📄 নবি ﷺ-এর সঙ্গে এক বেদুইনের প্রশ্নোত্তরে ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়
[১৫.] আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে (বিনা প্রয়োজনে) কোনও বিষয়ে প্রশ্ন করতে কুরআনে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। তাই কোনও বুদ্ধিমান বেদুইন এসে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলে, আমরা মুগ্ধ হয়ে তা শুনতাম।[৩]
একবার এক বেদুইন এসে বলে, "মুহাম্মাদ! আপনার দূত এসে আমাদের বলল-আপনার দাবি, আল্লাহ আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন।”
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
বেদুইন জানতে চায়, “তাহলে আকাশ সৃষ্টি করেছেন কে?”
নবি ﷺ বলেন, “আল্লাহ।”
সে জিজ্ঞেস করে, “পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?”
নবি ﷺ বলেন, "আল্লাহ।”
সে প্রশ্ন করে, "এ পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন এবং এর ভেতরের বিষয়গুলো কে সৃষ্টি করেছেন?"
নবি ﷺ বলেন, "আল্লাহ।”
তখন সে বলে, "তাহলে যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এ পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন, তাঁর কসম (দিয়ে জিজ্ঞেস করছি)—আল্লাহ কি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন?"
নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!"
সে বলে, "আপনার দূত বলল, দিন-রাতে আমাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ।”
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
সে বলে, "শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"
নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!”
সে বলে, "আপনার দূত বলল, আমাদের সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ।"
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
সে বলে, "শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"
নবি ﷺ বলেন, "হ্যাঁ!"
সে বলে, "আপনার দূত বলল, আমাদের বছরে রমজান মাসে রোযা রাখা আমাদের ওপর ফরজ।”
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
সে বলে, "শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"
নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!"
সে বলে, "আপনার দূত বলল, আমাদের মধ্যে যারা (কাবা) ঘর পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হজ ফরজ।"
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
এরপর সে চলে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিয়ে বলে, "শপথ সেই সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন! আমি এগুলোর ওপর কিছু বাড়াব না, এখান থেকে কমাবও না।"
তখন নবি ﷺ বলেন,
لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ
"যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে সে নিশ্চিত জান্নাতে যাবে।"'
মুসলিম ১০২/১০ (১২), ১০০/১১ (...); বুখারি ৬৩; আবু দাউদ ৪৮৬; তিরমিযি ৬১৯; নাসাঈ ২০৯১; নাসাঈ, কুবরা ২৪১২; ইবনু মাজাহ ১৪০২; আহমাদ ৩/১৪৩ (১২৪৫৭), ৩/১৯৩ (১৩০১১); দারিমি ৬৬৮, ৬৬৯; জামিউল উসূল ৪ (২য় বর্ণনা); জামউল ফাওয়াইদ ৪৬, ৪৭।
টিকাঃ
[১] "এবং (তা) সত্যায়ন করলাম" (নাসাঈ ২০১৪)।
[২] يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوْا عَنْهَا حِيْنَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ (۱۰۱) قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِّنْ قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا )۲۰۱( كَافِرِينَ “যারা ঈমান এনেছ! এমনসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের সামনে প্রকাশ করে দিলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর কুরআন নাযিলের যুগে যদি সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো, তা হলে তোমাদের সামনে সেগুলো প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল। তোমাদের আগের লোকজন সেসব জানতে চেয়েছিল; এরপর তারা সেসব বিষয়ে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে।” (সূরা আল-মাইদাহ ৫:১০১-১০২)।
[৩] 'আমরা মন থেকে চাইতাম, আমরা যখন নবি ﷺ-এর কাছে থাকি তখন যেন কোনও বুদ্ধিমান বেদুইন এসে তাঁকে প্রশ্ন করে' (তিরমিযি ৬১৯)।
[৪] 'নবি ﷺ-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে' (তিরমিযি ৬১৯)।
[১] 'সে প্রশ্ন করে, "এর মধ্যে রকমারি কল্যাণ কে সৃষ্টি করেছেন?" নবি ﷺ বলেন, "আল্লাহ।” (নাসাঈ ২০৯১)।
[২] 'আকাশকে অনেক উঁচুতে তুলে ধরেছেন' (তিরমিযি ৬১৯)।
[৩] 'পৃথিবীকে সমতল করে দিয়েছেন' (তিরমিযি ৬১১)।
[৪] "এবং এর মধ্যে রকমারি কল্যাণ সৃষ্টি করেছেন” (নাসাঈ ২০১১)।
[৫] "প্রত্যেক” (নাসাঈ ২০৯১) |
📄 নবি ﷺ-এর সঙ্গে দিমাম ইবনু সা’লাবা (রাঃ)-এর আরেকটি প্রশ্নোত্তর-পর্ব
[১৬.] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, 'বানূ সা'দ ইবনি বকর গোত্র দিমাম ইবনু সা'লাবাকে (তাদের) প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে পাঠায়। সে এসে মাসজিদের দরজার সামনে তার বাহনটিকে বসিয়ে এর সামনের পা বেঁধে ফেলে। এরপর মাসজিদে ঢুকে। আল্লাহর রাসূল ﷺ তখন তাঁর সাহাবিদের মধ্যে বসে আছেন। দিমাম ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী পুরুষ; ঘন চুল- ও দুই বিনুনি-বিশিষ্ট। সে এগিয়ে গিয়ে সাহাবিদের-মধ্যে-থাকা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের সন্তান কে?” আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ "আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।” সে বলে, "মুহাম্মাদ?” নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!”
এরপর সে বলে, "আবদুল মুত্তালিবের সন্তান! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব; প্রশ্নগুলো হবে কর্কশ ও রুক্ষ, সুতরাং কিছু মনে করবেন না।" নবি ﷺ বলেন, لَا أَجِدُ فِي نَفْسِي فَسَلْ عَمَّا بَدًا لَكَ “আমি কিছু মনে করব না, তোমার যা ইচ্ছা জিজ্ঞেস করো।"
সে বলে, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যিনি আপনার ইলাহ্, আপনার আগের লোকদের ইলাহ্ এবং আপনার পরের লোকদের ইলাহ্-আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের কাছে বার্তাবাহক হিসেবে পাঠিয়েছেন?” নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই।”
সে বলে, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যিনি আপনার ইলাহ্, আপনার আগের লোকদের ইলাহ্ এবং আপনার পরের লোকদের ইলাহ্—আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের এ নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন যে,
>> আমরা কেবল তাঁরই গোলামি করব,
>> তাঁর সঙ্গে কোনোকিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করব না এবং
>> আমাদের পূর্বপুরুষগণ তাঁর সঙ্গে অন্যান্য যেসব শরীকের গোলামি করত, আমরা সেগুলো পরিত্যাগ করব?"
নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই।”
সে বলে, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যিনি আপনার ইলাহ্, আপনার আগের লোকদের ইলাহ্ এবং আপনার পরের লোকদের ইলাহ্—আল্লাহ কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমরা এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি?" নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই।”
এরপর সে ইসলামের ফরজসমূহ একটি একটি করে উল্লেখ করতে থাকে: যাকাত, রোযা, হজ ও ইসলামের সকল বিধিবিধান। প্রত্যেকটি ফরজের ব্যাপারে সে নবি ﷺ-কে সেভাবে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেভাবে সে আগের বিষয়গুলোতে কসম দিয়েছে। পরিশেষে সে বলে ওঠে—
"তাহলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।[১] আমি অচিরেই এসব ফরজ আদায় করব এবং আপনি আমাকে যা করতে নিষেধ করেছেন তা পরিহার করব; বেশিও করব না, কমও করব না।"
এরপর সে তার উটের কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। তার চলে যাওয়ার সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
إِنْ يَصْدُقُ ذُو الْعَقِيصَتَيْنِ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ
"দুই বিনুনি-বিশিষ্ট লোকটি যদি সত্য বলে থাকে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে।"
সে তার উটের কাছে এসে এর বাঁধন খুলে দেয়। এরপর (তার গোত্রের উদ্দেশে) বেরিয়ে পড়ে। গোত্রের কাছে পৌঁছুলে, তারা তার কাছে এসে সমবেত হয়। এরপর সর্বপ্রথম সে যা বলে তা হলো, "লাত ও উয্যা অত্যন্ত নিকৃষ্ট!”
তারা বলে ওঠে, "দিমাম! থামো! কুষ্ঠরোগ ও গোদরোগকে ভয় করো; ভয় করো পাগল হয়ে যাওয়াকে!”
সে বলে, “ধুর! শপথ আল্লাহর, এরা না কোনও ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনও উপকার। আল্লাহ একজন রাসূল পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কাছে এমন এক কিতাব নাযিল করেছেন, যা দিয়ে তিনি তোমাদের বর্তমান অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে চান। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনও অংশীদার নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তোমাদের যা করার আদেশ দিয়েছেন ও যা করতে নিষেধ করেছেন, তাঁর নিকট থেকে সেসব নিয়ে আমি তোমাদের কাছে এসেছি।”
শপথ আল্লাহর! ওইদিন সন্ধ্যা নামার আগেই তার জনপদের নারী-পুরুষ সকলেই মুসলিম হয়ে যায়। আমরা কোনও গোত্রের এমন কোনও প্রতিনিধির কথা শুনিনি, যে দিমام ইবনু সা'লাবার চেয়ে উত্তম।'
আহমাদ ১/২৬৪-২৬৫ (২৩৮০) হাদীসটি হাসান (আরনাউত), ১/২৫০ (২২৫৪), ১/২৬৫ (২৩৮১); তাবারানি, কাবীর ৮/৩৬৪-৩৬৫ (৮১৪৯); দারিমি ৬৯০; আবু দাউদ ৪৮৭; বাযযার (কাশফ) ১/১৩ (১১); আবূ ইয়া'লা ১/১৯৯-২০০ (২৩০); জামিউল উসূল ৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৭ (১৪); জামউল ফাওয়াইদ ৪৮।
টিকাঃ
[১] وَأَشْهَدُ أَنْ لَا يَقُوْلَهَا أَحَدٌ مِنْ قَلْبِهِ ، إِنَّا وَفَّاهُ حَرَّ النَّارِ "আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—যে-ব্যক্তি অন্তর থেকে এ কথা বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের উত্তাপ থেকে বাঁচিয়ে দেবেন।" (বাযযার (কাশফ) ১/১৩ (১১); আবূ ইয়া'লা ১/১৯৯-২০০ (২৩০), ইসনাদটি দুর্বল)।
[২] তৎকালীন আরবের মুশরিকদের দুটি দেবতা।
📄 বাহয ইবনু হাকীরের দাদার প্রশ্নের জবাবে ইসলামের কিছু নিদর্শন
[১৭.] বাহ্য ইবনু হাকীম তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি বললাম,
"আল্লাহর নবি! আপনার কাছে আসার আগে, (আমার) হাতে যতগুলো আঙুল আছে ততবার শপথ নিয়েছিলাম-আপনার কাছেও আসব না, আপনার দ্বীনও মানব না! আমি এমন ব্যক্তি, [১] যে কিছুই বোঝে না, শুধু তাই বোঝে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল শেখান। আমি আল্লাহ তাআলার সত্তার শপথ দিয়ে আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি-আপনার রব আপনাকে কী দিয়ে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন?”
নবি ﷺ বলেন, بِالإسْلام "ইসলাম দিয়ে।”
আমি জিজ্ঞেস করি, “ইসলামের নিদর্শনগুলো কী?”
নবি ﷺ বলেন,
أَنْ تَقُولَ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَتَخَلَّيْتُ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، كُلُّ مُسْلِمٍ عَلَى مسلم مُحَرَّمُ أَخَوَانِ نَصِيْرَانِ، لَا يَقْبَلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ مُشْرِكٍ بَعْدَمَا أَسْلَمَ عَمَلًا أَوْ يُفَارِقَ الْمُشْرِكِينَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ
"(ইসলামের নিদর্শনগুলো হলো)
» [৩] তুমি বলবে-আমি আমার নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছি এবং (আল্লাহ-বিরোধী সকল শক্তির সঙ্গে) আমার সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি;
» তারপর "নামাজ কায়েম রাখবে;
» যাকাত আদায় করবে;
» (আর মনে রাখবে-) প্রত্যেক মুসলিম অপর মুসলিমের নিকট পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়, তারা পরস্পরের সহযোগী দু' ভাই;
» কোনও মুশরিক যদি ইসলাম গ্রহণ করে, [৩] তা হলে আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ পর্যন্ত তার কোনও কাজ [৪] গ্রহণ করবেন না, যতক্ষণ-না] সে মুশরিকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলিমদের সঙ্গে যুক্ত হয়]।”
নাসাঈ ২৫৬৮, ২৪৩৬, হাসান; ইবনু মাজাহ্ ২৫৩৬; আহমাদ ৪/৪৪৬ (২০০১১ প্রথমাংশ); ৫/৪ (২০০৩৭ প্রথমাংশ); নাসাঈ, কুবরা ২২২৭, ২৩৬০; ইবনু হিব্বান ১/৩৭৬-৩৭৭ (১৬০); জামিউল উসূল ১৬; জামউল ফাওয়াইদ ৫৫।
টিকাঃ
[১] "আমি এসেছি এমন এক ব্যক্তি হিসেবে..." (আহমাদ ২০০৩৭)।
[২] "আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন ..." (আহমাদ ২০০১১)।
]*[ أَنْ تُسْلِمَ قَلْبَكَ لِلَّهِ، وَأَنْ تُوَجَّهَ وَجْهَكَ لِلَّهِ “তোমার অন্তরকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করবে, তোমার চেহারাকে একমাত্র আল্লাহমুখী রাখবে" (ইবনু হিব্বান ১৬০) |
[১] الْمَكْتُوبَةَ “ফরজ” (ইবনু হিববান ১৬০)।
[২] الْمَفْرُوْضَةً "ফরজ” (ইবনু হিববান ১৬০)।
[৩] مُرِكٍ أَشْرَكَ بَعْدَ مَا أَسْلَمَ "কোনও মুশরিক যদি ইসলাম গ্রহণের পর শির্কে লিপ্ত হয়” (ইবনু মাজাহ ২৫৩৬)।
[৪] تَوْبَةً “তাওবা বা ফিরে আসা" (ইবনু হিববান ১৬০)।
[৫] নাসাঈ'র মূলপাঠে ; শব্দ থাকলেও, ইবনু মাজাহ'র পাঠে শব্দ রয়েছে, যার অর্থ 'যতক্ষণ-না'।
]*[ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ أَحَدٍ تَوْبَةً أَشْرَكَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ "যে-ব্যক্তি ইসলামে আসার পর শির্ক করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন না” (আহমদ ২০০১১; ইবনু হিববান ১৬০)।
📄 ঈমানের নিদর্শন
[১৮.] আবূ উমামা রা. বলেন, 'এক ব্যক্তি নবি ﷺ-কে জিজ্ঞেস করে, “গোনাহ কী?” নবি ﷺ বলেন,
إِذَا حَكَ فِي نَفْسِكَ شَيْءٌ فَدَعْهُ
"যখন কোনোকিছু তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে, (গোনাহ মনে করে) সেটি ছেড়ে দাও।”
সে বলে, "তা হলে ঈমান কী?”
নবি ﷺ বলেন,
إِذَا سَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ وَسَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ
"যখন
» তোমার খারাপ কাজ তোমার কাছে খারাপ লাগে, আর
» তোমার ভালো কাজ তোমাকে মুগ্ধ করে,
তখন তুমি মুমিন'।"
আহমাদ ৫/২৫১ (২২১৫৯) সহীহ (আরনাউত), ১/১৮ (১১৪, শেষ বাক্য), ৪/৩৯৮ (১৯৫৬৫), ৫/২৫২ (২২১৬৫), ৫/২৫৫-২৫৬ (২২১৯৯); আবদুর রাযযাক ১১/১২৬ (২০১০৪); বাযযার (কাশফ) ১/৫৯ (৭৯); ইবনু মানদাহ ১০৮৭ (শেষ বাক্য), ১০৮৮, ১০৮৯; তাবারানি, কাবীর ৮/১৩৮ (৭৫৪০); তাবারানি, আওসাত ১/৪৫১ (১৬৫৯, শেষ বাক্য), ৫/৩২১ (৭৪৭৪); ইবনু হিব্বان ১/৪০২ (১৭৬); হাকিম ১/১৩-১৪ (৩২), ১/১৪ (৩৩), ১/১৪ (৩৪), ১/১৪ (৩৫), ১/৫৪ (১৭৭), ২/১৩ (২১৭১); বাইহাকি, শুআব ৫/৩৭১ (৬৯৮৯), ৫/৩৭১ (৬৯৯০), ৫/৩৭১ (৬৯৯১), ৫/৩৭১-৩৭২ (৬৯৯৩); আবদ ইবনু হুমাইদ ৫৫৯; মুসনাদুশ শিহাব ১/২৪৮ (৪০০), ১/২৪৮-২৪৯ (৪০১), ১/২৪৯ (৪০২), ১/২৪৯ (৪০৩), ১/২৪৯-২৫০ (৪০৪, শেষ বাক্য); কানযুল উম্মাল ১/১৪৪ (৭০০), ১/১৬১ (৮০৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৮৬ (২৮৭, ২৮৮, ২৮৯); জামউল ফাওয়াইদ ৫৮।
[১৯.] আয়িশা রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন-
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الَّذِينَ إِذَا أَحْسَنُوا اسْتَبْشَرُوْا وَإِذَا أَسَاؤُوا اسْتَغْفَرُوا
“হে আল্লাহ! আমাকে সেসব লোকের অন্তর্ভুক্ত করো-যারা ভালো কাজ করলে খুশি হয় আর খারাপ কাজ করলে মাফ চায়।"'
বাইহাকি, শুআবুল ঈমান ৫/৩৭১ (৬৯৯২)।
টিকাঃ
[৭] مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَكَرِهَهَا حِيْنَ يَعْمَلُ وَعَمِلَ حَسَنَةٌ فَسُرَّ بِهَا فَهُوَ مُؤْمِنٌ "যে-ব্যক্তি কোনও খারাপ কাজ করে এবং তা করার সময় অপছন্দ করে, আর কোনও ভালো কাজ করে খুশি হয় সে মুমিন" (হাকিম ১/১৩ (৩২), ১/৫৪ (১৭৭)) |