📄 প্রথমে তাওহূতে প্রত্যাহ্বান, তারপর আল্লাহর ওপর ঈমান
উপরিউক্ত হাদীসে নবি ﷺ তাওহীদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে-
أَنْ يُعْبَدَ اللَّهُ وَيُكْفَرَ بِمَا دُوْنَهُ
“একমাত্র আল্লাহর গোলামি করা ও তাঁর বিপরীতে অন্যদের (কর্তৃত্ব) প্রত্যাখ্যান করা” (মুসলিম ১১২/২০ (...))। আল্লাহকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার সঙ্গে অন্য আল্লাহ-বিরোধীদের কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করার সম্পর্ক প্রসঙ্গে, আয়াতুল কুরসির পর আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انفِصَامَ لَهَا
“সুতরাং যে-ব্যক্তি তাগূতকে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহকে মেনে নেয়, সে যেন মজবুত রশি আঁকড়ে ধরল, যা কখনও ছিঁড়বে না।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২:২৫৬)
[৯.] যিয়াদ ইবনু নুআইম হাদ্রামি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
أَرْبَعُ فَرَضَهُنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْإِسْلَامِ فَمَنْ جَاءَ بِثَلَاثٍ لَمْ يُغْنِيْنَ عَنْهُ شَيْئًا حَتَّى يَأْتِيَ بِهِنَّ جَمِيعًا : الصَّلَاةُ وَالزَّكَاة وَصِيَامُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ
“আল্লাহ তাআলা ইসলামে চারটি কাজ ফরজ করেছেন; যে-ব্যক্তি (কিয়ামাতের দিন) তিনটি নিয়ে আসবে, সেগুলো তার কোনও উপকারে আসবে না, যতক্ষণ-না সে সবগুলো নিয়ে হাজির হবে:
» নামাজ;
» যাকাত;
» রমজান মাসের রোযা; এবং
» বাইতুল্লাহ'র হজ।"'
আহমাদ ৪/২০০-২০১ (১৭৭৮৯), ইসনাদে ইবনু লাহীআ আছেন (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১৩৯; উসদুল গবাহ ২/২৭৪, ৪/১৩৭; আত-তারগীব ১/৩৮৪; কানযুল উম্মাল ১/৩০ (৩৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৭ (১৩৯)।
টিকাঃ
[১] 'তখন একব্যক্তি তাঁকে বলে, "এবং (আরেকটি খুঁটি হলো) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ?” ইবনু উমর রা. বলেন, "জিহাদ একটি ভালো কাজ, (তবে) আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের এভাবে বলেছেন।" (আহমাদ ২/২৬ (৪৭৯৮), সনদটিতে বিচ্ছিন্নতা ও একজন বর্ণনাকারীর অবস্থা অজ্ঞাত থাকায় ইসনাদটি দঈফ)।
📄 ইসলামের রক্ষাকবচ, মজবুত রশি ও বন্ধন-রজ্জু
[১১.] আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বলে- "আল্লাহর রাসূল! কোন কোন বিষয় এ দ্বীনের জন্য রক্ষাকবচ, মজবুত রশি ও বন্ধন-রজ্জুর কাজ করে?"
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
أَخْلِصُوا عِبَادَةَ اللهِ تَعَالَى ، وَأَقِيمُوا خَمْسَكُمْ وَأَدُّوْا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ طَيِّبَةٌ بِهَا أَنْفُسُكُمْ ، وَصُوْمُوا شَهْرَكُمْ ، تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ
» “একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তাআলার গোলামি করবে;
» তোমাদের পাঁচ (ওয়াক্ত নামাজ) কায়েম রাখবে;
» খুশিমনে তোমাদের সম্পদের যাকাত দেবে; এবং
» তোমাদের (রমজান) মাসে রোযা রাখবে।
তা হলে তোমাদের রবের জান্নাতে যেতে পারবে।"'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১২৭, বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনু মারসাদ আবুদ দারদা থেকে হাদীস শোনেননি (হাইসামি); হিলুইয়া ৫/১৬৬; কানযুল উম্মাল ৩/২৩ (৫২৫৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৫ (১২৭)।
📄 বানু আমির গোত্রের একব্যক্তির জিজ্ঞাসার জবাব
[১২.] বানু আমির গোত্রের একব্যক্তি থেকে বর্ণিত, 'তিনি নবি ﷺ-এর কাছে অনুমতি চেয়ে বলেন, "আমি কি ঢুকব?” তখন নবি ﷺ তাঁর খাদিমকে বলেন,
أُخْرُجِيْ إِلَيْهِ، فَإِنَّهُ لَا يُحْسِنُ الْاِسْتِمْذَانَ، فَقُوْلِي لَهُ: فَلْيَقُلْ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، أَأَدْخُلُ؟
"সে অনুমতি চাওয়ার আদবকায়দা জানে না, তুমি তার কাছে গিয়ে তাকে এভাবে বলতে বলো-'আস-সালামু আলাইকুম! আমি কি আসতে পারি?' "
নবি ﷺ-এর এ কথা শুনে আমি বলি- "আস-সালামু আলাইকুম! আমি কি আসতে পারি?"
তিনি অনুমতি দিলে, আমি ভেতরে গিয়ে বলি- "আপনি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) আমাদের কাছে কী নিয়ে এসেছেন?"
নবি ﷺ বলেন,
لَمْ آتِكُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ ، أَتَيْتُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَنْ تَدَعُوا اللَّاتَ وَالْعُزَّى ، وَأَنْ تُصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ ، وَأَنْ تَصُوْمُوا مِنَ السَّنَةِ شَهْرًا ، وَأَنْ تَحُجُّوا الْبَيْتَ ، وَأَنْ تَأْخُذُوا مِنْ أَمْوَالِ أَغْنِيَائِكُمْ فَتَرُدُّوْهَا عَلَى فُقَرَائِكُمْ
"আমি তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছি, তাতে শুধু কল্যাণ আর কল্যাণ; আমি তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছি (এসব বার্তা)-
> তোমরা একমাত্র আল্লাহর গোলামি করবে, যাঁর কোনও অংশীদার নেই;
» লাত ও উয্যাকে ত্যাগ করবে;
> দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে;
> বছরে একমাস রোযা রাখবে;
> বাইতুল্লাহ'র হজ করবে; এবং
> তোমাদের ধনীদের সম্পদ থেকে (যাকাত) নিয়ে তোমাদের গরিবদের কাছে ফিরিয়ে দেবে।"
তিনি বলেন, "এমন কোনও জ্ঞান বাকি আছে কি, যা আপনি জানেন না?"
নবি ﷺ বলেন,
قَدْ عَلِمَ اللهُ خَيْرًا ، وَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا اللهُ الخَمْسَ : إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ)
"কল্যাণময় জ্ঞানের অধিকারী হলেন আল্লাহ। যেসব বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে নেই, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এ পাঁচটি বিষয়:
» 'আল্লাহর কাছেই আছে (কিয়ামতের) চূড়ান্ত সময়ক্ষণের জ্ঞান;
» তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন;
» তিনি জানেন মাতৃগর্ভে কী আছে;
» কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে; এবং
» কোনও ব্যক্তির জানা নেই তার মৃত্যু হবে কোন জমিনে। আল্লাহই সকল জ্ঞানের অধিকারী এবং তিনি সবকিছু জানেন।' (সূরা লুকমান ৩১:৩৪)""
আহমাদ ৫/৩৬৮-৩৬৯ (২৩১২৭), বর্ণনাকারীদের সকলেই বিশ্বস্ত ইমাম (হাইসামি); বুখারি, মুফরাদ ১০৮৪; আবু দাউদ ৫১৭৭, ৫১৭৮, ৫১৭৯; নাসাঈ, কুবরা ১০০৭৫; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪২-৪৩ (১২১)।
টিকাঃ
[১] 'নবি ﷺ একটি ঘরের ভেতর থাকাকালে বানু আমিরের একব্যক্তি অনুমতি চেয়ে বলেন-' (আবু দাউদ ৫১৭৭)।
[২] فَعَلِّمْهُ الْإِسْتِغْذَانَ "তাকে অনুমতি চাওয়ার নিয়ম শিখিয়ে দাও” (আবু দাউদ ৫১৭৭)।
[৩] জাহিলি আরবদের দুই দেবতা।
📄 উমর (রাঃ)-এর জবাবে ঈমানের বিভিন্ন দিক
[১৩.] ইবনু আব্বাস রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ উমর রা.-এর কাছে আসেন। তাঁর পাশে ছিল কয়েকজন সাহাবি। তখন নবি ﷺ বলেন,
أَمُؤْمِنُوْنَ أَنْتُمْ
"তোমরা কি মুমিন?”
তারা চুপ করে থাকেন। তিনবার এরূপ ঘটে। শেষের বার উমর রা. বলেন, “হ্যাঁ![১]
» আপনি আমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন আমরা তা সত্য বলে মানি,
» প্রাচুর্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রশংসা করি,
» বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য ধরি,[২] এবং
» আল্লাহর ফায়সালা মেনে নিই।"
জবাব শুনে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
مُؤْمِنُونَ وَرَبَّ الْكَعْبَةِ
"কা'বার মালিকের শপথ! (তোমরা) মুমিন!"'
তাবাবানি, আওসাত ৬/৪৬৭ (৯৪২৭), ইবনু হিব্বানের মতে বর্ণনাকারী ইউসুফ ইবনু মাইমুন 'বিশ্বস্ত', অধিকাংশের মতে 'ত্রুটিযুক্ত' (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর ১১/১৫৩ (১১৩৩৬); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৪-৫৫ (১৭২)।
টিকাঃ
[১] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, وَمِمَّ ذلِكَ "কীসের ভিত্তিতে (বলছো)?" উমর রা. বলেন...' (তাবারানি, কাবীর ১১/১৫৩ (১১৩৩৬))|
[২] “আল্লাহর কাছে প্রতিদান পাওয়ার আশা রাখি” (তাবারানি, কাবীর ১১/১৫৩ (১১৩৩৬))।