📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 হাসান নাসরুল্লাহ

📄 হাসান নাসরুল্লাহ


পঞ্চম: হাসান নাসরুল্লাহ। হাসান নাসরুল্লাহ নিঃসন্দেহে ক্যারিশমাটিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর মাঝে এমন অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে, তিনি আশপাশের সকলকে অনায়াসে মুগ্ধ করতে পারেন, নেতৃত্ব দিতে পারেন সুবিশাল এক জামাআতকে। তিনি একাধারে বিদগ্ধ রাজনীতিক, তুখোড় মেধাবি এবং অনুপম প্রত্যুৎপন্নমতি।

তাঁর সুনিপুণ রাজনীতি এবং চাতুর্যময় নেতৃত্ব দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে; রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং অসাধারণ বাগ্মিতার প্রতিও মানুষ আকর্ষিত হবে খুব সহজে। মুসলিম উম্মাহর কাছে যদি তাঁর এ সকল গুণ পছন্দনীয় হয়েও থাকে, তাতে দোষের কিছু দেখি না। বরং ক্ষেত্রবিশেষে তাঁর অনুসরণও করা যেতে পারে। কিন্তু যে কাজটি করার কোনো অবকাশ নেই তা হলো, তাঁকে জাতির কর্ণধার ভেবে বসে থাকা, আল্লাহর মহান আদেশ জিহাদের মতো আমলে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্য মনে করা।

তিনি কোনোভাবেই এই স্তরে উপনীত হতে পারেন না। কেননা, সেজন্য তাঁকে বিশুদ্ধ আমল ও আকীদার অধিকারী হতে হবে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহর অনুসারী হতে হবে, আল্লাহ আদেশ-নিষেধের সামনে হতে হবে বিনয়াবনত। আর এর কোনটিই তাঁর মাঝে নেই।

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 হাসান নাসরুল্লাহর আকীদা-বিশ্বাস

📄 হাসান নাসরুল্লাহর আকীদা-বিশ্বাস


আমাদের খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে যে, একজন হাসান নাসরুল্লাহ আপাদমস্তক ইসনা আশারিয়া শিয়া মতাদর্শের অনুসারী। তিনি মনে-প্রাণে এই মতবাদই লালন করেন। ফলে, তিনি বিশ্বাস করেন সাহাবীরা যোগ্যতা সত্ত্বেও হযরত আলীকে উপেক্ষা করে পর্যায়ক্রমে হযরত আবু বকর, উমর ও উসমানের হাতে খেলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন; তিনি বিশ্বাস করেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথিত বারো ইমামের নাম ধরে ওসিয়ত করে গেছেন; তাদের সকল ইমাম নিষ্পাপ, পূত-পবিত্র; তাদের সর্বকনিষ্ঠ ইমাম এখনো কোনো গুহায় আত্মগোপন করে আছেন যিনি একদিন-না-একদিন বেরিয়ে আসবেন; তিনি বিশ্বাস করেন তাকিয়া দীনের নয়-দশমাংশ—যার অর্থ: মুখে এক অন্তরে আরেক।

তিনি আরও বিশ্বাস করেন যে, সুন্নীরা আহলে বাইতের প্রতি ভীষণ শত্রুতা পোষণ করে; অথচ বাস্তবতা হলো, সুন্নীরা তাঁদের প্রতি শিয়াদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ভক্তি-শ্রদ্ধা লালন করে; যার সবটুকু আবেগ-বর্জিত এবং সুন্নাহ-সম্মত। তার মতে, নেতৃত্বস্থানীরা অধীনস্থদের উপার্জন থেকে এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করার অধিকার রাখে; কোনো পুরুষ চাইলে কিছু সময় কিংবা কিছুদিনের প্রয়োজনে কোনো নারীকে বিয়ে করতে পারবে, এবং প্রয়োজন শেষে ত্যাগও করতে পারবে, শরীয়তের পরিভাষায় যাকে বলে 'নিকাহে মুত'আ'। তিনি 'বিলায়াতুল ফাকীহ' চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। তাই তার কাছে কোনো বিষয়ে ইরানী বিপ্লবের নেতা আলী খামেনেয়ীর বিরুদ্ধাচরণ মারাত্মক অপরাধ। তার এমন আরও অসংখ্য অসঙ্গত আকীদা রয়েছে, যা বলতে গেলে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে।

এখানে যে আকীদাগুলো উল্লেখ করা হলো, এর সবগুলো জনাব হাসান নাসরুল্লাহর অন্তরাত্মার সঙ্গে মিশে রেয়েছে। কারও এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, আমরা তো আর তাকে কখনো সাহাবীদের গালাগাল করতে দেখিনি, কিংবা তিনি তো আমাদের সামনে কখনো উম্মুল মুমিনীনদের ওপর অপবাদ আরোপ করেননি।

এমন সরলমনা ভাইদের উদ্দেশে বলতে চাই, আসলেই তার আকীদা এমন কি না, তা নিজ কানে শুনে যাচাই করার প্রয়োজন নেই। কেননা, এসব আকীদা ইসনা আশারিয়া মতাদর্শের একদম মৌলিক বিষয়।

আচ্ছ্, আপনি কি কখনো আপনার প্রতিবেশী মুসলিম ভাইকে তাওহীদের কালিমা পড়তে শুনেছেন? হা শুনলেও তো আপনি জানেন যে, অবশ্যই সে একত্ববাদে বিশ্বাসী, তাই না? কারণ, সে মুসলিম। ইসনা আশারিয়া মতাদর্শের একজন অনুসারীর বিষয়টিও তেমনই। কোনো সন্দেহ-সংশয় ছাড়াই তাকে উল্লিখিত সকল আকীদার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। নয়তো সে ওই মতাদর্শের অনুসারী বলেই গণ্য হবে না।

আর যদি হাসান নাসরুল্লাহ সাহাবীদেরকে সম্মান করেন, তবে তো তিনি ইসনা আশারিয়া মতাদর্শের নীতিবিরোধী বলেই গণ্য হবেন; বিচ্যুত হবেন হযরত আলী ও তাঁর দুই পুত্রসহ তাদের সকল ইমামের (নামে তাদের বানোয়াট) আদর্শ থেকে।

তাহলে যে ব্যক্তির মাঝে এমন ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতা রয়েছে, আমরা কি কোনোভাবেই তার অন্ধভক্ত হতে পারি? কিংবা তাকে মুসলিম উম্মাহর অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে গ্রহণ করতে পারি? কখনই পারি না। তবে হ্যাঁ, তার মাঝে ভালো কিছু থেকে থাকলে আমরা গ্রহণ করতে পারি। কিন্তু সেটা এই অর্থে নয় যে তিনি মুসলমান। বরং এই অর্থে যে তিনি একজন বুদ্ধিমান ও প্রতিভাবান।

ইতিহাস পড়ে আমরা জানতে পারি, ক্রুসেডাররা যখন শাম ও ফিলিস্তিনে আগ্রাসন চালিয়েছিল, তখন ছিল শিয়াদের জয়জয়কার; মিশর ছিল উবাইদিয়া সাম্রাজ্যের অধীনে। নিজেদের এমন দুরবস্থায়ও কিন্তু তৎকালীন মুসলিম উম্মাহ কোনো শিয়া নেতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেনি; যদিও তারা তখন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি—সবকিছুতেই চরম উৎকর্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। বরং সুন্নী মুসলিম সেনানীরাই সাহাসিকতা ও শৌর্যবীর্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন; তাদের মাঝেই জন্ম নিয়েছেন ইমামুদ্দীন জিনকী, নুরুদ্দীন মাহমুদ এবং সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর মতো মহান সিপাহসালারগণ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px