📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 ইরানের প্রতি মুগ্ধতার কারণ

📄 ইরানের প্রতি মুগ্ধতার কারণ


বাস্তবতা যদি এমনই হয়ে থাকে, তবে কেন আমরা এই দুরবস্থার প্রতি মুগ্ধ হই? অনেক লেখক, এমনকি অনেক ইসলামী লেখকও কেন জোরগলায় ইরানের পদাঙ্ক অনুসরণের কথা বলেন?!

আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যেসব কারণে মুসলমানরা ইরানের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সেগুলো হলো:

এক. ইরানের সংবিধান, শাসনব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতার মাঝে সম্পর্কের ধরন সম্বন্ধে আমাদের অজ্ঞতা। তা ছাড়া, সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অধিকাংশ সময়ই আমরা বিবেকের ওপর আবেগকে প্রাধান্য দিই; নামমাত্র ইসলামের ঝান্ডা যে উঁচু করে ধরে, তার দিকেই ধাবিত হই; যদিও সে হয়ে থাকে ভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট।

দুই. ইসলামের 'হাকিকত' আমাদের সামনে স্পষ্ট না থাকা। আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, ইসলাম হযরত আবু বকর ও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমার মতো মহান খলীফাদের ওপরও যৌক্তিক আপত্তি তোলার সুযোগ দিয়েছে। এমনকি, স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে আমল ওহীনির্ভর নয়, তা নিয়েও আলোচনা-পর্যালোচনার অনুমতি দিয়েছে।

তিন. আমরা আসলে আরব দেশগুলোতে স্বৈরশাসন, প্রহসনের নির্বাচন এবং অরাজকতা দেখতে দেখতে অভ্যন্ত। তাই বাহ্যত ভালো কিছু দেখতেই আমাদের ভালো লাগে, যদিও তার ভেতরটা হয় ভঙ্গুর। এজন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করে যখন কিছু একটা পেয়ে যাই, অমনি বলে ফেলি, 'আলহামদুলিল্লাহ, এই তো পাওয়া গেছে শুরা-ভিত্তিক "ইসলামিক স্টেট", বাহ!'

চার. ইরাক, বাহরাইন, সৌদি আরব, সিরিয়া, মিশর, লেবাননের পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, সে বিষয়ে আমরা একেবারেই বে-খবর; এমনকি আমরা হয়তো এও জানি না যে, ইরানের সুন্নী মুসলিমদের ওপরও শীর্ষ ধর্মীয় নেতার ক্ষমতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে; তারা একটু একটু করে 'বিলায়াতুল ফাকীহ' চিন্তাধারার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এও ভাবতে শুরু করেছে যে, 'সুন্নীরা দীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত। কেননা, গায়েবী ইমাম তো শীর্ষ নেতাকে পরিস্থিতি অনুকূলে আনার দায়িত্ব দিয়েছেন মাত্র, যেন তিনি আগমনের সময় তাকে স্বাগত জানতে পারেন।'

পাঁচ. আমেরিকা ও ইসরায়েলের জুলুম ও অত্যাচারে আমরা পিষ্ট। এজন্য কেউ তাদের বিরুদ্ধে বললে আমরা এতটাই উল্লসিত হই যে, তার সম্পর্কে আর ঘাঁটাঘাঁটির প্রয়োজন মনে করি না: এমনকি, ইতিহাসের পাতায় একটু নজর বুলাতেও চাই না। অথচ একটু চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারব ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা শূন্যের কোটায়।

প্রিয় ভাইয়েরা, আমাদের অবশ্যকর্তব্য হলো, মুসলিম উম্মাহকে সুস্থ চেতনা ও বিশুদ্ধ নীতির ওপর গড়ে তোলা; যা প্রাচ্য কিংবা পশ্চিমা মতাদর্শ অবলম্বনে সম্ভব নয়: শিয়া কিংবা খারেজি মতবাদের দিকে গেলে তো আরও অসম্ভব। আমাদেরকে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে যেতে হবে, শেকড়ের সন্ধান করতে হবে। যাবতীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশনা সামনে রাখতে হবে, ইতিহাসের পাতায় অমর সালাফে সালেহীনের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। তাঁদের চেয়ে উত্তম আর কারা হতে পারে?! ভ্রষ্টদের প্রতি ভক্তি নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক নয় কি?

ফন্ট সাইজ
15px
17px