📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 ইরাকের বিরাজমান ভয়ংকর পরিস্থিতি

📄 ইরাকের বিরাজমান ভয়ংকর পরিস্থিতি


ইরাকে তারা একাধিকবার সুন্নী মুসলিমদের ওপর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এসব যেন শখের বশে কিংবা ভালো লাগে বলেই তারা করে। 'জাবহাতু উলামায়িল মুসলিমিন আস-সুন্নাহ'-র মহাসচিব হারেস আদ-দারির দেওয়া তথ্যমতে শুধু ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিয়াদের হাতে এক লাখেরও বেশি সুন্নী মুসলমান প্রাণ হারিয়েছে। শিয়া-শাসনের পথ মসৃণ করতে বিভিন্ন স্থানে তারা লাগাতার উচ্ছেদ অভিযানও চালিয়েছে। উপরন্তু এসব অভিযানে ইরাকের বাইরেও বিতাড়িতদের অধিকাংশই সুন্নী মুসলমান। নিঃসন্দেহে এ কারণে জনসংখ্যার গঠনে বিরূপ পরিবর্তন সৃষ্টি করবে; যার পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ।

আচ্ছা, এই সুন্নীদের ওপর এমন হত্যাকাণ্ড চালানোর চেয়ে শিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কি তুলনামূলক বড়ো ফিতনা? যদি তা না হয়, তাহলে কতদিন আর আমরা এভাবে চুপ থাকব? এসব হত্যাকাণ্ডে যে ইরানের পূর্ণ সমর্থন আছে তা কি কারও অজানা?

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 ইরাক নিয়ে ইরানের প্রত্যাশা যথেষ্ট পরিষ্কার

📄 ইরাক নিয়ে ইরানের প্রত্যাশা যথেষ্ট পরিষ্কার


ইতঃপূর্বে ইরান ও ইরাকের মাঝে দীর্ঘ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, যা চলমান থেকেছে লাগাতার আট-আটটি বছর। এখন তো একের জন্য অপরের দরোজা খোলা। বিশেষত শিয়াদের তীর্থস্থান হিসেবে ইরাক ধর্মীয়ভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ইরাকে রয়েছে শিয়াদের ছয়জন ইমামের সমাধি। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর সমাধি নাজাফে: হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুর সমাধি কারবালায়: মুসা আল-কাজিম ও মুহাম্মদ আল-জাওয়াদের কবর বাগদাদে: মুহাম্মদ আল-হাদী ও হুসাইন আল-আসকারীর কবর রয়েছে সামাররায়। এ ছাড়া নিতান্তই ধারণাপ্রসূত বলা হয় যে, ইরাকে হযরত আদম, নূহ, হুদ, সালেহ আলাইহিমুস সালামের মতো অসংখ্য নবী-রাসূলের সমাধি রয়েছে। কিন্তু এ তথ্যটি মোটেও সত্য নয়।

ইরাক নিয়ে শিয়াদের যে প্রত্যাশা তাতে ঝুঁকিপূর্ণ আরেকটি দিক হলো, স্বয়ং আমেরিকা তাদের স্বপ্ন পূরণে সমর্থন দিচ্ছে, সাহায্য করছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমেরিকা বরাবরই শিয়াদের পাশে আছে। আর ইরান-আমেরিকা যে হুমকি-ধমকির বিনিময় দেখা যায়, তা কেবলই সাজানো নাটক। কেননা, ইরানে হামলার ব্যাপারে আমেরিকার আদৌ কোনো পরিকল্পনা নেই।

মারাত্মক উদ্বেগের বিষয় হলো, তাদের লোভ কেবল ইরাকের পেট্রোল ও অন্যান্য সম্পদের প্রতিই নয়; এমনকি, শিয়াদের সাম্রাজ্যের বিস্তারও এখানে উপলক্ষ্যই মাত্র; বস্তুত, এসব জুলুম অত্যাচার তাদের ধর্মীয় এজেন্ডার অন্তর্ভুক্ত, যা হয়তো আমরা আঁচও করতে পারিনি। তো, শিয়াদের বিশ্বাস অনুযায়ী যে সকল সাহাবী ও তাঁদের অনুসারী আহলে বাইতের প্রতি শত্রুতা পোষণ করত বা করে, তারাই সুন্নী। শিয়ারা তাঁদের নাম দিয়েছে 'নাসিব' বা 'নাওয়াসিব'। অথচ বাস্তবতা হলো, তাঁরা আহলে বাইতের প্রতি তাদের চেয়ে অনেক বেশি ভক্তি-ভালোবাসা লালন করেন। কিন্তু ওই মিথ্যার ওপর ভিত্তি করেই তারা সুন্নী-দমন নীতি প্রণয়ন করেছে; বৈধ করে নিয়েছে তাদের জান-মাল, ইজ্জত-আবরু।

যেমন দেখুন, শিয়াদের বর্তমান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা জনাব খোমেনী বলেন, 'শক্তিশালী মত হলো, গনিমতের বৈধতা ও খুমুস আবশ্যক হওয়ার দিক থেকে নাসিবরা আহলে হারবের মতোই। বরং আরও নির্ভরযোগ্য মত হলো, তাদের ধন-সম্পদ যেখানে যেভাবে পাওয়া যাবে সেখানে সেভাবেই লুটে নেওয়ার বৈধতা রয়েছে এবং তা থেকে যথারীতি খুমুসও আদায় করতে হবে।'

শিয়াদের আরেক নেতা মুহাম্মদ সাদিক রুহানীকে ইমাম দ্বাদশের ইমামত অস্বীকারকারী ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হলে এক অদ্ভুত জবাব দেন। তিনি বলেন, 'নিশ্চই ইমামত নবুওয়তের চেয়েও শ্রেষ্ঠতর। আমিরুল মুমিনীনকে ইমাম নিযুক্ত করার মাধ্যমে দীন-ইসলাম পূর্ণতা পেয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম।" সুতরাং, যে ব্যক্তি ইমাম দ্বাদশের ইমামতের প্রতি বিশ্বাস রাখবে না সে কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে।'

জনাব খোমেনী তার আল-হুকুমাতুল ইসলামিয়া গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, তাদের ইমামরা মর্যাদার যে স্তরে উন্নীত হয়েছেন, কোনো ফেরেশতা কিংবা নবী-রাসূলও সে স্তরে পৌঁছতে পারেননি। তাই ইমামদের অস্বীকার করা স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করার চেয়েও গুরুতর অপরাধ। এ বিশ্বাস থেকেই সুন্নীরা তাদের চোখে কাফের সাব্যস্ত হয়। ফলে ইরাকী সুন্নীদের রক্ত তাদের কাছে হালাল হয়ে যায়; আবশ্যক হয়ে যায় ইরাকের ভূখণ্ড নিজেদের অধীনে নিয়ে আসা। কেননা ইরাকে রয়েছে অসংখ্য পবিত্র স্থান, যা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী কাফেরদের কবলে।

টিকাঃ
১. ঘুমুস: এক-পঞ্চমাংশ। যুদ্ধসংক্রান্ত বিশেষ পরিভাষা। সূরা আল-আনফাল এর ৪১ নং আয়াত দ্রষ্টব্য। -অনুবাদক
২. আহলে হারব: এমন অমুসলিম সম্প্রদায়, যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা বৈধ। -অনুবাদক
৩. ইমাম খোমেনী কৃত তাহরীরুল ওসিলাহ; ১/৩৫২
৪. সূরা আল-মায়েদা; আয়াত: ৩
৫. জনাব রুহানীর ফতোয়াটি www.imamrohani.com সাইটে পাওয়া যাবে।

📘 শিয়া মতবাদঃ ধারণা ও বাস্তবতা 📄 শিয়াদের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা

📄 শিয়াদের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা


শিয়াদের প্রত্যক্ষ হুমকি কেবল ইরাকের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধেই নয়; তাদের লালসার দৃষ্টি পড়েছে আশপাশের দেশগুলোর দিকেও। যেমন, বাহরাইনকে তারা ইরানেরই অংশ মনে করে। এ ব্যাপারে ইরানী বিপ্লবের ত্রিশতম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিপ্লবের অধিনায়কের দফতরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাধারণ পরিদর্শনের প্রধান জনাব আলী আকবর নাতেক নূরী বলেন, 'বাহরাইন তো ছিল ইরানের চৌদ্দতম রাজ্য। সেখানকার শাসক ছিলেন ইরানের জাতীয় পরামর্শ-সভার একজন প্রতিনিধি।'

সকলেরই জানা, আরব উপসাগরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এখন ইরানের দখলে। অপরদিকে আমিরাতে তাদের নাগরিক দিনদিন শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে সেখানকার মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ ইরানী। সাথে বিভিন্ন ব্যবসা-কেন্দ্র-বিশেষত, দুবাই এখন তাদের কব্জায়।

সৌদি আরবের পরিস্থিতিও স্থিতিশীল নয়। ১৯৭৯ সালে ইরানী বিপ্লবের সূচনাকাল থেকে সেখানে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিপ্লবের পর থেকে এসব সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কাতিফ ও সীহাত নামক এলাকার তাদেরকে বিক্ষোভ পর্যন্ত করতে দেখা গেছে। এরমধ্যে ১৯৭৯ সালের ১৯ নভেম্বরের ঘটনাটি ছিল ভয়ংকর। এ ছাড়া কখনো কখনো পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে, যাতে বিক্ষোভের মাত্রা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়েছে; এমনকি বাইতুল্লাহয় আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। যেমনটি দেখা গেছে ১৯৮৭ ও ১৯৮৯ সালের হজের মৌসুমে।

ইরাকে সাদ্দাম হোসাইনের শাসনাবসানের পর ৪৫০ জন শিয়া নেতা সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ আব্দুল্লাহর কাছে একটি আবেদনপত্র পেশ করেন। যাতে মন্ত্রিপরিষদ থেকে শুরু করে কূটনৈতিক, সামরিক ও প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থাপনা, এমনকি পরামর্শসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর উঁচু উঁচু পদ তারা দাবি করেন।

ইরানী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপদেষ্টা জনাব আলী শামখানী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আমেরিকা যদি নাক গলিয়েই ফেলে, তাহলে ইরান কেবল তাদের উপসাগর-সংশ্লিষ্ট স্বার্থ বিনষ্ট করেই ক্ষান্ত হবে না; বরং সেখানে থাকা তাদের যাবতীয় সামরিক কার্যক্রম ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে ধূলিসাৎ করে দেবে। এবং আরব উপসাগরীয় দেশসমূহে তাদের যতগুলো তেল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে, সবগুলো ধ্বংস করে দেবে।'

২০০৭ সালে ১০ জুন ব্রিটেনের টাইমস পত্রিকায় এ খবরটি প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এখানেই কি শেষ? তা কিন্তু মোটেও নয়। এখানো না বলা অনেক কথা রয়েই গেছে। এই প্রবন্ধে আমরা এমন পাঁচটি দিক তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি যা থেকে শিয়া মতবাদের ক্ষতিকর দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে যায়।

খুব ভালো করে মনে রাখতে হবে, মুসলিম উম্মাহর জন্য শিয়া- সংক্রান্ত বিষয়-আশয় একপাশে রাখার কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং তাদের কথায় কান দেওয়া যাবে না, যারা বিষয়টি একেবারে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার দাবি জানায়। কেননা, মুসলিম উম্মাহর সম্মুখে গুরুতর সকল সমস্যার শীর্ষে রয়েছে শিয়া-সমস্যা। ইতিহাস থেকে আমরা জেনেছি, সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী ফিলিস্তিনকে ক্রুসেডারমুক্ত করার আগে মিশরকে উবাইদিয়া শাসন-মুক্ত করেছেন। তখন কিন্তু সুলতান এ কথা বলেননি যে, ক্রুসেডার-দমন বেশি গুরুত্বপূর্ণ; শিয়াদেরকে পরে দেখে নেওয়া যাবে। কারণ, বিশুদ্ধ আকীদা ও দীনের প্রতি একনিষ্ঠতা ছাড়া মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধে জয়ী হওয়া অসম্ভব। আর সুলতানের মিশন বাস্তবায়নে মিশরবাসীকে তখনই যুক্ত করা সম্ভব হবে, যখন তাদেরকে বিদআতী উবাইদিয়া শাসন থেকে মুক্ত করা যাবে।

সে সময় সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী মিশরের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বর্তমানে ইরাকের ব্যাপারেও আমাদের পরামর্শ তা-ই। ওই সকল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য, যে সকল রাষ্ট্রের কাছে শিয়ারা ভীতির কারণ। পরিশেষে আবারও বলতে চাই, ইতিহাস থেকে উপদেশ গ্রহণের কোনো বিকল্প আমাদের হাতে নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px