📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কারো বিশেষ মর্যাদা কাউকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে না

📄 কারো বিশেষ মর্যাদা কাউকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে না


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা ওলিগণ কে আল্লাহ তা'আলা যে মর্যাদা দিয়েছেন তা তাঁদের প্রতি আল্লাহর একটি করুণা বিশেষ। তাঁদেরকে এ মর্যাদা প্রদানের অর্থ এটা নয় যে, এ মর্যাদার দিক লক্ষ্য করে আল্লাহ তাঁদেরকে কোনো প্রকার বিপদ দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না। আমাদের নবীর জীবনে তাঁর শত্রুদের পক্ষ থেকে অসংখ্য বিপদ এসেছে। বিভিন্ন সময় তিনি অসুস্থও হয়েছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-নিজের মর্যাদার ওসীলায় স্বয়ং নিজেকে ভাগ্য বিড়ম্বনার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন নি। এমতাবস্থায় অন্যরা তাঁর মর্যাদার ওসীলায় কী করে রক্ষা পেতে পারে? বস্তুত তাঁর এ মর্যাদার ওসীলায় কেউ এ দুনিয়ায় যেমন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে না, তেমনি আখেরাতেও পারবে না। ইহ-পরকালীন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন যথার্থ ঈমান ও সঠিক কর্মের। বিপদ যাতে না আসে সে জন্য সর্বাগ্রে আল্লাহর নিকট বিপদ থেকে আশ্রয় চাইতে হবে। যেসব কারণে বিপদ আসে তা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সকাল ও সন্ধ্যায় দো'আ-কালাম পাঠ করে শরীরে ঝাড়ফুঁক দিতে হবে। এর পরেও যদি বিপদ এসে যায় তা হলে তা দূরীকরণের জন্য ওসীলার বৈধ পন্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে আল্লাহর ইচ্ছা ও দয়া হলে তিনি বিপদ দূর করে দেবেন। বিপদ দূর করার জন্য রাসূল বা অলিগণের নামের ওসীলায় আল্লাহর কাছে দো'আ করা বিপদ দূরীকরণের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নয়। সেজন্য সলফে সালেহীনদের মাঝে এ-জাতীয় ওসীলা গ্রহণের কোনো প্রচলন লক্ষ্য করা যায় না।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কারো বিশেষ মর্যাদার ওসীলায় আখেরাতে কেউ বিপদ থেকে রক্ষা পাবেনা

📄 কারো বিশেষ মর্যাদার ওসীলায় আখেরাতে কেউ বিপদ থেকে রক্ষা পাবেনা


কারো মর্যাদার ওসীলায় যেমন কেউ ইহকালীন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে না, তেমনি কেউ কারো মার্যাদার খাতিরে পরকালীন বিপদ থেকেও রক্ষা পেতে পারে না। যদি কেউ পারতো তা হলে সর্বাগ্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয়রাই তা পারতেন। কিন্তু দেখা যায় রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ-জাতীয় সম্ভাবনার কথা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর কোনো নিকটাত্মীয়দের মনে যাতে এ-জাতীয় ধারণার উদ্রেক না হয়, সে-জন্য তিনি তাদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি বনী হাশিম ও বনী মুত্তালিব এমনকি তাঁর কলিজার টুকরা মা ফাতেমাকেও ডেকে বলে দিয়েছিলেন:
«لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا»
“আমি আল্লাহর শাস্তির হাত থেকে তোমাদের রক্ষা করতে পারবো না”।২৪৯ আল্লাহর কাছে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অফুরন্ত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তিনি যদি তাঁর মর্যাদার ওসীলায় তাঁর নিকটাত্মীয়দেরকে পরকালীন বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারেন, তাঁর আত্মীয়রা যদি আখেরাতে তাঁর মর্যাদার দ্বারা কোনো উপকার পেতে না পারে, তা হলে এ- জগতে আর কে থাকতে পারেন যিনি তাঁর নিজের মর্যাদার ওসীলায় তাঁর নিকটাত্মীয় ও ভক্তদেরকে পরকালীন বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন ?!
প্রকৃতকথা হচ্ছে-পরকালীন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপযুক্ত উপায় হচ্ছে-রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে সঠিক ঈমান ও বিশুদ্ধ 'আমল দ্বারা নিজের জীবনকে পরিশুদ্ধ করা। যারাই এ যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হবে, তারাই হয় বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে, না হয় হালকা হিসেব হবে, প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফা'আত লাভে ধন্য হবে। এর বাইরে প্রারম্ভে কোনো পীর বা ওলির ওসীলায় কারো পার পাবার কোনই উপায় নেই। কিন্তু সাধারণ জনমনে ওলিদের ব্যাপারে এ-জাতীয় ধারণার জন্ম হওয়ার ফলেই তারা ওলিদের কবরে নানারকম উপাসনা করার মাধ্যমে তাঁদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে চেষ্টা করে। এ-উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য তাদের কেউবা কবরের খেদমত করে, কেউবা সেখানে মানত করে। কেউবা সেখানে যেয়ে বসে থেকে ধ্যানে মগ্ন হয়ে মুরাক্বাবা ও মুশাহাদা করে। কেউবা কবরের পার্শ্বে নামায পড়ে। কেউবা সেখানে অনুনয় বিনয় করে দো'আ করে। কেউবা সেজদাবনত হয় ইত্যাদি...। আর এ-সব কর্মের মাধ্যমে তারা কবরস্থ ওলির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর দয়া ও কৃপা অর্জন করতে চায় এবং তাঁদের দয়ার ওসীলায় আখেরাতে পরিত্রাণ পেয়ে আল্লাহর নিকটতম হতে চায়। তবে এ-জাতীয় কর্মকারীদের জানা আবশ্যক যে, তারা যে ধারণার ভিত্তিতে মাযার ও কবরে এ-সব কর্ম করেন, আরবের মুশরিকরাও ঠিক এ ধারণার ভিত্তিতেই তাদের ওলিদের মূর্তিকে কেন্দ্র করে এ-সব করতো। যার প্রমাণ এ পরিচ্ছেদের প্রারম্ভেই প্রদান করা হয়েছে।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ওসীলায় দো'আ করা বৈধ বলা সম্পর্কিত কতিপয় দলীল ও এর খণ্ডন

📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ওসীলায় দো'আ করা বৈধ বলা সম্পর্কিত কতিপয় দলীল ও এর খণ্ডন


ব্যক্তি নবী ও তাঁর মর্যাদা এবং হুরমতের ওসীলা গ্রহণকে যারা বৈধ মনে করেন তারা নিম্নে বর্ণিত দলীলসমূহ দ্বারা তাদের ধারণার সত্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকেন।

প্রথম দলীল:
কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ইয়াহুদীদের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন:
﴿وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُم مَّا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ، فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴾
"যখন তাদের (ইয়াহুদীদের) নিকট আল্লাহর এমন কিতাব এসে পৌঁছলো, যা তাদের নিকট থাকা কিতাবে (বর্ণিত বিষয়) এর সত্যায়ন করে, অথচ তারা ইতোপূর্বে তাদের কিতাবে বর্ণিত নবীর শুভাগমনের কথা ব'লে (অদূর ভবিষ্যতে আওছ এবং খযরজ গোত্রীয়) কাফিরদের উপর বিজয় কামনা করতো। অতঃপর যখন তাদের কাছে সেই পরিচিত কিতাব এসে পৌঁছলো, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসলো। অতএব অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত"।২৫০
রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ বৈধ বলার দাবীদারগণ বলেন: উক্ত আয়াতে বর্ণিত وَ كَانُوا مِنْ قَبْلُ ... عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا এ-অংশ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের পূর্বে মদীনার আওছ ও খযরজদের সাথে ইয়াহুদীদের যুদ্ধ বাধলে তারা রাসূলের মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ করে ওদের উপর বিজয়ী হওয়ার জন্য দো'আ করতো। অত্র আয়াতে আল্লাহ তাদের এ-ওসীলা গ্রহণের বিষয়টিকে প্রশংসামূলকভাবে বর্ণনা করায় এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম, মর্যাদা ও হুরমতের ওসীলা গ্রহণ করে দো'আ করা বৈধ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।২৫১

তাদের এ-দলীলের জবাব:
বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে এ-আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মোট দু'টি ব্যাখ্যা বর্ণিত হয়েছে। এর একটি হচ্ছে:
أَنْ يَهُودًا كَانُوا يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الْأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাধ্যমে আওস ও খযরজদের উপর বিজয় কামনা করতো”।২৫২ অপরটি হচ্ছে:
يَسْتَنصِرُونَ بِخُرُوجِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مُشْرِكِي الْعَرَبِ
"ইয়াহুদীরা নবী মুহাম্মদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শুভাগমনের মাধ্যমে আরবের মুশরিকদের উপর বিজয় কামনা করতো"।২৫৩
এ-দু'টি ব্যাখ্যার মধ্য হতে প্রথমটির দ্বারা বাহ্যত সমাজে প্রচলিত ওসীলার বৈধতা প্রমাণিত হলেও দ্বিতীয়টি দ্বারা তা প্রমাণিত হয় না, কেননা, দ্বিতীয়টিতে রয়েছে-তারা রাসূলুল্লাহ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের ওসীলায় বিজয়ের জন্য দো'আ করতো, তাঁর মর্যাদার ওসীলায় নয়। যার অর্থ দাঁড়ায়: তিনি আগমন করলে তারা তাঁর অনুসারী হয়ে ভবিষ্যতে তাদের শত্রুদের উপর বিজয়ী হবে। আর প্রথমটির দ্বারা মর্যাদার ওসীলার কথা বাহ্যত বুঝা গেলেও সাহাবা, তাবেঈ ও তাফসীরকারকগণ তা বুঝেন নি। কেননা, এ-আয়াতের ব্যাখ্যায় আনসারদের বরাতে ইয়াহূদীদের যে-সব বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে, তাতে দ্বিতীয় অর্থেরই সমর্থন পাওয়া যায়। আনসারদের বর্ণনানুযায়ী তারা তাদের শত্রুদের বলতো:
(أن نبيا سيبعث الأن نتبعه قد أظل زمانه فنقتلكم معه قتل عاد وإرم....)
“একজন নবী অচিরেই প্রেরিত হবেন, আমরা তাঁর অনুসরণ করবো, যার আগমনের সময় নিকটবর্তী হয়ে গেছে, তখন আমরা তাঁর সাথে হয়ে তোমাদেরকে 'আদ' ও 'ইরম' জাতির ন্যায় পাইকারীভাবে হত্যা করবো"।২৫৪
বিশিষ্ট তাবেঈ আবুল 'আলিয়া (রহ.) এর দৃষ্টিতে তারা তাদের এ ওসীলায় বলতো:
اللهم ابعث هذا النبي الذي نجده مكتوبا عندنا حتى نعذب المشركين ونقتلهم
"হে আল্লাহ! আমরা যাতে মুশরিকদেরকে শাস্তি দিতে ও হত্যা করতে পারি, সে-জন্যে আমাদের কিতাবে আমরা যে নবীর বর্ণনা পাই, আপনি তাঁকে প্রেরণ করুন"।২৫৫
উক্ত উদ্ধৃতিসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, উক্ত আয়াতের এ অংশ দ্বারা কোনোভাবেই রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ বৈধ হওয়ার অর্থ গ্রহণ করা যায় না। আর ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার প্রথম ব্যাখ্যার দ্বারা বাহ্যত এটি বুঝা গেলেও আসলে এর দ্বারা বাহ্যিক সে অর্থ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তিনি যে কথাটি বলতে চেয়েছেন তা হলো: ইয়াহুদীরা আওস এবং খযরজ বংশের লোকদেরকে বলতো: আজ হয়তো আমরা তোমাদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হচ্ছি, তবে অচিরেই একজন নবীর আগমন ঘটবে, তখন আমরা তাঁর অনুসরণ করে তোমাদের উপর যুদ্ধে বিজয়ী হবো। আমাদের অনেকের মাঝে ব্যক্তি রাসূল বা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ওসীলায় দো'আ করে কিছু কামনা করার যে রীতি রয়েছে, ঠিক সেভাবে তারা সমাগত ব্যক্তি রাসূল বা তাঁর মর্যাদার ওসীলা করে আল্লাহর নিকট তাঁর আগমনের পূর্বে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো বিজয় কামনা করে কোনো দো'আ করে নি। সে-জন্য ইমাম ইবনে কাছীর এ-আয়াতের অর্থ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেছেন:
(أي وكانوا من قبل مجيء هذا الرسول بهذا الكتاب يستنصرون بمجيئه على أعدائهم من المشركين إذا قاتلوهم يقولون إنه سيبعث نبي في آخر الزمان نقتلكم معه قتل عاد وإرم.)
"অর্থাৎ এ কিতাবসহ এ নবীর আগমনের পূর্বে যখন মুশরিকদের সাথে তাদের যুদ্ধ হতো তখন তারা সে নবীর আগমনের ওসীলা করে (ভবিষ্যতে) বিজয় কামনা করতো। তারা বলতো: নিশ্চয় অচিরেই শেষ যুগে একজন নবী প্রেরিত হবেন, তাঁকে সাথে করে আমরা তোমাদেরকে 'আদ' ও 'ইরম' জাতিকে আল্লাহ যেমন ধ্বংস করেছিলেন সেভাবে ধ্বংস করবো"।২৫৬
উল্লেখ্য যে, তারা যে তাদের কিতাবে বর্ণিত কিতাব ও নবীর আগমনের প্রতি ঈমান আনয়নের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল, সে জন্য অত্র আয়াতে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন। সে নবীর ওসীলায় দো'আ করার জন্য মূলত তাদের প্রশংসা করা হয় নি। প্রতিক্ষিত সে কিতাব ও নবীর আগমনের পর তারা যখন ঈমান আনয়ন করে নি, তখন আল্লাহ অত্র আয়াতে তাদের সমালোচনাও করেছেন।
উক্ত বর্ণনাসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আসলে উক্ত আয়াত দ্বারা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণিত হয় না। কাজেই যারা এর দ্বারা তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, তারা ভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছেন২৫৭।

দ্বিতীয় দলীল:
মক্কার কাফিরগণ সত্যের প্রতি হিংসা ও শত্রুতাবশত বলেছিল: “হে আল্লাহ মুহাম্মদের দ্বীন যদি আপনার নিকট থেকে প্রদত্ত সত্য দ্বীন হয়ে থাকে, তা হলে আপনি আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করুন অথবা আমাদের উপর মর্মন্তুদ শাস্তি নাযিল করুন।”২৫৮
আল্লাহ তাদের এ দো'আর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বলেন:
﴿ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنتَ فِيهِمْ ﴾
"আপনি তাদের মাঝে থাকাবস্থায় আল্লাহ কখনই তাদেরকে শাস্তি দেবেন না "।২৫৯ যারা ব্যক্তি রাসূল বা তাঁর মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ বৈধ বলে মনে করেন তারা বলেন: এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মক্কার কাফিররা ব্যক্তি রাসূল বা তাঁর মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ না করেও তিনি মক্কায় থাকার ওসীলায় তারা আল্লাহর সমূহ শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে। তাঁর কারণে আল্লাহ তাদের উপর আযাব নাযিল করা থেকে বিরত রয়েছেন। কাফিররা যদি রাসূলের ওসীলা গ্রহণ না করেও তাঁর মর্যাদার ওসীলায় বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে, তা হলে আমরা তাঁর ওসীলা গ্রহণ করে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারবো না কেন?

তাদের এ-দলীলের জবাব:
কতিপয় কারণবশত এ আয়াত দ্বারা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলায় দো'আ করা জায়েয বলে প্রমাণ করা যায় না। কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. কাফিররা যদি রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামের ওসীলা গ্রহণ করার ফলে আযাব থেকে রক্ষা পেতো, তা হলে এমন কথা বলা যেতো। কিন্তু তারাতো তা করে নি। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাদের আযাব থেকে রক্ষা পাবার মূল কারণ রাসূলের মর্যাদার ওসীলা নয়। বরং অন্য কোনো কারণবশত তারা আযাব থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
২. তাদের উপর আজাব নাজিল না হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা পূর্ব থেকে এ মর্মে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন যে, কোনো জনপদের অস্বীকৃতির কারণে তাদের মাঝে তাদের নবী থাকাবস্থায় তাদেরকে পাইকারী আযাব দ্বারা ধ্বংস করবেন না। আল্লাহর এই পূর্ব সিদ্ধান্ত না হলে অবশ্যই তিনি কাফিরদের দো'আ কবুল করে তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দিতেন। রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদাই যদি কাফিরদের আজাব থেকে বাঁচার মূল ওসীলা হতো, তা হলে তো তিনি মক্কা থেকে চলে আসার পরপরই তাদের উপর শাস্তি এসে যেতো। কিন্তু তা তো আসে নি। এতে প্রমাণিত হয় যে, তাদের শাস্তি থেকে রক্ষা পাবার মূল কারণ রাসূলের ওসীলা নয়, বরং আল্লাহর উপর্যুক্ত পূর্ব সিদ্ধান্ত এবং আল্লাহর এ-জাতীয় সিদ্ধান্ত যে শুধু আমাদের রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারেই ছিল, তা নয়, বরং এটি ছিল সকল নবীদের উম্মতের ব্যাপারে আল্লাহর একটি চিরাচরিত নিয়ম।২৬০ কাওমে 'আদ, ছামূদ ও লুত্ ইত্যাদি জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলেও দেখা যায় তাদের নবীগণ যতদিন তাদের মাঝে ছিলেন, ততদিন তাদের উপর আজাব আসে নি। তাঁরা তাদের জাতি থেকে দূরে চলে যাওয়ার পর তাদের উপর আল্লাহর আজাব নাজিল হয়েছিল।
৩. আল্লাহর এ কর্মকে আমরা যদি ওসীলা হিসেবে গণ্য করি, তবুও এতে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্তা বা তাঁর মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ করা আমাদের জন্য বৈধ হয়ে যাবে না। কেননা, কোনো কর্ম আল্লাহর জন্য বৈধ হয়ে থাকলেও তা আমাদের জন্য বৈধ হয়ে যাওয়া জরুরী হয়ে যায়না। উদাহরণস্বরূপ শপথের কথা বলা যায়। আল্লাহর পক্ষে তাঁর যে কোনো সৃষ্টির নাম নিয়ে শপথ করা জায়েয; কিন্তু আমাদের জন্য তা জায়েয হওয়া তো দূরের কথা, তা শির্কে আকবার হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।
উক্ত কারণসমূহের দিক লক্ষ্য করলে প্রমাণিত হয় যে, কোনো ভাবেই এ-আয়াত দ্বারা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম, হুরমত ও মর্যাদার ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণ করা যায় না।

তৃতীয় দলীল:
'উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেন:
«لَمَّا اقْتَرَفَ أَدَمُ الْخَطِيئَةَ قَالَ : يَا رَبِّ أَسْأَلُكَ بِحَقِّ مُحَمَّدٍ لِمَا غَفَرْتَ لِي ...»
“আদম-আলাইহিস সালাম-যখন অন্যায় করলেন তখন তিনি বলেন: হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট মুহাম্মদের অধিকারের ওসীলায় ক্ষমা ভিক্ষা করছি...”৷ ২৬১
রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকার, মর্যাদা ও জাতের ওসীলা গ্রহণ করে দো'আ করা বৈধ বলে দাবীদারগণ বলেন:এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলা গ্রহণ করে দো'আ করা বৈধ। আর সে-জন্যেই আদম (আলাইহিস সালাম) তাঁর অধিকারের ওসীলা গ্রহণ করে দো'আ করেছিলেন।

তাদের এ দলীলের খণ্ডন:
এ-হাদীসটি যদিও রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারের ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণ করে, তবে দু'টি কারণে এ-হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়:

প্রথম কারণ:
ইমাম হাকিম (রহ.) এ-হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলে দাবী ক'রে থাকলেও অন্যান্য হাদীস বিশেষজ্ঞগণ এ-হাদীসটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট হাদীস বলে মন্তব্য করেছেন। যেমন প্রখ্যাত হাদীস বিশেষজ্ঞ ইমাম যাহাবী বলেন:
(إنه حديث موضوع ؛ لأن في سنده عبد الله بن مسلم ، ولا أدري من ذا ؟ و عبدالرحمن واه.)
"এ-হাদীসটি মাওদু' বা জাল। কারণ, এর সনদে 'আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছে, এ লোকটি কে? তা আমি জানিনা। এর সনদে 'আব্দুর রহমান নামে অপর এক ব্যক্তি রয়েছে, যার ব্যাপারে কিছুই জানা যায় নি"।২৬২
ইমাম ইবনে হাজার 'আসক্বালানী বলেন:
"এ-হাদীসটি বাতিল হাদীসের অন্তর্গত।২৬৩ তিনি বলেন:এ- হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে একজনের নাম হচ্ছে 'আব্দুল্লাহ, যিনি ইমাম লাইছ, মালিক ও ইবনে লাহী'আঃ এর নামে হাদীস তৈরীর অভিযুগে অভিযুক্ত, এ ব্যক্তির হাদীস লেখার যোগ্য নয়। ইমাম হাকিমের ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ হয় যে, তিনি তাঁর মুসতাদরাক গ্রন্থে (৩/৩৩২) 'আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ এর অপর একটি হাদীস বর্ণনা করে সেটিকে সহীহ বলেন নি, বরং সেখানে বলেছেন: ইমাম বুখারী ও মুসলিম এ ব্যক্তিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন নি। এটি তাঁর একটি পরস্পর বিপরীতমুখী বক্তব্য। একস্থানে এ ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং অপর স্থানে তাকে দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন"।২৬৪

দ্বিতীয় কারণ:
এ হাদীসের বক্তব্য কুরআনের সম্পূর্ণ বিপরীত। এ হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, আদম আলাইহিস সালাম মুহাম্মদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারের ওসীলায় স্বীয় গুনাহ থেকে মার্জনা পেয়েছিলেন, অথচ কুরআন বলছে যে,
﴿فَتَلَقَّى ءَادَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴾
“অতঃপর আদম স্বীয় রবের নিকট থেকে কিছু বাক্য শিখে নিলেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন, নিশ্চয় তিনি অত্যন্ত তাওবা গ্রহণকারী ও দয়ালু”।২৬৫ আদম আলাইহিস সালাম- আল্লাহর নিকট থেকে যে বাক্যসমূহ শিক্ষা করেছিলেন তা সূরা আ'রাফের ২৩ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। সে আয়াতটি নিম্নরূপ:
﴿ قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ ﴾
“আদম ও হাওয়া বলেছিলেন: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের নিজেদের উপর অত্যাচার করেছি, তুমি যদি আমাদের ক্ষমা করে রহম না কর, তা হলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্গত হয়ে যাবো”।২৬৬ ইমাম যামাখশারীর (মৃত ৫২৯হি:) মতে উক্ত এ দো'আ পাঠের ওসীলা করেই আদম-(আলাইহিস সালাম)-আল্লাহর নিকট দো'আ করেছিলেন।২৬৭
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকুফ সনদে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, আদম আলাইহিস সালাম অন্যায় করার পর নিম্নোক্ত দো'আ পাঠ করে আল্লাহর নিকট মাগফেরাত কামনা করেন:
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَ تَعَالَى جَدُّكَ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرَ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ.٢٦٨
উক্ত দু'টি আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আদম আলাইহিস সালাম উক্ত এ দো'আ শিক্ষা করে এর ওসীলায় আল্লাহর কাছে তাঁর কৃত অপরাধ মার্জনার জন্য দো'আ করেছিলেন। মুহাম্মদ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারের ওসীলায় তিনি তাঁর অপরাধ মার্জনার জন্য দো'আ করেন নি। আর ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মাওকুফ হাদীস দ্বারা উক্ত দো'আ পাঠ করার কথা প্রমাণিত হয়। তাই সনদের দিক থেকে রাসূলের নামের ওসীলা গ্রহণ সংক্রান্ত হাদীসটি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি কুরআনের উক্ত আয়াত দু'টির মর্ম এবং ইবনে মাসউদের হাদীসের বিপরীতমুখী হওয়ায় সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, উক্ত হাদীসটি মিথ্যা। এ-জাতীয় হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকার, মর্যাদা ও সত্তার ওসীলা গ্রহণ করার বৈধতা প্রমাণ করা যায় না।

চতুর্থ দলীল:
রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেছেন: تَوَسَّلُوْا بِجَاهِي فَإِنَّ جَاهِي عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ
"তোমরা আমার মর্যাদার ওসীলা কর, কেননা আল্লাহর কাছে আমার বড় ধরনের মর্যাদা রয়েছে"।২৬৯

এ দলীলের খণ্ডন:
এ হাদীসটি ইমাম ত্বাবরানী ও হাকিম সহীহ বলে সত্যায়ন করলেও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণের মতে তা সহীহ নয়। এ হাদীসের সনদে রওহ ইবনে সালাহ নামে একজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছেন। আবু নাঈম বলেছেন: “রওহ ইবনে সালাহ এ হাদীসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাকে ইমাম ইবনে আদী দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন”।২৭০ ইমাম ইবনে ইউনুস বলেছেন: “এ ব্যক্তি থেকে অনেক মুনকার (নির্ভরযোগ্য রাবীদের বর্ণনার বিপরীতমুখী) হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম দারকুত্বনী তার ব্যাপারে বলেছেন: হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে লোকটি দুর্বল”।২৭১
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাঃ স্বীয় 'আলকাওয়াইদুল জালীলাঃ' গ্রন্থের ১৩২ ও ১৫০ পৃষ্ঠায় বলেন:
[إنه لا يوجد لهذا الحديث أصلا في أي كتب الحديث ، ولا يذكره كحديث إلا من هو جاهل ، وليس لديه أدنى معرفة بعلم الحديث".]
"কোন হাদীসের কিতাবে এ হাদীসের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়না। জাহেল ও হাদীস সম্পর্কে যার কোনো জ্ঞান নেই কেবল সে ব্যতীত আর কেউই এটিকে হাদীস হিসেবে বর্ণনা করতে পারে না"।২৭২
তিনি আরো বলেন: “অবশ্যই আল্লাহর কাছে রাসূলুল্লাহ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা অন্যান্য রাসূলদের চেয়ে অধিক রয়েছে, তবে আল্লাহর কাছে তাঁর মর্যাদা মানুষের পারস্পরিক মর্যাদার মত নয়। কারণ, কারো পক্ষে আল্লাহর পূর্বানুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে কারো জন্যে শাফা'আত করা সম্ভবপর নয়, পক্ষান্তরে একজন মানুষ তার মর্যাদার ওসীলায় অপর মানুষের কাছে তার অনুমতি ব্যতীতই শাফা'আত করতে পারে, এটা এ-জন্য যে, শাফা'আতকারী ও শাফা'আত গ্রহীতা উভয়ই উদ্দেশ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সমভাবে শরীক। (অর্থাৎ এখানে শাফা'আত দ্বারা তাদের উভয়ের উদ্দেশ্যই হাসিল হবে, উভয়েই উপকৃত হবে) কিন্তু আল্লাহর ব্যাপারটি এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। কেননা, কারো উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়া বা না হওয়া এককভাবে আল্লাহর ইচ্ছার উপরেই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, এ-ক্ষেত্রে কেউ তার শাফা'আত দ্বারা তাঁর সাথে শরীক হতে পারে না"।২৭৩
উক্ত হাদীসটি সহীহ না হওয়াতে এবং রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার বিষয়টি ব্যবহারযোগ্য কোনো বিষয় না হওয়াতে এ হাদীস দ্বারাও রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার ওসীলায় দো'আ করা বৈধ বলে প্রমাণিত হয় না।

পঞ্চম দলীল:
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাতা ফাতেমা বিনতে সা'দ মৃত্যুবরণ করলে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-তাঁর নিজের এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণের অধিকারের ওসীলায় আল্লাহর কাছে তার জন্য মাগফিরাত কামনা করেন"।২৭৪
এ হাদীস দ্বারাও রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর অধিকার ও মর্যাদার ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণের চেষ্টা করা হয়।

এ দলীলের খণ্ডন: এ হাদীসটি ইমাম হাকিম ও ইবনে হিববান বিশুদ্ধ বলে মতামত দিয়ে থাকলেও আসলে তা বিশুদ্ধ নয়। কারণ, হাদীসের সহীহ ও দুর্বল পরিচয়ের ক্ষেত্রে এ দু'জনের চেয়েও অধিক অভিজ্ঞ ইমাম ইবনে 'আদী, দারাকুত্বনী ও ইবনে মা'কুলা এ হাদীসের সনদে 'রওহ ইবনে সালাহ' নামক দুর্বল বর্ণনাকারী থাকায় এটাকে তাঁরা দুর্বল হাদীস বলে মন্তব্য করেছেন। হাদীস বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বলে আখ্যা দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা দু'জন কাঠিন্যতা আরোপ না করার কারণেই এ ব্যক্তিকে তাঁরা নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তবে অন্যান্যরা এ ব্যক্তিকে দুর্বল বলেছেন। এমনকি এ ব্যক্তিকে তাঁরা অনেক 'মুনকার' হাদীস বর্ণনাকারী বলেও অভিযুক্ত করেছেন।২৭৫
কাজেই এ হাদীস দ্বারাও রাসলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকারের ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণ করা যায় না।

ষষ্ঠ দলীল:
ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণের জন্য তারা লোকমুখে বহুল প্রচলিত একটি হাদীস দ্বারা দলীল দিয়ে থাকেন। হাদীসটি নিম্নরূপ:আল্লাহ তা'আলা বলেন: «لَوْلَاكَ لَمَا خَلَقْتُ الْأَفْلَاكَ»
“হে মুহাম্মদ! তুমি না হলে অমি জগত সৃষ্টি করতাম না”।
তাদের মতে আল্লাহ তা'আলা যদি রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসীলায় এ-জগত সৃষ্টি করে থাকেন। তা হলে আমাদের পক্ষে তাঁর ওসীলা গ্রহণ করা অবৈধ হতে পারে না।

এ দলীলের খণ্ডন:
এ হাদীসটি লোকমুখে বহুল প্রচলিত হয়ে থাকলেও মূলত এটি কোনো হাদীস নয়। ইমাম সাগানী এটিকে মাওদু' হাদীস বলে আখ্যায়িত করেছেন।২৮৩ এ হাদীসের অর্থ [ خَلَقْتُ لَوْلَاكَ لَمَا الدُّنْيَا ] “তুমি না হলে আমি এ-দুনিয়া সৃষ্টি করতাম না”-এ মর্মে বর্ণিত হাদীস দ্বারা শক্তি সঞ্চয় করলেও ইমাম ইবনুল জাওযী ও ইমাম সুয়ূতী এ হাদীসকেও মাওদু' বলে আখ্যায়িত করেছেন।২৮৪
এ দু'টি হাদীস সহীহ হলেও এর দ্বারা আমাদের পক্ষে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামের ওসীলা গ্রহণ করে দো'আ করা বৈধ হবে না। কেননা, আল্লাহর জন্য কোনো কাজ বৈধ হয়ে থাকলেও আমাদের জন্য তা বৈধ হতে হলে তাঁর সুস্পষ্ট নির্দেশ ব্যতীত তা আপনা আপনি বৈধ হয়ে যায় না। তিনি তাঁর উত্তম নামাবলীর ওসীলা গ্রহণ করে আমাদেরকে দো'আ করতে আদেশ করার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাঁর নাম ব্যতীত অপর কারো নামের ওসীলায় তাঁর কাছে দো'আ করা বৈধ নয়।

সপ্তম দলীল:
উমাইয়্যাঃ ইবন 'আব্দুল্লাহ নামক তাবেঈ থেকে একটি মুরসাল হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, "রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-অভাবী মুহাজিরদের ওসীলায় যুদ্ধে জয় কামনা করতেন"।২৮৫ এ হাদীসেও মুহাজিরদের দো'আর কথা বর্ণিত হয় নি। যার ফলে রাসূল ও নেক মানুষদের নাম, জাতসত্তা ও মর্যাদার ওসীলায় দো'আ করা বৈধ বলে দাবীদারগণ এ হাদীস দ্বারাও দলীল দিয়ে থাকেন।

এ দলীলের খণ্ডন:
এ হাদীসটি মুরসাল হয়ে থাকলেও সনদের দিক থেকে সর্ব সম্মতভাবে তা সহীহ। কিন্তু এর দ্বারাও কারো নাম, জাতসত্তা, মর্যাদা ও হুরমতের ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণ করা যায় না। কেননা; এ হাদীস দ্বারা মূলত নিঃস্ব মুহাজিরদের জাত ও নামের ওসীলায় দো'আ করার কথা উদ্দেশ্য করা হয় নি। বরং তাতে তাঁদের দো'আর ওসীলায় দো'আ করার কথাই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। বিশিষ্ট মনীষীদের বক্তব্যের দ্বারা এ সত্যই পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। যেমন শেখ মানাবী জামি'উস সগীর গ্রন্থে এ হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন:
"মুসলিমদের মধ্যকার ফকীরদের দ্বারা বরকত অর্জন করে তাঁদের দো'আর ওসীলায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বিজয় কামনা করেছিলেন। তাঁদের মানসিক বিপর্যয় সাধিত হওয়ার কারণে তাঁদের দো'আ অধিক গৃহীত হওয়ার আশায় তাঁদের দো'আর ওসীলা গ্রহণ করেছিলেন। মুল্লা 'আলী আল-ক্বারী আল-হানাফী (রহ.) বলেন: “সম্ভবত মুহাজিরদেরকে নির্দিষ্ট করার কারণ হচ্ছে-তাঁরা ছিলেন গরীব, মজলুম, নিপীড়িত ও মুজাহিদ; ফলে তাঁদের দো'আর প্রভাব অন্যান্য সাধারণ মু'মিন ও ধনীদের দো'আর চেয়ে অধিক হতে পারে ভেবে তাঁদের দো'আর ওসীলা গ্রহণ করেছিলেন"।২৮৬
রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা, হক ও জাতের ওসীলা গ্রহণ করা বৈধ বলে যারা দাবী করেন তারা উক্ত দলীলসমূহ ছাড়াও আরো কিছু অপ্রচলিত হাদীস বা ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ দ্বারাও তা বৈধ বলে প্রমাণ করার প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকেন। যেমন একটি ঘটনার বর্ণনায় রয়েছে: একদা উম্মে আয়মান রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশ্রাব পান করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তাঁকে বলেছিলেন:
"আজকের পরে তোমার কখনও পেটের পীড়া হবেনা"।২৮৭
অনুরূপভাবে অপর এক ঘটনায় রয়েছে যে, মালিক ইবনে সিনান রাদিয়াল্লাহু আনহু উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রক্ত পান করেছিলেন। এতে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেন:
"আমার রক্ত যার রক্তকে স্পর্শ করেছে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করতে পারবে না"।২৮৮
উম্মে আয়মান এর ঘটনাটির বর্ণনা কোনো হাদীস গ্রন্থে নেই। ইবনে কাছীর স্বীয় ইতিহাস গ্রন্থে ইমাম আবু ইয়া'লা এর মুসনাদের বরাত দিয়ে এ ঘটনাটি বর্ণনা করলেও তিনি তা সহীহ না দুর্বল-এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেন নি। যদি এটিকে একটি বিশুদ্ধ বর্ণনা হিসেবেও ধরে নেয়া হয়, তবুও এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামের ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণ করা যাবে না। কেননা, ঘটনার বিবরণে প্রকাশ যে, তিনি পিপাসার তাড়নায় এমনটি করেছিলেন। এর দ্বারা বরকত গ্রহণ করে বিভিন্ন অসুখের হাত থেকে রক্ষা পাবার উদ্দেশ্যে তা পান করেন নি। তিনি যদি এ কারণে পেটের পীড়া থেকে রক্ষা পেয়েও থাকেন, তবে তা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দো'আর বরকতে হয়ে থাকবে, তাঁর প্রশ্রাব পান করার কারণে নয়। কেননা, রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশ্রাব পান করা যদি জায়েয হতো, এর দ্বারা যদি বরকত গ্রহণ করা জায়েয হতো, তা হলে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ তাঁর অযুর অবশিষ্ট পানি, শরীরের ঘাম ও থুথু দ্বারা যেমন বরকত গ্রহণ করতেন, তেমনি তাঁর প্রশ্রাব দ্বারাও বরকত গ্রহণ করতেন। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ নেই। কাজেই প্রমাণিত হয় যে, এ ঘটনার দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নাম ও জাতের ওসীলা গ্রহণ করার বৈধতা প্রমাণ করা যায় না।
আর মালিক ইবনে সিনান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনাটি ইবনে কাছীর ইবনে হেশাম থেকে বর্ণনা করলেও এ বর্ণনাটি বিশুদ্ধ কি না, তিনি তা উল্লেখ করেন নি। তিনি বরং এর পাশাপাশি অপর একটি 'মুরসাল' হাদীস বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর খাদেম সালিম রাদিয়াল্লাহু আনহু উহুদের যুদ্ধে রাসূল- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রক্ত পান করেছিলেন।২৮৯ এ বর্ণনাটি প্রমাণ করে যে, মালিক ইবনে সিনান এর রক্ত পান সংক্রান্ত বর্ণনাটি সঠিক নয়। ঘটনা যদি সঠিকও হয়, তবুও এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম, জাতসত্তা, মর্যাদা ও হুরমতের ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণ করা যাবে না। কেননা, মালিক ইবন সেনান রাদিয়াল্লাহু আনহু তো রাসূলুল্লাহ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বারা ওসীলা গ্রহণের জন্য তাঁর রক্ত পান করেন নি। বরং রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালবাসা এবং তাঁর রক্তের দ্বারা বরকত গ্রহণের উদ্দেশ্যেই তিনি তা পান করেছিলেন। আর এ-কারণেই রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তাঁর জন্য এ দো'আ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় বা তাঁর তিরোধানের পর তাঁর শরীরের সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু দিয়ে বরকত গ্রহণ বৈধ হওয়া আর তাঁর নাম ও মর্যাদা বা অধিকার দিয়ে ওসীলা করা কোনভাবেই এক জিনিস নয়। যারা এটিকে এক ভাবেন তারা যে ভুলের মধ্যেই রয়েছেন- তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এ-ছাড়াও তারা আরো কিছু মিথ্যা হাদীস দ্বারা তা প্রমাণের চেষ্টা করে থাকেন। বর্ণনা দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার কারণে তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।

সারকথা:
এ দীর্ঘ আলোচনার দ্বারা এ-কথা প্রমাণিত হলো যে, মহান আল্লাহ এ জগতের কোনো নবী বা ওলিকে তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য নির্ধারণ করেননি। এটি সাধারণ মানুষের মাঝে শয়তানের দেয়া একটি ভ্রান্ত ধারণা বৈ আর কিছুই নয়। শয়তান এ ভ্রান্ত চিন্তাধারাটিকে যেমন জাহেলী যুগের মুশরিকদের মধ্যে চালিয়ে দিয়েছিল, তেমনি তা ইসলাম পরবর্তী যুগের বহু মুসলিমদের মধ্যেও চালিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। মহান আল্লাহ অতীব দয়াবান। তিনি তাঁর বান্দাদের অপরাধ মার্জনা করার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা তাদের যাবতীয় সমস্যার কথা তাঁর সমীপে নিজেরাই সরাসরি উপস্থাপন করতে পারে। এ জন্য মৃত বা জীবিত কোনো নবী বা ওলিদের মধ্যস্থা গ্রহণের কোনই বাধ্যবাধকতা নেই। কেননা, সৎ ও অসৎ নির্বিশেষে সকলের জন্যই তাঁর রহমতের দরজা সমানভাবে উন্মুক্ত। তারা তাদের মনের কথা তাঁর নিকট কোনো ওসীলা ছাড়াই বলতে পারে। তবে যেহেতু আল্লাহর নিকট কিছু চাওয়ার পূর্বে কোনো সৎ কর্মের ওসীলায় চাওয়া তাঁর নিকট কিছু চাওয়ার আদাবের অন্তর্গত, সে-জন্যে তাঁরা তাঁর (আল্লাহর) নামের ওসীলায় বা ওসীলার অন্যান্য যে-সব বৈধ পন্থা রয়েছে, সে-সবের ওসীলায় তা চাইতে পারে। জীবিত সৎ মানুষের দো'আর ওসীলা গ্রহণ বৈধ ওসীলার একটি প্রকার হয়ে থাকলেও মৃত সৎ মানুষের নাম ও মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ করার কোনই বৈধতা নেই। কেননা, এটি কোনো সৎকর্ম নয়। বরং এটি আল্লাহর নামের ওসীলা গ্রহণের পরিবর্তে তাঁর সৃষ্টির নামের ওসীলা গ্রহণের শামিল। এ জাতীয় ওসীলাকারীর মনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তা শির্কের মত জঘন্য অপরাধে পরিণত হতে পারে। সর্বোপরি এ জাতীয় ওসীলার চিন্তাধারা শয়তান কর্তৃক মুসলিম সমাজে প্রচলিত হওয়ায় এমন ওসীলা গ্রহণ করা থেকে আখেরাতে মুক্তি পাগল মুসলিমদের সতর্ক থাকা আবশ্যক।

টিকাঃ
২৫০. আল-কুরআন, সূরা বাক্বারাঃ:৮৯।
২৫১. অধ্যাপক আহমদ আনিসুর রহমান তাঁর একটি প্রবন্ধে উক্ত আয়াত দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার ওসীলা বৈধ হবার প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। প্রবন্ধটি দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। দেখুন: দৈনিক ইনকিলাব, ১০ ই অক্টোবর, ১৯৯৬ খ্রি.
২৫২. ইবনে কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আজীম; ১/১২৯।
২৫৩. তদেব।
২৫৪. তদেব।
২৫৫. তদেব।
২৫৬. তদেব।
২৫৭. তাছাড়া যদি নবীর ব্যক্তি সত্ত্বার ওসীলাই তারা দিত, আর তা কার্যকরী হত, তবে অবশ্যই তারা (তোমাদের বিশ্বাস মোতাবেক) সবসময় জয়লাভ করত, অথচ বাস্তবে সেটা ঘটে নি, তারা সবসময় জয়লাভ করে নি। [সম্পাদক]
২৫৮. আল-কুরআন, সূরা আনফাল: ৩২।
২৫৯. আল-কুরআন, সূরা আনফাল: ৩৩।
২৬০. মাওলানা মুহাম্মদ শফী', প্রাগুক্ত; পৃ.৫৩০।
২৬১. হাদীসের অবশিষ্ট অংশ নিম্নরূপ: “তখন আল্লাহ বলেন:হে আদম! মুহাম্মদকে সৃষ্টি না করা সত্ত্বেও তুমি কি করে তাঁকে জানতে পারলে? উত্তরে আদম বলেন:আপনি আমাকে সৃষ্টি করে আমার মাঝে রূহ প্রবিষ্ট করার পর যখন আমি মাথা উঁচু করলাম তখন আরশের পায়াতে لا إله إلا الله محمد رسول الله লিখিত দেখতে পেলাম। তখন ভাবলাম আপনি আপনার নামের সাথে সবচেয়ে প্রিয়ভাজনের নামকে মিলিয়ে থাকবেন। আল্লাহ বলেন: হে আদম তুমি ঠিক বলেছো, সে অবশ্যই আমার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয়ভাজন। তুমি তাঁর হকের ওসীলায় আমার নিকট দু'আ করেছো। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর মুহাম্মদ না হলে তোমাকে সৃষ্টি করতাম না”। দেখুন: আন্নীসাপুরী, আবু 'আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন 'আব্দুল্লাহ, আল-মুসতাদরাক; সম্পাদনা: মুস্তফা আব্দুল কাদির আত্মা, (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৯০ খ্রি.), ২/৬৭২।
২৬২. ইবনে হাজার 'আসক্বালানী, লেসানুল মীযান; (বৈরুত: মুআসসাসাতুল এ'লাম লিল মাত্ববূ'আত, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮৬ খ্রি,), ৩/৩৬০।
২৬৩. তদেব।
২৬৪. তিনি বলেন, إنه خبر باطل . وقال : عبد الله بن مسلم متهم بوضع الحديث على ليث و مالك وابن لهيعة. ولا يحل كتب حديثه والعجب من الحاكم نفسه، فإنه قد أورد حديثا آخر في مستدركه (۳۳۲/۳) بسند عبد الرحمن بن زيد و لم يصصحه ، بل قال: والشيخان لم يحتجا بعبد الرحمن بن زيد . و هذا تناقض ظاهر منه ، حيث وثقه في مكان وضعفه في مكان آخر. দেখুন: শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী, আততাওসসুলু আনওয়াউহু ওয়া আহকামুহু; পৃ.১১৫-১১৬।
২৬৫. আল-কুরআন, সূরা বাক্বারাঃ ৩৭।
২৬৬. আল-কুরআন, সূরা আ'রাফ: ৭।
২৬৭. যামাখশারী, জারুল্লাহ মাহমূদ ইবনে ওমর, আল-কাশাফ; (কুতুবখানা মাজহারী, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন), ১/১২৮; আল-কুরতুবী, আহকামুল কুরআন; (আল-হাইআতুল মিশরিয়‍্যাতুল আ-ম্মাহ লিল কুত্তাব, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮৭ খ্রি.), ১/১/৩২৪; আবু বকর জাবির আল-জাযাইরী, আয়সারুত্তাফাসীর; ১/৪৫।।
২৬৮. তদেব। টীকা দ্রষ্টাব্য।
২৬৯. আলহাইছামী, মাজমাউয যাওয়াইদ; ৯/২৫৭; ত্ববরানী স্বীয় কাবীর ও আওসাত গ্রন্থে এবং হাকিম স্বীয় মুসতাদরাক গ্রন্থে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ বলেছেন।
২৭০. আসফাহানী, আবু নাঈম আহমদ ইবন আব্দুল্লাহ, হিলয়াতুল আউলিয়া; (স্থান বিহীন, দারুল কিতাবিল আরাবী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৯৮৫ খ্রি.), ৩/১২১।
২৭১. শায়খ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আল-বানী, আত্তাওয়াস সুলু আনওয়াউহু ওয়া আহকামুহু; পৃ. ১১১।
২৭২. তদেব।
২৭৩. তদেব।
২৭৪. এ হাদীসটি ইমাম হাকিম ও ইবনে হিববান বর্ণনা করে তা সহীহ বলে দাবী করেছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে হাদীসটি সহীহ নয়।
২৭৫. শায়খ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আল-বানী, সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দয়ীফাতি ওয়াল মাওদু'আঃ; (বৈরুত: ১ম সংস্করণ), ১/৩৯৯; ইমাম সাগানী, আল- আহাদীসুল মাওদু'আঃ; পৃ.৭।
২৭৬. বুখারী, প্রাগুক্ত; কিতাবুর রিক্বাক, বাব: ] باب القصد و المداومة على العلمসর্বদা জ্ঞানার্জনে লেগে থাকা), ৪/৩/১৭৭।
২৭৭. শেখ নাসিরুদ্দীন আল-বাণী, আত্তাওয়াস সুলু আনওয়াউহু ওয়া আহকামুহু; পৃ.৫১। শেখ আলবানী একথাটি 'দুররুল মুকতার' গ্রন্থের (২/৬৩০) এর বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন।
২৭৮. সালাফে সালেহীন অপছন্দ বলে নাজায়েয বুঝাতেন। এ ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর ই'লামুল মুওয়াক্কে'য়ীন, নামক গ্রন্থে বিস্তারিত দলীল প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। [সম্পাদক]
২৭৯. তদেব।
২৮০. তিনি বলেন:
"...وليس لأحد على الله حق إلا ما أحقه على نفسه ، كقوله تعالى: ( وكان حقا علينا نصر المؤمنين) سورة الروم : ٤٧ ، ... فهذا حق وجب بكلماته التامة ووعده الصادق، لا أن العبد نفسه مستحق على الله شيئا كما يكون للمخلوق على المخلوق "... দেখুন: ইবনু আবিল ইয্য আল-হানাফী, প্রাগুক্ত; পৃ. ২৬১।
২৮১. তিনি বলেন:
"...(قوله بحق فلان فإن فلانا وإن كان له حق على الله بوعده الصادق) فلا مناسبة بين ذلك و بين إجابة دعاء هذا السائل ، فكأنه يقول : لكون فلان من عبادك الصالحين أجب دعائي، وأي مناسبة في هذا وأي ملازمة ؟ وإنما هذا من الاعتداء في الدعاء". দেখুন: তদেব; পৃ. ২৬২।
২৮২. তিনি বলেন, (إني أكره أن يقول أحد في دعائه : اللهم إني أسألك بحق فلان أو بحق أنبيائك و رسلك) নাসিরুদ্দীন আলবানী, আত্তাওয়াস সুলু আনওয়াউহু ওয়া আহকামুহু; পৃ.৫১।। ইমাম কারখী হানাফী কর্তৃক লিখিত 'কুদূরী' গ্রন্থের ব্যাখ্যা এর 'কারাহাত' অধ্যায় থেকে একথাটি তিনি বর্ণনা করেছেন।
২৮৩. আস-সুয়ূতী, আল-লাআলী উল মাসনূ'আতু ফীল আহাদীসিল মাওদু'আঃ; ১/২৭২; শায়খ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আল-বানী, সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দয়ীফাতি ওয়াল মাওদু'আঃ; পৃ.১/২৯৯।
২৮৪. আস্সুয়ূতী, প্রাগুক্ত; ১/২৭২; শায়খ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আল-বানী, সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দয়ীফাতি ওয়াল মাওদু'আঃ;১/২৯৯।
২৮৫. তাতে এসেছে, عن أمية بن عبد الله بن خالد بن أسيد قال ثم كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يستفتح بصعاليك المهاجرين আত-ত্ববরানী, সুলায়মান ইবন আহমদ, আল-মু'জামুল কবীর; (মুসেল:মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৩ খ্রি.), ১/২৯২।
২৮৬. قال المناوي في شرح الجامع الصغير قوله يستنصر بصعاليك المسلمين أي يطلب . النصر بدعاء فقرائهم تيمنا بهم ولأنهم لانكسار خواطرهم دعاءهم أقرب إجابة ورواه في شرح السنة بلفظ كان يستفتح بصعاليك المهاجرين قال القاري أي بفقرائهم وببركة دعائهم ... ولعل وجه التقييد بالمهاجرين لأنهم فقراء غرباء مظلومون مجتهدون مجاهدون فيرجى تأثير دعائهم أكثر من عوام المؤمنين وأغنيائهم. انتهى দেখুন: আব্দুররহমান আল-মুবারকপুরী, প্রাগুক্ত; ৫/ ২৯১।
২৮৭. ইবনে কাছীর, আলবেদায়াতু ওয়ান নেহায়াঃ; ২/২/২৭৩।
২৮৮. ইবনে হেশাম, প্রাগুক্ত;১/৮০।
২৮৯. ইবনে কাছীর, আলবেদায়াতু ওয়ান নেহায়াঃ; ২/৪/২৪।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 আল্লাহর উপর কারো কোনো অধিকার নেই

📄 আল্লাহর উপর কারো কোনো অধিকার নেই


এ হাদীসটি সঠিক না হওয়ার প্রমাণ হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে নবী-রাসূল ও ওলিগণ নির্বিশেষে আল্লাহর উপর কারো কোনো অধিকার বলতে কিছুই নেই। যারা ঈমান ও 'আমলে সালেহ এর গুণে গুণান্বিত হবেন, তাদেরকে মহান আল্লাহ যে পুরস্কার ও মর্যাদা দানের কথা বলেছেন, তা তাদের ঈমান ও 'আমলের কারণে এমনিতেই আল্লাহর উপর তাদের জন্যে ওয়াজিব হয়ে যায় নি। বরং তা তাদের প্রতি তাঁর একান্ত কৃপা বিশেষ। তিনি অনুগ্রহ করে তাদের জন্য কিছু অধিকারের স্বীকৃতি দান করেছেন। তবে তা এমন কোনো অধিকার নয় যে, তা আল্লাহর নিকট থেকে দাবী করে আদায় করে নেয়া হবে বা এর ওসীলায় আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া যাবে। এ-ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সাধারণ মানুষ বলে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর উপর মানুষের কোনো অধিকারের অস্বীকৃতি জানিয়ে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেন:
... لَنْ يُدْخِلَ أَحَدُ الْجَنَّةَ عَمَلُهُ . فَقِيلَ لَهُ : وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ فَقَالَ : وَلَا أَنَا ، إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِي اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ
"...কস্মিনকালেও কাউকে তার সৎ কর্ম জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। তাঁকে বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কি পারবেন না? তিনি বলেন: আল্লাহর রহমত দ্বারা তিনি আমাকে বেষ্টন না করলে আমিও পারবো না"।২৭৬ আল্লাহর উপর যেখানে মানুষের কোনো অধিকারই স্বীকৃত নয়, সেখানে আবার কী করে আল্লাহর কাছে সে অধিকারের ওসীলায় কিছু চাওয়া যেতে পারে? এ-জন্যই ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেছেন: لا ينبغي لأحد أن يدعو الله إلا به، والدعاء المأذون فيه المأمور به، ما استفيد من قوله تعالى: ولله الأسماء الحسنى فادعوه بها.]
“কারো পক্ষে আল্লাহ তা'আলাকে কেবল তাঁরই নামের ওসীলা ব্যতীত এবং "আল্লাহর রয়েছে উত্তম নামাবলী, অতএব তাঁকে সে নামের ওসীলায়ই আহ্বান কর” এ আয়াত থেকে যে- সব নামাবলীর ওসীলায় তাঁকে আহবানের অনুমতি ও নির্দেশ পাওয়া যায়, সে-সব নামাবলীর ওসীলা ব্যতীত অপর কারো নামের ওসীলায় আহ্বান করা উচিত নয়"।২৭৭ তিনি আরো বলেন: (أكره أن يقول أحد في دعائه اللهم إني أسالك بحق خلقك)
“হে আল্লাহ! আমি তোমার সৃষ্টির অধিকারের ওসীলায় তোমার কাছে সাওয়াল করছি' কেউ তার দো'আর মধ্যে এমন কথা বলাকে আমি অপছন্দ তথা না জায়েয ২৭৮ মনে করি"।২৭৯ আল্লামা ইবনু আবীল 'ইয্য আল-হানাফী (রহ.) এ-জাতীয় ওসীলা করার ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন:
"আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের উপর যে অধিকারের কথা স্বীকার করেছেন, তা ব্যতীত আল্লাহর উপর কারো কোনো অধিকার নেই। ... আল্লাহর উপর আমাদের যে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা তাঁর প্রতিশ্রুতি প্রদানের কারণেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একজন মানুষের অধিকার অপর মানুষের উপর যে-ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, কোনো মানুষ সে-ভাবে আল্লাহর উপর নিজ থেকে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে না।”২৮০
তিনি আরো বলেন: “কারো অধিকারের ওসীলায় দো'আ করা আর দো'আকারী ব্যক্তির দো'আ কবুল করার মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই। যে এরকম দো'আ করে সে যেন প্রকারান্তরে এমন কথা বলে: হে আল্লাহ! অমুক আপনার সৎ বান্দাদের মধ্যে হওয়ার কারণে আমার দো'আ কবুল কর। (আপনার অমুক সৎ বান্দা আর আমার দো'আ কবুল কর) এ দু'টি কথার মধ্যে কী সম্পর্ক ও বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে? বরং এ-জাতীয় কথা দো'আর মধ্যে বলা এক ধরনের সীমালঙ্ঘন বৈ আর কিছুই নয়”।২৮১
ইমাম আবু ইউছুফ (রহ.) বলেন: “কেউ তার দো'আর মধ্যে ‘হে আল্লাহ! আমি অমুকের অধিকার অথবা তোমার নবী ও রাসূলদের অধিকারের ওসীলায় তোমার নিকট চাচ্ছি’ এমনটি বলাকে আমি অপছন্দ করি”।২৮২
উক্ত উদ্ধৃতি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বা অপর কারো অধিকারের ওসীলায় দো'আ করা আমাদের হানাফী মাযহাবে বৈধ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00