৯০); তাবারানি, আওসাত ২/১৭৬ (২৯৩২); বাযযার (দ্রষ্টব্য: কাশফুল আসতার) ১/১১ (৫); ইবনু খুযাইমা, কিতাবুত তাওহীদ ২/৮১৪ (৫৩৬); ইবনু হিব্বান (দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদ) ১০; বুখারি, আত-তারীখ ৮/৬৫; হিলইয়া ১/২২৬; উসদুল গবাহ ৬/১৬৯; আল-ইসাবা ১১/১৯৭; তুহফাতুল আশরাফ ৮/২২২ (১০৯৩৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৬ (৮), ১/১৮ (২২); জামউল ফাওয়াইদ ১৫।
[৪০.] আবূ ওয়াইল বলেন, আমাকে বলা হয়েছে-'তালহা রা.-এর সঙ্গে আবূ বকর রা.-এর দেখা হলে, আবূ বকর রা. বলেন "ব্যাপার কী? আপনাকে ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে যে!” তালহা রা. বলেন, “একটি কথার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছিলাম যে, তা (জান্নাত) অবধারিত করে দেয়। কিন্তু সে-সম্পর্কে রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করতে পারলাম না!" আবূ বকর রা. বলেন, "আমি জানি, কথাটি কী।” তালহা রা. জানতে চান, "কী সেটি?” আবূ বকর এ বলেন, "কথাটি হলো-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই।"
আবু ইয়া'লা ১/৯৯ (১০২), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে সনদটি বিচ্ছিন্ন (হাইসামি); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৪৮ (২৮৪২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৫ (৩)।
টিকাঃ
[১] অর্থাৎ আল্লাহর উলুহিয়্যাত বা দাসত্ব লাভের অধিকারের কথা মুখে একবার স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়, মৃত্যু পর্যন্ত এর ওপর অটল থাকা জরুরি। স্বয়ং রাসূল ﷺ-কেও আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ (৭৭) "পরম নিশ্চায়ক বস্তু (অর্থাৎ, মৃত্যু) আসার আগ পর্যন্ত তোমার রবের গোলামি করতে থাকো।” (সূরা আল-হিজর ১৫:১১) |
📄 তাওহীদের পাশাপাশি রিসালাতের সাক্ষ্য: হাসসান (রাঃ)-এর একটি কবিতা
[৫৫.] হাবীব ইবনু আবী সাবিত বলেন, 'হাসান ইবনু সাবিত রা. নবি ﷺ-এর সামনে কয়েকটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন:
شهِدْتُ بِإِذْنِ اللَّهِ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ الَّذِي فَوْقَ السَّمَاوَاتِ مِنْ عَلُ وَأَنَّ أَبَا يَحْيِي وَيَحْيِي كِلَاهُمَا لَهُ عَمَلٌ فِي دِينِهِ مُتَقَبَّلُ يَقُولُ بِذَاتِ اللَّهِ فِيْهِمْ وَيَعْدِلُ وَأَنَّ أَخَا الْأَحْقَافِ إِذْ قَامَ فِيْهِمْ
"আল্লাহর অনুমতিক্রমে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-মুহাম্মাদ তাঁর বার্তাবাহক, যিনি আছেন মহাকাশের ঊর্ধ্বে, অনেক ঊর্ধ্বে। ইয়াহইয়ার পিতা ও ইয়াহইয়া উভয়ই এমন, যাদের রয়েছে দ্বীনের ক্ষেত্রে কবুলযোগ্য আমল। আহকাফ জনগোষ্ঠীর ভাই (হৃদয়) দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে, ঘোষণা করেছিলেন আল্লাহর (অবিনশ্বর) সত্তার কথা, আর করেছেন সুবিচার।"
তখন নবি ﷺ বলেন, অ্যয়িও (এরূপ সাক্ষ্য। দিচ্ছি)
আবু ইয়া'লা ৫/৬১ (২৬৫৩), মুরসাল (মাইমামিয়; যাওয়াইদ ১/২৪ (৪৩)।