📄 বাহয ইবনু হাকীরের দাদার প্রশ্নের জবাবে ইসলামের কিছু নিদর্শন
[১৭.] বাহ্য ইবনু হাকীম তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি বললাম,
"আল্লাহর নবি! আপনার কাছে আসার আগে, (আমার) হাতে যতগুলো আঙুল আছে ততবার শপথ নিয়েছিলাম-আপনার কাছেও আসব না, আপনার দ্বীনও মানব না! আমি এমন ব্যক্তি, [১] যে কিছুই বোঝে না, শুধু তাই বোঝে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল শেখান। আমি আল্লাহ তাআলার সত্তার শপথ দিয়ে আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি-আপনার রব আপনাকে কী দিয়ে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন?”
নবি ﷺ বলেন, بِالإسْلام "ইসলাম দিয়ে।”
আমি জিজ্ঞেস করি, “ইসলামের নিদর্শনগুলো কী?”
নবি ﷺ বলেন,
أَنْ تَقُولَ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَتَخَلَّيْتُ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، كُلُّ مُسْلِمٍ عَلَى مسلم مُحَرَّمُ أَخَوَانِ نَصِيْرَانِ، لَا يَقْبَلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ مُشْرِكٍ بَعْدَمَا أَسْلَمَ عَمَلًا أَوْ يُفَارِقَ الْمُشْرِكِينَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ
"(ইসলামের নিদর্শনগুলো হলো)
» [৩] তুমি বলবে-আমি আমার নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছি এবং (আল্লাহ-বিরোধী সকল শক্তির সঙ্গে) আমার সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি;
» তারপর "নামাজ কায়েম রাখবে;
» যাকাত আদায় করবে;
» (আর মনে রাখবে-) প্রত্যেক মুসলিম অপর মুসলিমের নিকট পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়, তারা পরস্পরের সহযোগী দু' ভাই;
» কোনও মুশরিক যদি ইসলাম গ্রহণ করে, [৩] তা হলে আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ পর্যন্ত তার কোনও কাজ [৪] গ্রহণ করবেন না, যতক্ষণ-না] সে মুশরিকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলিমদের সঙ্গে যুক্ত হয়]।”
নাসাঈ ২৫৬৮, ২৪৩৬, হাসান; ইবনু মাজাহ্ ২৫৩৬; আহমাদ ৪/৪৪৬ (২০০১১ প্রথমাংশ); ৫/৪ (২০০৩৭ প্রথমাংশ); নাসাঈ, কুবরা ২২২৭, ২৩৬০; ইবনু হিব্বান ১/৩৭৬-৩৭৭ (১৬০); জামিউল উসূল ১৬; জামউল ফাওয়াইদ ৫৫।
টিকাঃ
[১] "আমি এসেছি এমন এক ব্যক্তি হিসেবে..." (আহমাদ ২০০৩৭)।
[২] "আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন ..." (আহমাদ ২০০১১)।
]*[ أَنْ تُسْلِمَ قَلْبَكَ لِلَّهِ، وَأَنْ تُوَجَّهَ وَجْهَكَ لِلَّهِ “তোমার অন্তরকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করবে, তোমার চেহারাকে একমাত্র আল্লাহমুখী রাখবে" (ইবনু হিব্বান ১৬০) |
[১] الْمَكْتُوبَةَ “ফরজ” (ইবনু হিববান ১৬০)।
[২] الْمَفْرُوْضَةً "ফরজ” (ইবনু হিববান ১৬০)।
[৩] مُرِكٍ أَشْرَكَ بَعْدَ مَا أَسْلَمَ "কোনও মুশরিক যদি ইসলাম গ্রহণের পর শির্কে লিপ্ত হয়” (ইবনু মাজাহ ২৫৩৬)।
[৪] تَوْبَةً “তাওবা বা ফিরে আসা" (ইবনু হিববান ১৬০)।
[৫] নাসাঈ'র মূলপাঠে ; শব্দ থাকলেও, ইবনু মাজাহ'র পাঠে শব্দ রয়েছে, যার অর্থ 'যতক্ষণ-না'।
]*[ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ أَحَدٍ تَوْبَةً أَشْرَكَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ "যে-ব্যক্তি ইসলামে আসার পর শির্ক করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন না” (আহমদ ২০০১১; ইবনু হিববান ১৬০)।
📄 ঈমানের নিদর্শন
[১৮.] আবূ উমামা রা. বলেন, 'এক ব্যক্তি নবি ﷺ-কে জিজ্ঞেস করে, “গোনাহ কী?” নবি ﷺ বলেন,
إِذَا حَكَ فِي نَفْسِكَ شَيْءٌ فَدَعْهُ
"যখন কোনোকিছু তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে, (গোনাহ মনে করে) সেটি ছেড়ে দাও।”
সে বলে, "তা হলে ঈমান কী?”
নবি ﷺ বলেন,
إِذَا سَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ وَسَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ
"যখন
» তোমার খারাপ কাজ তোমার কাছে খারাপ লাগে, আর
» তোমার ভালো কাজ তোমাকে মুগ্ধ করে,
তখন তুমি মুমিন'।"
আহমাদ ৫/২৫১ (২২১৫৯) সহীহ (আরনাউত), ১/১৮ (১১৪, শেষ বাক্য), ৪/৩৯৮ (১৯৫৬৫), ৫/২৫২ (২২১৬৫), ৫/২৫৫-২৫৬ (২২১৯৯); আবদুর রাযযাক ১১/১২৬ (২০১০৪); বাযযার (কাশফ) ১/৫৯ (৭৯); ইবনু মানদাহ ১০৮৭ (শেষ বাক্য), ১০৮৮, ১০৮৯; তাবারানি, কাবীর ৮/১৩৮ (৭৫৪০); তাবারানি, আওসাত ১/৪৫১ (১৬৫৯, শেষ বাক্য), ৫/৩২১ (৭৪৭৪); ইবনু হিব্বان ১/৪০২ (১৭৬); হাকিম ১/১৩-১৪ (৩২), ১/১৪ (৩৩), ১/১৪ (৩৪), ১/১৪ (৩৫), ১/৫৪ (১৭৭), ২/১৩ (২১৭১); বাইহাকি, শুআব ৫/৩৭১ (৬৯৮৯), ৫/৩৭১ (৬৯৯০), ৫/৩৭১ (৬৯৯১), ৫/৩৭১-৩৭২ (৬৯৯৩); আবদ ইবনু হুমাইদ ৫৫৯; মুসনাদুশ শিহাব ১/২৪৮ (৪০০), ১/২৪৮-২৪৯ (৪০১), ১/২৪৯ (৪০২), ১/২৪৯ (৪০৩), ১/২৪৯-২৫০ (৪০৪, শেষ বাক্য); কানযুল উম্মাল ১/১৪৪ (৭০০), ১/১৬১ (৮০৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৬ (২৮৭, ২৮৮, ২৮৯); জামউল ফাওয়াইদ ৫৮।
[১৯.] আয়িশা রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوْا وَإِذَا أَسَاؤُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে সেসব লোকের অন্তর্ভুক্ত করো-যারা ভালো কাজ করলে খুশি হয় আর খারাপ কাজ করলে মাফ চায়।"'
বাইহাকি, শুআবুল ঈমান ৫/৩৭১ (৬৯৯২)।
টিকাঃ
[৭] مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَكَرِهَهَا حِيْنَ يَعْمَلُ وَعَمِلَ حَسَنَةٌ فَسُرَّ بِهَا فَهُوَ مُؤْمِنٌ "যে-ব্যক্তি কোনও খারাপ কাজ করে এবং তা করার সময় অপছন্দ করে, আর কোনও ভালো কাজ করে খুশি হয় সে মুমিন" (হাকিম ১/১৩ (৩২), ১/৫৪ (১৭৭)) |
📄 ইসলামের কিছু চিহ্ন ও নিদর্শন
[২০.] আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেছেন,
إِنَّ لِلْإِسْلَامِ صُوّى وَعَلَامَاتٍ كَمَنَارِ الطَّرِيقِ ، وَرَأْسُهُ وَجِمَاعُهُ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ ، وَإِيْتَاءُ الزَّكَاةِ ، وَتَمَامُ الْوُضُوءِ
"রাস্তায় যেমন বাতিঘর (lighthouse) থাকে, তেমনিভাবে ইসলামেরও কিছু পথনির্দেশক চিহ্ন (signpost) ও নিদর্শন আছে; এর চূড়া ও সমষ্টি হলো-
» এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল;
> নামাজ কায়েম করা;
> যাকাত আদায় করা; ও
> পরিপূর্ণভাবে ওজু করা।"'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১১২, সনদের ব্যাপারে হাইসামি কোনও মন্তব্য করেননি; হাকিম ১/২০-২১ (৫২), সহীহ; হিইয়া ৫/২১৭-২১৮; কানযুল উম্মাল ১/২৭ (২০); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৮ (১১২)।
[২১.] ইবনু উমর রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেছেন-
خمس مِنَ الْإِيْمَانِ ، مَنْ لَمْ يَكُنْ فِيْهِ شَيْءٌ مِنْهَا فَلَا إِيْمَانَ لَهُ : التَّسْلِيمُ لِأَمْرِ اللهِ ، وَالرِّضَا بِقَضَاءِ اللهِ ، وَالتَّفْوِيضُ إِلَى أَمْرِ اللهِ ، وَالتَّوَكُلُ عَلَى اللهِ ، وَالصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأُولى
"পাঁচটি বিষয় ঈমানের অন্তর্ভুক্ত; যার মধ্যে এসবের কোনোটি নেই, তার ঈমান নেই:
> আল্লাহর আদেশের সামনে আত্মসমর্পণ করা;
» আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা;
» আল্লাহর কর্তৃত্বের কাছে সবকিছু ন্যস্ত করা;
» আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা; এবং
» মুসিবতে পড়া মাত্রই ধৈর্যধারণ করা।"
وَلَمْ يَطْعَمِ امْرُؤٌ حَقِيقَةَ الْإِسْلَامِ حَتَّى يَأْمَنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ
"কোনও ব্যক্তি ইসলামের আসল প্রকৃতির স্বাদ পাবে না, যতক্ষণ-না তার কাছে লোকজন নিজেদের জানমালের ব্যাপারে নিরাপদ বোধ করে।"
তখন একজন বলল, "আল্লাহর রাসূল! ঈমানের কোন কাজটি সর্বোত্তম।"
নবি ﷺ বলেন—
"যার জিহ্বা ও হাত (-এর অনিষ্ট) থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"
مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُوْنَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ عَلَامَاتٌ كَمَنَارِ الطَّرِيقِ : شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ ، وَإِيْتَاءُ الزَّكَاةِ ، وَالْحُكْمُ بِكِتَابٍ الله ، وَطَاعَةُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ ، وَالتَّسْلِيمُ عَلَى بَنِي آدَمَ إِذَا لَقِيتُمُوْهُمْ
"রাস্তার বাতিঘর (lighthouse)-এর মতো (ইসলামের) কিছু চিহ্ন আছে:
» এ-মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই;
» নামাজ কায়েম রাখা;
» যাকাত আদায় করা;
» আল্লাহর কিতাব (কুরআন) অনুযায়ী শাসন ও বিচারকার্য পরিচালনা করা;
» উম্মি (লেখাপড়ার-সঙ্গে-সম্পর্কহীন জাতির) নবির আনুগত্য করা; এবং
» আদম-সন্তানদের সঙ্গে দেখা হলে তাদের সালাম দেওয়া।"'
বাযযার ১২/১৫-১৬ (৫৩৮০), বর্ণনাসূত্রে সাঈদ ইবনু সিনান রয়েছেন যাকে দিয়ে প্রমাণ পেশ করা হয় না (হাইসামি); বাযযার (কাশফ) ১/২৫ (২৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৬ (১৮৩); কানযুল উম্মাল ১/৩৭ (৬৮)।
📄 আল্লাহকে রব, মুহাম্মাদ ﷺ-কে রাসূল ও ইসলামকে দ্বীন মানার নাম ঈমান
[২২] ইবনু আব্বাস রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন—
بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الْإِيْمَانِ أَنْ يَقُولَ : رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا ، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا ، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا
"ঈমানের ব্যাপারে একজন ব্যক্তির এ কথাই যথেষ্ট—
» আল্লাহকে রব,
» মুহাম্মাদ ﷺ-কে (আল্লাহর) রাসূল ও
» ইসলামকে জীবনব্যবস্থা হিসেবে মেনে আমি সন্তুষ্ট।"'
তাবারানি, আওসাত ৫/৩২১ (৭৪৭২), মুহাম্মাদ ইবনু উমাইরকে ইবনু হিব্বান বিশ্বস্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন (হাইসামি); কানযুল উম্মাল ১/২৫ (৮); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৩ (১৬৩)।