📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 হাদীসের সংকলন-গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা

📄 হাদীসের সংকলন-গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা


বিপুলসংখ্যক সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হাদীস ও হাদীসের মূলপাঠের পুনরাবৃত্তি-এ-দুটির ফলে হাদীসের মৌলিক গ্রন্থাবলির পরিধি এত বিশাল আকার ধারণ করেছে যে-সাধারণ পাঠক তো দূরের কথা-বিশেষজ্ঞদের জন্যও এর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ-বিষয়টিকে সামনে রেখে অল্প পরিসরে হাদীসের অধিক পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার কাজ শুরু হয়েছিল হিজরি পঞ্চম শতকের শেষের দিকে।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 হাদীসের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংকলন-গ্রন্থ

📄 হাদীসের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংকলন-গ্রন্থ


হাদীসের মৌলিক গ্রন্থাবলি থেকে দীর্ঘ সনদ ও পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে 'মাসাবীহুস সুন্নাহ' নামে ইমাম বাগাবি (মৃত্যু ৫১৬ হিজরি) একটি গ্রন্থ সংকলন করেন, পরবর্তী সময়ে এর ওপর ভিত্তি করে খতীব তাবরীযি (মৃত্যু ৭৪১ হিজরি) রচনা করেন 'মিশকাতুল মাসাবীহ'। ইমাম রযীন ইবনু মুআবিয়া (মৃত্যু ৫৩৫ হিজরি) 'তাজরীদুস সিহাহ আস-সিত্তা' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করে হাদীসের ছয়টি গ্রন্থের হাদীস একত্র করেন; এর ওপর ভিত্তি করে ইমাম ইবনুল আসীর (মৃত্যু ১০৬ হিজরি) তার 'জামিউল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল' নামক গ্রন্থটি রচনা করেন। ইমাম ইবনুল জাওযি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) তার 'জামিউল মাসানীদ' গ্রন্থে বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি ও আহমাদ-চারটি গ্রন্থের হাদীস একত্র করেছেন। 'আল-মুনতাকা মিন আখবারিল মুসতফা/ মুনতাকাল আখবার' শিরোনামে মাজদুদ্দীন ইবনু তাইমিয়্যা (মৃত্যু ৬৫২ হিজরি) একটি বিশেষায়িত হাদীসগ্রন্থ সংকলন করেন, পরবর্তী সময়ে ইমাম শাওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি) 'নাইলুল আওতার' শিরোনামে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। একই সময়ে আবদুল আযীম মুনযিরি (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরি) রচনা করেছেন 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব'। অষ্টম শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইমাম ইবনু কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) তার 'জামিউল মাসানীদ ওয়াস সুনান' গ্রন্থে বুখারি, মুসলিম, আবূ দাঊদ, তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, আহমাদ, বাযযার, আবূ ইয়া'লা ও তাবারানি (আল-কাবীর)-এ দশটি গ্রন্থের হাদীস একত্র করার চেষ্টা করেছেন; তবে গ্রন্থটিকে ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত না করে, সাজানো হয়েছে মুসনাদ-পদ্ধতিতে।

মুসনাদ গ্রন্থাবলির বিন্যাস বর্ণনাকারী-ভিত্তিক হওয়ায়, বিধিবিধান জানার ক্ষেত্রে এসব গ্রন্থের ব্যবহার সহজ নয়, অথচ এসব গ্রন্থে হাদীসের অনেক বাড়তি তথ্য রয়েছে, যা সুনান গ্রন্থাবলিতে নেই। মুসনাদ গ্রন্থাবলির সেসব বাড়তি তথ্য ফিকহের বিষয়বস্তু অনুযায়ী বিন্যাস করার ক্ষেত্রে অষ্টম শতকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন ইমাম নূরুদ্দীন হাইসামি, যিনি ছিলেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজ ইরাকি'র ছাত্র ও ইবনু হাজার আসকালানি'র শিক্ষক। হাদীসের ছয়টি প্রসিদ্ধ গ্রন্থের অতিরিক্ত যেসব হাদীস আহমাদ, আবু ইয়া'লা, বাযযার ও তাবারানি'র তিনটি মু'জাম গ্রন্থে রয়েছে, সেসব অতিরিক্ত হাদীস নিয়ে ইমাম হাইসামি (মৃঃ ৮০৭ হিজরি) রচনা করেছেন 'মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মামবাউল ফাওয়াইদ'।

ইবনু হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) তার 'আল-মাতালিবুল আলিয়া ফী যাওয়াইদিল মাসানীদিস সামানিয়া' গ্রন্থে তায়ালিসি, মুসাদ্দাদ, হুমাইদি, ইবনু আবী শাইবা, আদানি, আবদ ইবনু হুমাইদ, আহমাদ ইবনু মুনাইয়ি ও হারিস ইবনু আবী উসামার মুসনাদ গ্রন্থের অতিরিক্ত হাদীসগুলো সংকলন করেছেন। একই সময়ে শিহাবুদ্দীন বুসীরি (মৃত্যু ৮৪০ হিজরি) তার 'ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা ফী যাওয়াইদিল মাসানীদিল আশারা' গ্রন্থে সংকলন করেছেন তায়ালিসি, মুসাদ্দাদ, হুমাইদি, ইসহাক ইবনু রাওয়াই, ইবনু আবী শাইবা, আদানি, আবদ ইবনু হুমাইদ, হারিস ইবনু আবী উসামা, আহমাদ ইবনু মুনাইয়ি ও আবূ ইয়া'লা'র মুসনাদ গ্রন্থাবলির অতিরিক্ত হাদীস। শিরোনাম বিবেচনায় গ্রন্থদুটিকে সংকলন-গ্রন্থ মনে হলেও, একদিক দিয়ে এগুলো মৌলিক হাদীসগ্রন্থ হিসেবে বিবেচ্য; কারণ মুসাদ্দাদ, আদানি, আহমাদ ইবনু মুনাইয়ি ও হারিস ইবনু আবী উসামার মুসনাদ গ্রন্থাবলির হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি এখনও অনাবিষ্কৃত থাকায়, এসব ক্ষেত্রে আসকালানি ও বৃসীরির গ্রন্থদুটির ওপরই নির্ভর করতে হয়।

নবম শতকে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) নবি ﷺ-এর সকল হাদীস একত্র করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ-উদ্দেশে তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন: 'আল-জামিউস সগীর' ও 'আল- জামিউল কাবীর'। ইমাম সুয়ূতি ﷺ নবি ﷺ-এর উক্তিগুলোকে বর্ণানুক্রম অনুযায়ী আর বিবরণীমূলক হাদীসগুলোকে মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। সুয়ূতির গ্রন্থের ভিত্তিতে আলি মুত্তাকী হিনদি (মৃত্যু ৯৭৫ হিজরি) সংকলন করেছেন 'কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আল'। সুয়ূতি নবি ﷺ-এর সকল হাদীস একত্র করার উদ্যোগ নিলেও, তার গ্রন্থদুটিতে বেশকিছু হাদীস বাদ পড়ে গিয়েছিল। আবদুর রউফ মুনাবি (মৃত্যু ১০৩১ হিজরি) তার 'আল-জামিউল আযহার ফী হাদীসিন নাবিয়্যিল আনওয়ার' আর ইউসুফ নাবাহানি (মৃত্যু ১৩৫০ হিজরি) তার 'আল-ফাতহুল কাবীর ফী দম্মিয যিয়াদাত ইলাল জামিইস সগীর'-এর মাধ্যমে সুয়ূতি-এর গ্রন্থাবলির ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করেছেন।

ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে-ইমাম ইবনুল আসীর তার 'জামিউল উসূল' গ্রন্থে প্রসিদ্ধ ছয়টি গ্রন্থের হাদীস সংকলন করেছেন, আর ইমাম হাইসামি তার 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে সেসব হাদীস সংকলন করেছেন যা সেই ছয়টি গ্রন্থের হাদীসের অতিরিক্ত। উভয় গ্রন্থের বাছাইকৃত হাদীসের ভিত্তিতে শামসুদ্দীন মাগরিবি (মৃত্যু ১০৯৪ হিজরি) সংকলন করেছেন 'জামউল ফাওয়াইদ মিন জামিইল উসূল ও মাজমাইয যাওয়াইদ'।

গত শতকে মাওলানা আশরাফ আলি থানভি'র নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মাওলানা জাফার আহমদ উসমানি (মৃত্যু ১৩৯৪ হিজরি) রচনা করেন 'ই'লাউস সুনান'। এটি ফিকহের অধ্যায়ভিত্তিক হাদীসের এক বিশাল সংকলন।

এই শতকে হাদীস-সংকলনের ক্ষেত্রে তিনজনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানি (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি) 'সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা' নামে সহীহ হাদীসের আর 'সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা' নামে ত্রুটিযুক্ত হাদীসের সংকলন তৈরি করেছেন। শাইখ জিয়াউর রহমান আজমি (মৃত্যু ১৪৪১ হিজরি) রচনা করেছেন 'আল-জামিউল কামিল ফিল হাদীসিস সহীহিশ শামিল', এ-গ্রন্থে তিনি সকল সহীহ হাদীস একত্র করার চেষ্টা করেছেন। আর শাইখ সালিহ আহমাদ শামি 'জামিউল উসূলিত তিসআ' গ্রন্থে সংকলন করেছেন নয়টি গ্রন্থের হাদীস।

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 কেন এই নতুন সংকলন?

📄 কেন এই নতুন সংকলন?


উপরিউক্ত গ্রন্থাবলি হাদীসশাস্ত্রের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। তারপরও দীর্ঘদিন যাবৎ এমন এক সংকলন-গ্রন্থের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে, যেখানে প্রত্যেকটি হাদীসের পর এর-সঙ্গে-সংশ্লিষ্ট সকল বাড়তি অংশ-যা বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থের অসংখ্য জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে-একজায়গায় উল্লেখ করে দেওয়া হবে, যাতে একজন পাঠক একনজরে সেই হাদীসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেখে নিতে পারেন। একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাক।

"নুমান ইবনু বশীর রা. বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি-
الْحَلَالُ بَيِّنُ، وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الْمُشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ كَرَاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوْشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ. أَلَا وَإِنَّ لكُلِّ مَلِكٍ حِمَى، أَلَا إِنَّ حِمَى اللهِ فِي أَرْضِهِ مَحَارِمُهُ. أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةٌ إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الجسدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ.
"হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, আর দুয়ের মাঝখানে আছে কিছু সন্দেহযুক্ত বিষয় যেগুলো অনেক মানুষের কাছে অজানা। যে-ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে, সে তার দ্বীন ও সম্মান নিরাপদ করে নেয়; আর যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে জড়িত হয়, তার উদাহরণ হলো সেই রাখালের মতো যে আরেকজনের সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, যেখানে তার ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মনে রাখবে, প্রত্যেক রাজার একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে, আর দুনিয়াতে আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তার নিষিদ্ধ বিষয়গুলো। মনে রাখবে, দেহের ভেতর এক টুকরো মাংস আছে, যা সংশোধিত হলে পুরো দেহ সংশোধিত হয়ে যায়, আর সেটা নষ্ট হলে পুরো দেহ নষ্ট হয়ে যায়। মনে রাখবে, সেটা হলো কল্ব বা অন্তর।"

উপরিউক্ত হাদীসটি ত্রিশটিরও বেশি মৌলিক হাদীসগ্রন্থে ষাটটিরও বেশি জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোথাও হুবহু একই শব্দে, আবার কোথাও বাড়তি শব্দ-সহ। হাদীসটির মর্ম বোঝার জন্য সেসব বাড়তি শব্দ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান অবস্থায় সেসব বাড়তি শব্দ জানতে হলে ত্রিশটিরও বেশি মৌলিক হাদীসগ্রন্থের ষাটটিরও বেশি জায়গা খুলে দেখতে হবে; কাজটি একদিকে যেমন কষ্টকর, অন্যদিকে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষও বটে। সেসব বাড়তি শব্দ এ-হাদীসের সংশ্লিষ্ট জায়গায় যুক্ত করে দেওয়ার পর হাদীসটির রূপ দাঁড়ায় এমন:
'নুমান ইবনু বশীর রা. বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি—
الْحَلَالُ بَيِّنٌ، وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الْمَشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ كَرَاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ. أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمّى ، أَلَا إِنَّ حِمَى اللهِ فِي أَرْضِهِ مَحَارِمُهُ. أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةٌ إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الجُسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ.
"হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, আর দুয়ের মাঝখানে আছে কিছু সন্দেহযুক্ত বিষয় যেগুলো অনেক মানুষের কাছে অজানা]। যে-ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে, ''সে তার দ্বীন ও সম্মান নিরাপদ করে নেয়, আর যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে জড়িত হয়াগ, ছি তার উদাহরণ হলোগি সেই রাখালের মতো যে আরেকজনের সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, যেখানে তারাণ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছো।] মনে রাখবে, প্রত্যেক রাজার একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে, আরগি দুনিয়াতে আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তার নিষিদ্ধ বিষয়গুলো। মনে রাখবে, দেহের ভেতর এক টুকরো মাংস আছে, যা সংশোধিত হলে পুরো দেহ সংশোধিত হয়ে যায়, আর সেটা নষ্ট হলে পুরো দেহ নষ্ট হয়ে যায়। মনে রাখবে, সেটা হলো কল্প বা অন্তর।'"'
বুখারি ৫২, ২০৫১; মুসলিম ৪০৯৪/১০৭ (১৫৯৯), ৪০৯৫ (...), ৪০৯৬ (...), ৪০৯৭/১০৮ (...); আবূ দাউদ ৩৩২৯, ৩৩৩০; তিরমিযি ১২০৫; নাসাঈ ৪৪৫৩, ৫৭১০; ইবনু মাজাহ ৩৯৮৪; আহমাদ ৪/২৬৭ (১৮৩৪৭), ৪/২৬৯ (১৮৩৬৮), ৪/২৭০ (১৮৩৭৪), ৪/২৭১ (১৮৩৮৪), ৪/২৭৪ (১৮৪১২), ৪/২৭৫ (১৮৪১৮); দারিমি ২৫৬০; নাসাঈ, কুবরা ৫২০০, ৫২১৯, ৫৯৯৭, ৬০৪০; আবদুর রাযযাক ১১/২২১ (২০৩৭৬); ইবনু আবী শাইবা ৬/৫৬০-৫৬১ (২২৪৩৫); হুমাইদি ২/৪৬৮-৪৬৯ (৯৪৩), ২/৪৭৩ (১৪৭); তায়ালিসি ৮২৫; তহাভি, মুশকিল ১/৩২২-৩২৩; তহাভি, শারহু মুশকিল ২/২১৯ (৭৪৯), ২/২১৯-২২০ (৭৫০), ২/২২০ (৭৫১, ৭৫২); আবূ ইয়া'লা ৩/২১৩ (১৬৫৩); ইবনুল জারূদ ৫৫৫; বাযযার ৮/২১৯ (৩২৬৮), ৮/২২০ (৩২৬৯), ৮/২২০-২২১ (৩২৭০), ৮/২২১ (৩২৭১), ৮/২২৩ (৩২৭৩), ৮/২২৩ (৩২৭৪), ৮/২২৪ (৩২৭৬), ৮/২২৪ (৩২৭৭); তাবারানি, সগীর ৩২; তাবারানি, আওসাত ১/৪৭০ (১৭৩৫), ১/৬১৭ (২২৬৪), ২/৫০ (২৪৭২), ২/১৫৮ (২৮৬৮), ৫/৩৯৪-৩৯৫ (৭৭২৯); তাবারানি, কাবীর ১০/৪০৪-৪০৫ (১০৮২৪); তাবারানি, মুসনাদুশ শামিয়‍্যীন ৫১১; ইবনু হিব্বান ২/৪৯৭ (৭২১); হিল্ইয়া ৪/২৬৯-২৭০, ৪/৩৩৬, ৫/১০৫; মুসনাদুশ শিহাব ১/১২৭ (১০২৯), ১/১২৮ (১০৩০); তারীখু বাগদাদ ৯/৭০; আবুশ শাইখ, আমসাল ১২১, ২৬০; রামাহুরমুষি, আমসাল ৩ (দ্বিতীয় অংশ); উকাইলি ২/২৫২-২৫৩; বাইহাকি, কুবরা ৫/২৬৪ (১০৪৯৮), ৫/২৬৪ (১০৪৯৯), ৫/৩৩৪ (১০৯১৮), ৫/৩৩৪ (১০৯১৯); বাইহাকি, শুআব ৫/৫০ (৫৭৪০), ৫/৫০ (৫৭৪১), ৫/৫১ (৫৭৪২); বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ ২০৩১; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/৭৩ (৬৩৬৬, ৬৩৬৭, ৬৩৬৮)।

উপরিউক্ত হাদীসে টীকা-সংযোজনের সময় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে, ষাটটিরও বেশি হাদীসে নবি ﷺ-এর যেসব শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর একটিও যেন বাদ না পড়ে। এর ফলে আশা করা যায়, টীকা-সহ মাত্র দু পৃষ্ঠা পড়ার মাধ্যমে একজন পাঠক উপরিউক্ত হাদীসের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেয়ে যাবেন। ষাটটি হাদীসকে একের পর এক উল্লেখ করা হলে, তাতে বিশ-পঁচিশ পৃষ্ঠা লেগে যেত। আর তাছাড়া, একই হাদীসের এত বেশি পুনরাবৃত্তির ফলে, কোন বর্ণনায় ঠিক কতটুকু তথ্য বাড়তি এসেছে তা শনাক্ত করা একজন পাঠকের জন্য অনেক কঠিন হয়ে পড়ত। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস-উপরিউক্ত হাদীসের বিন্যাস অনুসরণ করা হলে, চার লক্ষাধিক হাদীসের বাড়তি তথ্যকে আনুমানিক পঁচিশ-তিরিশ হাজার হাদীসের মূলপাঠের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।

টিকাঃ
[১] 'হিম্স এলাকায় জনতার উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে' (মুসলিম ৪০৯৭/১০৮ (...))|
[২] 'এ-কথা বলার সময় নুমান তার দু আঙুল দিয়ে দু কানের দিকে ইশারা করেন।' (মুসলিম ৪০৯৪/১০৭ (১৫৯১)); শা'বি বলেন, 'আমি যখন নুমান ইবনু বশীর-কে বলতে শুনতাম-"আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি", তখন আমার মনে হতো (ভবিষ্যতে) আর কাউকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে এ-কথা বলতে শুনব না- "আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি"!' (আহমাদ ৪/২৭৪ (১৮৪১২)) |
]৩[ بَيْنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ "হালাল ও হারামের মাঝখানে” (আহমাদ ৪/২৬৯ (১৮৩৬৮((|
]৪[ لَا يَدْرِي كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ أَمِنَ الْحَلَالِ هِيَ أَمْ مِنَ الْحَرَامِ "অনেক মানুষ জানে না-সেগুলো হালাল, নাকি হারাম” (আহমাদ ৪/২৬৯ (১৮৩৬৮))|
]৫[ الشُّبُهَاتِ "সংশয়যুক্ত বিষয়গুলো” (মুসলিম ৪০১৪/১০৭ (১৫১৯((|
]৬[ فِيهِ "সে-ক্ষেত্রে” (আহমাদ ৪/২৭০ (১৮৩৭৪(( |
[৭] -فَمَنْ تَرَكَهَا اسْتِبْرَاء لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، فَقَدْ سَلِمَ "যে-ব্যক্তি নিজের দ্বীন ও সম্মান নিরাপদ রাখার জন্য সেসব বিষয় বাদ দেয়, সে নিরাপদ হয়ে যায়” (তিরমিযি ১২০৫(; مَنْ تَوَفَّاهُنَّ كُنَّ رِقَاءٌ لِدِينِهِ “সেগুলো থেকে বেঁচে থাকে, সেগুলো হবে তার দ্বীনের সুরক্ষাদাতা" (আবু ইমালা ৩/২১৩ (১৬৫৩((; مَنْ تَرَكَهَا كَانَ أَوْقَى لِدِيْنِهِ وَعِرْضِهِ "যে সেগুলো ছেড়ে দেয়, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে অধিক সুরক্ষা দেয়” )তারীখু বাগদাদ ১/৭০(; متى يَدَعُهُنَّ الْمَرْءُ، يَكُوْنُ أَشَدَّ اسْتِبْرَاءٌ لِعِرْضِهِ وَدِيْنِهِ "কেউ যখন সেগুলো ছেড়ে দেবে, তখন সে অত্যন্ত মজবুতভাবে নিজের সম্মান ও দ্বীন নিরাপদ করে নিতে পারবে” (তাবারানি, মুসনাদুশ শামিইয়িন ৫১১(; نَمَنِ اسْتَبْرَأَهُنَّ فَهُوَ أَسْلَمُ لِدِيْنِهِ وَلِعِرْضِهِ "যে সেগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে, সে তার দ্বীন ও সম্মানের ক্ষেত্রে অধিক নিরাপদ” (হিলইয়া ৪/২৬৯২৭০(; فَمَنْ تَرَكَ الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ كَانَ حَرِبًا أَنْ لَا يَفَعَ فِي الشُّبُهَةِ “যে সংশয়যুক্ত জিনিসগুলো বাদ দেয়, সে তার দ্বীনকে নিরাপদ করে নেয় (আর ভবিষ্যতে) সংশয়যুক্ত জিনিসে লিপ্ত না হওয়ার ব্যাপারে সে হবে উপযুক্ত ব্যক্তি” (বাযযার ৮/২২১(((৩৯৯);
فَمَنِ اتَّقَاهَا كَانَ أَنْزَهَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ; “যে সেগুলো এড়িয়ে চলে, সে তার দ্বীন ও সম্মানের ক্ষেত্রে অধিক পরিচ্ছন্ন” (তাবারানি, আওসাত ২/১৫৮ (২৮৬৮)); وَمَنِ اجْتَنَبَهُنَّ فَهُوَ أَوْ فَرُ لِدِينِهِ “যে সেগুলো বর্জন করে, তার দ্বীন অধিক পূর্ণাঙ্গ” (তাবারানি, কাবীর ১০/৪০৪-৪০৫ (১০৮২৪)); فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ “যে সংশয়যুক্ত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে, সেগুলো (একপর্যায়ে) তার আড়ালে চলে যায়” (রামাহরমুযি, আমসালুল হাদীস ৩, দ্বিতীয় অংশ)।
]১[ مَنْ قَارَبَهَا “যে সেগুলোর কাছে যায়” (তারীখু বাগদাদ ৯/৭০)।
]2[ وَاقِعَ الْحَرَامَ “সে হারামে লিপ্ত হবে” (আহমাদ ৪/২৭০ ১৮৩৭৪)); يُؤْشِكُ أَنْ يُوَاقِعَ الْحَرَامَ "তা হারামে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে” (আহমাদ ৪/২৬৯ (১৮৩৬৮)); يُرْشِكُ أَنْ يُوَاقِعَ الْكَبَائِرُ "ক'দিন বাদে সে কবীরা গোনাহে লিপ্ত হবে” (আবূ ইয়ালা ০/২১৩ (১৬৫৩)); فَهُوَ قَنِينُ أَنْ يَأْتُمْ "সে গোনাহে লিপ্ত হওয়ার জন্য উপযুক্ত" (তাবারানি, কাবীর ১০/৪০৪-৪০৫ (১০৮২৪))।
]0[ وَسَأَضْرِبُ لَكُمْ فِي ذَلِكَ مَثَلًا "এ-বিষয়ে আমি তোমাদের একটি উদাহরণ দিচ্ছি” (আবূ দাউদ ৩৩২৯)।
]8[ وَهُوَ لَا يَشْعُرُ “অবচেতন মনে” (তাবারানি, আওসাত ২/১৫৮ (২৮৬৮))。
]৫[ مَنْ يَرْتَعْ حَوْلَ الْحِمَى يُؤْشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ “যে ব্যক্তি সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, তার সেখানে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে” (বুখারি ২০৫১); كَانَ قَنِينَا أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ مَنْ أَرْتَعَ حَوْلَ الْحِمَى "যে-ব্যক্তি সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে পশু চরায়, সেখানে অনায়াসে ঢুকে পড়ার ব্যাপারে সে অধিক উপযুক্ত” (আহমদ ৪/২৬৭ (১৮৩৪))। وَإِنَّهُ مَنْ يُخَالِطُ الرِّيْبَةَ يُؤْشِكُ أَنْ يَجْتَرِئَ "আর যে-ব্যক্তি সংশয়যুক্ত কাজে লিপ্ত হয়, তার ভেতর (হারামে লিপ্ত হওয়ার) স্পর্ধা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে” (আবু দাউদ ৩৩২৯)।
الْحَلَالُ بَيِّنٌ، وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا أُمُورُ مُشْتَبِهَةٌ، فَمَنْ تَرَكَ مَا شُبِّهَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ كَانَ لِمَا [٥] اسْتَبَانَ أَتْرَكَ، وَمَنِ اجْتَرَأَ عَلَى مَا يَشُكُ فِيهِ مِنَ الْإِثْمِ أَوْشَكَ أَنْ يُوَاقِعَ مَا اسْتَبَانَ “হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝখানে আছে কিছু সন্দেহযুক্ত বিষয়। যে-ব্যক্তি গোনাহের সন্দেহযুক্ত বিষয় ছেড়ে দেয়, সে সুস্পষ্ট হারামগুলো আরও বেশি ছাড়বে। আর যে-ব্যক্তি গোনাহের সন্দেহযুক্ত বিষয়ে জড়িত হওয়ার স্পর্ধা দেখায়, তার সুস্পষ্ট হারামগুলোতেও জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।” (বুখারি ২০৫১)।
]۹[ إِنَّ اللَّهَ حَمَى حِمًى “আল্লাহ একটি সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করেছেন” (আবু দাউদ ৩৩২৯)।
]5[ وَإِنَّ الْحَرَامَ حِمَى اللَّهِ الْمَعَاصِي حِمَى اللَّهِ “গোনাহের কাজগুলো আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা” (বুখারি ২০৫১); الَّذِي حَرَّمَ عَلَى عِبَادِهِ "আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর যা হারাম করেছেন, সেগুলো তাঁর সংরক্ষিত এলাকা” (তহাতি, শারহু মুশকিল ২/২২০ (৭৫১))。
]۵[ فِي الْإِنْسَانِ “মানুষের ভেতর” (আহমদ ৪/২৭০ (১৮৩৭৪)); فِي ابْنِ آدَمَ "আদম সন্তানের ভেতর” (অয়ালিসি ৪২৫)।
إِنَّ فِي الْإِنْسَانِ مُضْغَةً إِذَا سَلِمَتْ وَصَحَتْ، سَلِمَ سَائِرُ الْجَسَدِ وَصَحَ، وَإِذَا سَقِمَتْ سَقِمَ سَائِرُ الْجَسَدِ وَفَسَدَ أَنَا وَهِيَ الْقَلْبُ “মানুষের ভেতর এক টুকরো মাংস আছে, যা ত্রুটিমুক্ত ও সুস্থ হলে পুরো দেহ ত্রুটিমুক্ত ও সুস্থ হয়ে যায়, আর সেটা অসুস্থ হলে পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। মনে রাখবে, সেটা হলো কল্প বা অন্তর।” (আহমাদ ৪/২৭৪ (১৮৪১২))|

📘 সবার ওপরে ঈমান > 📄 যেসব গ্রন্থের সকল হাদীস একত্র করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

📄 যেসব গ্রন্থের সকল হাদীস একত্র করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে


নবি ﷺ-এর হাদীসসমূহের পূর্ণাঙ্গ সংকলন প্রস্তুত করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ১১৪টি মৌলিক হাদীসগ্রন্থ, ১৪টি রিজাল-গ্রন্থ ও ২২টি সংকলন-গ্রন্থ-মোট ১৫০টি গ্রন্থ-বাছাই করা হয়েছে। এসব গ্রন্থের বিস্তারিত তালিকা এ-বইয়ের শেষের দিকে 'গ্রন্থপঞ্জি' শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাদীসের এ-পূর্ণাঙ্গ সংকলনটির নাম দেওয়া হয়েছে 'جَامِعُ السُّنَّةِ জামিউস সুন্নাহ'। বাংলায় এর নাম রাখা হয়েছে 'সুন্নাহ সমগ্র'। গ্রন্থটি রচনার কাজ চলছে আরবি ভাষায়। আরবিতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রস্তুত হয়ে গেলে, দ্রুত ওই অংশের বাংলা অনুবাদ প্রকাশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এ-মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে ঈমান-সংক্রান্ত হাদীসের সংকলন "সবার ওপরে ঈমান"। অন্যান্য বিষয়ের হাদীসগুলো ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে, ইন শা আল্লাহ।

"সবার ওপরে ঈমান” গ্রন্থে ৪৬৯টি হাদীসের মূলপাঠ হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে, আর এগুলোর পাদটীকায় যুক্ত হয়েছে ৩৫১৫টি হাদীসের বাড়তি শব্দাবলি। সংকলন-গ্রন্থাবলির যেসব হাদীস এ-গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো-সহ অনূদিত হাদীসের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪৬২। জামিউল উসূল, মাজমাউয যাওয়াইদ ও জামউল ফাওয়াইদ-এ-তিনটি গ্রন্থের ঈমান অধ্যায়ের সকল হাদীস এ-গ্রন্থে স্থান পেয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00