📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 দিমাম ইবনু সা’লাবা (রাঃ)-এর প্রশ্নে ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়

📄 দিমাম ইবনু সা’লাবা (রাঃ)-এর প্রশ্নে ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়


[১৪.] আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন, 'আমরা নবি ﷺ-এর সঙ্গে মাসজিদে বসে আছি, এমন- সময় একব্যক্তি উষ্ট্রীর পিঠে সওয়ার হয়ে মাসজিদে ঢুকে। এরপর উস্ত্রীটিকে বসিয়ে এর সামনের পা বেঁধে দেয়। তারপর সাহাবিদের জিজ্ঞেস করে, “আপনাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে?” নবি ﷺ তখন তাদের মাঝখানে ডান হাতের কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে বসে আছেন। আমরা বলি, "ডান হাতের কনুইয়ের ওপর ভর-দেওয়া এ ফর্সা ব্যক্তিই (হলেন মুহাম্মাদ)।”
তখন লোকটি নবি ﷺ-কে বলে, "আবদুল মুত্তালিবের সন্তান!"
নবি ﷺ বলেন, قَدْ أَجَبْتُكَ "আমি তোমার কথার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
লোকটি নবি ﷺ-কে বলে, “আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব; প্রশ্নগুলো হবে কিছুটা রুক্ষ ও কর্কশ, (দয়া করে) আমার ওপর রাগ করবেন না!"
নবি ﷺ বলেন, سُلْ عَمَّا بَدًا لَكَ "তোমার যা ইচ্ছা জিজ্ঞেস করো।”
লোকটি বলে, "আমি আপনাকে আপনার ও আপনার পূর্ববর্তীদের রবের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি-আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন?”
নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই!”
লোকটি জিজ্ঞেস করে, “আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি-আল্লাহ কি আপনাকে দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন?"
নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “নিশ্চয়ই!”
লোকটি জিজ্ঞেস করে, “আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি-আল্লাহ কি আপনাকে বছরের৩) এ (রমজান) মাসে রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন?”
নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই!”
লোকটি জিজ্ঞেস করে, “আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি-আল্লাহ কি আমাদের ধনীদের কাছ থেকে এ সদাকা (যাকাত) আদায় করে, আমাদের গরিবদের মধ্যে বণ্টন করার জন্য আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন?”
নবি ﷺ বলেন, نَعَمْ اللَّهُمَّ “নিঃসন্দেহে!”
তখন লোকটি বলে, “আপনি যা নিয়ে এসেছেন, আমি তা সত্য হিসেবে মেনে নিলাম'। আমি হলাম আমার গোত্রের দূত, যারা আমার পেছনে রয়েছে। আমি দিমام ইবনু সা'লাবা বানু সাদ ইবনি বকর গোত্রের এক ভাই।"'
বুখারি ৬৩; আহমাদ ৩/১৬৮ (১২৭১৯); আবু দাউদ ৪৮৬; আবু আওয়ানা, মুসনাদ ১/২-৩; ইবনু মান্দাহ, ঈমান ১২৯; তিরমিযি ৬১৯; নাসাঈ ২০৯২, ২০৯৩, ২০৯৪; নাসাঈ, কুবরা ২৪১৩, ২৪১৪, ২৪১৫; তায়ালিসি ২৪৪৯; বাযযার ১৫/১৮২ (৮৫৫৫); জামিউল উসূল ৪ (১ম বর্ণনা), ৬; জামউল ফাওয়াইদ ৪৫।

টিকাঃ
[১] "যিনি আল্লাহর দূত” (আহমাদ ১২৭১১)।
[২] "মুহাম্মাদ!” (আহমাদ ১২৭১৯)।
[৩] "বারো মাসের মধ্যে" (নাসাঈ ২০৯৪)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 নবি ﷺ-এর সঙ্গে এক বেদুইনের প্রশ্নোত্তরে ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়

📄 নবি ﷺ-এর সঙ্গে এক বেদুইনের প্রশ্নোত্তরে ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়


[১৫.] আনাস ইবনু মালিক রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে (বিনা প্রয়োজনে) কোনও বিষয়ে প্রশ্ন করতে কুরআনে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। তাই কোনও বুদ্ধিমান বেদুইন এসে তাঁকে কিছু জিজ্ঞেস করলে, আমরা মুগ্ধ হয়ে তা শুনতাম।[৩]
একবার এক বেদুইন এসে বলে, "মুহাম্মাদ! আপনার দূত এসে আমাদের বলল-আপনার দাবি, আল্লাহ আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন।”
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
বেদুইন জানতে চায়, “তাহলে আকাশ সৃষ্টি করেছেন কে?”
নবি ﷺ বলেন, “আল্লাহ।”
সে জিজ্ঞেস করে, “পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন?”
নবি ﷺ বলেন, "আল্লাহ।”
সে প্রশ্ন করে, "এ পাহাড়গুলো কে স্থাপন করেছেন এবং এর ভেতরের বিষয়গুলো কে সৃষ্টি করেছেন?"
নবি ﷺ বলেন, "আল্লাহ।”
তখন সে বলে, "তাহলে যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এ পাহাড়গুলো স্থাপন করেছেন, তাঁর কসম (দিয়ে জিজ্ঞেস করছি)—আল্লাহ কি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন?"
নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!"
সে বলে, "আপনার দূত বলল, দিন-রাতে আমাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ।”
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
সে বলে, "শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"
নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!”
সে বলে, "আপনার দূত বলল, আমাদের সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ।"
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
সে বলে, "শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"
নবি ﷺ বলেন, "হ্যাঁ!"
সে বলে, "আপনার দূত বলল, আমাদের বছরে রমজান মাসে রোযা রাখা আমাদের ওপর ফরজ।”
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
সে বলে, "শপথ সেই সত্তার যিনি আপনাকে বার্তাবাহক নিযুক্ত করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর নির্দেশ দিয়েছেন?"
নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!"
সে বলে, "আপনার দূত বলল, আমাদের মধ্যে যারা (কাবা) ঘর পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের ওপর হজ ফরজ।"
নবি ﷺ বলেন, صَدَقَ "সে সত্য বলেছে।”
এরপর সে চলে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দিয়ে বলে, "শপথ সেই সত্তার, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন! আমি এগুলোর ওপর কিছু বাড়াব না, এখান থেকে কমাবও না।"
তখন নবি ﷺ বলেন,
لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ
"যদি সে সত্য বলে থাকে, তাহলে সে নিশ্চিত জান্নাতে যাবে।"'
মুসলিম ১০২/১০ (১২), ১০০/১১ (...); বুখারি ৬৩; আবু দাউদ ৪৮৬; তিরমিযি ৬১৯; নাসাঈ ২০৯১; নাসাঈ, কুবরা ২৪১২; ইবনু মাজাহ ১৪০২; আহমাদ ৩/১৪৩ (১২৪৫৭), ৩/১৯৩ (১৩০১১); দারিমি ৬৬৮, ৬৬৯; জামিউল উসূল ৪ (২য় বর্ণনা); জামউল ফাওয়াইদ ৪৬, ৪৭।

টিকাঃ
[১] "এবং (তা) সত্যায়ন করলাম" (নাসাঈ ২০১৪)।
[২] يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوْا عَنْهَا حِيْنَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ (۱۰۱) قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِّنْ قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا )۲۰۱( كَافِرِينَ “যারা ঈমান এনেছ! এমনসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের সামনে প্রকাশ করে দিলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর কুরআন নাযিলের যুগে যদি সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো, তা হলে তোমাদের সামনে সেগুলো প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল। তোমাদের আগের লোকজন সেসব জানতে চেয়েছিল; এরপর তারা সেসব বিষয়ে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে।” (সূরা আল-মাইদাহ ৫:১০১-১০২)।
[৩] 'আমরা মন থেকে চাইতাম, আমরা যখন নবি ﷺ-এর কাছে থাকি তখন যেন কোনও বুদ্ধিমান বেদুইন এসে তাঁকে প্রশ্ন করে' (তিরমিযি ৬১৯)।
[৪] 'নবি ﷺ-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে' (তিরমিযি ৬১৯)।
[১] 'সে প্রশ্ন করে, "এর মধ্যে রকমারি কল্যাণ কে সৃষ্টি করেছেন?" নবি ﷺ বলেন, "আল্লাহ।” (নাসাঈ ২০৯১)।
[২] 'আকাশকে অনেক উঁচুতে তুলে ধরেছেন' (তিরমিযি ৬১৯)।
[৩] 'পৃথিবীকে সমতল করে দিয়েছেন' (তিরমিযি ৬১১)।
[৪] "এবং এর মধ্যে রকমারি কল্যাণ সৃষ্টি করেছেন” (নাসাঈ ২০১১)।
[৫] "প্রত্যেক” (নাসাঈ ২০৯১) |

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 নবি ﷺ-এর সঙ্গে দিমাম ইবনু সা’লাবা (রাঃ)-এর আরেকটি প্রশ্নোত্তর-পর্ব

📄 নবি ﷺ-এর সঙ্গে দিমাম ইবনু সা’লাবা (রাঃ)-এর আরেকটি প্রশ্নোত্তর-পর্ব


[১৬.] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. বলেন, 'বানূ সা'দ ইবনি বকর গোত্র দিমাম ইবনু সা'লাবাকে (তাদের) প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে পাঠায়। সে এসে মাসজিদের দরজার সামনে তার বাহনটিকে বসিয়ে এর সামনের পা বেঁধে ফেলে। এরপর মাসজিদে ঢুকে। আল্লাহর রাসূল ﷺ তখন তাঁর সাহাবিদের মধ্যে বসে আছেন। দিমাম ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী পুরুষ; ঘন চুল- ও দুই বিনুনি-বিশিষ্ট। সে এগিয়ে গিয়ে সাহাবিদের-মধ্যে-থাকা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “তোমাদের মধ্যে আবদুল মুত্তালিবের সন্তান কে?” আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ "আমি আবদুল মুত্তালিবের সন্তান।” সে বলে, "মুহাম্মাদ?” নবি ﷺ বলেন, نعم "হ্যাঁ!”
এরপর সে বলে, "আবদুল মুত্তালিবের সন্তান! আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব; প্রশ্নগুলো হবে কর্কশ ও রুক্ষ, সুতরাং কিছু মনে করবেন না।" নবি ﷺ বলেন, لَا أَجِدُ فِي نَفْسِي فَسَلْ عَمَّا بَدًا لَكَ “আমি কিছু মনে করব না, তোমার যা ইচ্ছা জিজ্ঞেস করো।"
সে বলে, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যিনি আপনার ইলাহ্, আপনার আগের লোকদের ইলাহ্ এবং আপনার পরের লোকদের ইলাহ্-আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের কাছে বার্তাবাহক হিসেবে পাঠিয়েছেন?” নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই।”
সে বলে, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যিনি আপনার ইলাহ্, আপনার আগের লোকদের ইলাহ্ এবং আপনার পরের লোকদের ইলাহ্—আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের এ নির্দেশ দেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন যে,
>> আমরা কেবল তাঁরই গোলামি করব,
>> তাঁর সঙ্গে কোনোকিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করব না এবং
>> আমাদের পূর্বপুরুষগণ তাঁর সঙ্গে অন্যান্য যেসব শরীকের গোলামি করত, আমরা সেগুলো পরিত্যাগ করব?"
নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই।”
সে বলে, "আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যিনি আপনার ইলাহ্, আপনার আগের লোকদের ইলাহ্ এবং আপনার পরের লোকদের ইলাহ্—আল্লাহ কি আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমরা এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি?" নবি ﷺ বলেন, اللَّهُمَّ نَعَمْ “অবশ্যই।”
এরপর সে ইসলামের ফরজসমূহ একটি একটি করে উল্লেখ করতে থাকে: যাকাত, রোযা, হজ ও ইসলামের সকল বিধিবিধান। প্রত্যেকটি ফরজের ব্যাপারে সে নবি ﷺ-কে সেভাবে কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেভাবে সে আগের বিষয়গুলোতে কসম দিয়েছে। পরিশেষে সে বলে ওঠে—
"তাহলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।[১] আমি অচিরেই এসব ফরজ আদায় করব এবং আপনি আমাকে যা করতে নিষেধ করেছেন তা পরিহার করব; বেশিও করব না, কমও করব না।"
এরপর সে তার উটের কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। তার চলে যাওয়ার সময় আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
إِنْ يَصْدُقُ ذُو الْعَقِيصَتَيْنِ يَدْخُلِ الْجَنَّةَ
"দুই বিনুনি-বিশিষ্ট লোকটি যদি সত্য বলে থাকে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে।"
সে তার উটের কাছে এসে এর বাঁধন খুলে দেয়। এরপর (তার গোত্রের উদ্দেশে) বেরিয়ে পড়ে। গোত্রের কাছে পৌঁছুলে, তারা তার কাছে এসে সমবেত হয়। এরপর সর্বপ্রথম সে যা বলে তা হলো, "লাত ও উয্যা অত্যন্ত নিকৃষ্ট!”
তারা বলে ওঠে, "দিমাম! থামো! কুষ্ঠরোগ ও গোদরোগকে ভয় করো; ভয় করো পাগল হয়ে যাওয়াকে!”
সে বলে, “ধুর! শপথ আল্লাহর, এরা না কোনও ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনও উপকার। আল্লাহ একজন রাসূল পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কাছে এমন এক কিতাব নাযিল করেছেন, যা দিয়ে তিনি তোমাদের বর্তমান অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে চান। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনও অংশীদার নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। তিনি তোমাদের যা করার আদেশ দিয়েছেন ও যা করতে নিষেধ করেছেন, তাঁর নিকট থেকে সেসব নিয়ে আমি তোমাদের কাছে এসেছি।”
শপথ আল্লাহর! ওইদিন সন্ধ্যা নামার আগেই তার জনপদের নারী-পুরুষ সকলেই মুসলিম হয়ে যায়। আমরা কোনও গোত্রের এমন কোনও প্রতিনিধির কথা শুনিনি, যে দিমام ইবনু সা'লাবার চেয়ে উত্তম।'
আহমাদ ১/২৬৪-২৬৫ (২৩৮০) হাদীসটি হাসান (আরনাউত), ১/২৫০ (২২৫৪), ১/২৬৫ (২৩৮১); তাবারানি, কাবীর ৮/৩৬৪-৩৬৫ (৮১৪৯); দারিমি ৬৯০; আবু দাউদ ৪৮৭; বাযযার (কাশফ) ১/১৩ (১১); আবূ ইয়া'লা ১/১৯৯-২০০ (২৩০); জামিউল উসূল ৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৭ (১৪); জামউল ফাওয়াইদ ৪৮।

টিকাঃ
[১] وَأَشْهَدُ أَنْ لَا يَقُوْلَهَا أَحَدٌ مِنْ قَلْبِهِ ، إِنَّا وَفَّاهُ حَرَّ النَّارِ "আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—যে-ব্যক্তি অন্তর থেকে এ কথা বলবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের উত্তাপ থেকে বাঁচিয়ে দেবেন।" (বাযযার (কাশফ) ১/১৩ (১১); আবূ ইয়া'লা ১/১৯৯-২০০ (২৩০), ইসনাদটি দুর্বল)।
[২] তৎকালীন আরবের মুশরিকদের দুটি দেবতা।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 বাহয ইবনু হাকীরের দাদার প্রশ্নের জবাবে ইসলামের কিছু নিদর্শন

📄 বাহয ইবনু হাকীরের দাদার প্রশ্নের জবাবে ইসলামের কিছু নিদর্শন


[১৭.] বাহ্য ইবনু হাকীম তার পিতার মাধ্যমে দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমি বললাম,
"আল্লাহর নবি! আপনার কাছে আসার আগে, (আমার) হাতে যতগুলো আঙুল আছে ততবার শপথ নিয়েছিলাম-আপনার কাছেও আসব না, আপনার দ্বীনও মানব না! আমি এমন ব্যক্তি, [১] যে কিছুই বোঝে না, শুধু তাই বোঝে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল শেখান। আমি আল্লাহ তাআলার সত্তার শপথ দিয়ে আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি-আপনার রব আপনাকে কী দিয়ে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন?”
নবি ﷺ বলেন, بِالإسْلام "ইসলাম দিয়ে।”
আমি জিজ্ঞেস করি, “ইসলামের নিদর্শনগুলো কী?”
নবি ﷺ বলেন,
أَنْ تَقُولَ أَسْلَمْتُ وَجْهِيَ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَتَخَلَّيْتُ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ، كُلُّ مُسْلِمٍ عَلَى مسلم مُحَرَّمُ أَخَوَانِ نَصِيْرَانِ، لَا يَقْبَلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ مُشْرِكٍ بَعْدَمَا أَسْلَمَ عَمَلًا أَوْ يُفَارِقَ الْمُشْرِكِينَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ
"(ইসলামের নিদর্শনগুলো হলো)
» [৩] তুমি বলবে-আমি আমার নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছি এবং (আল্লাহ-বিরোধী সকল শক্তির সঙ্গে) আমার সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি;
» তারপর "নামাজ কায়েম রাখবে;
» যাকাত আদায় করবে;
» (আর মনে রাখবে-) প্রত্যেক মুসলিম অপর মুসলিমের নিকট পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়, তারা পরস্পরের সহযোগী দু' ভাই;
» কোনও মুশরিক যদি ইসলাম গ্রহণ করে, [৩] তা হলে আল্লাহ তাআলা ততক্ষণ পর্যন্ত তার কোনও কাজ [৪] গ্রহণ করবেন না, যতক্ষণ-না] সে মুশরিকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলিমদের সঙ্গে যুক্ত হয়]।”
নাসাঈ ২৫৬৮, ২৪৩৬, হাসান; ইবনু মাজাহ্ ২৫৩৬; আহমাদ ৪/৪৪৬ (২০০১১ প্রথমাংশ); ৫/৪ (২০০৩৭ প্রথমাংশ); নাসাঈ, কুবরা ২২২৭, ২৩৬০; ইবনু হিব্বান ১/৩৭৬-৩৭৭ (১৬০); জামিউল উসূল ১৬; জামউল ফাওয়াইদ ৫৫।

টিকাঃ
[১] "আমি এসেছি এমন এক ব্যক্তি হিসেবে..." (আহমাদ ২০০৩৭)।
[২] "আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন ..." (আহমাদ ২০০১১)।
]*[ أَنْ تُسْلِمَ قَلْبَكَ لِلَّهِ، وَأَنْ تُوَجَّهَ وَجْهَكَ لِلَّهِ “তোমার অন্তরকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করবে, তোমার চেহারাকে একমাত্র আল্লাহমুখী রাখবে" (ইবনু হিব্বান ১৬০) |
[১] الْمَكْتُوبَةَ “ফরজ” (ইবনু হিববান ১৬০)।
[২] الْمَفْرُوْضَةً "ফরজ” (ইবনু হিববান ১৬০)।
[৩] مُرِكٍ أَشْرَكَ بَعْدَ مَا أَسْلَمَ "কোনও মুশরিক যদি ইসলাম গ্রহণের পর শির্কে লিপ্ত হয়” (ইবনু মাজাহ ২৫৩৬)।
[৪] تَوْبَةً “তাওবা বা ফিরে আসা" (ইবনু হিববান ১৬০)।
[৫] নাসাঈ'র মূলপাঠে ; শব্দ থাকলেও, ইবনু মাজাহ'র পাঠে শব্দ রয়েছে, যার অর্থ 'যতক্ষণ-না'।
]*[ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْ أَحَدٍ تَوْبَةً أَشْرَكَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ "যে-ব্যক্তি ইসলামে আসার পর শির্ক করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন না” (আহমদ ২০০১১; ইবনু হিববান ১৬০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00