📄 সুন্নাহর অপরিহার্যতা
আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর দায়িত্ব কেবল কুরআন “পাঠ করে শোনানো”র মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, কুরআন "শিক্ষা দেওয়া”ও ছিল তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা বলেন-
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ ﴿١٦٤﴾
"এ-তো মুমিনদের ওপর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি যে, তিনি তাদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদেরকে তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করে শোনান এবং কুরআন ও হিকমাহ শিক্ষা দেন; এর আগে তারা ছিল স্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত।" (সূরা আল ইমরান ৩:১৬৪) |
কোনও বই "পাঠ করে শোনানো" মানে-বইয়ের বাক্যগুলো স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ উচ্চারণ করে শুনিয়ে দেওয়া; এর সঙ্গে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের কোনও অপরিহার্য সম্পর্ক নেই। অপরদিকে, কোনও বই "শিক্ষা দেওয়া"র মানে হলো-ওই বইয়ের বাক্যগুলো পড়ে শোনানো, মূল তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা, এবং পর্যাপ্ত উদাহরণের মাধ্যমে বইয়ের জটিল জায়গাগুলো ব্যাখ্যা করে দেওয়া।
যে-শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোনও একটি বই "শেখানো"র জন্য, তিনি যদি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে বইটি শুধু পাঠ করে শুনিয়ে দিয়ে চলে আসেন, তা হলে তিনি “শেখানো"র দায়িত্ব পালন করেননি, বড়জোর এটুকু বলা যায়—তিনি বইটি “পড়ে শুনিয়েছেন”।
আল্লাহর রাসূল ﷺ কুরআন শুধু "পড়ে শুনিয়ে” ক্ষান্ত থাকেননি, তা “শেখানোর” দায়িত্বও পালন করেছেন সুচারুভাবে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহর রাসূল ﷺ কুরআনের এ-আয়াত 'পাঠ করে শুনিয়েছেন'-
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذُلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (١٥٣)
"এ-হলো আমার সরল পথ, এ-পথে চলো। আর অন্যান্য পথে চলো না, সেসব পথ তোমাদেরকে আল্লাহর রাস্তা থেকে বিচ্যুত করে দেবে। আল্লাহ তোমাদের এ-নির্দেশনা দিচ্ছেন, যাতে তোমরা তাঁর পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারো।" (সূরা আল-আনআম ৬:১৫৩) |
উপরিউক্ত আয়াতটি 'পড়ে শোনানো'র পাশাপাশি, নবি ﷺ উপমার মাধ্যমে কীভাবে এর মর্ম 'শিক্ষা দিয়েছিলেন'-তা নিচের তিনটি হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
[১] নাওয়াস ইবনু সামআন আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, "আল্লাহ একটি উদাহরণ দিয়েছেন: একটি সরল পথ, পথের দুপাশে দুটি দেওয়াল, দেওয়াল-দুটিতে অনেকগুলো খোলা দরজা, দরজাগুলোর ওপর ঢিলেঢালা পর্দা ঝুলছে। রাস্তার দরজার সামনে একজন ডেকে বলছে-'লোকসকল! তোমরা সবাই সরল-পথে ঢুকো, এদিক-সেদিক যেয়ো না!' আর আরেকজন ডাকছে পথের ওপর থেকে। কেউ যখন সেসব দরজার কোনও একটি খোলার চিন্তা মাথায় আনে, তখন (সেই আহ্বানকারী) বলে- 'সাবধান! এটা খুলো না; এটা খুললে তুমি এর ভেতর ঢুকে পড়বে!' সরল পথটি হলো ইসলাম, দেওয়াল-দুটি আল্লাহর বেঁধে-দেওয়া সীমারেখা, খোলা দরজাগুলো হলো সেসব বিষয় যা আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন, রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে আহ্বানকারী হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন), আর রাস্তার ওপর থেকে আহ্বানকারী হলো আল্লাহর নিযুক্ত উপদেশদাতা, যা প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরে দেওয়া আছে।” (আহমাদ ৪/১৮২-১৮৩ (১৭৬৩৪), সহীহ) |
[২] আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ নিজের হাতে একটি রেখা টেনে বলেন, "এ-হলো আল্লাহর দেওয়া সরল পথ।” এরপর ওই রেখার ডানে ও বামে রেখা টেনে বলেন, "এ-হলো বহু পথ; এখানকার প্রত্যেকটি পথে একটি করে শয়তান আছে, যে ওই পথে চলার জন্য (লোকদের) ডাকছে।” এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন-
টিকাঃ
[১] خطوط "বেশকিছু রেখা” (আহমাদ ৪১৪২)।
📄 হাদীসের মৌলিক গ্রন্থাবলির বৈশিষ্ট্য
জ্ঞানের যে-শাখায় নবি ﷺ-এর এসব শিক্ষা স্থান পেয়েছে, তার নাম সুন্নাহ বা হাদীস। সহীফা বা পুস্তিকা আকারে সুন্নাহ লিখে রাখার কাজ নবি ﷺ-এর জীবদ্দশাতেই শুরু হয়েছিল। সাহাবিদের কাছ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ জ্ঞান হাসিল করেন তাবিয়িগণ। নিজস্ব সনদের ভিত্তিতে সুন্নাহ- সংকলনের কাজ হিজরি প্রথম শতক থেকে শুরু হয়ে, একটানা সপ্তম শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে থাকে। কীর্তিমান হাদীসবিশারদদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে রচিত হয় হাদীসের শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ।[১]
হাদীসের মৌলিক গ্রন্থাবলিতে আনুমানিক চার লক্ষাধিক হাদীস স্থান পেয়েছে। এ বিপুলসংখ্যক হাদীসের ব্যাপারে দুটি বিষয় মনে রাখা দরকার: (১) লক্ষ লক্ষ হাদীস মানে নবি ﷺ-এর লক্ষ লক্ষ আলাদা বক্তব্য নয়; কারণ, হাদীসবিশারদগণ সংখ্যা গণনা করেন সনদের ভিত্তিতে, অর্থাৎ নবি ﷺ -এর কোনও একটি বক্তব্য পঞ্চাশটি বর্ণনাসূত্রে বর্ণিত হলে, মুহাদ্দিসদের গণনায় এখানে পঞ্চাশটি হাদীস রয়েছে, কিন্তু মতন বা মূলপাঠ বিবেচনায় এখানে হাদীস রয়েছে একটি। (২) হাদীস- গ্রন্থাবলির আরেকটি দিক হলো তাকরার বা পুনরাবৃত্তি-প্রসঙ্গক্রমে গ্রন্থের বিভিন্ন জায়গায় একই হাদীস বারবার উল্লেখ করা হয়, কখনও হুবহু, আবার কখনও সামান্য কিছু শব্দের হেরফের-সহ।
টিকাঃ
[১] হাদীসের মৌলিক গ্রন্থাবলির তালিকা এ-বইয়ের শেষের দিকে ইনডেক্স বা নির্ঘণ্ট অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।
📄 হাদীসের সংকলন-গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা
বিপুলসংখ্যক সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হাদীস ও হাদীসের মূলপাঠের পুনরাবৃত্তি-এ-দুটির ফলে হাদীসের মৌলিক গ্রন্থাবলির পরিধি এত বিশাল আকার ধারণ করেছে যে-সাধারণ পাঠক তো দূরের কথা-বিশেষজ্ঞদের জন্যও এর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ-বিষয়টিকে সামনে রেখে অল্প পরিসরে হাদীসের অধিক পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার কাজ শুরু হয়েছিল হিজরি পঞ্চম শতকের শেষের দিকে।
📄 হাদীসের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সংকলন-গ্রন্থ
হাদীসের মৌলিক গ্রন্থাবলি থেকে দীর্ঘ সনদ ও পুনরাবৃত্তি বাদ দিয়ে 'মাসাবীহুস সুন্নাহ' নামে ইমাম বাগাবি (মৃত্যু ৫১৬ হিজরি) একটি গ্রন্থ সংকলন করেন, পরবর্তী সময়ে এর ওপর ভিত্তি করে খতীব তাবরীযি (মৃত্যু ৭৪১ হিজরি) রচনা করেন 'মিশকাতুল মাসাবীহ'। ইমাম রযীন ইবনু মুআবিয়া (মৃত্যু ৫৩৫ হিজরি) 'তাজরীদুস সিহাহ আস-সিত্তা' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করে হাদীসের ছয়টি গ্রন্থের হাদীস একত্র করেন; এর ওপর ভিত্তি করে ইমাম ইবনুল আসীর (মৃত্যু ১০৬ হিজরি) তার 'জামিউল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল' নামক গ্রন্থটি রচনা করেন। ইমাম ইবনুল জাওযি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) তার 'জামিউল মাসানীদ' গ্রন্থে বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি ও আহমাদ-চারটি গ্রন্থের হাদীস একত্র করেছেন। 'আল-মুনতাকা মিন আখবারিল মুসতফা/ মুনতাকাল আখবার' শিরোনামে মাজদুদ্দীন ইবনু তাইমিয়্যা (মৃত্যু ৬৫২ হিজরি) একটি বিশেষায়িত হাদীসগ্রন্থ সংকলন করেন, পরবর্তী সময়ে ইমাম শাওকানি (মৃত্যু ১২৫০ হিজরি) 'নাইলুল আওতার' শিরোনামে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। একই সময়ে আবদুল আযীম মুনযিরি (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরি) রচনা করেছেন 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব'। অষ্টম শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ইমাম ইবনু কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) তার 'জামিউল মাসানীদ ওয়াস সুনান' গ্রন্থে বুখারি, মুসলিম, আবূ দাঊদ, তিরমিযি, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, আহমাদ, বাযযার, আবূ ইয়া'লা ও তাবারানি (আল-কাবীর)-এ দশটি গ্রন্থের হাদীস একত্র করার চেষ্টা করেছেন; তবে গ্রন্থটিকে ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত না করে, সাজানো হয়েছে মুসনাদ-পদ্ধতিতে।
মুসনাদ গ্রন্থাবলির বিন্যাস বর্ণনাকারী-ভিত্তিক হওয়ায়, বিধিবিধান জানার ক্ষেত্রে এসব গ্রন্থের ব্যবহার সহজ নয়, অথচ এসব গ্রন্থে হাদীসের অনেক বাড়তি তথ্য রয়েছে, যা সুনান গ্রন্থাবলিতে নেই। মুসনাদ গ্রন্থাবলির সেসব বাড়তি তথ্য ফিকহের বিষয়বস্তু অনুযায়ী বিন্যাস করার ক্ষেত্রে অষ্টম শতকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন ইমাম নূরুদ্দীন হাইসামি, যিনি ছিলেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস হাফিজ ইরাকি'র ছাত্র ও ইবনু হাজার আসকালানি'র শিক্ষক। হাদীসের ছয়টি প্রসিদ্ধ গ্রন্থের অতিরিক্ত যেসব হাদীস আহমাদ, আবু ইয়া'লা, বাযযার ও তাবারানি'র তিনটি মু'জাম গ্রন্থে রয়েছে, সেসব অতিরিক্ত হাদীস নিয়ে ইমাম হাইসামি (মৃঃ ৮০৭ হিজরি) রচনা করেছেন 'মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মামবাউল ফাওয়াইদ'।
ইবনু হাজার আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) তার 'আল-মাতালিবুল আলিয়া ফী যাওয়াইদিল মাসানীদিস সামানিয়া' গ্রন্থে তায়ালিসি, মুসাদ্দাদ, হুমাইদি, ইবনু আবী শাইবা, আদানি, আবদ ইবনু হুমাইদ, আহমাদ ইবনু মুনাইয়ি ও হারিস ইবনু আবী উসামার মুসনাদ গ্রন্থের অতিরিক্ত হাদীসগুলো সংকলন করেছেন। একই সময়ে শিহাবুদ্দীন বুসীরি (মৃত্যু ৮৪০ হিজরি) তার 'ইতহাফুল খিয়ারাতিল মাহারা ফী যাওয়াইদিল মাসানীদিল আশারা' গ্রন্থে সংকলন করেছেন তায়ালিসি, মুসাদ্দাদ, হুমাইদি, ইসহাক ইবনু রাওয়াই, ইবনু আবী শাইবা, আদানি, আবদ ইবনু হুমাইদ, হারিস ইবনু আবী উসামা, আহমাদ ইবনু মুনাইয়ি ও আবূ ইয়া'লা'র মুসনাদ গ্রন্থাবলির অতিরিক্ত হাদীস। শিরোনাম বিবেচনায় গ্রন্থদুটিকে সংকলন-গ্রন্থ মনে হলেও, একদিক দিয়ে এগুলো মৌলিক হাদীসগ্রন্থ হিসেবে বিবেচ্য; কারণ মুসাদ্দাদ, আদানি, আহমাদ ইবনু মুনাইয়ি ও হারিস ইবনু আবী উসামার মুসনাদ গ্রন্থাবলির হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি এখনও অনাবিষ্কৃত থাকায়, এসব ক্ষেত্রে আসকালানি ও বৃসীরির গ্রন্থদুটির ওপরই নির্ভর করতে হয়।
নবম শতকে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) নবি ﷺ-এর সকল হাদীস একত্র করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ-উদ্দেশে তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন: 'আল-জামিউস সগীর' ও 'আল- জামিউল কাবীর'। ইমাম সুয়ূতি ﷺ নবি ﷺ-এর উক্তিগুলোকে বর্ণানুক্রম অনুযায়ী আর বিবরণীমূলক হাদীসগুলোকে মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন। সুয়ূতির গ্রন্থের ভিত্তিতে আলি মুত্তাকী হিনদি (মৃত্যু ৯৭৫ হিজরি) সংকলন করেছেন 'কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আল'। সুয়ূতি নবি ﷺ-এর সকল হাদীস একত্র করার উদ্যোগ নিলেও, তার গ্রন্থদুটিতে বেশকিছু হাদীস বাদ পড়ে গিয়েছিল। আবদুর রউফ মুনাবি (মৃত্যু ১০৩১ হিজরি) তার 'আল-জামিউল আযহার ফী হাদীসিন নাবিয়্যিল আনওয়ার' আর ইউসুফ নাবাহানি (মৃত্যু ১৩৫০ হিজরি) তার 'আল-ফাতহুল কাবীর ফী দম্মিয যিয়াদাত ইলাল জামিইস সগীর'-এর মাধ্যমে সুয়ূতি-এর গ্রন্থাবলির ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করেছেন।
ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে-ইমাম ইবনুল আসীর তার 'জামিউল উসূল' গ্রন্থে প্রসিদ্ধ ছয়টি গ্রন্থের হাদীস সংকলন করেছেন, আর ইমাম হাইসামি তার 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে সেসব হাদীস সংকলন করেছেন যা সেই ছয়টি গ্রন্থের হাদীসের অতিরিক্ত। উভয় গ্রন্থের বাছাইকৃত হাদীসের ভিত্তিতে শামসুদ্দীন মাগরিবি (মৃত্যু ১০৯৪ হিজরি) সংকলন করেছেন 'জামউল ফাওয়াইদ মিন জামিইল উসূল ও মাজমাইয যাওয়াইদ'।
গত শতকে মাওলানা আশরাফ আলি থানভি'র নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মাওলানা জাফার আহমদ উসমানি (মৃত্যু ১৩৯৪ হিজরি) রচনা করেন 'ই'লাউস সুনান'। এটি ফিকহের অধ্যায়ভিত্তিক হাদীসের এক বিশাল সংকলন।
এই শতকে হাদীস-সংকলনের ক্ষেত্রে তিনজনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানি (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি) 'সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহা' নামে সহীহ হাদীসের আর 'সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দঈফা' নামে ত্রুটিযুক্ত হাদীসের সংকলন তৈরি করেছেন। শাইখ জিয়াউর রহমান আজমি (মৃত্যু ১৪৪১ হিজরি) রচনা করেছেন 'আল-জামিউল কামিল ফিল হাদীসিস সহীহিশ শামিল', এ-গ্রন্থে তিনি সকল সহীহ হাদীস একত্র করার চেষ্টা করেছেন। আর শাইখ সালিহ আহমাদ শামি 'জামিউল উসূলিত তিসআ' গ্রন্থে সংকলন করেছেন নয়টি গ্রন্থের হাদীস।