📄 শিয়াদের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা
শিয়াদের প্রত্যক্ষ হুমকি কেবল ইরাকের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেই নয়; তাদের লালসার দৃষ্টি পড়েছে আশপাশের দেশগুলোর দিকেও। যেমন, বাহরাইনকে তারা ইরানেরই অংশ মনে করে। এ ব্যাপারে ইরানী বিপ্লবের ত্রিশতম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিপ্লবের অধিনায়কের দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাধারণ পরিদর্শনের প্রধান জনাব আলী আকবর নাতেক নূরী বলেন, 'বাহরাইন তো ছিল ইরানের চৌদ্দতম রাজ্য। সেখানকার শাসক ছিলেন ইরানের জাতীয় পরামর্শ-সভার একজন প্রতিনিধি।'
সকলেরই জানা, আরব উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এখন ইরানের দখলে। অপরদিকে আমিরাতে তাদের নাগরিক দিনদিন শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে সেখানকার মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ ইরানী। সাথে বিভিন্ন ব্যবসা-কেন্দ্র-বিশেষত, দুবাই এখন তাদের কব্জায়।
সৌদি আরবের পরিস্থিতিও স্থিতিশীল নয়। ১৯৭৯ সালে ইরানী বিপ্লবের সূচনাকাল থেকে সেখানে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিপ্লবের পর থেকে এসব সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কাতিফ ও সীহাত নামক এলাকার তাদেরকে বিক্ষোভ পর্যন্ত করতে দেখা গেছে। এরমধ্যে ১৯৭৯ সালের ১৯ নভেম্বরের ঘটনাটি ছিল ভয়ংকর। এ ছাড়া কখনো কখনো পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে, যাতে বিক্ষোভের মাত্রা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছে; এমনকি বাইতুল্লাহয় আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। যেমনটি দেখা গেছে ১৯৮৭ ও ১৯৮৯ সালের হজের মৌসুমে।
ইরাকে সাদ্দাম হোসাইনের শাসনাবসানের পর ৪৫০ জন শিয়া নেতা সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ আব্দুল্লাহর কাছে একটি আবেদনপত্র পেশ করেন। যাতে মন্ত্রিপরিষদ থেকে শুরু করে কূটনৈতিক, সামরিক ও প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থাপনা, এমনকি পরামর্শসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর উঁচু উঁচু পদ তারা দাবি করেন।
ইরানী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপদেষ্টা জনাব আলী শামখানী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আমেরিকা যদি নাক গলিয়েই ফেলে, তাহলে ইরান কেবল তাদের উপসাগর-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ বিনষ্ট করেই ক্ষান্ত হবে না; বরং সেখানে থাকা তাদের যাবতীয় সামরিক কার্যক্রম ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে ধূলিসাৎ করে দেবে। এবং আরব উপসাগরীয় দেশসমূহে তাদের যতগুলো তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে, সবগুলো ধ্বংস করে দেবে।'
২০০৭ সালে ১০ জুন ব্রিটেনের টাইমস পত্রিকায় এ খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এখানেই কি শেষ? তা কিন্তু মোটেও নয়। এখানো না বলা অনেক কথা রয়েই গেছে। এই প্রবন্ধে আমরা এমন পাঁচটি দিক তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি যা থেকে শিয়া মতবাদের ক্ষতিকর দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে যায়।
খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে, মুসলিম উম্মাহর জন্য শিয়া- সংক্রান্ত বিষয়-আশয় একপাশে রাখার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং তাদের কথায় কান দেওয়া যাবে না, যারা বিষয়টি একেবারে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার দাবি জানায়। কেননা, মুসলিম উম্মাহর সম্মুখে গুরুতর সকল সমস্যার শীর্ষে রয়েছে শিয়া-সমস্যা। ইতিহাস থেকে আমরা জেনেছি, সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী ফিলিস্তিনকে ক্রুসেডারমুক্ত করার আগে মিশরকে উবাইদিয়া শাসন-মুক্ত করেছেন। তখন কিন্তু সুলতান এ কথা বলেননি যে, ক্রুসেডার-দমন বেশি গুরুত্বপূর্ণ; শিয়াদেরকে পরে দেখে নেওয়া যাবে। কারণ, বিশুদ্ধ আকীদা ও দীনের প্রতি একনিষ্ঠতা ছাড়া মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধে জয়ী হওয়া অসম্ভব। আর সুলতানের মিশন বাস্তবায়নে মিশরবাসীকে তখনই যুক্ত করা সম্ভব হবে, যখন তাদেরকে বিদআতী উবাইদিয়া শাসন থেকে মুক্ত করা যাবে।
সে সময় সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী মিশরের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বর্তমানে ইরাকের ব্যাপারেও আমাদের পরামর্শ তা-ই। ওই সকল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য, যে সকল রাষ্ট্রের কাছে শিয়ারা ভীতির কারণ। পরিশেষে আবারও বলতে চাই, ইতিহাস থেকে উপদেশ গ্রহণের কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই।