📄 ঈমানের নিদর্শন
[১৮.] আবূ উমামা রা. বলেন, 'এক ব্যক্তি নবি ﷺ-কে জিজ্ঞেস করে, “গোনাহ কী?” নবি ﷺ বলেন,
إِذَا حَكَ فِي نَفْسِكَ شَيْءٌ فَدَعْهُ
"যখন কোনোকিছু তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে, (গোনাহ মনে করে) সেটি ছেড়ে দাও।”
সে বলে, "তা হলে ঈমান কী?”
নবি ﷺ বলেন,
إِذَا سَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ وَسَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ
"যখন
» তোমার খারাপ কাজ তোমার কাছে খারাপ লাগে, আর
» তোমার ভালো কাজ তোমাকে মুগ্ধ করে,
তখন তুমি মুমিন'।"
আহমাদ ৫/২৫১ (২২১৫৯) সহীহ (আরনাউত), ১/১৮ (১১৪, শেষ বাক্য), ৪/৩৯৮ (১৯৫৬৫), ৫/২৫২ (২২১৬৫), ৫/২৫৫-২৫৬ (২২১৯৯); আবদুর রাযযাক ১১/১২৬ (২০১০৪); বাযযার (কাশফ) ১/৫৯ (৭৯); ইবনু মানদাহ ১০৮৭ (শেষ বাক্য), ১০৮৮, ১০৮৯; তাবারানি, কাবীর ৮/১৩৮ (৭৫৪০); তাবারানি, আওসাত ১/৪৫১ (১৬৫৯, শেষ বাক্য), ৫/৩২১ (৭৪৭৪); ইবনু হিব্বان ১/৪০২ (১৭৬); হাকিম ১/১৩-১৪ (৩২), ১/১৪ (৩৩), ১/১৪ (৩৪), ১/১৪ (৩৫), ১/৫৪ (১৭৭), ২/১৩ (২১৭১); বাইহাকি, শুআব ৫/৩৭১ (৬৯৮৯), ৫/৩৭১ (৬৯৯০), ৫/৩৭১ (৬৯৯১), ৫/৩৭১-৩৭২ (৬৯৯৩); আবদ ইবনু হুমাইদ ৫৫৯; মুসনাদুশ শিহাব ১/২৪৮ (৪০০), ১/২৪৮-২৪৯ (৪০১), ১/২৪৯ (৪০২), ১/২৪৯ (৪০৩), ১/২৪৯-২৫০ (৪০৪, শেষ বাক্য); কানযুল উম্মাল ১/১৪৪ (৭০০), ১/১৬১ (৮০৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৬ (২৮৭, ২৮৮, ২৮৯); জামউল ফাওয়াইদ ৫৮।
[১৯.] আয়িশা রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوْا وَإِذَا أَسَاؤُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে সেসব লোকের অন্তর্ভুক্ত করো-যারা ভালো কাজ করলে খুশি হয় আর খারাপ কাজ করলে মাফ চায়।"'
বাইহাকি, শুআবুল ঈমান ৫/৩৭১ (৬৯৯২)।
টিকাঃ
[৭] مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَكَرِهَهَا حِيْنَ يَعْمَلُ وَعَمِلَ حَسَنَةٌ فَسُرَّ بِهَا فَهُوَ مُؤْمِنٌ "যে-ব্যক্তি কোনও খারাপ কাজ করে এবং তা করার সময় অপছন্দ করে, আর কোনও ভালো কাজ করে খুশি হয় সে মুমিন" (হাকিম ১/১৩ (৩২), ১/৫৪ (১৭৭)) |
📄 ইসলামের কিছু চিহ্ন ও নিদর্শন
[২০.] আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেছেন,
إِنَّ لِلْإِسْلَامِ صُوّى وَعَلَامَاتٍ كَمَنَارِ الطَّرِيقِ ، وَرَأْسُهُ وَجِمَاعُهُ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ ، وَإِيْتَاءُ الزَّكَاةِ ، وَتَمَامُ الْوُضُوءِ
"রাস্তায় যেমন বাতিঘর (lighthouse) থাকে, তেমনিভাবে ইসলামেরও কিছু পথনির্দেশক চিহ্ন (signpost) ও নিদর্শন আছে; এর চূড়া ও সমষ্টি হলো-
» এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল;
> নামাজ কায়েম করা;
> যাকাত আদায় করা; ও
> পরিপূর্ণভাবে ওজু করা।"'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১১২, সনদের ব্যাপারে হাইসামি কোনও মন্তব্য করেননি; হাকিম ১/২০-২১ (৫২), সহীহ; হিইয়া ৫/২১৭-২১৮; কানযুল উম্মাল ১/২৭ (২০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৮ (১১২)।
[২১.] ইবনু উমর রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেছেন-
خمس مِنَ الْإِيْمَانِ ، مَنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ شَيْءٌ مِنْهَا فَلَا إِيْمَانَ لَهُ : التَّسْلِيمُ لِأَمْرِ اللهِ ، وَالرِّضَا بِقَضَاءِ اللهِ ، وَالتَّفْوِيضُ إِلَى أَمْرِ اللهِ ، وَالتَّوَكُلُ عَلَى اللهِ ، وَالصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولى
"পাঁচটি বিষয় ঈমানের অন্তর্ভুক্ত; যার মধ্যে এসবের কোনোটি নেই, তার ঈমান নেই:
> আল্লাহর আদেশের সামনে আত্মসমর্পণ করা;
» আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা;
» আল্লাহর কর্তৃত্বের কাছে সবকিছু ন্যস্ত করা;
» আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা; এবং
» মুসিবতে পড়া মাত্রই ধৈর্যধারণ করা।"
وَلَمْ يَطْعَمِ امْرُؤٌ حَقِيقَةَ الْإِسْلَامِ حَتَّى يَأْمَنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ
"কোনও ব্যক্তি ইসলামের আসল প্রকৃতির স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ-না তার কাছে লোকজন নিজেদের জানমালের ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করে।"
তখন একজন বলল, "আল্লাহর রাসূল! ঈমানের কোন কাজটি সর্বোত্তম।"
নবি ﷺ বলেন—
"যার জিহ্বা ও হাত (-এর অনিষ্ট) থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"
مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُوْنَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ عَلَامَاتٌ كَمَنَارِ الطَّرِيقِ : شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ ، وَإِيْتَاءُ الزَّكَاةِ ، وَالْحُكْمُ بِكِتَابٍ الله ، وَطَاعَةُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ ، وَالتَّسْلِيمُ عَلَى بَنِي آدَمَ إِذَا لَقِيتُمُوْهُمْ
"রাস্তার বাতিঘর (lighthouse)-এর মতো (ইসলামের) কিছু চিহ্ন আছে:
» এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই;
» নামাজ কায়েম রাখা;
» যাকাত আদায় করা;
» আল্লাহর কিতাব (কুরআন) অনুযায়ী শাসন ও বিচারকার্য পরিচালনা করা;
» উম্মি (লেখাপড়ার-সঙ্গে-সম্পর্কহীন জাতির) নবির আনুগত্য করা; এবং
» আদম-সন্তানদের সঙ্গে দেখা হলে তাদের সালাম দেওয়া।"'
বাযযার ১২/১৫-১৬ (৫৩৮০), বর্ণনাসূত্রে সাঈদ ইবনু সিনান রয়েছেন যাকে দিয়ে প্রমাণ পেশ করা হয় না (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/২৫ (২৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৬ (১৮৩); কানযুল উম্মাল ১/৩৭ (৬৮)।
📄 আল্লাহকে রব, মুহাম্মাদ ﷺ-কে রাসূল ও ইসলামকে দ্বীন মানার নাম ঈমান
[২২] ইবনু আব্বাস রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—
بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الْإِيْمَانِ أَنْ يَقُولَ : رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا ، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا ، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا
"ঈমানের ব্যাপারে একজন ব্যক্তির এ কথাই যথেষ্ট—
» আল্লাহকে রব,
» মুহাম্মাদ ﷺ-কে (আল্লাহর) রাসূল ও
» ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মেনে আমি সন্তুষ্ট।"'
তাবারানি, আওসাত ৫/৩২১ (৭৪৭২), মুহাম্মাদ ইবনু উমাইরকে ইবনু হিব্বান বিশ্বস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/২৫ (৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৩ (১৬৩)।
📄 স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেও আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা চাই
[২৩.] উবাদা ইবনুস সামিত রা. বলেন, 'একব্যক্তি নবি ﷺ-এর কাছে এসে বলে, "আল্লাহর নবি! কোন কাজটি সর্বোত্তম?" নবি ﷺ বলেন-
الْإِيْمَانُ بِاللَّهِ ، وَتَصْدِيقُ بِهِ ، وَجِهَادُ فِي سَبِيلِهِ
"আল্লাহর ওপর ঈমান আনা, (কাজের মাধ্যমে) এর সত্যতার প্রমাণ দেওয়া ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা।"
লোকটি বলে, "আল্লাহর রাসূল! আমি এর চেয়ে সহজ কিছু চাচ্ছি!”
নবি ﷺ বলেন-
السَّمَاحَةُ وَالصَّبْرُ
"উদারতা ও ধৈর্য।”
লোকটি বলে, "আল্লাহর রাসূল! আমি এর চেয়ে সহজ কিছু চাচ্ছি!”
নবি ﷺ বলেন-
لَا تَتَّهِمِ اللَّهَ فِي شَيْءٍ قَضَى لَكَ بِهِ
"আল্লাহ তোমার জন্য যে ফায়সালা করেন, সে-ব্যাপারে আল্লাহকে দোষারোপ কোরো না।"'
আহমাদ ৫/৩১৮-৩১১ (২২৭১৭), বর্ণনাসূত্রে ইবনু লাহীআ আছেন (হাইসামি), হাসান লিশ শাওয়াহিদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে (আরনাউত); ইতহাফুল খিয়ারা ১/৪৭ (১), ১/৪৭-৪৮ (২); কানযুল উম্মাল ৫/৭১২ (৮৫৪০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৯ (২০২)।
[২৪.] আমর ইবনুল আস রা. বলেন, 'একব্যক্তি বলল, "আল্লাহর রাসূল! কোন কাজটি সর্বোত্তম?” তিনি বলেন-
إِيْمَانُ بِاللَّهِ ، وَتَصْدِيقُ ، وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، وَحَجَّ مَبْرُورُ
"আল্লাহর ওপর ঈমান আনা, (কাজের মাধ্যমে একে) সত্যে পরিণত করা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা ও নিষ্কলুষ হজ আদায় করা।"
লোকটি বলল, "আল্লাহর রাসূল! আপনি তো অনেক কাজের কথা বললেন!”
তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
فَلِيْنُ الْكَلَامِ ، وَبَذْلُ الطَّعَامِ ، وَسَمَاحُ وَحُسْنُ الْخُلُقِ
"তা হলে (এসব গুণ অর্জন করো) কোমল কথা, খাবার বিতরণ, উদারতা ও সুন্দর আচরণ।"
লোকটি বলল, "আমি মাত্র একটি কথা চাচ্ছি।"
আল্লাহর রাসূল ﷺ তাকে বলেন-
اذْهَبْ فَلَا تَتَّهِمِ اللَّهَ عَلَى نَفْسِكَ
"যাও, (আল্লাহর কোনও ফায়সালা) তোমার স্বার্থের বিপরীতে গেলে আল্লাহকে দোষারোপ কোরো না।"
আহমাদ ৪/২০৪ (১৭৮১৪), বর্ণনাকারী রিশদীন ত্রুটিযুক্ত (হাইসামি), হাসান লিশ শাওয়াহিদ হওয়ার সম্ভাবনা আছে (আরনাউত); মাজমাউয যাওইয়াইদ ১/৫৯-৬০ (২০৩)।
টিকাঃ
]১[ وَحَجٌ مَبْرُورٌ “এবং কলুষমুক্ত হজ আদায় করা” (ইতহাফুল বিয়ারা ১/৪৭-৪৮ (২))।