📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইসলাম, ঈমান, হিজরত ও জিহাদের পরিচয়

📄 ইসলাম, ঈমান, হিজরত ও জিহাদের পরিচয়


[৬.] আমর ইবনু আবাসা রা. বলেন, 'একব্যক্তি বলল, "আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কী?” নবি ﷺ বললেন,
أَنْ يُسْلِمَ قَلْبُكَ ، وَأَنْ يَسْلَمَ الْمُسْلِمُوْنَ مِنْ لِسَانِكَ وَيَدِكَ
"(ইসলাম হলো-) "তোমার অন্তরের আত্মসমর্পণ এবং তোমার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমদের নিরাপদ থাকা।"
সে বলল, “ইসলামের কোন কাজটি সর্বোত্তম?” নবি ﷺ বললেন, إيْمَانُ “ঈমান।” সে বলল, "ঈমান কী?” নবি ﷺ বললেন,
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ
"(ঈমান হলো-) আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাবর্গ, তাঁর রাসূলগণ ও মৃত্যুর পর পুনরুত্থানকে সত্য বলে মেনে নেওয়া।"
সে বলল, “ঈমানের কোন কাজটি সর্বোত্তম?” নবি ﷺ বলেন, الهجرة “হিজরত।” সে বলল, "হিজরত কী?” নবি ﷺ বললেন,
أَنْ تَهْجُرَ السُّوءَ
"যা-কিছু খারাপ তা ত্যাগ করা।"
সে বলল, “কোন ধরনের হিজরত সর্বোত্তম?” নবি ﷺ বলেন, الجهاد “জিহাদ।” সে বলল, “জিহাদ কী?” নবি ﷺ বললেন,
أَنْ تُقَاتِلَ الْكُفَّارَ إِذَا لَقِيْتَهُمْ
“(যুদ্ধক্ষেত্রে) কাফিরদের মুখোমুখি হলে, তাদের সঙ্গে লড়াই করা।"
সে বলল, "জিহাদের কোন দিকটি সর্বোত্তম?” নবি ﷺ বললেন,
مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِيْقَ دَمُهُ
"যার তেজি ঘোড়া (শত্রুর আঘাতে) অচেতন হয়ে পড়ে এবং যার শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়।"[৩]
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ২০০, ২১০, বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত (হাইসামি); আবদুর রাযযাক ১১/১২৭ (২০১০৭); আহমাদ-৪/১১৪ (১৭০২৭); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫৯ (২০০), ১/৬০ (২১০)।
[৭.] ইবনু উমর রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
أَشْرَفُ الْإِيْمَانِ أَنْ يَأْمَنَكَ النَّاسُ ، وَأَشْرَفُ الْإِسْلَامِ أَنْ يَسْلَمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِكَ وَيَـدِكَ ، وَأَشْرَفُ الهِجْرَةِ أَنْ تَهْجُرَ السَّيِّئَاتِ ، وَأَشْرَفُ الْجِهَادِ أَنْ تُقْتَلَ وَتُعْفَرَ فَرَسُكَ
"মানুষ তোমার কাছে নিরাপদ থাকবে-এটি শ্রেষ্ঠ ঈমান; তোমার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ সুরক্ষিত থাকবে-এটি শ্রেষ্ঠ ইসলাম; তুমি যাবতীয় খারাপ কাজ ছেড়ে দেবে-এটি শ্রেষ্ঠ হিজরত; আর (লড়াইয়ে) তোমাকে হত্যা করা হবে আর তোমার ঘোড়া অচেতন হয়ে পড়বে-এটি শ্রেষ্ঠ জিহাদ'।"
তাবাবানি, সগীর ১০, এটি মুনাব্বিহ ইবনু উসমান এককভাবে বর্ণনা করেছেন (হাইসামি); তাবারানি, মুসনাদুশ শামিয়্যীন ৬৫৫, ৬৭১; কানযুল উম্মাল ১/৩৭ (৬৫); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৬০ (২০৮)।

টিকাঃ
[১] لِلهِ "আল্লাহর (বিধিনিষেধের) কাছে” (আবদুর রাযযাক ১১/১২৭ (২০১০৭))।
[২] وكتب "তাঁর (নাযিল-করা) গ্রন্থাবলি” (আবদুর রাযযাক ১১/১২৭ (২০১০৭))।
[৩] "এরপর দুটি কাজ আছে যা অন্যান্য কাজের চেয়ে উত্তম, তবে যে-ব্যক্তি অনুরূপ কাজ করবে (সে-ও উত্তম বলে বিবেচিত হবে): ত্রুটিমুক্ত হজ অথবা উমরা।" (আবদুর রাযযাক ১১/১২৭ (২০১০৭); 'জিজ্ঞেস করা হলো-"নামাজের কোন অংশটি অধিক উত্তম?” নবি ﷺ বলেন, طول القنوتِ “দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা” (তাবারানি, কাবীর (অনাবিষ্কৃত খণ্ড)-এর বরাতে মাজমাউয যাওয়াইদ)।
[১] "এবং وَأَشْرَفُ الزُّهْدِ أَنْ يَسْكُنَ قَلْبُكَ عَلَى مَا رُزِقْتَ ، وَإِنَّ أَشْرَفَ مَا تَسْأَلُ اللهَ الْعَافِيَةُ فِي الدِّيْنِ وَالدُّنْيَا তোমাকে যে জীবনোপকরণ দেওয়া হয়েছে তাতে তোমার অন্তর প্রশান্ত থাকবে-এটি শ্রেষ্ঠ দুনিয়া- বিরাগ, আর তুমি আল্লাহর কাছে যা চাইবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো দ্বীন ও দুনিয়ার নিরাপত্তা” (ইবনুন নাজ্জারের তাবীখ গ্রন্থের বরাতে কানযুল উম্মাল ১/৩৭ (৬৫))।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইসলামের পাঁচটি খুঁটি: তাওহীদ, নামাজ, যাকাত, রোযা ও হজ

📄 ইসলামের পাঁচটি খুঁটি: তাওহীদ, নামাজ, যাকাত, রোযা ও হজ


[৮.] ইবনু উমর রা. থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন,
بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: عَلَى أَنْ يُوَحَدَ الله، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصِيَامِ رَمَضَانَ، وَالْحَجِّ
"ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের ওপর:
> আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করা, [৩]
> নামাজ কায়েম রাখা,
> যাকাত দেওয়া,
> রমজানের রোযা রাখা ও
>> হজ করা। "১৯
একব্যক্তি জিজ্ঞেস করে, “(ক্রমধারাটি কি এমন নয়-) হজ করা ও রমজানের রোযা রাখা?” ইবনু উমর রা. বলেন, "না; (বরং) রমজানের রোযা রাখা ও হজ করা। আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছ থেকে এভাবে শুনেছি।"'
মুসলিম ১১১/১৯ (১৬), ১১২/২০ (...), ১১৩/২১ (...), ১১৪/২২ (...); বুখারি ৮; তিরমিযি ২৬০৯; নাসাঈ ৫০০১; আহমাদ ২/২৬ (৪৭৯৮), ২/১২০ (৬০১৫), ২/১৪৩ (৬৩০১), ৪/৩৬৩ (১৯২২০), ৪/৩৬৪ (১৯২২৬); আবূইয়া'লা ১৩/৪৮৯ (৭৫০২), ১৩/৪৯৬ (৭৫০৭); তাবারানি, কাবীর ২/৩২৬ (২৩৬৩), ১২/৩০৯ (১৩২০৩), ১২/৪১২ (১৩৫১৮); তাবারানি, আওসাত ৪/৩৬৭ (৬২৬৪), ৫/৪৫ (৬৫৩৩); তাবারানি, সগীর ৭৮২; জামিউল উসূল ১; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৭ (১৩৮); জামউল ফাওয়াইদ ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫।

টিকাঃ
[২] তাউস বলেন, 'একব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু উমর রা.-কে বলেন, "আপনি যুদ্ধে যাবেন না?" জবাবে ইবনু উমর রা. বলেন, "আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি..."' (মুসলিম ১৬ (১১৪); বুখারি ৮, ৪৫১৩, ৪৫১৪)। [উল্লেখ্য, তখন আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর রা. ও উমাইয়াদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছিল (বুখারি ৪৫১৩)। আর প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি ছিলেন ইয়াযীদ ইবনু বিশর সাক্সাকি (বুখারি, তারীখ ৮/৩২২ (৩১৭১))।]
]৩] অর্থাৎ أَنْ يُعْبَدَ اللَّهُ وَيُكْفَرَ بِمَا دُوْنَهُ “একমাত্র আল্লাহর গোলামি করা আর তাঁর বিপরীতে অন্য সকলের কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করা” (মুসলিম ১১২/২০ )...(; شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ “এ মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক” (মুসলিম ১১৩/২১ (...); বুখারি ৮)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 প্রথমে তাওহূতে প্রত্যাহ্বান, তারপর আল্লাহর ওপর ঈমান

📄 প্রথমে তাওহূতে প্রত্যাহ্বান, তারপর আল্লাহর ওপর ঈমান


উপরিউক্ত হাদীসে নবি ﷺ তাওহীদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে-
أَنْ يُعْبَدَ اللَّهُ وَيُكْفَرَ بِمَا دُوْنَهُ
“একমাত্র আল্লাহর গোলামি করা ও তাঁর বিপরীতে অন্যদের (কর্তৃত্ব) প্রত্যাখ্যান করা” (মুসলিম ১১২/২০ (...))। আল্লাহকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার সঙ্গে অন্য আল্লাহ-বিরোধীদের কর্তৃত্ব প্রত্যাখ্যান করার সম্পর্ক প্রসঙ্গে, আয়াতুল কুরসির পর আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انفِصَامَ لَهَا
“সুতরাং যে-ব্যক্তি তাগূতকে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহকে মেনে নেয়, সে যেন মজবুত রশি আঁকড়ে ধরল, যা কখনও ছিঁড়বে না।” (সূরা আল-বাকারাহ্ ২:২৫৬)
[৯.] যিয়াদ ইবনু নুআইম হাদ্রামি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন-
أَرْبَعُ فَرَضَهُنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْإِسْلَامِ فَمَنْ جَاءَ بِثَلَاثٍ لَمْ يُغْنِيْنَ عَنْهُ شَيْئًا حَتَّى يَأْتِيَ بِهِنَّ جَمِيعًا : الصَّلَاةُ وَالزَّكَاة وَصِيَامُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ
“আল্লাহ তাআলা ইসলামে চারটি কাজ ফরজ করেছেন; যে-ব্যক্তি (কিয়ামাতের দিন) তিনটি নিয়ে আসবে, সেগুলো তার কোনও উপকারে আসবে না, যতক্ষণ-না সে সবগুলো নিয়ে হাজির হবে:
» নামাজ;
» যাকাত;
» রমজান মাসের রোযা; এবং
» বাইতুল্লাহ'র হজ।"'
আহমাদ ৪/২০০-২০১ (১৭৭৮৯), ইসনাদে ইবনু লাহীআ আছেন (হাইসামি); তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১৩৯; উসদুল গবাহ ২/২৭৪, ৪/১৩৭; আত-তারগীব ১/৩৮৪; কানযুল উম্মাল ১/৩০ (৩৩); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৭ (১৩৯)।

টিকাঃ
[১] 'তখন একব্যক্তি তাঁকে বলে, "এবং (আরেকটি খুঁটি হলো) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ?” ইবনু উমর রা. বলেন, "জিহাদ একটি ভালো কাজ, (তবে) আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের এভাবে বলেছেন।" (আহমাদ ২/২৬ (৪৭৯৮), সনদটিতে বিচ্ছিন্নতা ও একজন বর্ণনাকারীর অবস্থা অজ্ঞাত থাকায় ইসনাদটি দঈফ)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ইসলামের রক্ষাকবচ, মজবুত রশি ও বন্ধন-রজ্জু

📄 ইসলামের রক্ষাকবচ, মজবুত রশি ও বন্ধন-রজ্জু


[১১.] আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, 'একব্যক্তি আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর কাছে এসে বলে- "আল্লাহর রাসূল! কোন কোন বিষয় এ দ্বীনের জন্য রক্ষাকবচ, মজবুত রশি ও বন্ধন-রজ্জুর কাজ করে?"
আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন-
أَخْلِصُوا عِبَادَةَ اللهِ تَعَالَى ، وَأَقِيمُوا خَمْسَكُمْ وَأَدُّوْا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ طَيِّبَةٌ بِهَا أَنْفُسُكُمْ ، وَصُوْمُوا شَهْرَكُمْ ، تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ
» “একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তাআলার গোলামি করবে;
» তোমাদের পাঁচ (ওয়াক্ত নামাজ) কায়েম রাখবে;
» খুশিমনে তোমাদের সম্পদের যাকাত দেবে; এবং
» তোমাদের (রমজান) মাসে রোযা রাখবে।
তা হলে তোমাদের রবের জান্নাতে যেতে পারবে।"'
তাবারানি, কাবীর, অনাবিষ্কৃত খণ্ড, সূত্র: মাজমাউয যাওয়াইদ ১২৭, বর্ণনাকারী ইয়াযীদ ইবনু মারসাদ আবুদ দারদা থেকে হাদীস শোনেননি (হাইসামি); হিলুইয়া ৫/১৬৬; কানযুল উম্মাল ৩/২৩ (৫২৫৯); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৪৫ (১২৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00