📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 ঈমান ও ইসলামের মধ্যে সম্পর্ক: একটি অন্তরে, আরেকটি প্রকাশ্যে

📄 ঈমান ও ইসলামের মধ্যে সম্পর্ক: একটি অন্তরে, আরেকটি প্রকাশ্যে


ঈমান ও ইসলাম শব্দদুটি অনেকসময় সমার্থবোধক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার কখনও কখনও অন্তরে নিখাদ বিশ্বাস বোঝাতে ঈমান, আর বিধিবিধানের বাহ্যিক আনুগত্য বোঝাতে ইসলাম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামের বিজয়াভিযান অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠার পর একদল বেদুইন ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর মদীনায় এসে তারা এমনভাবে কথা বলতে থাকে, যেন ঈমান আনার মাধ্যমে তারা নবি ﷺ-এর ওপর বিরাট দয়া করেছে! তাদের সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে-তারা ঈমান আনেনি, বরং ইসলাম গ্রহণ করেছে; অর্থাৎ তারা অন্তর থেকে ইসলামের সত্যতা মেনে নেয়নি, বরং আপাতত ইসলামের বাহ্যিক বিধিবিধানের সামনে আত্মসমর্পণ করেছে। আল্লাহ বলেন-
قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُل لَّمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِن قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ وَإِن تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَا يَلِتْكُم مِّنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿١٤﴾ إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُсِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ (۱٥) قُلْ أَتُعَلِّمُونَ اللَّهَ بِدِينِكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (١٦) يَمُنُونَ عَلَيْكَ أَنْ أَسْلَمُوا قُل لَّا تَمُنُّوا عَلَيَّ إِسْلَامَكُم بَلِ اللَّهُ يَمُنُّ عَلَيْكُمْ أَنْ هَدَاكُمْ لِلْإِيمَانِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ (۱۷) إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ (۱۸)
"বেদুইনরা বলেছে—'আমরা ঈমান এনেছি'। তুমি বলে দাও—'তোমরা ঈমান আনোনি, বরং বলো "আমরা আত্মসমর্পণ করেছি”, ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে ঢুকেনি। তোমরা যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো, তা হলে তিনি তোমাদের কোনও কাজ বৃথা যেতে দেবেন না; আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।'
মুমিন তো তারা-যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আস্থা স্থাপন করেছে, তারপর কোনও সন্দেহ পোষণ করেনি, আর নিজেদের জানমাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে; তারাই (নিজেদের ঈমানের দাবিতে) সত্যবাদী।
(এদের) বলো-তোমরা কি আল্লাহকে তোমাদের দ্বীন শেখাচ্ছো? অথচ মহাকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু আল্লাহ জানেন; আল্লাহ সবকিছুর জ্ঞান রাখেন।
তারা ইসলাম গ্রহণ করে তোমার ওপর দয়া করার কথা বলছে। বলে দাও-'তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমার ওপর দয়া করার কথা বলো না; আল্লাহই বরং ঈমানের রাস্তা দেখিয়ে তোমাদের ওপর দয়া করেছেন, যদি তোমরা (নিজেদের ঈমানের দাবিতে) সত্যবাদী হয়ে থাকো। আল্লাহ মহাকাশ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞানী; তোমাদের কর্মকাণ্ডের ওপর আল্লাহ তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন।" (সূরা আল-হুজুরাত ৪৯:১৪-১৮)।
[১.] আনাস রা. বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন-
الْإِسْلَامُ عَلَانِيَةُ ، وَالْإِيْمَانُ فِي الْقَلْبِ "ইসলাম (-এর নিদর্শন) থাকে প্রকাশ্যে, আর ঈমান থাকে অন্তরে।”' এরপর হাত দিয়ে নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেন-
التَّقْوَى هُهُنَا ، التَّقْوَى هُهُنَا "তাকওয়া (আল্লাহর অসন্তুষ্টি এড়িয়ে চলার ইচ্ছা) এখানে, তাকওয়া এখানে।”'
আবূ ইয়া'লা ৫/৩০১-৩০২ (২৯২৩), ইসনাদটি হাসান (দারানি); কানযুল উম্মাল ১/২৭ (১৯), ১/৩৩ (৪৪); মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৫২ (১৬১)।
[২.] সাদ (ইবনু আবী ওয়াক্কাস) রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ একদল লোককে কিছু দিলেন। সাদ রা. তখন সেখানে বসা। আল্লাহর রাসূল ﷺ (সেই দান থেকে) এমন একজনকে বাদ দিলেন!, যিনি ছিলেন আমার কাছে সেসব লোকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রিয়। তখন আমি বললাম, “আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুকের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন কেন? শপথ আল্লাহর, আমি তো তাকে মুমিন মনে করি’।” নবি ﷺ বলেন, أَوْ مُسْلِمًا “অথবা মুসলিম।” আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকি। এরপর তার সম্পর্কে আমার ভালোভাবে জানাশোনা থাকায়, আমার কথা পুনরায় বলি—“আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুকের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন কেন? শপথ আল্লাহর, আমি তো তাকে মুমিন মনে করি।” নবি ﷺ বলেন, أَوْ مُسْلِمًا "অথবা মুসলিম।” এরপর তার সম্পর্কে আমার ভালোভাবে জানাশোনা থাকায়, আমার কথা পুনরায় বললে আল্লাহর রাসূল ﷺ ও তাঁর কথার পুনরাবৃত্তি করেন। এরপর তিনি বলেন—
يَا سَعْدُ، إِنِّي لَأُعْطِي الرَّجُلَ ، وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُ، خَشْيَةً أَنْ يَكُبَّهُ اللَّهُ فِي النَّارِ
“[৪] সাদ! আমি একজনকে কিছু দিই, অথচ অন্যজন আমার কাছে তার চেয়ে বেশি প্রিয়); এ-আশঙ্কায় যে—(ওই ব্যক্তিকে কিছু না দিলে, সে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে না, আর পরিণামে) আল্লাহ তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।”
বুখারি ২৭, ১৪৭৮; মুসলিম ৩৭৮/২৩৬ (১৫০), ৩৭৯/২৩৭ (...), ৩৮০ (...), ৩৮১ (...), ২৪৩৩/১৩১ (১৫০), ২৪৩৪ (...), ২৪৩৫ (...); আহমাদ ১/১৭৬ (১৫২২), ১/১৮২ (১৫৭৯)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 প্রত্যেকের জন্য ইসলাম নিয়ে, পরে তাকে বিপথগামী করা হয়

📄 প্রত্যেকের জন্য ইসলাম নিয়ে, পরে তাকে বিপথগামী করা হয়


মানুষ সৃষ্টির পর আত্মার জগতে থাকতেই, তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—তারা আল্লাহকে রব (অবশ্যমান্য অধিপতি) হিসেবে স্বীকার করে কি না। তখন সবাই একযোগে বলেছিল, ‘অবশ্যই!’ আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেওয়ার এ সহজাত প্রকৃতি বা ফিতরাত নিয়েই প্রত্যেকটি মানবসন্তান দুনিয়ায় আসে। পরে, নানা প্রতিকূল পরিবেশ তাকে বিপথগামী করে তোলে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غَافِلِينَ
"স্মরণ করো সে-সময়ের কথা, যখন তোমার রব আদম-সন্তানদের পিঠ থেকে তাদের বংশধরদের (বের করে) নিলেন। এরপর তাদের কাছ থেকে সাক্ষ্য নিলেন-'আমি কি তোমাদের রব নই?' তারা বলল-'অবশ্যই! আমরা সাক্ষ্য দিলাম।' যাতে কিয়ামাতের দিন আবার বলে না বসো- 'আমরা তো এ-ব্যাপারে উদাসীন ছিলাম!' " (সূরা আল-আ'রাফ ১৭২)।
[৩.] আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلَّا يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ كَمَا تُنْتِجُوْنَ الْبَهِيمَةَ هَلْ تَجِدُوْنَ فِيهَا مِنْ جَدَعَاءَ حَتَّى تَكُونُوا أَنْتُمْ تَجْدَعُوْنَهَا
"প্রত্যেকটি সন্তানই আল্লাহর দ্বীন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেখি, এরপর তার বাপ-মা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টানা বানায়; যেমন, পশু থেকে পশু জন্ম নেয়, তোমরা নিজেরা সেসব পশুর অঙ্গচ্ছেদ করার আগে কি সেগুলোতে কোনও অঙ্গচ্ছেদা দেখতে পাও?!"
"সাহাবিগণ বলেন, "আল্লাহর রাসূল! যারা ছোটো অবস্থায় মারা যায়, তাদের ব্যাপারে আপনার কী মত?" নবি ﷺ বলেন,
اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ
"তারা (বেঁচে থাকলে) কী করতে থাকত, সে সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।"'
বুখারি ৬৫৯৯, ৬৬০০, ১৩৫৮, ১৩৫৯, ১৩৮৩, ১৩৮৪, ১৩৮৫, ৪৭৭৫, ৬৫৯৮; মুসলিম ৬৭৫৫/২২ (২৬৫৮), ৬৭৫৬ (...), ৬৭৫৭ (...), ৬৭৫৮/২৩ (...), ৬৭৫৯ (...), ৬৭৬০/২৪ (...), ৬৭৬১/২৫ (...), ৬৭৬২/২৬ (২৬৫৯), ৬৭৬৩ (...), ৬৭৬৪/২৭ (...), ৬৭৬৫/২৮ (২৬৬০); মালিক ৫৮২; আহমাদ ১/২১৫ (১৮৪৫), ১/৩২৮ (৩০৩৪), ১/৩৪১ (৩১৬৫), ১/৩৫৮ (৩৩৬৭), ২/২৩৩ (৭১৮১), ২/২৪৪ (৭৩২৫), ২/২৫৩ (৭৪৪৩), ২/২৫৩ (৭৪৪৪), ২/২৫৩ (৭৪৪৫), ২/২৫৯ (৭৫২০), ২/২৬৮ (৭৬৩৭), ২/২৭৫ (৭৭১২), ২/২৮২ (৭৭৯৫), ২/৩১৫ (৮১৭৯), ২/৩৪৬-৩৪৭ (৮৫৬২), ২/৩৯৩ (৯১০২), ২/৩৯৩ (৯১০৩); আবূ দাউদ ৪৭১১, ৪৭১২, ৪৭১৪; তিরমিযি ২১৩৮; জামিউল উসূল ৫৬; জামউল ফাওয়াইদ ১০২, ১০৩।

নাবালক শিশুদের পরকাল সম্পর্কে যে বিষয়টি মনে রাখা উচিত তা হলো-আল্লাহ তাআলা কারও কাছে বার্তা না পৌঁছিয়ে কাউকে শাস্তি দেন না এবং একজনের গোনাহের দায়ভার আরেকজনকে বহন করতে হয় না।
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا
"কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না; আর রাসূল পাঠানোর আগে আমি শাস্তি দিই না।” (সূরা আল-ইসরা ১৭:১৫)
ইসলামের এ নীতিগুলো নাবালকদের ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রযোজ্য। অতএব, এখানে নবি ﷺ যা বোঝাতে চেয়েছেন তা হলো-তাদের পরকাল নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন করার প্রয়োজন নেই; বিষয়টি আল্লাহর কাছে ছেড়ে দেওয়া উচিত, তিনি কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করবেন না। আবু সালামা-এর মেয়ের নাম ছিল বাররা, যার অর্থ 'আল্লাহর অনুগত, পবিত্র'; নবি ﷺ তার নাম পরিবর্তন করতে বলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন,
لَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمُ اللَّهُ أَعْلَمُ بِأَهْلِ الْبِرِّ مِنْكُمْ
"তোমরা নিজেদের পবিত্র বলে ঘোষণা কোরো না; তোমাদের মধ্যে কে সৎকর্মশীল, তা আল্লাহ ভালো জানেন।" এরপর তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় যাইনাব। ২ তাই আরেকজনের আত্মিক ও পরকালীন বিষয়াবলি নিজেরা বিচার না করে আল্লাহর কাছে ন্যস্ত করা উচিত।

টিকাঃ
[১] ‘নবি ﷺ একদল লোককে কিছু দিলেন, আর তাদের একজনকে কিছুই দিলেন না’ (আহমাদ ১/১৭৬ (১৫২২)); ‘একদল লোক নবি ﷺ-এর কাছে এসে কিছু চাইলে, তিনি তাদের একজনকে বাদে বাকিদের দেন’ (আহমাদ ১/১৮২ (১৫৭৯))।
[২] ‘আমি উঠে গিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে চুপিচুপি বললাম' (বুখারি ১৪৭৮) |
[৩] “আল্লাহর নবি! আপনি অমুক ও অমুককে দিলেন, আর অমুককে কিছুই দেননি, অথচ সে মুমিন” (আহমাদ ১/১৭৬ (১৫২২)); “আল্লাহর রাসূল! অমুককে দিন, কারণ সে মুমিন” (মুসলিম ৩৭৮/২৩৬ (১৫০)) |
[৪] ‘আল্লাহর রাসূল ﷺ আমার ঘাড় ও কাঁধের মাঝখানে নিজের হাত দিয়ে মৃদু আঘাত করে বলেন, أَقِتَالًا أَيْ سَعْدُ “সাদ! তুমি কি আমার সঙ্গে (বাক) যুদ্ধে নেমেছ?”’ (মুসলিম ৩৮১ (...))।
[৫] إِنِّي لَأُعْطِي رِجَالًا وَأَدَعُ مَنْ هُوَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُمْ فَلَا أُعْطِيْهِ شَيْئًا "আমি এমন কাউকে বাদ দিই যে কিনা তাদের মধ্যে আমার কাছে বেশি প্রিয়; তাকে আমি কিছুই দিই না” (আহমাদ ১/১৭৬ (১৫২২))|
[৬] عَلَى وَجْهِهِ “তার চেহারার ওপর” (বুখারি ১৪৭৮)।
[১] মূলে ব্যবহৃত হয়েছে 'ফিতরাত' শব্দ, যার অর্থ সুস্থ স্বভাব-প্রকৃতি; ইবনু আব্বাস রা. এ-এর মতে, পারিভাষিকভাবে এটি 'আল্লাহর দ্বীন' বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কারণ আল্লাহর দ্বীনের পরিপন্থি যা আছে তা সবই বিকৃতি ও সুস্থ প্রকৃতির বিরোধী। (বাগাবি, মাআলিমুত তানযীল, দার ইবনি হাযম, ২০১৪, পৃ. ১০০৬; ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল ১/১৮৩)।
[২] مَا مِنْ مَوْلُودٍ يُوْلَدُ إِلَّا عَلَى هُذِهِ الْمِلَّةِ حَتَّى يُبَيِّنَ يُعَبِّرَ عَنْهُ لِسَانُهُ "প্রত্যেক সন্তানই এ-আদর্শ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যতক্ষণ-না সে কথা বলা শুরু করছে" (মুসলিম ৬৭৫৯ (...); আহমাদ ৭৪৪৫)।
[৩] وَيُشْرِكَانِهِ “মুশরিক” (মুসলিম ৬৭৫৮/২৩ (..)); আহমাদ ৭৪৪৫(; أَوْ يُمَجِّسَانِهِ "অথবা অগ্নি-উপাসক” (বুখারি ১৩৫৮)।
[৪] حَتَّى يَكُوْنَ أَبْوَاهُ اللَّذَانِ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ "এরপর তার বাপ-মা-ই হলো সেসব ব্যক্তি, যারা তাকে ইহুদি বা খ্রিষ্টান বানায়" (আহমদ ৮৫৬২(; فَإِنْ كَانَا مُسْلِمَيْنِ فَمُسْلِمٌ كُلُّ إِنْسَانٍ تَلِدُهُ أُمُّهُ يَنْكُزُهُ الشَّيْطَانُ فِي حِضْنَيْهِ إِلَّا مَرْيَمَ وَابْنَهَا "আর বাপ-মা মুসলিম হলে, সন্তানও হয় মুসলিম। মায়ের পেট থেকে জন্ম-নেওয়া প্রত্যেক মানুষকে শয়তান তার দু পার্শ্বদেশে আঘাত করে, ব্যতিক্রম ছিল কেবল মারইয়াম ও তাঁর ছেলে (ঈসা)” (মুসলিম ৬৭৬১/২৫ (...))।
[৫] الإبل "উট” (মুসলিম ৬৭৫৫/২২ (২৬৫৮)); আহমাদ ৮১৭৯)।
[৬] بَهِيمَةٌ جَمْعَاءَ “পূর্ণাঙ্গ পশু” (বুখারি ১৩৫৮)।
[৭] জাহিলি যুগের লোকেরা পশুর অঙ্গচ্ছেদ করে সেটিকে দেবতার উদ্দেশে ছেড়ে দিত (দেখুন: আল-কুরআন, সূরা আল-মাইদাহ ৫:১০৩)। নবি ﷺ এ তুলনার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন-পশু যেমন জন্মের সময় পূর্ণাঙ্গ দেহ নিয়ে জন্মায়, কিন্তু পরবর্তীকালে লোকেরা তার অঙ্গচ্ছেদ করে; অনুরূপভাবে মানুষও আল্লাহর দ্বীন ইসলাম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে তার পরিবার তাকে ভিন্ন দ্বীনে দীক্ষিত করে।
[৮] مِثْلَ الْأَنْعَامِ، تُنْتَجُ صِحَاحًا، فَيُبْتَكُونَ آذَانَهَا “ঠিক যেমন চতুষ্পদ জন্তু, এরা জন্ম নেয় সুস্থ অবস্থায়, পরবর্তী সময়ে এদের কান কেটে দেওয়া হয়” (আহমাদ ৭৭৯৫)।
[১] 'এরপর আবূ হুরায়রা রা. বলেন, "তোমরা চাইলে (এ আয়াত) পড়তে পারো:"' (মুসলিম ৬৭৫৫/২২ (২৬৫৮)); আহমাদ ৭৭১২); এরপর আবূ হুরায়রা রা. পাঠ করেন: فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا "আল্লাহর দেওয়া সুস্থ প্রকৃতি (অনুসরণ করো), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আর-রূম ৩০:৩০)।
[২] "তাকে ইহুদি-খ্রিষ্টান বানানোর আগেই যদি সে মারা যায়” (মুসলিম ৬৭৫৮/২৩ (...))
[৩] "তা হলে কী হবে?” (আহমাদ ৭৪৪৫)।
[৪] 'আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যারা ছোটোবেলায় মারা যায়। জবাবে তিনি বলেন, ...' (মুসলিম ৬৭৬৪/২৭ (...), ৬৭৬৫/২৮ (২৬৬০); বুখারি ৬৫৯৮; আহমাদ ৩০৩৪, ৩১৬৫)।
[৫] إِذْ خَلَقَهُمْ “যেহেতু তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন” (মুসলিম ৬৭৬৫/২৮ (২৬৬০); বুখারি ১৩৮৩; আহমাদ ৩০৩৪, ৩১৬৫(; لَهُمُ اللَّهُ حِيْنَ خَلَقَهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِيْنَ "যখন তাদের সৃষ্টি করার ছিল, তখন আল্লাহই তো তাদের সৃষ্টি করেছেন, অতএব তিনিই ভালো জানেন তারা কী করতে থাকত” (আহমদ ৩৩৬৭)। 'আয়িশা রা. বলেন, আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! মুমিনদের ছোটো ছোটো বাচ্চাদের কী হবে (যারা শিশুকালে মারা যায়)?” নবি ﷺ বলেন, مِنْ آبَائِهِمْ "তারা তাদের পিতাদের অন্তর্ভুক্ত।” আমি বলি, “হে আল্লাহর রাসূল! কোনও আমল না করেই?” তিনি বলেন, اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِيْنَ "তারা কী আমল করতে থাকত, তা আল্লাহ ভালো জানেন।” আমি বলি "হে আল্লাহর রাসূল! তা হলে মুশরিকদের বাচ্চাদের কী হবে?" তিনি বলেন, مِنْ آبَائِهِمْ "তারা তাদের পিতাদের অন্তর্ভুক্ত।” আমি বলি, “হে আল্লাহর রাসূল! কোনও আমল না করেই?” তিনি বলেন, اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِيْنَ "তারা কী আমল করতে থাকত, তা আল্লাহ ভালো জানেন।” (আবু দাউদ ৪৭১২, সহীহ লি গাইরিহী)।
[১] ফাতহুল বারী, ১৩৮৩-১৩৮৫ নং হাদীসের ব্যাখ্যা।
[২] মুসলিম ৫৬০৯/১৯ (...)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00