📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 হিযবুল্লাহর প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিশৃঙ্খলা

📄 হিযবুল্লাহর প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিশৃঙ্খলা


একদিকে লেবাননে গৃহযুদ্ধের অগ্নি দিন-কে-দিন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে; অপরদিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে হারকাতু আমালিল ইসলামিয়ার শক্তি ও সক্ষমতা। একপর্যায়ে দলটির প্রধান দায়িত্বশীল আব্বাস আল-মুসাভী ১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘হারকাতু আমালিল ইসলামিয়া’-র পরিবর্তে ‘হিযবুল্লাহ’ নামে একটি নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন। এর তিন মাস পর ১৯৮৫ সালের মে মাসে নাবীহ বারির নেতৃত্বাধীন হারকাতু আমাল ফিলিস্তিনীদের ওপর এক জঘন্য হত্যাকাণ্ড চালায়। যাতে শত শত ফিলিস্তিনী প্রাণ হারায়। এ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ লেবানন থেকে ফিলিস্তিনীদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণ লেবানন ও বিকা অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হারকাতু আমাল ও হিযবুল্লাহর মাঝে মারাত্মক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এই দ্বন্দ্ব একসময় সংঘাতে রূপ নেয়। পরিশেষে ১৯৮৮ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে হিযবুল্লাহ বিজয় লাভ করলে সকল দ্বন্দ্বের অবসান ঘাটে। যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর হারকাতু আমালের শতকরা ৯০ জন সদস্য হিযবুল্লাহয় যোগদান করে। আর হিযবুল্লাহ ছিল ইরানের প্রতি অনুগত, সিরিয়ার মদদপুষ্ট। এসব কারণে হারকাতু আমাল যাবতীয় সামরিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিয়ে নিছক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এতে হিযবুল্লাহর পথের কাঁটা অনেকটাই পরিষ্কার যায়। কিন্তু ঝামেলা একটা রয়ে যায় ইহুদীদের জন্য। কেননা ইহুদীরা শিয়াদের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ লেবানন দখল করে আছে। এ কারণে তারা বৈরুতের কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে সেখান থেকে ইহুদীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা সহজ হয়।

বৈরুতের পূর্বাঞ্চল খ্রিষ্টান অধ্যুষিত হওয়ায় সেদিকে না গিয়ে, হিযবুল্লাহ রওনা করে পশ্চিম দিকে, বিশেষত দক্ষিণ দিকে। এরপর অস্ত্রের জোরে একটু একটু করে সেসব এলাকা দখল করতে থাকে। দখলকৃত অঞ্চলগুলো যে ছিল সুন্নী অধ্যুষিত, সে কথা তো বলাই বাহুল্য। সেখানে তারা সাধারণ জমির পাশাপাশি সুন্নীদের মালিকানাধীন জমিতেও স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। এ ব্যাপারে লেবানন সরকার ছিল একেবারেই নিশ্চুপ।

এভাবে ধীরে ধীরে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল শিয়াদের দখলে চলে যায় এবং সেখানে হিযবুল্লাহর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

টিকাঃ
১. Islamic Hope Movement (حركة أمل الإسلامية)
২. Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC) (الحرس الثوري الإيراني)
৩. ‘হারকাতু আমালিল কুওমিয়া’ (حركة أمل القومية) দ্বারা সম্ভবত ‘হারকাতু আমালিল ইসলামিয়া’ গঠিত হওয়ার পর ‘হরকাতু আমাল’-এর বাকি অংশকে বোঝানো হয়েছে, যা ছিল নাবীহ বারির নেতৃত্বাধীন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি। -অনুবাদক

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 ইহুদীদের দমন এবং সুন্নীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা

📄 ইহুদীদের দমন এবং সুন্নীদের প্রতি অকৃতজ্ঞতা


১৯৮৯ সালে জনাব খোমেনী মৃত্যুবরণ করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন ইরানী বিপ্লবের পথপ্রদর্শক আলী খামেনেয়ী। নেতার পরিবর্তন ঘটলেও হিযবুল্লাহর আনুগত্যে কোনো পরিবর্তন আসে না। অর্থাৎ, হিযবুল্লাহর কাছে আলী খামেনেয়ীও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে গৃহীত হন।

১৯৮৯ সালেই সৌদি সরকারের উদ্যোগে লেবাননে গৃহযুদ্ধে লিপ্ত দলগুলো তায়েফে সমবেত হয় এবং সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘাটে। একই বছর লেবাননী সুন্নীদের বিশিষ্ট মুরুব্বি শায়খ হাসান খালিদ রহিমাহুল্লাহকে হত্যা করা হয়। যিনি ১৯৬৬ সাল থেকে লেবাননের প্রধান মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সুন্নীরা অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। অপরদিকে লেবাননের ভূমিতে ‘ইসলামী’ দল হিসেবে হিযবুল্লাহর নাম উঠে আসতে থাকে।

যেসব এলাকা নিয়ে শিয়ারা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র কায়েম করতে চেয়েছিল সেগুলো ছিল ইহুদীদের দখলে। তাই তারা সেসব এলাকা স্বাধীন করার লক্ষ্যে ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সিরিয়ার প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সহযোগিতা তো ছিলই, সেই সঙ্গে ইরান থেকে আসে অঢেল সম্পদ। এসব দেখে ইহুদীরা বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৯৯২ সালে হিযবুল্লাহর মহাসচিব আব্বাস আল-মুসাভীকে হত্যা করে ফেলে। এরপর হিযবুল্লাহর মহাসচিব পদে আসীন হন জনাব হাসান নাসরুল্লাহ।

একই বছর সুন্নীরা নতুন নেতৃত্বের সন্ধান পেয়ে তার চারপাশে ভিড় জমাতে শুরু করে। নতুন এই নেতার নাম রফিক আল-হারীরী। তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সব সময় তিনি লেবাননকে দু-হাতে ঢেলে সাজাতে চেষ্টা করেছেন। তার প্রতি লেবাননের অসংখ্য মানুষ আস্থা রাখছে অনায়াসে।

১৯৯৬ সালে ইহুদীরা লেবাননে ‘ক্রোধের আঙুর অভিযান’ নামে এক পাশবিক হত্যাযজ্ঞ চালায়। যার ফলে লেবাননীদের হৃদয়ে ইহুদীদের দখলদারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগে।

এজন্য ইহুদীদের প্রতিরোধকল্পে হিযবুল্লাহ ‘লেবাননী প্রতিরক্ষা ব্রিগেড’ গঠনের ঘোষণা দেয়। এই বাহিনীতে দলমত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ যোগদান করে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুন্নীদের অংশগ্রহণ ছিল সবচেয়ে বেশি তথা, ৩৮ শতাংশ। এ ছাড়া শিয়া ছিল ২৫ শতাংশ, দ্রুজ ২০ শতাংশ এবং খ্রিষ্টান ১৭ শতাংশ।

২০০০ সালে সম্মিলিত হামলার ফলে ইহুদীরা ‘মাযারিউ শিবা’ বা ‘শিবা খামার’ নামক অঞ্চল বাদে দক্ষিণ লেবাননের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। সঙ্গে সঙ্গে হিযবুল্লাহ এই এলাকাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এমনকি লেবাননী সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপও তারা প্রত্যাখ্যান করে।

টিকাঃ
১. Operation Grapes of Wrath (عملية عناقيد الغضب)
১. Lebanese Resistance Brigades
২. Shebaa Farms (মাজারিউ শিমা)

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 রফিক আল-হারীরীর দাবি এবং শিয়াদের তোড়জোড়

📄 রফিক আল-হারীরীর দাবি এবং শিয়াদের তোড়জোড়


ইহুদীরা লেবানন ছেড়ে যাওয়ার বছরই রফিক আল-হারীরী নতুন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি তার অধীনস্থদের নিয়ে সর্বজনবিদিত সুন্নী প্রতিনিধি হিসেবে নতুনভাবে এমন এক আদর্শিক অবস্থানে উন্নীত হন, যা বাস্তবিকভাবেই লেবাননী শিয়াদের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে গৃহীত হয়।

এদিকে হিযবুল্লাহর শক্তি দিনদিন বেড়েই যাচ্ছিল; আর তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, কীভাবে ইরান-সিরিয়া সমর্থিত কাঙ্ক্ষিত সেই শিয়া রাষ্ট্র গড়ে তোলা যায়। কিন্তু রফিক আল-হারীরী ও তারা যাবতীয় প্রয়াসের কারণে বিষয়গুলো লেবাননী জনসাধারণের কাছে সমতুল মনে হতে থাকে।

২০০৪ সালের কথা। লেবাননে তখন বিপুলসংখ্যক সিরীয় সৈন্যের অবস্থান। হঠাৎ রফিক আল-হারীরী এই সৈন্যবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলেন। দাবি উপেক্ষিত হলে তিনি পদত্যাগ করে বসেন। এরপর ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে বৈরুতে নিজ গাড়িতে রফিক আল-হারীরী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

লেবাননে তখন অনেকগুলো গোয়েন্দা সংস্থার লোক কাজ করছিল। তার মধ্যে মার্কিন, ফরাসী, সিরীয়, ইরানী, ইরাকী সংস্থার কথা উল্লেখযোগ্য। এদের সকলের টার্গেট ছিল সুন্নীদেরকে রফিক আল-হারীরীর মতো একজন সুযোগ্য ও মহান নেতার নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করা।

হারীরী হত্যাকাণ্ডের পর লেবাননের পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের আঙুল উত্থিত হয় সিরিয়ার দিকে। এজন্য সিরিয়াকে লেবানন থেকে সরে আসার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও চাপ প্রয়োগ করা হয়। হিযবুল্লাহ তখন এ সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। এমনকি লেবাননে সিরীয় সেনাদের অবস্থানের পক্ষে তারা ২০০৫ সালের ৮ই মার্চ এক বিরাট লংমার্চের আয়োজন করে।

তাদের প্রতিরোধকল্পে গড়ে ওঠে ‘তাইয়্যারুল মুসতাকবাল’ বা ‘ভবিষ্যৎ আন্দোলন’। এটি ছিল সাদ আল-হারীরী নেতৃত্বাধীন হারীরী পরিবারের আন্দোলন। উপরন্তু দ্রুজ নেতা ওয়ালীদ জুমবলাত নেতৃত্বাধীন ‘গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট’ এবং ম্যারোনাইট খ্রিষ্টান নেতা সামির জায়জায় নেতৃত্বাধীন ‘লেবানন বাহিনী’-র সমর্থন লাভ করে। এরপর ২০০৫ সালের ১৪ই মার্চ সিরীয় সেনাদের বিতাড়নের দাবি নিয়ে এক বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মার্চের ১৪ তারিখে হওয়ায় বিশাল এই জনসমাগমকে ‘১৪ই মার্চ’ নামে অভিহিত করা হয়। এ বিক্ষোভের তোপে চলতি মাসেই সিরীয় সেনাবাহিনী লেবানন ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

টিকাঃ
১. Future Movement (تيار المستقبل)
২. كتلة اللقاء الديمقরাطي
৩. Lebanese Forces (القوات اللবنانية)

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 হিযবুল্লাহর সঙ্কট এবং ২০০৬ সালের যুদ্ধ

📄 হিযবুল্লাহর সঙ্কট এবং ২০০৬ সালের যুদ্ধ


সিরীয় সেনারা লেবানন ছেড়ে গেলে হিযবুল্লাহ বহুমুখী সঙ্কটের সম্মুখীন হয়; বিশেষত হারীরীর মৃত্যুর পর সাম্প্রদায়িক কলহ বৃদ্ধি পেলে তারা দিশেহারা হয়ে যায়। তাই এ পর্যায়ে তারা বিভিন্ন শক্তিশালী দলের সাথে মিলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে ২০০৫ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

এ লক্ষ্যে তারা তিনটি দলের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়। সেগুলো হলো সুন্নীদের তাইয়ারুল মুসতাকবাল, দ্রুজদের তাইয়ারু জুমবালাত এবং হারকাতু আমাল। এদের মাঝে প্রথম দুটি দলের সাথে শত্রুতার বিষয়টি তো সকলেরই জানা। অতঃপর তাদের এ জোট ‘চারদলীয় ঐক্যজোট’ নামে লোকমুখে প্রসিদ্ধি পেতে থাকে। চারদলীয় এই জোটের প্রার্থীরা জাতীয় নির্বাচনে ১২৮টি আসনের ৭২টিতে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং ফুয়াদ সিনিওরার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে।

মতের চরম অমিল থাকা সত্ত্বেও একরকম নিরুপায় হয়েই হিযবুল্লাহ সুন্নীদের নৌকায় পা রেখেছিল। উদ্দেশ্য ছিল নিজেদেরকে জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে পেশ করা। কিন্তু এরপরও হাসান নাসরুল্লাহ সাধারণত কোনো সভা-সমাবেশে উপস্থিত না হয়ে কেবলই প্রতিনিধি পাঠাতেন। ভাবটা ছিল এমন, যেন তিনি অন্যান্য নেতাদের সমকক্ষের কেউ নন, বা তিনি তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ সম্ভবত ছিল ২০০৬ সালের ১২ জানুয়ারি ইহুদীদের ওপর সামরিক অভিযান চালিয়ে দুজনকে বন্দি ও আটজনকে হত্যা করতে পারা। এই অভিযানে হিযবুল্লাহ রাষ্ট্রের কারও কাছে কোনো রকম সাহায্য কামনা করেনি, না প্রত্যক্ষভাবে, না পরোক্ষভাবে। আর যাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাদের কাছেও যেতে হয়নি কোনো প্রয়োজন নিয়ে। যদিও বাস্তবতা হলো এই অভিযানে একসময় সম্পূর্ণ রাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে, ইহুদীদের বিরুদ্ধে কেবল হিযবুল্লাহই নয়, অন্যরাও লড়ে।

প্রসিদ্ধ এ যুদ্ধটি ঘটে ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে। টানা ৩৩ দিন পর্যন্ত ইহুদীরা লেবাননে বোমাবর্ষণ করতে থাকে। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রথমে হিযবুল্লাহ এবং পরে লেবাননের সম্পূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া। জবাবে হিযবুল্লাহও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে শুরু করে। লেবাননের ভূখণ্ডে অসংখ্য মানুষের লাশ পড়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত ইহুদীরা হিযবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে সক্ষম হয়নি। এটিকে হিযবুল্লাহর জন্য অনেক বড়ো অর্জন হিসেবে দেখা হয়। কেননা, হিযবুল্লাহর হামলা বন্ধের পূর্বেই ইহুদীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল; বন্দি সৈন্যদের মুক্ত করতেও ছিল অক্ষম।

যুদ্ধ শেষ হলো; ক্ষতি যা হওয়ার হয়েই গেল, লেবাননী জাতিকে স্বদেশের ছিন্নভিন্ন রূপ দেখতে হলো। দেখতে হলো, হিযবুল্লাহরূপী শিয়াদের উত্থান, যারা তখন উন্নত ইরানী অস্ত্রেশস্ত্রে সুসজ্জিত ছিল এবং যাদের পক্ষে ছিল সিরিয়ার সর্বাত্মক সমর্থন। এসব দেখে খুব সহজেই আন্দাজ করা যাচ্ছিল লেবাননের ভবিষ্যৎ-নেতৃত্ব শিয়াদের হাতেই। বিশেষত, হিযবুল্লাহকে ইহুদীদের বিরুদ্ধে লড়তে ও জয়ী হতে দেখে মুসলিম উম্মাহর আবেগী সমর্থন তখন ছিল তাদের পক্ষেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px