📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 হুবহু অনুবাদের ক্ষেত্রে হাদীস-নির্বাচন-পদ্ধতি

📄 হুবহু অনুবাদের ক্ষেত্রে হাদীস-নির্বাচন-পদ্ধতি


একই হাদীসের অনেকগুলো বর্ণনা থাকলে, কোনটিকে বইয়ের মূল অংশে হুবহু অনুবাদ করা হবে, আর কোনগুলোকে টীকায় যুক্ত করা হবে-তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইমাম ইবনুল জাওযি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)-এর নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা তিনি 'জামিউল মাসানীদ' গ্রন্থে প্রয়োগ করেছিলেন। 'জামিউল মাসানীদ'-এর ভূমিকার এক জায়গায় তিনি লিখেছেন,
وَآتِي بِالْحَدِيثِ بِأَتَمَّ أَلْفَاظِهِ وَأَجْوَدِهَا فِي أَيُّهَا كَانَ
"আমি সেই হাদীসটি উল্লেখ করব, যার শব্দগুলো অধিক পূর্ণাঙ্গ ও অধিক উপকারী, তা যে-গ্রন্থেই থাকুক।" [১] এ-নীতিকে সামনে রেখে অধিক অর্থবোধক ও অধিক তথ্যসমৃদ্ধ হাদীসটিকে হুবহু অনুবাদ করে, অন্যগুলোর বাড়তি তথ্য প্রাসঙ্গিক অংশের পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাদটীকার সংখ্যা কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে।

টিকাঃ
[১] ইবনুল জাওযি, জামিউল মাসানীদ ১/৫, মাকতাবাতুর রুশদ, ১ম সংস্করণ, রিয়াদ, ১৪২৬ হি.।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 হাদীসের মান-নির্ধারণ

📄 হাদীসের মান-নির্ধারণ


যে-হাদীসটি হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে, সেটির পাশে মুহাদ্দিসদের মূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়েছে। বুখারি ও মুসলিমের হাদীসগুলো 'সহীহ' হিসেবে গৃহীত হওয়ায়, এগুলোর পর আর 'সহীহ' লেখা হয়নি। অন্যান্য গ্রন্থের হাদীস মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইমাম হাইসামি, শুআইব আরনাউত ও হুসাইন সালীম আসাদ দারানি প্রমুখ হাদীস-বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত, ইমাম হাইসামির মতামত নেওয়া হয়েছে মাজমাউয যাওয়াইদ-এর সংশ্লিষ্ট হাদীস-পরবর্তী মন্তব্য থেকে। শুআইব আরনাউতের মতামতের উৎস হলো ইমাম আহমাদের মুসনাদ, ইবনু হিব্বানের সহীহ ও তহাভির শারহু মুশকিলিল আসার-এসব গ্রন্থের রিসালা সংস্করণের টীকা। আর দারানির মন্তব্য নেওয়া হয়েছে হাইসামি'র মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থের দারুল মিনহাজ সংস্করণ, আবূ ইয়া'লা'র মুসনাদ গ্রন্থের দারুল মামুন সংস্করণ ও হুমাইদির মুসনাদ গ্রন্থের দারুস সিম্মান সংস্করণ থেকে।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 মূলপাঠ ও পাঠটীকা

📄 মূলপাঠ ও পাঠটীকা


প্রায় প্রত্যেকটি হাদীসে বিপুল সংখ্যক পাদটীকা যুক্ত হওয়ায়, এ-বই থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে প্রত্যেকটি হাদীস দুবার পড়তে হবে: প্রথমবার পড়তে হবে শুধু মূলপাঠটুকু। দ্বিতীয়বার মূলপাঠ পড়ার সময় পাদটীকা নম্বরগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে--যেখানে পাদটীকা নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেখানে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাদটীকায় গিয়ে বাড়তি তথ্যটুকু পড়ে নিতে হবে, তারপর মূলপাঠের সংশ্লিষ্ট জায়গায় ফিরে এসে সামনের দিকে পড়তে হবে। একটি চিত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলো:
(চিত্রের বর্ণনা: এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যা বইয়ের ১৬৬ নং হাদীস থেকে নেওয়া হয়েছে। হাদীসটির মূল পাঠের সাথে কয়েকটি পাদটীকা যুক্ত করা হয়েছে। যেমন, মূল পাঠে "আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে..." বাক্যের পর পাদটীকা [১], [২], [৩] ও [৪] যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পাদটীকায় মূল হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনার অতিরিক্ত তথ্য বা ভিন্ন শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, পাদটীকা [৫]-এ "ইসলামের আইন-কানুন" এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।)

হাদীসের মূলপাঠ
«আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ-না তারা » সাক্ষ্য দিচ্ছে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই যার মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, > নামাজ কায়েম করছে, এবং > যাকাত আদায় করছে। এসব কাজ করলে, তারা আমার কাছ থেকে/নিজেদের জানমাল নিরাপদ করে নেবে; তবে ইসলামের আইন-কানুন লঙ্ঘন করলে এ নিরাপত্তা প্রযোজ্য হবে না। আর তাদের হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর উপর।»

টিকাঃ
[১] নু'মান ইবনু বশীর বলেন, আমরা নবি ﷺ-এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় একব্যক্তি এসে তাঁর সঙ্গে চুপিচুপি কথা বললে, নবি ﷺ বললেন, "তাকে হত্যা করো।" একটু পর বলেন, أيشهد أن لا إله إلى الله "আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই-সে কি এ-বর্মে সাক্ষ্য দেয়?" লোকটি বলে, "দেয় বটে, তবে নিছক আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে এ কথা বলে। তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, لاتقتلة لإلي إلا "তাকে হত্যা কোরো না, কারণ
[২] زن إلى আমার কাছে ওহি পাঠানো হয়েছে।" (মুসলিম ১৯৯/৪/২৯, আহমাদ ২০৩১৯৮০)।
[৩] أريل أقابل الشاش "আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব,..." (আবু দাউদ ২৬৪০)।
[৪] رَيُؤْمِنُ بِي وَمِسًا جنت بِهِ এবং আমাকে ও আমি যা-কিছু নিয়ে এসেছি সেগুলোকে সত্য বলে মেনে নিচ্ছো" (মুসলিম ১২৯/৩৪১, তানি, আহমাদ ২৭৮১)।
[৫] জিজ্ঞেস করা হলো: "ইসলামের আইন/অধিকার দ্বারা কোনগুলো উদ্দেশ্য?" নবি ﷺ বলেন, إنِّي بَعْدَ إِحْصَانٍ أو كفر بعد إسلام، أو قتل تفين فيقتل ، "বিয়ের পর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া, অথবা মুসলিম হওয়ার পর কুফরে জড়িত হওয়া, অথবা (বৈধ কারণ ছাড়া) কাউকে হত্যা করা। এ (সবের মধ্যে কোনও একটি) কাজ করলে, তাকে হত্যা করা হবে।" (মারায়নি ৩২২১)।
[৬] 'এরপর নবি ﷺ পাঠ করেন- إلا أك مذكر لمْتَ عَلَيْهِمْ بِمُصَيْطِرٍ "তোমার কাজ স্মরণ করিয়ে দেওয়া, তুমি তাদের পাহারাদার নও।।সুখ আল-গাশিয়াহ ২১-২২) (মুসলিম ১২৮, আহমাদ ১৪২০)।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 তথ্যসূত্র

📄 তথ্যসূত্র


প্রতিটি হাদীসের পরপরই বিস্তারিত তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্যসূত্রে সর্বপ্রথম যে হাদীস-নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে, মূলপাঠে সেটির হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে, আর তথ্যসূত্রের বাদবাকি নম্বরের হাদীসগুলোতে যত বাড়তি তথ্য ছিল তা সব ওই হাদীসের সংশ্লিষ্ট অংশের পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিচের চিত্রটি দেখুন:
(চিত্রের বর্ণনা: এখানে ১৪২ নং হাদীসের একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। মূল হাদীসটির পর একটি দীর্ঘ তথ্যসূত্র তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেমন- বুখারি ১৬, ২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১৬৫/৬৭ (৪৫) ইত্যাদি। তালিকায় প্রথম রেফারেন্সটি (বুখারি ১৬) মূল হাদীসের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং বাকি রেফারেন্সগুলো থেকে অতিরিক্ত তথ্য পাদটীকায় যুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীসটির মূল পাঠের বিভিন্ন শব্দের পাশে পাদটীকা নম্বর [১] থেকে [৭] দেওয়া হয়েছে এবং নিচে সেই পাদটীকাগুলোতে মূল হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনার অতিরিক্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, পাদটীকা [৪]-এ "কাউকে ভালোবাসলে, কেবল আল্লাহর উদ্দেশেই ভালোবাসে" অংশের একটি বিকল্প বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।)

[১৪২] আনাস থেকে বর্ণিত, 'নবি ﷺ বলেন,
ثَلَاثُ مَنْ كُنَّ فِيْهِ وَجَدَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ أَنْ يَكُونَ الله وَرَسُولُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ
"তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করে: > আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়; > কাউকে ভালোবাসলে, কেবল আল্লাহর উদ্দেশেই ভালোবাসে; এবং » কুফর বা অবাধ্যতার জীবনে ফিরে যাওয়াকে সেভাবে অপছন্দ করে, যেভাবে সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।"
তথ্যসূত্র-
বুখারি ১৬, ২১, ৬০৪১, ৬৯৪১; মুসলিম ১৬৫/৬৭ (৪৫), ১৬৬/৯৮ (...), ১৬৭ (...); তায়ালিসি ২৬১৭; আহমাদ ২/২৯৮ (৭৯৬৭), ২/৫২০ (১০৭০৮), ৩/১০০ (১২০০২), ৩/১৭২ (১২৭৯৫), ৩/১৭৪ (১২৭৮৩), ৩/২০৭ (১৩১৫১), ৩/২০৭ (১৩১৫২), ৩/২৩০ (১৩৪০৭), ৩/২৪৮ (১৩৫৯২), ৩/২৭৫ (১৫৯১২), ৩/২৭৮ (১৩৯৫৯, প্রথম অংশ), ৩/২৮৮ (১৪০৭০); তিরমিযি ২৬২৪; নাসাঈ ৪৯৮৭, ৪৯৮৮, ৪৯৮৯; ইবনু মাজাহ ৪০৩৩; বাযযার (কাশফ) ১/৫০ (৬৩); আবু ইয়ালা ৬/৩৫ (৩২৭৯); তাবারানি, কাবীর ১/২৫১- ২৫২ (৭২৪), ৮/০১৪ (৮০১৯); তাবারানি, আওসাত ১/৩২০ (১১৪১), ২/৬৭ (২৫৪০), ৩/৩৮৬ (৪৯০৫); তাবারানি, সগীর ৭২৮, আবদ ইবনু হুমাইদ ১৩২৮, হাকিম ১/৩ (৩), ৪/১৬৮ (৭৩১২); ইবনু হিব্বان ১/৪৭৩ (২৩৭); মুসনাদুশ শিহাব ১/২৭০-২৭১ (৪৪o); হিলইয়া ১/২৭, ২/২৮৮, ৭/২০৪; তারিখু বাগদাদ ২/১৯৯, বাইহাকি, শুআর ৬/৪৯১ (৯০১৮), ৬/৪৯১-৪৯২ (১০২০), ৭/৭০ (১৫১২); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ২১, জামিউল উসূল ২০; মাজমাউয যাওয়াঈদ ১/৫৫ (১৭৯), ১/৫৯ (১৭৯); ১/৮৮-৮৯ (৩০২), ১/১০ (৩০৯); কানযুল উম্মাল ৯/১০ (২৪৬৭৯); জামউল যাওয়াইদ ৬৫, ৬৯।

টিকাঃ
]১[ الإسلام "ইসলামের" (বুখারি ৪১৯৯)
]২[ ظفنه; "ও স্বাদ" (মুসলিম ৬৯)
]0[ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى "তোমাদের কেউ মুমিন হবে না, যতক্ষণ-না (তার মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্য থাকে:(" (আহমাদ ৩/২৭৮ (১৩৯৫৯)
]8[ أَنْ يُحِبُّ لِلَّهِ وَيُبْغِضُ لِلَّهِ "যে আল্লাহর উদ্দেশে ভালোবাসে এবং আল্লাহর উদ্দেশে ঘৃণা করে" مَنْ أَحَبُّ أَن يَجِدَ طَعْمَ الْإِيْمَانِ فَلْيُحِبُّ الْمَرْءَ لَا يُحِبُّه إِلَّا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ (2/2) "যে-ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেতে চায়, সে যেন মানুষকে কেবল আল্লাহ তাআলার উদ্দেশেই ভালোবাসে" (আহমাদ ৭৯৬৭, ১০৭৫৮)
]0[ بَعْدَ إِذْ أَنقَدَّهُ اللَّهُ "আল্লাহ তাকে (কুফর বা অবাধ্যতার জীবন থেকে) উদ্ধার করার পর, ..." (বুখারি ২১, ৬০৪১)
]6[ أَنْ يَرْجِعَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَابَيًا "পুনরায় ইহুদি বা খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়াকে (মুসলিম ১৯৭); أَنْ يَرْجِعَ عَن "ইসলাম থেকে ফিরে যাওয়াকে (বুখারি ১); أَنْ يزئة عن بييو "নিজের দ্বীন ছেড়ে মুরতাদ হয়ে যাওয়াকে" (তাবারানি, কাবীর ১/২৫১ (৭২৪)
" وَأَنْ تَوْقَدْ نَارٌ عَظِيمَةٌ، فَيَقَعَ فِيهَا أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يُشْرِكَ بِاللَّهِ شَيْئًا [۹] করবে, এর চেয়ে তার কাছে অধিক প্রিয় হলো-প্রকাণ্ড আগুন জ্বালানো হলে সে তাতে পড়ে যাবে।" (নাসাঈ ৪৯৮৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00