📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা কী বোঝায়?

📄 ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা কী বোঝায়?


জান্নাতে যেতে হলে সর্বপ্রথম সাক্ষ্য দিতে হবে-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই। আরবিতে 'ইলাহ' শব্দের প্রতিশব্দ 'মা'বৃদ', অর্থাৎ যার 'ইবাদাত' করা হয়; আর 'ইবাদাত' মানে 'দাসত্ব করা', 'নতিস্বীকার করা', 'বিনয় ও নম্রতা-সহ কারও আনুগত্য করা';[১] এসব দিক বিবেচনায় 'ইলাহ্' শব্দের অর্থ দাঁড়ায়-'যার দাসত্ব করা হয়', 'নতশিরে যার আনুগত্য করা হয়।' প্রখ্যাত ভাষাবিদ আবুল হাইসাম (মৃত্যু ২৭৬ হি.) বলেন,
لَا يَكُوْنُ إِلَهَا حَتَّى يَكُوْنَ مَعْبُوْدًا وَحَتَّى يَكُوْنَ لِعَابِدِهِ خَالِفًا وَرَازِقًا وَمُدَبِّرًا وَعَلَيْهِ مُقْتَدِرًا فَمَنْ لَّمْ يَكُنْ كَذلِكَ فَلَيْسَ بِإِلهِ وَإِنْ عُبِدَ ظُلْمًا بَلْ هُوَ مَخْلُوْقُ وَمُتَعَبَّدُ
"কেউ ইলাহ্ হতে পারে না, যতক্ষণ-না তার দাসত্ব করা হয় এবং যতক্ষণ-না তিনি তার দাসত্বকারীর স্রষ্টা, জীবনোপকরণদাতা, নিয়ন্ত্রক ও তার ওপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন। যার মধ্যে এসব গুণ নেই, সে জুলুমের মাধ্যমে (অন্যদের) দাসত্ব লাভ করলেও সে কোনও ইলাহ্ নয়, বরং সে হলো একটি সৃষ্টজীব যার দাসত্ব স্বীকার করানো হচ্ছে।” (আবু মানসুর, তাহযীবুল লুগাহ, দারুল মারিফা, বৈরুত (১৪২২ হি.), ১/১৯০)।
كُلُّ مَا اتَّخِذَ مَعْبُوْدًا إِلَهُ عِنْدَ مُتَّخِذِهِ
"যার দাসত্ব করা হয়, দাসত্বকারীর জন্য সে-ই ইলাহ্।” (ইবনু সীদা, আল-মুহকাম ওয়াল মুহীতুল আযম, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বৈরুত (১৪২১ হি.), ৪/৩৫৮) |
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/ আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই"-এর তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে ইমাম ইবনু জারীর তাবারি বলেন-
لا رَبَّ لِلْعَالَمِينَ غَيْرُهُ وَلَا مُسْتَوْجِبَ عَلَى الْعِبَادِ الْعِبَادَةَ سِوَاهُ وَأَنَّ كُلَّ مَا سِوَاهُ فَهُمْ خَلْقُهُ وَالْوَاجِبُ عَلَى جَمِيعِهِمْ طَاعَتُهُ وَالْانْقِيَادُ لِأَمْرِهِ وَتَرْكُ عِبَادَةِ مَا سِوَاهُ مِنَ الْأَنْدَادِ وَالْآلِهَةِ وَهَجْرُ الْأَوْثَانِ وَالْأَصْنَامِ
'তিনিই মহাবিশ্বের একমাত্র অধিপতি; তিনি ছাড়া মানুষের দাসত্ব-লাভের অধিকার আর কারও নেই; তাঁকে বাদে সবাই তাঁর সৃষ্টি; তাদের সকলের ওপর আবশ্যক হলো-তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা, তাঁকে ছাড়া অন্য সকল প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইলাহের দাসত্ব ত্যাগ করা এবং মূর্তি ও প্রতিমা বর্জন করা।' (তাবারি, তাফসীর ১/৮৯৮) |
فَإِنَّهُ خَبَرٌ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَخْبَرَ عِبَادَهُ أَنَّ الْأُلُوهَةَ خَاصَّةٌ بِهِ دُوْنَ مَا سِوَاهُ مِنَ الْآلِهَةِ وَالْأَنْدَادِ وَأَنَّ الْعِبَادَةَ لَا تَصْلُحُ وَلَا تَجُوْزُ إِلَّا لَهُ لِانْفِرَادِهِ بِالرُّبُوْبِيَّةِ وَتَوَحَدِهِ بِالْأُلُوْهِيَّةِ وَأَنَّ كُلَّ مَا دُوْنَهُ فَمِلْكُهُ وَأَنَّ كُلَّ مَا سِوَاهُ فَخَلْقُهُ لَا شَرِيكَ لَهُ فِي سُلْطَانِهِ وَمُلْكِهِ احْتِجَاجًا مِنْهُ تَعَالَى ذِكْرُهُ عَلَيْهِمْ بِأَنَّ ذلِكَ إِذْ كَانَ كَذلِكَ فَغَيْرُ جَائِزَةٍ لَهُمْ عِبَادَةُ غَيْرِهِ وَلَا إِشْرَاكَ أَحَدٍ مَعَهُ فِي سُلْطَانِهِ إِذْ كَانَ كُلُّ مَعْبُوْدٍ سِوَاهُ فِمِلْكُهُ وَكُلُّ مُعَظَمٍ غَيْرِهِ فَخَلْقُهُ وَعَلَى الْمَمْلُوكِ إِفْرَادُ الطَّاعَةِ لِمَالِكِهِ وَصَرْفُ خِدْمَتِهِ إِلَى مَوْلَاهُ وَرَازِقِهِ ... مُقِيمًا عَلَى عِبَادَةِ وَنَنِ أَوْ صَنَم أَوْ شَمْسٍ أَوْ قَمَرٍ أَوْ إِنْسِي أَوْ مَلَكٍ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ ذَلِكَ مِنَ الْأَشْيَاءِ الَّتِي كَانَتْ بَنُوْ آدَمَ مُقِيمَةً عَلَى عِبَادَتِهَا وَإِلا هَتِهَا وَمُتَّخِذَهُ دُوْنَ مَالِكِهِ وَخَالِقِهِ إِلَهَا وَرَبًا أَنَّهُ مُقِيمٌ عَلَى ضَلَالَةٍ وَمُنْعَزِلُ عَنِ الْمَحَجَّةِ وَرَاكِبُ غَيْرَ السَّبِيلِ الْمُسْتَقِيمَةِ بِصَرْفِهِ الْعِبَادَةَ إِلَى غَيْرِهِ وَلَا أَحَدَ لَهُ الْأُلُوهَةُ غَيْرُهُ
'এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একটি সংবাদ। তিনি তাঁর বান্দাদের জানিয়ে দিয়েছেন- ইলাহ্ হওয়া তাঁর জন্য নির্ধারিত, তিনি ছাড়া অন্য কোনও ইলাহ্ ও প্রতিদ্বন্দ্বীর এ অধিকার নেই; দাসত্ব-লাভ শুধু তাঁর জন্যই মানানসই, এটি কেবল তাঁর জন্যই বৈধ, কারণ একমাত্র তিনিই রব ও তিনিই ইলাহ্, অন্য সবাই তাঁর মালিকানাধীন, অন্য সবাই তাঁর সৃষ্টি, তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতা ও শাসন-কর্তৃত্বে কোনও অংশীদার নেই। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এ মর্মে প্রমাণ পেশ করছেন যে, বাস্তবতা যেহেতু এমনই, সেহেতু তাঁকে ছাড়া অন্য কারও দাসত্ব করা কিংবা তাঁর সার্বভৌম ক্ষমতায় অন্য কাউকে অংশীদার বানিয়ে দেওয়া মানুষের জন্য বৈধ নয়, কারণ তাঁকে বাদে অন্য যাদের দাসত্ব করা হয়, তারা সবাই তাঁর মালিকানাধীন, তাঁকে বাদে অন্য যাদের সম্মান করা হয়, তারা সবাই তাঁর সৃষ্টি; আর গোলামের উচিত একমাত্র তার মনিবের আনুগত্য করা এবং নিজের অভিভাবক ও জীবনোপকরণদাতার উদ্দেশে নিজের কর্মকাণ্ড পরিচালিত করা ... এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সেসব লোকের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেশ করেছেন যারা মূর্তি, প্রতিমা, সূর্য, চন্দ্র, মানুষ, ফেরেশতা প্রভৃতির দাসত্ব করে এবং নিজেদের মালিক ও স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে এদেরকে ইলাহ্ ও রব হিসেবে মেনে নেয়। মানুষ ভুলপথে পা বাড়াচ্ছে, সঠিক পথ থেকে সরে যাচ্ছে এবং ভারসাম্যহীন পথে এগিয়ে চলছে-এসবের কারণ হলো তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যদের দাসত্ব করছে, অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও দাসত্ব-লাভের অধিকার নেই।' (তাবারি, তাফসীর ৩/৮১)।
نَفَى أَنْ يَكُونَ شَيْءٍ يَسْتَحِقُ الْعُبُودَةَ غَيْرَ الْوَاحِدِ الَّذِي لَا شَرِيكَ لَهُ فِي مُلْكِهِ
'অন্য কেউ আনুগত্য-লাভের অধিকারী হতে পারে-আল্লাহ তাআলা তা নাকচ করে দিয়েছেন; আনুগত্য-লাভ কেবল তাঁরই অধিকার, যাঁর সার্বভৌম ক্ষমতায় কোনও ভাগীদার নেই।' (তাবারি, তাফসীর ৩/১৪২)|
لَيْسَ لِلْخَلْقِ مَعْبُودٌ يَسْتَوْجِبُ عَلَيْهِمُ الْعِبَادَةَ بِمُلْكِهِ إِيَّاهُمْ إِلَّا مَعْبُودُكَ الَّذِي تَعْبُدُهُ
'সৃষ্টিকুলের জন্য এমন কোনও মা'বুদ নেই, যে তাদের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে তাদের কাছ থেকে দাসত্ব দাবি করতে পারে, একমাত্র ব্যতিক্রম হলেন মা'বুদ যাঁর দাসত্ব তুমি করে চলেছ।' (তাবারি, তাফসীর ৩/২৫৪)।
لا رَبَّ لِلْعَالَمِينَ غَيْرُهُ، وَلَا مُسْتَوْجِبَ عَلَى الْعِبَادِ الْعِبَادَةَ سِوَاهُ، وَأَنَّ كُلَّ مَا سِوَاهُ فَهُمْ خَلْقُهُ، وَالْوَاجِبُ عَلَى جَمِيعِهِمْ طَاعَتُهُ، وَتَرْكُ عِبَادَةِ مَا سِوَاهُ مِنَ الْأَنْدَادِ وَالْآلِهَةِ، وَهَجْرُ الْأَوْثَانِ وَالْأَصْنَامِ
'তিনিই মহাবিশ্বে একমাত্র অধিপতি, মানুষের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক দাসত্ব-লাভের অধিকার কেবল তাঁরই, তিনি ছাড়া অন্য সবাই তাঁর সৃষ্টি; তাদের সকলের দায়িত্ব হলো-তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা, তাঁকে ছাড়া অন্য যাদেরকে ইলাহ্ ও তাঁর সমকক্ষ মনে করা হয় তাদের দাসত্ব বাদ দেওয়া, এবং মূর্তি ও প্রতিমা ত্যাগ করা।' (তাবারি, তাফসীর ২/৭৪৬)।

টিকাঃ
[১] প্রাচীন যুগের মুফাস্স্সির ও আরবি-ভাষাবিদগণ 'ইবাদাত' শব্দের অর্থ লিখেছেন: ১. বিনম্র আনুগত্য (সমার্থ. الطَّاعَةُ مَعَ الْمُضُوعِ ) (মাআনিল কুরআন (যাজ্জাজ), তাহযীব); বিনয় ও নম্রতা-সহ আনুগত্য (সমার্থ الطَّاعَةُ مَعَ تَذَلُّلٍ وَخُضُوْعِ( (মাআনিল কুরআন (নাহহাস))। ২. আনুগত্য; মেনে চলা (সমার্থ, ২৫৬) (সিহাহ, কানুস)। ৩. নতিস্বীকার; নির্দেশ বাস্তবায়ন; আনুগত্য; বিনয় (সমার্থ. اَخْضُوْعُ ، الْإِنْقِيادُ ، اَلطَّاعَةُ ، اَلدُّلَّ( )সালাবি, আল-কাশফ ওয়াল বায়ান ১:১১৭)। ৪. আনুগত্যের মাধ্যমে বিনীত আত্মসমর্পণ করা (সমার্থ الْإِسْتِكَانَةُ وَالْخُضُوعُ بِالطَّاعَةِ( )তাবারি, তাফসীর ১:২৭১)। ৫. আনুগত্যের ক্ষেত্রে কষ্ট বরদাশত করার জন্য সাধনা করা (সমার্থ. رِيَاضَةُ النَّفْسِ عَلَى حَمْلِ الْمَشَاقُّ فِي الطَّاعَةِ( )ালাবি, আল-কাশফ ওয়াল বায়ান ১:১১৭(

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ঈমানের সর্বোত্তম শাখা—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

📄 ঈমানের সর্বোত্তম শাখা—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’


[৩৭.] আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেন,
الْإِيْمَانُ بِضْعُ وَسَبْعُوْنَ أَوْ بِضْعُ وَسِتُوْنَ شُعْبَةً فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيْقِ وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ
"ঈমানের শাখা সত্তরের বা ষাটের অধিক; এর সর্বোত্তম শাখা হলো এ কথা বলা-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া; লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।"
মুসলিম ১৫৩/৫৮ (...), ১৫২/৫৭ (৩৫); বুখারি ৯; নাসাঈ ৫০০৪, ৫০০৫, ৫০০৬; আহমাদ ২/৩৭৯ (৮৯২৬), ২/৪১৪ (৯৩৬১), ২/৪৪২ (৯৭১০), ২/৪৪৫ (৯৭৪৮); আবু দাউদ ৪৬৭৬; তিরমিযি ২৬১৪; ইবনু মাজাহ ৫৭; তাবারানি, আওসাত ৫/১৭২ (৬৯৬২), ৬/৩৪৫ (৯০০৪); জামিউল উসূল ১৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৬-৩৭ (১০৪); জামউল ফাওয়াইদ ৬০, ৬১, ৬২।

টিকাঃ
[১] أَرْبَعَةُ وَسِتُوْنَ “চৌষট্টিটি” (আহমাদ ৮৯২৬)।
[২] أَرْفَعُ / أَعْلَا “সর্বোচ্চ” (তাবারানি, আওসাত ৬৯৬২, ৯০০৪)।
[৩] الْعَظم “হাড়গোড়” (আবু দাউদ ৪৬৭৬)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সঙ্গে কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করতে হবে

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সঙ্গে কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করতে হবে


[৩৮.] রিফাআ ইবনু আরাবা জুহানি বলেন, 'আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে (মক্কা থেকে) আসছি। কাদীদ এলাকায় আসার পর, আমাদের কিছু লোক নিজেদের পরিবার-পরিজনদের কাছে যাওয়ার জন্য অনুমতি চাইতে থাকে। রাসূল ﷺ তাদের অনুমতি দেন। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করে বলেন,
مَا بَالُ رِجَالٍ يَكُوْنُ شِقُّ الشَّجَرَةِ الَّتِي تَلِي رَسُوْلَ اللَّهِ أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الشَّقِّ الْآخَرِ
"কিছু লোকের হলো কী? গাছের যে অংশটি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছাকাছি, তা তাদের কাছে অন্য অংশের তুলনায় অধিক ঘৃণ্য!” (অর্থাৎ রাসূল ﷺ যে দিকে যাচ্ছেন, তা তাদের পছন্দ হচ্ছে না, তারা অন্যদিকে যাচ্ছে)।
এ কথা শোনার পর সাহাবিদের সবাইকে কাঁদতে দেখা যায়। তখন একব্যক্তি বলেন, "এর পর যে-ব্যক্তি (চলে-যাওয়ার জন্য) অনুমতি চাইবে, সে নিশ্চিত নির্বোধ।”[৬] তখন নবি ﷺ আল্লাহর প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করেন। বলেন,
أَشْهَدُ عِنْدَ الله لَا يَمُوتُ عَبْدٌ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ، ثُمَّ يُسَدِّدُ إِلَّا سُلِكَ فِي الْجَنَّةِ
"আমি আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছি-যে বান্দা
» সাক্ষ্য দেয় এবং অন্তর দিয়ে সত্যায়ন করে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর আমি আল্লাহর বার্তাবাহক, এরপর
> কথা-কাজে সঠিক পথ অনুসরণ করে,
সে মারা গেলে তাকে অবশ্যই জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।" এরপর নবি ﷺ বলেন,
وَقَدْ وَعَدَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَ مِنْ أُمَّتِي (الجنة) سَبْعِينَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلَا عَذَابٌ، وَإِنِّي لَأَرْجُو أَنْ (لا) يَدْخُلُوهَا حَتَّى تَبَوَّهُوا أَنْتُمْ، وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِكُمْ وَأَزْوَاجِكُمْ وَذُرِّيَّاتِكُمْ مَسَاكِنَ فِي الْجَنَّةِ
"আমার মহান রব আমাকে ওয়াদা দিয়েছেন-তিনি আমার উম্মাহর সত্তর হাজার লোককে (জান্নাতে) ঢুকাবেন, যাদের না হবে কোনও হিসাব আর না হবে কোনও শাস্তি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস-তোমরা এবং তোমাদের সৎকর্মশীল পিতৃপুরুষ, স্ত্রী ও সন্তানরা জান্নাতে বাসস্থান খুঁজে নেওয়ার আগে, সেসব লোক সেখানে ঢুকবে না।" এরপর তিনি বলেন,
إِذَا مَضَى نِصْفُ اللَّيْلِ أَوْ ثُلُنَا اللَّيْلِ يَنْزِلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُوْلُ لَا أَسْأَلُ عَنْ عِبَادِي أَحَدًا غَيْرِي مَنْ ذَا يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ مَنِ الَّذِي يَدْعُوْنِي فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ حَتَّى يَنْفَجِرَ الصُّبْحُ
"রাতের অর্ধেক বা দুই-তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হলে, আল্লাহ তাআলা নিকটতম আকাশে এসে বলেন, 'আমার বান্দাদের সম্পর্কে অন্য কারও কাছে জানতে চাইব না। এমন কে আছে, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। কে আছে, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। এমন কে আছে, যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে সেটি দেবো।'
সুবহে সাদিক পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকে।"
আহমাদ ৪/১৬ (১৬২১৫) ইসনাদটি সহীহ, ৪/১৬ (১৬২১৬), ৪/১৬ (১৬২১৭), ৪/১৬ (১৬২১৮); তায়ালিসি ১৩৮৭, ১৩৮৮; বাযযার (কাশফ) ৪/২০৬ (৩৫৪৩); ইবনু মাজাহ, ১৩৬৭, ৪২৮৫; নাসাঈ, কুবরা ১০২৩৬; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ৪৭৫; তাবারানি, কাবীর ৫/৪৯-৫০ (৪৫৫৬), ৫/৫০-৫১ (৪৫৫৭), ৫/৫১ (৪৫৫৮), ৫/৫১-৫২ (৪৫৫৯), ৫/৫২ (৪৫৬০); ইবনু খুযাইমা, আত-তাওহীদ ১/৩১২-৩১৫ (৩৭); ইবনু হিব্বান ১/৪৪৪-৪৪৫ (২১২), ইবনু হিব্বান (মাওয়াবিদ) ৯; হিলইয়া ৬/২৮৬; বাইহাকি, শুআব ১/৩৬৪ (৪০৪); কানযুল উম্মাল ১০/৪৭৭ (৩০১৪৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২০-২১ (২৯); আমউল ফাওয়াইদ ২৬।

টিকাঃ
[৪] 'কুদাইদ' অথবা 'আরাফা' (আহমদ ৪/১৬ (১৬২১৭, ১৬২১৮))。
[৫] 'হতভাগা' (বাযযার (কাশফ) ৪/২০৬ (৩৫৪৩))。
[৬] '(তখন) আবূ বকর রা. বলেন, "এরপর যে-ব্যক্তি (চলে-যাওয়ার জন্য) আপনার কাছে অনুমতি চাইবে, আমার বিবেচনায় সে একটা নিশ্চিত নির্বোধ” (আহমাদ ৪/১৬ (১৬২১৬); ইবনু হিব্বান ২১২)।
[৭] 'নবি ﷺ শপথ করলে বলতেন, وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ "শপথ সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ!” (ইবনু হিব্বান ২১২)。
[১] إِنَّ اللَّهَ يُمْهِلُ حَتَّى "আল্লাহ তাআলা অবকাশ দেন। এরপর..." (ইবনু মাজাহ ১৩৬৭)。
[২] এ "এক-তৃতীয়াংশ” (তাবারানি, কাবীর ৫/৫১ (৪৫৫৭, ৪৫৫৮))
]0[ لا يَسْأَلَنَّ عِبَادِي غَيْرِي "আমার বান্দারা আমার কাছে ছাড়া অন্য কারও কাছে কিছু চাইবে না।” (ইবনু মাজাহ ১৩৬৭) |

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ওপর অটল থেকে মারা গেলে জান্নাতের ওয়াদা

📄 লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর ওপর অটল থেকে মারা গেলে জান্নাতের ওয়াদা


[৩৯.] আবূ যার রা. থেকে বর্ণিত, 'আমি নবি ﷺ-এর কাছে এসে দেখি, তিনি একটি সাদা কাপড় গায়ে দিয়ে ঘুমুচ্ছেন। পরে আবার আসি; তখনও তিনি ঘুমুচ্ছেন। এরপর আবার আসি; ততক্ষণে তিনি জেগে উঠেছেন। আমি তাঁর পাশে বসলে তিনি বলেন,
مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ
"যে-বান্দা বলবে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং এর ওপর মারা যাবে, '' সে জান্নাতে যাবেই।"
আমি বলি, 'ব্যভিচার করলেও? চুরি করলেও?'
তিনি বলেন, وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ "ব্যভিচার করলেও, চুরি করলেও।”
আমি বলি, 'ব্যভিচার করলেও? চুরি করলেও?'
তিনি বলেন, وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَق "ব্যভিচার করলেও, চুরি করলেও।”
এভাবে আমি তিনবার বলি। চতুর্থবার নবি ﷺ বলেন, على رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ "আবূ যারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও!"'
এরপর আবূ যার রা. এ কথা বলতে বলতে বেরিয়ে আসেন, 'আবু যারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও।'
মুসলিম ২৭৩/১৫৪ (...); আহমাদ ৫/১৬৬ (২১৪৬৬); ৬/৪৪২ (২৭৪৯১); বুখারি ৫৮২৭, ১২৩৭; তিরমিযি ২৬৪৪ (সংক্ষেপে); নাসাঈ, আমালুল ইয়াওম ১১২৪, ১১২৫, ১১২৬, ১১২৭; তাবারানি, কাবীর ২২/৩১৩ (৭৯০); তাবারানি, আওসাত ২/১৭৬ (২৯৩২); বাযযার (দ্রষ্টব্য: কাশফুল আসতার) ১/১১ (৫); ইবনু খুযাইমা, কিতাবুত তাওহীদ ২/৮১৪ (৫৩৬); ইবনু হিব্বান (দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদ) ১০; বুখারি, আত-তারীখ ৮/৬৫; হিলইয়া ১/২২৬; উসদুল গবাহ ৬/১৬৯; আল-ইসাবা ১১/১৯৭; তুহফাতুল আশরাফ ৮/২২২ (১০৯৩৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৬ (৮), ১/১৮ (২২); জামউল ফাওয়াইদ ১৫।
[৪০.] আবূ ওয়াইল বলেন, আমাকে বলা হয়েছে-'তালহা রা.-এর সঙ্গে আবূ বকর রা.-এর দেখা হলে, আবূ বকর রা. বলেন "ব্যাপার কী? আপনাকে ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হচ্ছে যে!” তালহা রা. বলেন, “একটি কথার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছিলাম যে, তা (জান্নাত) অবধারিত করে দেয়। কিন্তু সে-সম্পর্কে রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করতে পারলাম না!" আবূ বকর রা. বলেন, "আমি জানি, কথাটি কী।” তালহা রা. জানতে চান, "কী সেটি?” আবূ বকর এ বলেন, "কথাটি হলো-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ/আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই।"
আবু ইয়া'লা ১/৯৯ (১০২), বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে সনদটি বিচ্ছিন্ন (হাইসামি); আল-মাতালিবুল আলিয়া ৩/৪৮ (২৮৪২); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৫ (৩)।

টিকাঃ
[১] অর্থাৎ আল্লাহর উলুহিয়্যাত বা দাসত্ব লাভের অধিকারের কথা মুখে একবার স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়, মৃত্যু পর্যন্ত এর ওপর অটল থাকা জরুরি। স্বয়ং রাসূল ﷺ-কেও আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন: وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ (৭৭) "পরম নিশ্চায়ক বস্তু (অর্থাৎ, মৃত্যু) আসার আগ পর্যন্ত তোমার রবের গোলামি করতে থাকো।” (সূরা আল-হিজর ১৫:১১) |

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00