📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 লেবাননে শিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা

📄 লেবাননে শিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা


প্রথমত: লেবাননের ভূখণ্ডে একটি আলাদা শিয়া রাষ্ট্র গড়ে উঠার প্রবল সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে তেমনটি ঘটে যেতেও পারে। আর এটি মোটেও হিযবুল্লাহর মতো একটি একক দল বা গোষ্ঠীর ব্যাপার নয়, বরং পুরোদস্তুর রাষ্ট্রের বিষয়। কেননা, সিরিয়া ও ইরান খুব করে চাচ্ছিল যেন লেবাননে তাদের অনুগত একটি শিয়া রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। এজন্য তাদের সমর্থন ও সহায়তা ছিল অব্যাহত, যা মোটেও ছোটখাটো ব্যাপার নয়। তাদের পরিকল্পনা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলকে কেন্দ্র করে, পূর্ব-দক্ষিণের বিকা অঞ্চল নিয়ে এ রাষ্ট্রটি গঠিত হবে এবং উত্তর লেবাননের সুন্নী অঞ্চল পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ঘটবে।

একইভাবে তারা পশ্চিম ও দক্ষিণ বৈরুতও দখল করে নেবে। খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলো নিয়ে যদিও কিছুটা দ্বিমত থাকতে পারে। তবে এমনটা মোটেও অসম্ভব নয় লেবাননের ভূমিতে খ্রিষ্টান ও শিয়াদের স্বতন্ত্র দুটি রাষ্ট্র কায়েম হলে হিযবুল্লাহ তা স্বাচ্ছ্যন্দেই গ্রহণ করবে। কেননা, আজ থেকে হাজার বছর পূর্বে সুন্নী অধ্যুষিত শামে ক্রুসেডারদের আগমন ঘটলে কীভাবে এই ভূমি ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়া যায়, ক্রুসেডারদের কাছে সেই প্রস্তাব পেশ করেছিল ইসমাঈলিয়া শিয়া সম্প্রদায়।

কথা ছিল ক্রুসেডাররা দখল করবে বর্তমান সিরিয়া ও লেবানন, আর শিয়ারা নেবে ফিলিস্তিন ও জর্ডান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্রুসেডাররা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং সমগ্র শাম দখল করতে চায়।

লেবাননে শিয়া রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সুন্নীদের বিবেচনায় মোটেও সহজ ও সুন্দর কিছু নয়। কেন নয় তা জানতে চাইলে নজর বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে ইরান-ইরাকের সুন্নীদের দিকে, সুন্নীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রথমে হারকাতু আমাল এবং পরে হিযবুল্লাহর ঘটনাপ্রবাহের দিকে। পাশাপাশি শিয়াদের বুওয়াইহিয়া, উবাইদিয়া, হামদানী, সাফাভিদ ইত্যাদি সাম্রাজ্যের আচরণ সুন্নীদের সঙ্গে কেমন ছিল, সেই ইতিহাসও জেনে নেওয়া যেতে পারে।

এসব ইতিহাস পাঠ করলে আপনা-আপনিই জেনে যাবেন শক্তিশালী প্রতিটি শিয়া সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি আগ্রাসন চালিয়েছে সুন্নীদের বিরুদ্ধে। আর আকীদাগত বিরোধ ছিল সর্বাগ্রে— শুরু থেকে শেষ সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ কেবল তা-ই প্রমাণ করে।

টিকাঃ
১. 'শাম' বলতে সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন ও জর্ডান নিয়ে গঠিত ঐতিহাসিক 'বিলাদুশ শাম' উদ্দেশ্য। -অনুবাদক

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 স্বার্থের সংঘাত

📄 স্বার্থের সংঘাত


দ্বিতীয়ত: হিযবুল্লাহ ইহুদীদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে কেবল নিজেদের স্বার্থে; বিশ্বাস বা চেতনাগত কোনো বিরোধ থেকে নয়। ইহুদীরা ১৯৮২ সালে দক্ষিণ লেবানন দখল করে। আর এই দক্ষিণ লেবানন ছিল কাঙ্ক্ষিত শিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নির্ধারিত স্থান। সুতরাং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে প্রতিরোধের কোনো বিকল্প তাদের হাতে ছিল না। পৃথিবীর দেশে দেশে যে যুদ্ধগুলো হয়ে থাকে, এটি ছিল তেমনই একটি।

মোটকথা, কোনোভাবেই এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করা ছিল না। কেননা শিয়ারা যে কালিমায় বিশ্বাসী, নিঃসন্দেহে তা ভ্রান্ত ও বিকৃত। তারা তাদের ইমামদেরকে নিষ্পাপ মনে করে, তাদেরকে নবীদের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞান করে! এমন আকীদা যারা রাখে, তাদের মাঝে ভালো কিছু আর কীভাবে থাকতে পারে!?

ধরে নেওয়া যাক শিয়াদের অবস্থান লেবাননের পূর্বাঞ্চলে আর সুন্নীদের আবাস দক্ষিণাঞ্চলে; এবং এ অবস্থায় ইহুদীদের আগ্রাসন ঘটল। আপনার কি মনে হয়, সুন্নী অধ্যুষিত সে অঞ্চল উদ্ধার করতে শিয়ারা এগিয়ে আসবে? কস্মিনকালেও কিন্তু তা সম্ভব না। বরং যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে যে, তারা ঠান্ডা মাথায় লেবাননের ভূমি ইহুদীদের সাথে ভাগাভাগি করে নেবে।

আমার এ ধারণা ভিত্তিহীন কিংবা অমূলক নয়। কারণ, লেবাননে শিয়াদের অবস্থান কয়েক দশক ধরে। এরই মধ্যে কি তারা ফিলিস্তিনে থাকা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা কখনো ভেবেছে? নিশ্চয় না। অথচ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তো ঠিকই চোখের পানি ছেড়ে বলে, 'ফিলিস্তিন দখলদার ইহুদীদের আগ্রাসনের শিকার'।

১৯৪৮ সালে যুদ্ধ চলাকালে, মুসলিম ব্রাদারহুডের সিরিয়া শাখার তত্ত্বাবধায়ক আল্লামা ডক্টর মুস্তফা আস-সিবাঈ শিয়া ও সুন্নীদের মাঝের দূরত্ব খুঁচিয়ে আনতে চেষ্টা করেন; শিয়া-সুন্নী মিলে ফিলিস্তিন স্বাধীন করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। কিন্তু তাঁর এই মহতী উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে শিয়ারা নিজেদের পথ ধরে। শেষ পর্যন্ত আল্লামা মুস্তফা আস-সিবাঈর সকল প্রচেষ্টা তাদের জন্য ব্যর্থ হয়। আস-সুন্নাতু ওয়া মাকানাতুহা ফিল ইসলাম নামক কিতাবে তিনি লিখেন, শিয়া-সুন্নী সমঝোতা বলতে গেলে অসম্ভব। কেননা, শিয়াদের মতে এর অর্থ হলো সুন্নীরা সব শিয়াতে রূপান্তরিত হওয়া; কেবল অভিন্ন ভূখণ্ডে মিলেমিশে বাস করা নয়।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ফিলিস্তিনের উত্তর সীমান্ত-ঘেঁষা শিয়াদেরকে এক চুলও নড়তে দেখা যায়নি। এমনকি ১৯৭৩ সালে মার্চ মাসে মূসা আস-সদরকে তার প্রসিদ্ধ উক্তি—অস্ত্র পুরুষের সৌন্দর্য—আওড়াতে দেখা গেছে; কিন্তু এই বক্তব্যের মাত্র ছয় মাস পর, অর্থাৎ ১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে ফিলিস্তিনে ইহুদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একজন শিয়াও অস্ত্র ধারণ করেনি।

২০০৯ সালে গাজায় সংঘটিত সর্বশেষ যুদ্ধ তো আমরা সকলেই প্রত্যক্ষ করেছি। ইহুদী সন্ত্রাসীরা তখন ফিলিস্তিনে কী নৃশংস বোমাহামলাই না চালিয়েছে। হিযবুল্লাহর পক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এই হামলা প্রতিহত করা সম্ভব ছিল। কিন্তু আমরা কেবল তাদের বড়ো বড়ো কথাই শুনেছি, ইহুদীদের বিরুদ্ধে কখনো একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করতে দেখিনি।

এখান থেকে ইহুদীরা খুব ভালোভাবে বুঝে নিয়েছিল যে, হিযবুল্লাহর হাঁক-ডাক, লম্ফ-ঝম্প তাদের ত্রিসীমার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। হাল-জমানায় ফিলিস্তিন নিয়ে তাদের তো নয়ই, ইরানেরও কোনো মাথাব্যথা নেই। আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের হুঙ্কার যেমন কোনো গুরুত্ব রাখে না, ইহুদীদের বিরুদ্ধে হিযবুল্লাহর বুলিও তেমনই। এসব হুঙ্কার দিয়ে মুসলিম উম্মাহর সমর্থন পাওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

তা যদি না-ই হতো, তাহলে আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহায়তায় ইরাকে শিয়াদের মিশন বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল না। শুধু তা-ই নয়, আমাদের পর্যবেক্ষণ বলে—ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও লেবানন নিয়ে বৃহত্তর শিয়া রাষ্ট্র গঠিত হলেও আমেরিকা কিছুই বলবে না। কেননা, তখন বৃহত্তর এ রাষ্ট্রটি মুসলিম বিশ্বে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতার অধিকারী বলে গণ্য হবে, যা পরবর্তী সময়ে ইসলামী বিশ্বে বিশেষত, মিশর, সৌদি আরব এবং জর্ডানে সুন্নী মুসলিমদের সকল জাগরণের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। আর আমেরিকা নিজেও এ দেশগুলোর রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি খর্ব করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 সফলতা শুদ্ধতার মাপকাঠি নয়

📄 সফলতা শুদ্ধতার মাপকাঠি নয়


তৃতীয়ত: কারও সফলতা কিংবা সুপরিণতি কখনো তার শুদ্ধতা ও সঠিকতার মাপকাঠি হতে পারে না। কেননা, অতীতে কত বিদআতীকে আমরা বিজয়ী হতে দেখেছি। কারমাতি শিয়াদেরকে আমরা দেখেছি তারা যুগের পর যুগ রাজত্ব করছে। অথচ এরাই কিন্তু আবার হাজিদের হত্যা করেছে, হাজরে আসওয়াদকে স্থানচ্যুত করেছে, বছরের পর বছর আল্লাহর জমিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রেখেছে।

আমরা দেখেছি অসংখ্য ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি সত্ত্বেও পারস্য, রোমান, তাতার, ইংরেজ ও মার্কিনীরা জয়লাভ করেছে, করছে। দেখেছি অত্যাচারী, অহংকারী এবং ইসলামের বিধান অমান্যকারী মুসলিম শাসকের দম্ভ, যে বছরের পর বছর তার অধীনস্থদের প্রতি জুলুম করে গেছে।

মোটকথা, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সফলতা কিংবা বিফলতা কখনো তাদের কর্মপন্থার শুদ্ধাশুদ্ধির ব্যাপারে সুনিশ্চিত তথ্য বহন করে না। বরং এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তার বা তাদের প্রতিটি আচরণ-উচ্চারণ সামনে রেখে; দেখতে হবে কুরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে তাদের কাজকর্ম, উঠাবসা কতটা সামঞ্জস্যতা রাখে।

আমরা জানি, এমন কত বীরও আছে, যারা যুদ্ধের ময়দানে বিরাট অবদান রেখেও হবে জাহান্নামি। কারণ তাদের বীরত্ব আল্লাহর ওয়াস্তে ছিল না।

হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক লোক মুশরিকদের একেবারে কচুকাটা করেছিল। এটা দেখে লোকেরা তাকে মহান মুসলিম মুজাহিদ মনে করতে লাগল। অথচ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জাহান্নামি হওয়ার ঘোষণা দিলেন। লোকেরা দৌড়ে গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পেল। তখন সে তাদেরকে বলল, আমি তো কেবল আমার গোত্রের জন্যই যুদ্ধ করেছিলাম।

হাদিসে উল্লেখিত ঘটনায় লোকটি যেহেতু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধে যায়নি, সুতরাং তার লড়াই হবে স্বার্থের লড়াই; তার বিজয় ও সফলতার ভিত্তি হবে মিথ্যা ও বাতিল।

মনের কথা যেহেতু আল্লাহর ছাড়া আর কারও জানা নেই, তাই আমরা হিযবুল্লাহর নিয়তের ব্যাপারে আগে বেড়ে কিছু বলব না। তাই বলে আমরা তাদের ভ্রান্ত আকীদা ও প্রকাশ্য বিদআত সম্পর্কেও কিছু বলব না, তা কিন্তু নয়। 'শিয়াদের প্রভাব-প্রতিপত্তির বিস্তার' শিরোনামের লেখাটি আরও একবার পাঠ করা যেতে পারে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, সেখানে আমি দেখিয়েছি, বিভিন্ন যুদ্ধে তারা বিজয় লাভ করেছে তো ঠিক, কিন্তু বরাবরই তাদের কর্মপদ্ধতি ছিল ভ্রান্ত, সিরাতে মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত।

টিকাঃ
১. সিরাতু ইবনে হিশাম (দারুল মা'রিফা, বৈরুত থেকে প্রকাশিত, শায়খ মুস্তফা কর্তৃক তাহকীককৃত।) খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৫২৪, ৫২৪

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 সুন্নীদের অবস্থান

📄 সুন্নীদের অবস্থান


চতুর্থ: সুন্নীদের অবস্থান। হিযবুল্লাহর ও ইহুদীদের মধ্যকার যুদ্ধ যেহেতু স্বার্থের খেলা, তাই সুন্নীদের এক্ষেত্রে কোনো মতামত থাকতে পারে না, বিষয়টি আমার কাছে মোটেও এমন মনে হয় না। এ নিয়ে অবশ্য আমার অনেক শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকের সঙ্গে আমার দ্বিমত দেখা দিয়েছে। কারণ, উভয় দল ভ্রান্ত হওয়ায় এ ক্ষেত্রে তাঁরা নীরব থাকার পক্ষে। কিন্তু প্রত্যেক মুসলিমেরই তো একটি সুস্পষ্ট ও সুনিশ্চিৎ দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। এবং সে সবকিছুর ভালো-মন্দ বিবেচনা করে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

এই যুদ্ধের একপক্ষ ইহুদী সম্প্রদায় যারা অন্যায়ভাবে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে আছে। আর অপরপক্ষ হিযবুল্লাহ; যাদের দেশে ইহুদীরা অনুপ্রবেশ করেছে। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি, যে-কোনো মূল্যে ইহুদীদের শক্তি খর্ব হওয়াই এখানে কাম্য। কেননা, তাদের অন্যায়-আগ্রাসন দিনের আলোর মতো সুস্পষ্ট। একইভাবে লেবানন থেকেও ইহুদীদের বিতাড়িত করা আবশ্যক। আরও আবশ্যক হলো, মুসলিম উম্মাহর নিজেদের হক সম্পর্কে সচেতন হওয়া; হিযবুল্লাহ কিংবা ইহুদীদের অবৈধ হস্তক্ষেপ থেকে তা রক্ষা করা।

১৯৯৭ সালে লেবানন থেকে ইহুদীদের বিতাড়নের উদ্দেশ্যে যে আন্দোলন গড়ে ওঠেছিল, তাতে সুন্নীদের বিপুল অংশগ্রহণ আমার কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে; যদিও এর নেতৃত্বে ছিল হিযবুল্লাহ এবং তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে সুন্নীদের সকল অবদান অস্বীকার করেছিল। কিন্তু সবশেষে মুসলিম উম্মাহর একটি সুস্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ও অবস্থান কিন্তু আছে।

আমরা অনেকেই জানি, আবু জাহেল জনৈক মুশরিকের মাল আত্মসাৎ করলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকের পক্ষ নেন। তখন কিন্তু নবীজি এ কথা বলেননি, মুশরিক তো তার মাল দেবতার জন্য উৎসর্গ করবে, তাই থাক—তার পক্ষ আমি নেব না। বরং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মুশরিকের পক্ষ নিলেও পরবর্তী সময়ে তার ধর্মের বিপক্ষে গিয়ে তাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন।

সুতরাং এ বিষয়গুলো আমাদের কাছে মোটেও সংশয়পূর্ণ নয়। এই অঞ্চলে শিয়া মতাদর্শ বাস্তবায়নে হিযবুল্লাহর যাবতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কেও আমরা অনবগত নই। কিন্তু হাল-জমানায় ইহুদীদের প্রতিহত করার বিষয়টি বেশিই গুরুত্বপূর্ণ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px