📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 সানআর আইম্মা সাম্রাজ্য

📄 সানআর আইম্মা সাম্রাজ্য


হিজরী দশম শতাব্দীতে এসে সমগ্র ইয়েমেন উসমানী ও যায়দিয়া শাসকদের মাঝে বণ্টিত হয়। এই সুবাদে উসমানী শাসকরা ৯৪৫ হিজরী থেকে ১৩৩৩ হিজরী পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩৮৮ বছর সেখানে শাসনকার্য পরিচালনা করে। তাদের শাসনাঞ্চল ছিল মূলত দক্ষিণ ইয়েমেন। অপরদিকে যায়দিয়া রাসসী শাসকরা স্বাভাবিকভাবে সা'দায় তাদের শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকে; সঙ্গে যুক্ত করে সানআ অঞ্চলটিও। এ কারণে এই সময়ে এসে এই সাম্রাজ্যের নাম পড়ে যায় 'সানআর আইম্মা সাম্রাজ্য'। এর সময়কাল ছিল ৯৭৩ হিজরী থেকে ১৩৮২ হিজরী পর্যন্ত মোট ৪০৯ বছর। যদিও উসমানী খেলাফতের সঙ্গে এক সংঘর্ষের পর ১৩৩৩ হিজরীতে যায়দিয়াদের যথাযথ পদক্ষেপ ইয়েমেনজুড়ে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

ইয়েমেনে যায়দিয়া শাসকদের শাসনক্ষমতা চলতে থাকে ১৩৮২ হিজরী মুতাবেক ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এরপর ইয়েমেনী বিপ্লবের সূচনা ও পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে প্রথমবার ২৮৪ হিজরীতে ক্ষমতায় আসা যায়দিয়া শাসনামলের পরিসমাপ্তি ঘটে, যা টিকে ছিল এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে।

সংক্ষিপ্ত এ আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যায়দিয়া মতাদর্শের শেকড় ইয়েমেন সমাজের অত্যন্ত গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। সুদীর্ঘকাল ধরে সেখানে তাদের ক্ষমতা কোনো-না-কোনোভাবে বিদ্যমান ছিল। তাদের আশপাশে গড়ে উঠেছে কখনো সুন্নী সাম্রাজ্য, কখনো-বা ইসমাঈলিয়া সাম্রাজ্য।

ওদিকে ইসমাঈলিয়ারা ইয়েমেনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। তাদের শাসনামল ছিল মাত্র ১৩০ বছর। এবং এ সময়ে তারা কখনো সমগ্র ইয়েমেনে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি।

বর্তমানে আমরা দেখতে পাই, ইয়েমেনে ইসনা আশারিয়া শিয়াদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অপরদিকে যায়দিয়া সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা শতকরা প্রায় ৩০ জন। এই তুলনায় ইয়েমেন সমাজে ইসনা আশারিয়া মতাদর্শের অনুসারী একবারেই তুচ্ছ। যদিও এ ব্যাপারে কোনো নিরেট পরিসংখ্যান রয়েছে বলে আমার জানা নেই।

এ পর্যায়ে আমরা 'হুতি' বা 'হুথি' সম্প্রদায় সম্পর্কে জানব। এদের অবস্থান দক্ষিণ ইয়েমেনে; আরও নির্দিষ্ট করে বললে, সা'দায়। উল্লেখ্য, এরা ইসনা আশারিয়া মতাদর্শের অনুসারী এবং ইরান তাদের সাহায্যকারী।

টিকাঃ
১. Houthis (الحوثيون)

ফন্ট সাইজ
15px
17px