📘 শিরক কি ও কেন > 📄 অধিকাংশ মুসলিমদের শির্কে পতিত হওয়ার কারণ

📄 অধিকাংশ মুসলিমদের শির্কে পতিত হওয়ার কারণ


প্রথম পরিচ্ছেদ : অধিকাংশ মুসলিমদের শির্কে পতিত হওয়ার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কারণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ : ওলিগণ কি মানুষ ও আল্লাহর মাঝে ওসীলা বা মধ্যস্থতাকারী?
তৃতীয় পরিচ্ছেদ : পার্থিব ও পরকালীন বিষয়ে অলিগণের শাফা'আত
চতুর্থ পরিচ্ছেদ : সাধারণ মুসলিমদেরকে শির্কে পতিত করার ক্ষেত্রে শয়তানের বিভিন্ন অপকৌশল

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে মানুষ তাদের চিরশত্রু শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে যে-সব অপরাধে লিপ্ত হয় তন্মধ্যে মারাত্মক অপরাধ হচ্ছে শির্ক। এর ফলে একজন মুসলিম তার অজান্তেই ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলার কাছে তার নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাতসহ অন্যান্য কোনো সৎকর্মেরই কোনো মূল্য থাকে না। আখেরাতে সে তার সাহায্যকারী ও শাফা'আতকারী বলতেও কাউকে পাবেনা। আল্লাহ তা'আলার প্রতি বিশ্বাসীদেরকে শির্কের এ-ভয়াবহ পরিণতির কথা বুঝানোর জন্যে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে লক্ষ্য করে বলেছেন:
﴿لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ﴾
"তুমি যদি শির্ক কর, তা হলে তোমার 'আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্থদের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যাবে"।৩৯৫ রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-থেকে কোনো শির্ক সংঘটিত না হওয়া সত্ত্বেও এবং তিনি আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয়ভাজন বান্দা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এ-ভাবে অনেকটা ধমকের সুরে সম্বোধন করে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ-কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে- তাঁর উম্মতদেরকে এ-কথা সুস্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয়া যে, এ-অপরাধ যার দ্বারাই সংঘটিত হবে, সে ব্যক্তি বাহ্যত তার নিজের ও আমাদের ধারণায় যত উঁচু দরেরই মু'মিন বলে গণ্য হয়ে থাকুন না কেন-আখেরাতে আল্লাহ তা'আলা তার যাবতীয় সৎকর্ম নিষ্ফল করে দেবেন এবং সে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থদের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
এ-আয়াত দ্বারা এ-কথা সহজেই অনুমিত হয় যে, বিশুদ্ধ ঈমান তথা শির্কমুক্ত 'আক্বীদা ও বিশ্বাসই হচ্ছে আখেরাতে সৎ কর্মের প্রতিদান প্রাপ্তির পূর্বশর্ত। সে-জন্য কুরআনুল কারীমে শির্কমুক্ত বিশুদ্ধ ঈমানকে এমন একটি গাছের সাথে তুলনা করা হয়েছে যার শিকড় প্রোথিত রয়েছে মাটির অনেক গভীরে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর কোনো ক্ষতি করতে পারে না বলে সর্বদা যেমনি তা পত্র-পল্লব আর ফুলে-ফলে সুশোভিত থাকে, শির্কমুক্ত বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারীর ঈমানও তেমনি আখেরাতে 'আমলের পত্র-পল্লব ও ফুলে-ফলে সুশোভিত থাকবে।৩৯৬ কোনো মুশরিকের নয়।
তবে দুঃখ জনক হলেও সত্য যে, এ শির্কের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হওয়া সত্ত্বেও মানব জাতির ইতিহাস এ অপরাধের দ্বারা পরিপূর্ণ।
শির্ক কি ও কেন? এ সম্পর্কে সুদীর্ঘ গবেষণা ও পর্যালোচনা করে কুরআন, হাদীস ও মুসলিম মনীষীদের মতামত যাচাই ও পর্যালোচনার করে আমি যে-সব তথ্যে উপনীত হয়েছি, সংক্ষেপে এর সারকথা নিম্নরূপ:
□ আল্লাহ তা'আলার অনেক সুন্দর নামাবলী ও সুমহান গুণাবলী রয়েছে। যেমনিভাবে তাঁর সৃষ্টির মধ্যকার কেউ তাঁর সত্তার সমকক্ষ হতে পারে না, ঠিক তেমনিভাবে তাঁর সে-সব নামাবলী ও গুণাবলীর যে বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাতেও তাঁর সৃষ্টির মধ্যকার কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না। তিনি তাঁর সে-সব নামাবলী ও গুণাবলীর কারণেই আমাদের ও সমগ্র জাহানের একক রব বা প্রতিপালক। তিনি সবকিছুর প্রতিপালক হওয়ার কারণে সবকিছুর উপাস্যও এককভাবে তিনিই। কেননা, যিনি প্রতিপালক হবেন তিনি ব্যতীত আর কেউ উপাস্য হতে পারে না। আর আল্লাহই যখন আমাদের প্রতিপালক, তাই তিনি ব্যতীত আমাদের অপর কোনো উপাস্য বা ইলাহ নেই। তাঁর রুবুবিয়্যাতে যেমন কেউ তাঁর শরীক হতে পারে না, তেমনি তাঁর উলুহিয়্যাতেও কেউ তাঁর শরীক হতে পারে না।
আল্লাহ তা'আলার উপাসনা করতে হয় তাঁর সম্মান ও তা'যীম করার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে। সে-জন্যে তিনি আমাদের দেহ, অন্তর ও সম্পদের উপর নির্দিষ্ট প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু উপাসনা ধার্য করে দিয়েছেন। এ-গুলো নিবেদিত হবে কেবল তাঁকেই কেন্দ্র করেই। কোনো নবী-রাসূল, সৎ মানুষ ও অন্যান্য কোনো বস্তুর সম্মান, তা'যীম ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে তা প্রযোজ্য হতে পারেনা।
আমাদের উপর আল্লাহ তা'আলার পরে নবী-রাসূল ও সৎ মানুষদের সম্মান পাওয়ার বৈধ অধিকার রয়েছে। তবে আল্লাহর সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য তাঁর উপাসনা হওয়ায় এবং তাঁদের সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্য তাঁদের একরাম করা হওয়ায় উভয়ের সম্মান প্রদর্শিত হওয়ার ধরন ও পদ্ধতি সম্পূর্ণ পৃথক। যুগে যুগে মানুষেরা নবী-রাসূল ও সৎ মানুষদের সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করার কারণেই তাঁদের একরাম করতে গিয়ে তারা তাঁদের উপাসনায় লিপ্ত হয়ে আল্লাহর উলুহিয়্যাতে শির্কে লিপ্ত হয়েছে।
আল্লাহকে আমার রব বলে স্বীকৃতি দেয়ার অর্থ হচ্ছে:তাঁকে নিজের জীবন, জীবিকা, ভাগ্যের ভাল-মন্দ, যাবতীয় কল্যাণ ও অকল্যাণের একচ্ছত্র মালিক ও পরিচালক বলে বিশ্বাস করা। এ-সব ক্ষেত্রে তাঁর কোনো শরীক বা সাহায্যকারী থাকার চিন্তা করাতো দূরের কথা, তা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো বস্তুর প্রভাব বা নবী বা অলিগণের সুপারিশকারী থাকার চিন্তা করাও উপর্যুক্ত বিশ্বাসের পরিপন্থী। যুগে যুগে মানুষের অন্তরে এ-জাতীয় বিশ্বাস লালিত হওয়ার কারণেই তারা তাঁর রুবুবিয়‍্যাতে শির্কে লিপ্ত হয়েছে।
আদম (আ.) কে সৃষ্টির পর এক হাজার বছর পর্যন্ত তাঁর সন্তানেরা তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতঃপর তারা আদম (আ.) এর কবরকে সম্মান করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে যেতে সর্বপ্রথম আল্লাহর উলুহিয়্যাতে শির্কে লিপ্ত হয়। এরপর আদম সন্তানদের মধ্যকার পাঁচজন সৎ মানুষকে কেন্দ্র করে তাঁদের অনুসারীরা আল্লাহর উলুহিয়্যাত ও রুবুবিয়‍্যাতে শির্কে লিপ্ত হয়।
আল্লাহর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়‍্যাতে গায়রুল্লাহের সমকক্ষতা বা শির্ক মানুষের বিশ্বাস, কর্ম ও অভ্যাসের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে যে-সব শির্ক হয়, তা আল্লাহর রুবুবিয়‍্যাতের সাথে সম্পর্কিত। আর কর্মের মধ্যে যে-সব শির্ক হয়, তা আল্লাহর উলুহিয়্যাতের সাথে সম্পর্কিত। আর অভ্যাস যেহেতু সাধারণত বিশ্বাসগত কারণেই গড়ে উঠে, সেহেতু অভ্যাসগত কর্মের দ্বারা যে-সব শির্ক হয়, তাও আল্লাহর রুবুবিয়‍্যাতের সাথে সম্পর্কিত।
শির্কের দু'টি প্রকার রয়েছে। একটি 'আকবার' আর অপরটি 'আসগার'। শির্কে আকবার আবার চার প্রকার। জ্ঞানগত শির্ক, পরিচালনাগত শির্ক, অভ্যাসগত শির্ক ও উপাসনাগত শির্ক। যারা প্রথম তিন প্রকারের শির্ক করে, তারা আল্লাহর রুবুবিয়‍্যাতে শির্ক করে। আর যারা শেষ প্রকারের শির্ক করে তারা আল্লাহর উলুহিয়্যাতে শির্ক করে।
কেউ যদি অজ্ঞতাবশত একটি শির্কে আকবার করে এবং মুত্যুর পূর্বে তাথেকে তাওবা করে মরতে না পারে, তা হলে মুশরিক হিসেবেই তার হাশর হবে। আর কারো দ্বারা যদি 'শির্ক আসগার' সংঘটিত হয়, তা হলে সে মুশরিক বলে বিবেচিত হবে না;তবে তার প্রতিটি 'শির্কে আসগার' একেকটি কবীরা গোনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। এথেকে তাওবা করে মরতে না পারলে আল্লাহ তা'আলা ইচ্ছা করলে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফা'আতের মাধ্যমে ক্ষমা করতে পারেন, নতুবা সাময়িক শাসিত্মতে নিমজ্জিত করবেন।
আল্লাহর উলুহিয়্যাত ও রুবুবিয়‍্যাতে শির্ক সংঘটিত হওয়ার জন্য মানুষের অজ্ঞতা ও শয়তানের বহুমুখী ষড়যন্ত্রই মৌলিকভাবে দায়ী।
ধর্মপ্রাণ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে তাদের অজ্ঞতার সুযোগে বিভিন্ন নবী ও সৎ মানুষদের মর্যাদা দানের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করানোর মাধ্যমে শয়তান তাদের কবরসমূহকে উপাসনালয়ে রূপামত্মরিত করেছিল। তাঁদের সম্মানার্থে তাঁদের মূর্তি বানিয়ে তাদেরকে সে-সব মূর্তির উপাসনা করতে লিপ্ত করেছিল। যা বর্তমানেও তাদের মাঝে যথারীতি প্রচলিত রয়েছে।
শয়তান নূহ আলাইহিস সালামের জাতির লোকদেরকে যে-সব শির্কী ধারণার ভিত্তিতে শির্কী কর্মে অভ্যস্থ করেছিল, ঠিক সে-রকমের শির্কী ধারণার ভিত্তিতেই আরবের দ্বীনে ইব্রাহীমের অনুসারী বলে দাবীদারদেরকেও সে পাঁচজন ওলির মূর্তিসহ আরো বিভিন্ন মূর্তির উপাসনা করতে অভ্যস্ত করেছিল। ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহর মেয়ে হওয়ার ভ্রামত্ম ধারণা দিয়ে তাদের নামে লাত, উয্যা ও মানাত নামের দেবী বানিয়ে সে-গুলোকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়ার মাধ্যম ও তাঁর নিকট সুপারিশকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ করেছিল। সে মূর্তিগুলোকে তাদের জীবনের বিবিধ কল্যাণ ও অকল্যাণ করার সামর্থ্যবান বলেও ধারণা দিয়েছিল। আল্লাহর নিকট থেকে পার্থিব কল্যাণ প্রাপ্তি ও অকল্যাণ দূরীকরণের জন্য দেব-দেবীদের মধ্যস্থতা ও সুপারিশ পাওয়ার আশায় তাদেরকে সে-গুলোর উদ্দেশ্যে মানত করা, এদের পার্শ্বে অবস্থান করা এবং বিপদে এদের আহ্বান করা সহ মৌখিক, শারীরিক ও আমত্মরিক বিভিন্ন উপাসনায় লিপ্ত করেছিল। এ-ছাড়া তাদের অভ্যাসের মাঝেও নানা রকমের শির্কী কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিল।
নূহ আলাইহিস সালামের জাতি থেকে আরম্ভ করে শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করার ক্ষেত্রে শয়তান যে ধরনের কলা-কৌশল অবলম্বন করেছিল, সে রকমের কলা- কৌশল অবলম্বন করেই সে সাধারণ মুসলিমদেরকেও পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছে। এ-চেষ্টার ফলেই সে তাদেরকে জ্ঞানগত, পরিচালনাগত, অভ্যাসগত ও উপাসনাগত বিভিন্ন রকম শির্কী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ও ওলিগণ সর্বত্র হাজির ও নাজির হতে পারেন, তাঁরা গায়েব সম্পর্কে শুনতে ও জানতে পারেন এবং মৃত্যুর পরেও মানুষের উপকার করতে পারেন... ইত্যাদি মর্মে যে-সব ধ্যান-ধারণা সাধারণ মুসলিমদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে, তা শয়তানের দেয়া শির্কী ধারণা বৈ আর কিছুই নয়। এর মাধ্যমে সে রাসূল- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ও ওলিগণ কে আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যের অধিকারীর পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
আরবের মুশরিকদের মাঝে নূহ (আ.)-এর সময়কার পাঁচজন ওলি ও তিনজন ফেরেস্তার নামে নির্মিত মূর্তি ও দেবীসমূহকে সাধারণ মানুষ ও আল্লাহর মাঝে মধ্যস্থতা ও সুপারিশকারী হওয়ার যে ধারণা দিয়েছিল, মুসলিমদের মাঝেও তাদের ওলিদের ব্যাপারে হুবহু সেই ধারণার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে।
□ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরাসরি আল্লাহর কাছে আবেদন- নিবেদন না করে আরবের মুশরিকদের ন্যায় তা মৃত অলিগণের ওসীলা ও সুপারিশের মাধ্যমে চাইতে অভ্যস্ত করেছে।
□ অলিগণের মধ্যস্থতা ও সুপারিশ প্রাপ্তির মাধ্যমে পার্থিব কল্যাণার্জন ও অকল্যাণ দূরীকরণের আশায় তাদেরকে মুশরিকদের ন্যায় অলিগণের কবর ও কবরসমূহে মানত দান, সেখানে অবস্থান করা, রোগমুক্তি কামনা এবং বিপদে সাহায্যের জন্য আহ্বান করাসহ বিভিন্ন রকমের মৌখিক, শারীরিক ও আমত্মরিক উপাসনায় লিপ্ত করেছে।
□ ভাগ্যের ভাল ও মন্দের প্রতি যথার্থ ঈমান না এনে সুস্থ জীবন ও উত্তম জীবিকা লাভের জন্য শরী'আত নির্দেশিত বৈধ পন্থায় তদবীর ও কর্ম না করে নানা রকম শির্কী পন্থায় তদবীর ও কর্ম করতে তাদেরকে অভ্যস্ত করে তুলেছে।
□ নবী, ওলি ও সাধারণ মানুষ নির্বিশেষে সকল কবরবাসীকে সালাম দিলে আল্লাহর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তারা তা শুনতে পান ও সালামের জবাব দেন। তাদের মাগফিরাতের জন্য দো'আ করলে এবং ছওয়াব রেছানী করলে এতে তাদের রুহ আনন্দিত হয়। তারা আমাদের জন্য নেক দো'আও করেন। এ-ক্ষেত্রে ওলি আর সাধারণ মানুষ বলে কোনো পার্থক্য নেই। তবে তাদের সে দো'আ আমাদের কোনো উপকারে আসেনা। কেননা, বিশুদ্ধ হাদীস মতে মানুষ মৃত্যুর পর মানুষের উপকারযোগ্য তাদের যাবতীয় 'আমল বন্ধ হয়ে যায়। তা ছাড়া বরযখী জীবন কোনো উপকারযোগ্য কর্মের জীবন নয়। কিন্তু শয়তান সাধারণ মানুষদের নিকট অলিগণের বিষয়টি এ সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম বলে ধারণা দিয়েছে। তাঁরা মরে যাওয়ার পরেও জীবিত থাকার ন্যায় আমাদের উপকার করতে পারেন বলে ধারণা দিয়েছে। তাঁদের আহ্বান করলে তাঁরা শুনতে পারেন বলেও ধারণা দিয়েছে। অথচ তাঁদের ব্যাপারে এমন ধারণা করা তাঁদেরকে আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যে শরীক করার শামিল।
শয়তান মুশরিকদের বিশ্বাস, কর্ম ও অভ্যাসের সাথে সাধারণ মুসলিমদের অনেক বিশ্বাস, কর্ম ও অভ্যাসের বহুলাংশে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে বরং তাদেরকে মুশরিকদেরও অগ্রগামী করতে সামর্থ্য হয়েছে। আরবের মুশরিকরা যেখানে সমুদ্রে মারাত্মক ঝড় ও তুফানের কবলে পতিত হলে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য তাদের দেবতাদের কথা ভুলে যেয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকেই সাহায্যের জন্য আহ্বান করতো; সেখানে অনেক মুসলমাদেরকে অনুরূপ বিপদে আল্লাহর পরিবর্তে সাহায্যের জন্য বদর পীর, বড়পীর আব্দুল কাদির জীলানী ও মঈনুদ্দিন চিন্তীকে আহ্বান করতে শিখিয়েছে।
আল্লাহ তা'আলার রুবুবিয়্যাতে শির্ক করা থেকে বাঁচতে হলে জানতে হবে যে, যে-সব নামাবলী ও বৈশিষ্ট্যের কারণে আল্লাহ আমাদের রব, সে-সব বৈশিষ্ট্যের সামান্যতম কোনো বৈশিষ্ট্যেও তিনি কাউকে তাঁর শরীক করেন না। কেউ নিজ চেষ্টায়ও তাতে তাঁর শরীক হতে পারেনা।
মানুষের ভাগ্যের যাবতীয় কল্যাণ ও অকল্যাণের বিষয়টি আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের আওতাধীন বিষয়। কোনো মানুষ বা কোনো বস্তুর পক্ষে কারো কোনো উপকার বা অপকার করার নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। আল্লাহর ইচ্ছা হলেই কেবল কোনো মানুষ বা কোনো বস্তু কারো উপকার বা অপকারের ওসীলা বা মাধ্যম হতে পারে। তাই কোনো মানুষ বা কোনো বস্তুর দ্বারা উপকৃত হলে বলতে হবে: আল্লাহর রহমতে অমুক মানুষ বা অমুক বস্তুর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছি। কোনো ঔষধ পান করলে বলতে হবে: অমুক ঔষধ পান করার মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে উপকার পেয়েছি। এক কথায় যাবতীয় উপকার ও অপকারের বিষয়কে কোনো মানুষ বা বস্তুর সাথে সম্পর্কিত না করে কেবল আল্লাহ তা'আলার সাথেই সম্পর্কযুক্ত করতে হবে।
একমাত্র যমযমের পানি ব্যতীত অন্য কোনো ওলি বা পীর ফকিরের সাথে সংশিলষ্ট কোনো কূপ বা পুকুরের পানি, কবরের পুড়ানো মোম, মাটি ও গাছ ইত্যাদি মানুষের কোনো কল্যাণ করতে পারে বলে বিশ্বাস করা আল্লাহ রুবুবিয়‍্যাতে শির্কের শামিল।
ভাগ্য পরিবর্তন বা রোগ ব্যাধি নিবারণের জন্যে জ্যোতিষ, গণক, জিন সাধক, ফকির ও কবিরাজদের নিকট এরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেক কিছু জানে এমন ধারণা নিয়ে যাওয়া এবং তাদের দেয়া পাথরের আংটি, বালা ও তা'বীজ ব্যবহার করা ব্যবহারকারীর মনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শির্কে আকবার বা আসগার হতে পারে।
সৎ ও অসৎ মানুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যেই আল্লাহর রহমতের দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রয়েছে। মানুষ গায়েব সম্পর্কে জানতে পারেনা বলে কাউকে কোনো সংবাদ দিতে হলে প্রয়োজনে অন্যের ওসীলা গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু মহান আল্লাহ যাবতীয় গায়েব সম্পর্কে জানেন বলে তাঁর কাছে আমাদের যে কোনো সমস্যার কথা জানাতে হলে এ- জন্যে কোনো নবী, ওলি ও বুজুর্গদের নামের ওসীলা গ্রহণের কোনো বৈধতা স্বীকৃত নয়। কেননা, আমাদের প্রয়োজনের কথা কোনো ওসীলা ছাড়াই সরাসরি তাঁকে জানানো যায়। তবে ওসীলা গ্রহণ করলে তাঁর সুন্দর নামাবলী, ঈমানের রুকুনসমূহের প্রতি ঈমান, যে কোনো সৎকর্ম, জীবিত মানুষের দো'আ, নিজের অপরাধের স্বীকৃতি ও অসহায়তা বর্ণনার ওসীলা গ্রহণ করতে হবে। কোনো নবী বা ওলির নামের ওসীলায় নয়। কেননা, মানুষেরা পরস্পরের দ্বারা প্রভাবিত হয় বলে এমন ওসীলা মানুষের মধ্যে চলতে পারে। কিন্তু মহান আল্লাহ কারো নাম শুনে প্রভাবিত হন না। তাই কারো নামের ওসীলায় তাঁর নিকট কিছু আবেদন করা যেতে পারেনা। কোনো কোন হাদীস দ্বারা বাহ্যত এমন ওসীলা গ্রহণের বৈধতা প্রমাণিত হয় বলে কারো মনে হলেও বাস্তবে সে-সব হাদীস দ্বারা তা প্রমাণিত হয়না। কেননা, সে-সব হাদীস দ্বারাও প্রকৃতপক্ষে সংশ্লিষ্ট সাহাবীদের দো'আর ওসীলা গ্রহণই মূলত উদ্দেশ্য। তাঁদের নাম ও মর্যাদার ওসীলা গ্রহণ করা সে-সবের উদ্দেশ্য নয়।
যে-সব বিষয় আল্লাহ ব্যতীত অপর কেউ দিতে পারেনা, তা আল্লাহ ব্যতীত অপর কারো নিকট চাওয়া যায়না। রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বা ওলিগণ মৃত্যুবরণ করেছেন বলে তাঁরা দুনিয়ার মানুষের ছোট বা বড় কোনো উপকারই করতে পারেন না। তাই তাঁদের নিকট কিছু চাওয়া যায়না। কেউ তাদের কাছে কিছু আবদার করলেও কুরআনের শিক্ষানুযায়ী তাঁরা সে আবদার শুনতে পারেন না। শুনতে পারলেও তাঁরা এর কোনো জবাব দেবেন না। তাঁদের কাছে কিছু আবদার করা শির্ক হওয়ার কারণে সূরায়ে মরয়ামের ৮২ নং আয়াতের বর্ণানুযায়ী কেয়ামতের দিন তাঁরা তাঁদের আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
কোন জীবিত মানুষের দ্বারা কোনো অলৌকিক কর্ম সংঘটিত হলে তিনি যদি শরী'আতের যথার্থ অনুসারী হন, তা হলে তা তার কারামত হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এটি তাঁকে বিভ্রান্ত করার জন্য তাঁর অজান্তে তাঁর মাধ্যমে প্রকাশিত শয়তানের কোনো তেলেশমাতিও হতে পারে। আর যদি তিনি শরী'আতের অনুসারী না হন, তা হলে তা নিঃসন্দেহে শয়তানের তেলেশমাতি হয়ে থাকবে। বিষয়টি তাঁর কারামত হোক আর না-ই হোক, এ-কারণে তাঁর ব্যাপারে অতিরঞ্জিত চিন্তা করে তাঁকে আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের কোনো কোন বৈশিষ্ট্যের অধিকারীর মর্যাদায় উন্নীত করা যাবেনা। কেননা, ওলিদের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত চিন্তা করেই যুগে যুগে সাধারণ মানুষেরা শির্কে নিমজ্জিত হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলার উলুহিয়্যাতে শির্ক করা থেকে বাঁচতে হলে বুঝতে হবে যে, যে বস্তু দান করা শয়তানের সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে, তা কোনো মৃত ওলির কবর ও কবরে আবেদনের পর অলৌকিক উপায়ে কেউ পেয়ে থাকলে এটাকে সম্পূর্ণরূপে শয়তানের তেলেশমাতি বলেই বিশ্বাস করতে হবে। কেননা, কবরে আবেদনকারী ও অন্যান্য সাধারণ মানুষদেরকে বিভ্রামত্ম করার জন্য শয়তান অদৃশ্যে থেকে সে নিজেই বা তার অনুসারীদের মাধ্যমে এমন আহ্বানকারীদের প্রয়োজন পূর্ণ করে দেয়। আবেদন পূর্ণ করা যদি শয়তানের সামর্থ্যের মধ্যে না থাকে, তা হলে বুঝতে হবে যে, আল্লাহই নিজ অনুগ্রহে আবেদনকারীর প্রয়োজনের দিক বিবেচনা করে তা পূর্ণ করে দিয়েছেন। তাতে কবরস্থ ওলির আদৌ কোনো কেরামতি নেই। কেননা, আমরা জানি যে, আরবের মুশরিকরা তাদের ওলি ও ফেরেস্তাদের নামে নির্মিত দেবতাদের কাছে বৃষ্টি চাইলে বৃষ্টি হতো। তারা এটিকে তাদের দেবতাদের ওসীলায় পেয়েছে বলেও বিশ্বাস করতো। অথচ এ বৃষ্টি আল্লাহর রহমতেই বর্ষিত হতো। এর পিছনে যেমনি তাদের দেব- দেবীদের আদৌ কোনো হাত ছিল না, তেমনি কবরে আবেদনকারীদের প্রয়োজন পূরণের পিছনেও কবরস্থ ওলির আদৌ কোনো হাত নেই।
মানুষের ঈমান ও ধৈর্যের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য আল্লাহ তাদের ভাগ্যে কল্যাণ ও অকল্যাণ দিয়ে দীর্ঘ বা স্বল্প মেয়াদী পরীক্ষা গ্রহণ করে থাকেন। পরীক্ষা শেষে ইচ্ছা হলে তিনিই তা পরিবর্তন করেন। তাই কোনো কল্যাণার্জন বা অকল্যাণ দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত বৈধ পন্থা অবলম্বন করতে হবে। ওসীলার নামে এদিক-সেদিক মুখ না ফিরিয়ে ভয় ও আকাঙ্ক্ষার সাথে কেবল আল্লাহকেই বিনয়ের সাথে স্মরণ ও আহ্বান করতে হবে। উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গৃহীত পন্থার উপর নির্ভরশীল না হয়ে তা প্রাপ্তির জন্য বিষয়টিকে আল্লাহর ইচ্ছার উপরে ছেড়ে দিয়ে ধৈর্যের সাথে কেবল তাঁর উপরেই ভরসা করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, কোনো কবর বা কবরের পাশে অবস্থান করা, জীবনের যে কোনো কল্যাণার্জন ও অকল্যাণ দূরীকরণের জন্যে কোনো মৃত ওলির শরণাপন্ন হওয়া, তাঁদের সাহায্যের আশাবাদী হয়ে তাঁদেরকে আহ্বান করা ও তাঁদের উপর ভরসা করা প্রকাশ্য শির্ক। আখেরাতে মানুষের মুক্তির সোপান হচ্ছে বিশুদ্ধ ঈমান ও সঠিক 'আমল। যারা এ দু'টি বৈশিষ্ট্যে বলীয়ান হবে, কেবল তারাই এ দু'য়ের ওসীলায় আল্লাহর রহমতে মুক্তি লাভে ধন্য হবে।
যারা বিশুদ্ধ ঈমান ও সঠিক 'আমল ব্যতীত মৃত ওলিদের শাফা'আতের মাধ্যমে আখেরাতের মহাসমুদ্র নিরাপদে পাড়ি দেয়ার চিমত্মা করে, তাদের সে চিমত্মা মাকড়সার জালের ন্যায়ই দুর্বল, ৩৯৭ মৃদু বাতাসে যে জাল ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়, সে জালকে মাকড়সার পক্ষে যেমন নিরাপদে বসবাসের জন্যে আশ্রয় স্থল হিসেবে ধারণা করা ঠিক নয়, তেমনি কারো পক্ষে আখেরাতের ভয়াবহ দিনে ওলিগণ কে মুক্তির নিরাপদ আশ্রয় স্থল হিসেবে ধারণা করাও ঠিক নয়।
অলিগণের সুপারিশ লাভে আখেরাতে ধন্য হওয়ার আশায় যারা তাঁদের কবর ও কবরে সময় অতিবাহিত করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে মারাত্মক ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত রয়েছে। কেননা, আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর প্রিয়ভাজন বলতে এমন কেউ নেই- যিনি তাঁর পূর্ব অনুমতি ব্যতীত স্বীয় মর্যাদার ওসীলায় আখেরাতে তাঁর কাছে কারো জন্যে শাফা'আত করতে পারেন। বরং সাধারণ মানুষেরা আজ যাদেরকে আখেরাতে তাদের বিপদকালীন সময়ে সুপারিশ করতে পারবেন বলে সাব্যস্ত করে নিয়েছে, আল্লাহ সেদিন তাদের বলবেন: "তোমরা যাদেরকে আমার শরীক বলে মনে করতে, তাদেরকে ডাকো, তখন তারা তাদেরগকে ডাকবে। কিন্তু তাঁরা তাদের ডাকে সাড়া দেবেন না। উপরন্তু আল্লাহ তাদের মাঝে একটি অমত্মরায় সৃষ্টি করে দেবেন"।" ৩৯৮ ফলে তাদের সকল আশা ও ভরসা চিরতরে ব্যর্থতায় পরিণত হবে।
আখেরাতে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ব্যতীত অন্যান্য নবী-রাসূলসহ সকল মু'মিন ও ওলিগণ নিজের চিমত্মায় উদ্বিগ্ন থাকবেন। হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ চলাকালীন সময়ে একমাত্র সর্ব শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত সাধারণভাবে কারো জন্যে কারো কোনো সুপারিশের অস্তিত্ব কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা স্বীকৃত নয়। হ্যাঁ, সাধারণভাবে তাঁদের সুপারিশ স্বীকৃত হয়েছে কেবল জাহান্নামী মু'মিনদের জাহান্নামে যাওয়ার পর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে। আল-কুরআনে আখেরাতে শাফা'আতের বিষয়টি শুধুমাত্র কাফির ও মুশরিকদের বেলায়ই অস্বীকার করা হয়নি, বরং মু'মিন মুশরিকদের বেলায়ও তা অস্বীকার করা হয়েছে।
অতএব, যে-সব মুসলিম ভাই ও বোনেরা আখেরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি পেয়ে ধন্য হয়ে মুহূর্তের জন্যেও জাহান্নামে না যেয়ে প্রথমেই জান্নাতে যেতে আগ্রহী, তাদেরকে এখন থেকেই যাবতীয় জ্ঞানগত, পরিচালনাগত, উপাসনাগত ও অভ্যাসগত শির্ক হতে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হতে হবে। নিজ বিশ্বাস, কর্ম ও অভ্যাস থেকে যাবতীয় শির্কী কর্মকাণ্ডকে সম্পূর্ণরূপে পরিহার করে নিতে হবে। নিজের অজান্তে যত ছোট বা বড় শির্ক হয়ে গেছে সে সবের জন্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। মনে রাখতে হবে, এর মধ্যেই রয়েছে আমাদের সকলের পরিত্রাণ।
تمت بالخير والله الحمد والمنة. وما علينا إلا البلاغ . و آخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين . و صلى الله وسلم على النبي الأمين وعلى آله وصحبه وسلم، ومن سار على نهجه و تبع هدايته إلى يوم الدين .

টিকাঃ
৩৯৫. আল-কুরআন, সূরা যুমার: ৬৫।
৩৯৬. আয়াতটি নিম্নরূপ: ﴿ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ ) [ابراهيم: ٢٤] আল-কুরআন, সূরা ইবরাহীম: ২৪।
৩৯৭. আয়াতটি নিম্নরূপ: مَثَلُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ أَوْلِيَاءَ كَمَثَلِ الْعَنكَبُوتِ اتَّخَذَتْ بَيْتًا وَإِنَّ أَوْهَنَ الْبُيُوتِ لَبَيْتُ الْعَنكَبُوتِ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴾ [العنكبوت: ٤١] আল-কুরআন, সূরা আনকাবূত: ৪১।
৩৯৮. আয়াতটি নিম্নরূপ: وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا شُرَكَاءى الَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا [الكهف: ٥٢] আল-কুরআন, সূরা:কাহাফ: ৫২।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 গ্রন্থপঞ্জী

📄 গ্রন্থপঞ্জী


১. আল-কুরআনুল করীম তাফসীর গ্রন্থসমূহ:
২. ইবনে কাছীর, ইসমাঈল, আবুলফেদা, তাফছীরুল কুরআনিল 'আযীম; (বৈরুত: দ্বারুল মা'রিফাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৭ খ্রি.)।
৩. আল-খাযিন, 'আলা উদ্দিন আলী ইবনে মুহাম্মদ, তাফছীরুল খাযিন; (লাহোর: নু'মানী কুতুবখানা , সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৪. আল-আলুছী, মাহমূদ, রূহুল মা'আনী; (বৈয়রুত: দারু এহইয়াইত তুরাছিল 'আরাবী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৯৮৫ খ্রি.)।
৫. আল-রাজী, ফখরুদ্দীন, তাফসীরুল কাবীর, (স্থান বিহীন, ৩য় সংস্করণ, তাং বিহীন)।
৬. আল-কুরত্বাবী, আবু 'আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-আনসারী, আহকামুল কুরআন; ((মিশর:আল-হাইআতুল মিশরিয়‍্যাহতু লিল কুত্তাব, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮৭ খ্রি.)।
৭. কাজী ছানা উল্লাহ পানিপথী, আত-তাফসীরুল মাযহারী, (দেহলী: এদারাতু এশা'আতিল 'উলুম, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৮. মুহাম্মদ শফী', মাওলানা মুফতী, মা'আরেফুল কুরআন; অনুবাদ ও সম্পাদনা: মাওলানা মহিউদ্দীন খান, (মদিনা: সৌদি 'আরব, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৯. শাহ 'আব্দুল 'আযীয আদ-দেহলভী, তাফসীরে ফাতহুল আযীয।
১০. যমাখশারী, জারুল্লাহ মাহমুদ ইবনে 'উমার, আল-কাশশাফ; (কুতুবখানা মাযহারী, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)। হাদীসের গ্রন্থসমূহ:
১১. আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম, মুসনাদ; (বৈরুত: দ্বারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
১২. ইবনে আবী শায়বাঃ, আবু বকর 'আব্দুল্লাহ, আল-মুসান্নাফ ;সম্পাদনা: কামাল ইউসুফ, (রিয়াদ: মাকতাবাতুর রুশদ, ১ম সংস্করণ, ১৪০৯হি:)।
১৩. ইবনে হিববান, মুহাম্মদ আল-বুস্তী, সহীহ ইবনে হিববান; (বৈরুত: মুআছছাছাতুর রিছালাঃ, ২য় সংস্করণ, ১৯৯২ খ্রি.)।
১৪. ইবনে খুযায়মাঃ, মুহাম্মদ, সহীহ; সম্পাদনা: ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-'আযমী, (বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, সংস্করণ বিহীন, ১৯৭০ খ্রি.)।
১৫. ইবনে মাজাহ, মুহাম্মদ ইবন ইয়াজীদ, আস-সুনান; সম্পাদনা: মুহাম্মদ ফুআদ আব্দুল বাকী, (স্থান বিহীন: দ্বার এহইয়াউত তুরাছিল আরাবিয়‍্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
১৬. ইবনে হিববান, মুহাম্মদ আল-বুস্তী, সহীহ ইবনে হিববান; সম্পাদনা:শু'আইব আরনাউত, (বৈরুত: মুআস সাসাতুর রিসালাঃ, ২য় সংস্করণ, ১৯৯৩ খ্রি.)।
১৭. আবু জা'ফর ত্বহাবী, আহমদ ইবন মুহাম্মদ, শরহে মা'আনী আল-আ-ছার; সম্পাদনা: মুহাম্মদ যুহরী আন-নাজ্জার, (বৈরুত: দ্বারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৩৯৯হি.)।
১৮. আত-তাবরিযী, ওয়ালী উদ্দীন আল-খতীব, মিশকাতুল মাসাবীহ ; (মাকতাবা রশীদিয়‍্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
১৯. আত-তিরমিযী, আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা, আল-জামে'উস সুনান; (মিশর:শরিকাতু মুস্তফা আল-বাবী..., ১ম সংস্করণ, ১৯৬২ খ্রি.)।
২০. আদ-দারিমী, 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্দুর রহমান, সুনানিদ দারিমী; সম্পাদনা: ফাওয়ায আহমদ, (বৈরুত: দ্বারুল কিতabিল 'আরাবী, ১ম সংস্করণ, ১৪০৭হি:)।
২১. আদ-দায়লামী, আবু শুজা' শেরওয়াই ইবন শহরদার ইবন শেরওয়াই, মুসনাদুল ফেরদাউস; সম্পাদনা: সাঈদ ইবন বিসুনী যাগলুল, (বৈরুত: দ্বারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৬ খ্রি.)।
২২. আস্ সিজিস্তানী, সুলায়মান ইবন আশ'আছ, আস্ সুনান; (হিমস: সিরিয়া, সংস্করণ বিতীন, তাং বিহীন)।
২৩. আল-কুশাইরী, মুসলিম ইবন হাজ্জাজ, আস-সহীহ; সম্পাদনা: মুহাম্মদ ফুআদ 'আব্দুল বাকী, (বৈরুত: দ্বার এহইয়াউত তুরাছিল 'আরাবী, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
২৪. আল-বানী, শায়খ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দয়ীফাতি ওয়াল মাওদু'আঃ; (বৈরুত: ১ম সংস্করণ)।
২৫. আত-ত্ববরানী, সুলায়মান ইবন আহমদ, আল-মু'জামুল কবীর; (মুসেল: মাকতাবাতুল 'উলুম ওয়াল হিকাম, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৩ খ্রি.)।
২৬. আন-নাসাঈ, আহমদ ইবনে শু'আইব আবু 'আব্দির রহমান, আস-সুনান; সম্পাদনা:ড. আব্দুল গাফ্ফার সুলায়মান, (বৈরুত: দ্বারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৯১ খ্রি.)।
২৭. আন্নীসাপুরী, আবু 'আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন 'আব্দুল্লাহ, আল- মুসতাদরাক; সম্পাদনা: মুস্তফা 'আব্দুল কাদির আত্বা, (বৈরুত: দ্বারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৯০ খ্রি.)।
২৮. বুখারী, আবু 'আব্দিল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ঈসমাঈল, আস- সহীহ; সম্পাদনা: ড. মুস্তফা আদীব আল-বাগা, (বৈরুত: দ্বার ইবনে কাছীর আল-ইয়ামামাঃ, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮৭খ্রি.)।
২৯. বায়হাক্বী, আহমদ ইবনে হুসাইন, আস্সুনানুল কুবরা; (মক্কা: মাকতাবাতু দ্বারুল বায, সম্পাদনা: মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আত্বা, সংস্করণ বিহীন, ১৯৯৪ খ্রি.)।
৩০. রাহওয়ায়হ, ইসহাক ইবন ইব্রাহীম ইবন মিখলদ, মুসনাদ; সম্পাদনা:ড. আব্দুল গফুর আল-বেলুচী, (মদীনা: মাকতাবাতুল আইমান, ১ম সংস্করণ, ১৯৯১ খ্রি.)।
হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ:
৩১. 'আজীমাবাদী, আবুত তাইয়্যিব মুহাম্মদ শামসুল হক, 'আউনুল মা'বুদ শরহে সুনানি আবী দাউদ; (বৈরুত:দ্বারুল কুতুবিল ইলমিয়‍্যাঃ, ২য় সংস্করণ, ১৪১৫হি:)।
৩২. ইবনে হাজার 'আসকালানী, ফতহুল বারী বি শরহিল বুখারী, (বৈরুত:দ্বারুল মা'রিফাঃ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৩৩. ইবনুল আছীর, আননেহায়াতু ফী গারীবিল হাদীসি ওয়াল আছার; (বৈরুত: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়‍্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৩৪. নববী, শরফুদ্দীন, শরহু সহীহ মুসলিম; (স্থান বিহীন: ১ম সংস্করণ, ১৯২৯ খ্রি.)।
৩৫. মোল্লা 'আলী আল-কারী, মিরক্কাতুল মাফাতীহ; (মুলতান: মাকতাবাঃ ইমদাদিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৩৬. শিববীর আহমদ 'উছমানী, ফতহুল মুলহিম বি শরহে সহীহ মুসলিম; (করাচী: মাকতাবাতুল হেজায, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
'আকীদার গ্রন্থাদি:
৩৭. আহমদ বাহজাত, আল্লাহু ফীল আক্বীদাতিল ইসলামিয়্যাঃ; (কায়রোঃ মুআছ ছাসাতুল আহরাম, ৪র্থ সংস্করণ, ১৯৯৬ খ্রি.)।
৩৮. আল-বরীকান, ইব্রাহীম, ড., আল-মাদখালু লি দেরাসাতিল 'আক্বীদাতিল ইসলামিয়্যাঃ; (আল-খুবার: দ্বারুস সুন্নাঃ, সংস্করণ বিহীন, ১৯৯২ খ্রি.)।
৩৯. আল-জাযাইরী, আবু বকর জাবির, 'আক্বীদাতুল মু'মিন; (জেদ্দা: দারুস শুরুক, ৫ম সংস্করণ, ১৯৮৭ খ্রি.।)।
৪০. আল-গাযালী, আল-ইমাম, আল-ইক্কতেসাদ ফী উসূলিল এ'তেকাদ।
৪১. আস-সাইয়্যিদ সাবেক, আল-'আক্বাইদুল ইসলামিয়্যাঃ; (বৈরুত: দারুল কিতাবিল 'আরাবী, সংস্করণ বিহীন, ১৯৭৫ খ্রি.)।
৪২. 'আব্দুল 'আযীয আল-মুহাম্মদ আল-সলমান, আল-আসইলাতু ওয়াল আজয়িবাতিল উসূলিয়্যাতি 'আলাল 'আক্বীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাঃ লি ইবনে তাইমিয়্যাঃ; (প্রকাশ বিহীন, ২১ম সংস্করণ, ১৯৮৩ খ্রি.)।
৪৩. ইবন আবিল ইয্য, আল-হানাফী, শরহুল 'আক্বীদাতিত ত্বাহাবিয়্যাঃ; (বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ৫ম সংস্করণ, তারিখ বিহীন)।
৪৪. শেখ 'আব্দুর রহমান ইবন হাসান আ-লুশ শেখ, ফাতহুল মাজীদ বি শারহি কিতাবিত তাওহীদ; (লাহুর: আনসারুস সুন্নাতিল মুহাম্মদিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৪৫. শাহ ইসমাঈল শহীদ, তাকবিয়াতুল ঈমান; (দেওবন্দ: মাকতাবা থানভী, সংস্করণ বিহীন, ১৯৮৪ খ্রি.)।
৪৬. সুলাইমান ইবন 'আব্দিল্লাহ ইবন মুনী', আশ-শায়খ, তাইসীরুল 'আযীযিল হামীদ ফী শরহে কিতাবিত তাওহীদ; (বৈরুত: আল-মাকতবুল ইসলামী, ১ম সংস্করণ, ১৪০২হি:)।
৪৭. মুবারক ইবন মুহাম্মদ আল-মীলী, আশশির্ক ওয়া মাজাহিরুহু; (মদীনা:আল-জামি'আতুল ইসলামিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৪০৭হি:)।
৪৮. মুল্লা 'আলী ক্বারী আল-হানাফী, শরহু কিতাবিল ফিকহুল আকবার; (বৈয়রুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৪৯. মাহমূদ শালতুত, আল-ইসলামু আক্বীদাতুন ওয়া শরী'আতুন; (কায়রো: দারুশ শুরুক, ১৭তম সংস্করণ, ১৯৯৭ খ্রি.)।
৫০. মুহাম্মদ আল-গাযালী, 'আক্বীদাতুল মুসলিম; (কায়রো: দারুল কুতুবিল ইসলামিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, ১৯৮০ খ্রি.)।
৫১. মুহাম্মদ খলীল হারাস, শরহুল 'আক্বীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাঃ; (মদীনা: মারকাজুদ দাওয়াঃ, সৌদি আরব, ৭ম সংস্করণ, তারিখ বিহীন)।
৫২. যাকারিয়‍্যা 'আলী ইউছুফ, আল-ঈমান ওয়া আ-ছারুহু ওয়া আশশির্ক ওয়া মাজাহিরুহু; (কায়রো: মাকতাবাতুস সালাম আল-'আলমিয়্যাঃ, ২য় সংস্করণ, তারিখ বিহীন)।
ফিকহের গ্রন্থ সমূহ:
৫৩. আল-কা-সানী, 'আলউদ্দীন আবু বকর ইবন মাস'উদ, বাদাই'উস সানাই'উ; (করাচী: এস.এম.সাঈদ কম্পানী, ১ম সংস্করণ, ১৯১০ খ্রি.)।
৫৪. ইবনে 'আবিদীন, হাশিয়াত র্দুররিল মুহতার 'আলাদ দুররিল মুখতার; (পাকিস্তান:এইচ.এম.সাঈদ কম্পানী, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৫৫. ইবনুল হুমাম, কামাল উদ্দীন মুহাম্মদ ইবন 'আব্দুল ওয়াহিদ, শরহে ফতুহুল কাদীর; (স্থান বিহীন: দ্বার এহইয়াউত তুরাছিল 'আরাবী, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৫৬. ইমাম নববী, আল-মাজমূ' শরহুল মুহাজ্জাব; (স্থান বিহীন:দ্বারুল ফিকর, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৫৭. ক্বাযী ছানাউল্লাহ পানিপতি, ফাতাওয়া রশীদিয়াঃ।
৫৮. মুহাম্মদ 'আব্দুর রহীম, ফাতাওয়া রহীমিয়্যাঃ; (গুজরাট : মকতবা-ই- রহীমিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৫৯. মাওলানা 'আব্দুল হাই, ফাতাওয়া আব্দুল হাই; (মাকতাবা থানবী: দেওবন্দ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৯ খ্রি.)।
৬০. সারখাসী, আবু বকর মুহাম্মদ ইবন আহমদ, আলমাবসূতব; (করাচী: এদারাতুল কুরআনি ওয়াল 'উলুমিল ইসলামিয়‍্যাঃ)।
ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কিত গ্রন্থাদি:
৬১. আল-মুবারকপুরী, সফিয়্যুর রহমান, আর-রাহীকুল মাখতুম; (রিয়াদ: দারুস সালাম, ১৯৯৪ খ্রি., সংস্করণ বিহীন)।
৬২. ইবনে কাছীর, আল-বেদায়াতু ওয়ান নেহায়াঃ; (বৈরুত: মককতাবাতুল মা'আরিফ, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ১৯৮৫ খ্রি.)।
৬৩. ইবনে হিশাম, আস্ সীরাতুন নববিয়্যাঃ; সম্পাদনা:মুস্তফা আস- সাক্কা ও গং, (মিশর:তুরাছুল ইসলাম, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৬৪. নদভী, সৈয়দ সুলায়মান, তারীখু 'আরদিল 'আরব; (করাচী:দ্বারুল এশা'আত, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৬৫. নদভী, সৈয়দ সুলায়মান, মাওলানা, তারীখু আরদিল কুরআন; (করাচী: দারুল এশা'আত, ১ম সংস্করণ, তারিখ বিহীন)।
৬৬. মুহাম্মদ ইবন 'আব্দুল ওয়াহহাব, মুখতাসারু সীরাতির রাসূল; (রিয়াদ: আর-রিয়াসাতুল দআ-ম্মাহ লি এদারাতিল বুহুছিল ইলমিয়্যাঃ..., সংস্করণ বিহীন, ১৪০৮ হিজরী)।
৬৭. হাসান ইব্রাহীম হাসান, ড., তারীখুল ইসলাম; (কায়রো: মাকতাবাতুন নাহদাতিল মিশরিয়‍্যাঃ, ১৪ সংস্করণ, ১৯৯৬ খ্রি.)।
অন্যান্য 'আরবীগ্রন্থ:
৬৮. ইবনে তাইমিয়্যাঃ, আল-ক্বা'ইদাতুল জালীলাঃ ফিত তাওয়াসসুলি ওয়াল অছীলাঃ; সম্পাদনায় সৈয়দ রশীদ রেজা, (...: মাকতাবাতিছ ছেক্কাফাতিত দ্বীনিয়‍্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৬৯. ইবনে তাইমিয়্যাঃ, আহমদ, একতেজাউস সিরাতিল মুস্তাকীম, সম্পাদনা: হামিদ আল-ফক্বী, (বৈরুত:দারুল মা'রিফাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৭০. ইবনে তাইমিয়্যাঃ, যিয়ারাতুল কুবুরি ওয়াল ইস্তেনজাদি বিল মাকবুর; (রিয়াদ: আর রিয়াসাতুল 'আ-ম্মাঃ..., দারুল ইফতা, ১ম সংস্করণ, ১৪১০হি:)
৭১. ইবনুল জাওযী, আবুল ফরজ 'আব্দুর রহমান, তলবীসে ইবলীস; (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৩ খ্রি.)।
৭২. ইবনে হাজার আল-'আসক্বালানী, লেসানুল মীযান; (বৈরুত: মুআসসাসাতুল এ'লাম লিল মাত্ববূ'আত, ৩য় সংস্করণ, ১৯৮৬ খ্রি.)।
৭৩. ইবনে কাছীর, ইসমাঈল, আবুল ফেদা ইসমাঈল, ক্বাছাছুল আম্বিয়া; সম্পাদনা: আব্দুল কাদির আহমদ আত্বা, (কায়রো: মাত্ববায়াতু হেসান, ১ম সংস্করণ, ১৯৮১ খ্রি.)।
৭৪. ইবনে কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাঃ, মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর, হাশিয়াতু ইবনিল কাইয়্যিম; (বৈরুত: দ্বারুল কুতুবিল ইলমিয়‍্যাঃ, ২য় সংস্করণ, ১৯৯৫ খ্রি.)।
৭৫. ইবনে কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাঃ, এগাছাতুল লাহফান; (কায়রো: দারুত তুরাছিল 'আরাবী, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৩ খ্রি.)।
৭৬. ইবনে কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাঃ, মিফতাহু দারিস সা'আদাঃ, (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৭৭. আবু যুহরাঃ, ইমাম, মুকারানাতুল আদইয়ান; (কায়রো: দারুল ফিকরিল 'আরাবী, সংস্করণ বিহীন, ১৯৯১ খ্রি.)।
৭৮. আহমদ রূমী, মাজালিসুল আবরার; (করাচী:দ্বারুল এশা'আত, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৭৯. আহমদ শালাবী, ড.; মুক্বারানাতুল আদইয়ান; (কায়রো:মাকতাবাতুন নুহদাতিল মিসরীয়‍্যাঃ, ৮ম সংস্করণ, ১৯৮৯ খ্রি.)।
৮০. আস্ফাহানী, আবু নাঈম আহমদ ইবন 'আব্দুল্লাহ, হিলয়াতুল আউলিয়া; (স্থান বিহীন, দ্বারুল কিতাবিল 'আরাবী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৯৮৫ খ্রি.)।
৮১. আল-বানী, মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন, তাহজীরুস সাজিদ 'আন ইত্তেখা-জিল কুবুরি মাসাজিদা; (বৈরুত: আল-মাকতাবুল ইসলামী, ৪র্থ সংস্করণ, ১৪০২ হিজরী)।
৮২. আল-জুরজানী, শরীফ 'আলী ইবন মুহাম্মদ, কিতাবুত তা'রীফাত;বৈরুত: দাবুল কুতুবিল ইলমিয়্যাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৩ খ্রি)।
৮৩. আল-জাযাইরী, আবু বকর জাবির, ওয়া জাউ ইয়ারকুদুন!!! মাহলান ইয়া দো'আতাত দালালাঃ; ( مهلا !!! وجاء وا يركضون ) ( يا دعاة الضلالة( স্থান বিহীন: মিন ওয়াছাইলিদ দা'ওয়াঃ, ১৪০৬ হিজরী)।
৮৪. আদ-দেহলভী, শাহ ওয়ালী উল্লাহ, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাঃ; (বৈরুত: দ্বারুল মা'রিফাঃ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৮৫. আদ-দেহলভী, শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস, আল-ফাউজুল কাবীর; (দেওবন্দ : এমদাদিয়া কুতুবখানা, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৮৬. গংগোহী, মাওলানা মুহাম্মদ হানীফ, জাফারুল মুহাসসিলীন বি আহওয়ালিল মুআললিফীন; (করাচী:দারুল এশা'আত, ১ম সংস্করণ, সন বিহীন)।
৮৭. ওয়াহিদ উদ্দিন খান, আল-ইসলামু ইয়াতাহাদ্দা; (কায়রো: আল-মুখতারুল ইসলামী, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
৮৮. ফারুক হামাদাহ, ড., আল-ওয়াসিয়্যাতুন নববীয়্যাঃ; (আল-মাগরিব: দারুছ ছেক্কাফাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৩ খ্রি.)।
৮৯. কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথি, ইরশাদুত তালিবীন।
৯০. মুহাম্মদ আরিফ সম্বহলী, মাওলানা, ব্রেলভী ফিৎনা কা নয়া রূপ; (উর্দু ভাষায়), (লাহুর : আশ্রাফ ব্রাদার্স, ২য় সংস্করণ, ১৯৭৮ খ্রি.)।
৯১. মুহাম্মদ ইবন 'আব্দুল ওয়াহাব, মাসাইলুল জাহিলিয়‍্যাঃ; (মদীনা: মাত্বাবি'উল জামে'আতিল ইসলামিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, ১৩৯৬ হিজরী)।
৯২. নদভী, আবুল হাসান 'আলী, মা-যা খাছিরাল আ-লামু বি ইনহেত্বাত্বিল মুসলিমীন; (আলমিল ইসলামী লিল মুনাজ্জামাতিত তুল্লাবিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, ১৯৮১ খ্রি.)।
৯৩. নূর কেলীম, মাওলানা, ব্রেলভী মাযহাব আওর ইসলাম; (ফয়সালাবাদ : মাকতাবা দারুল উলুম ফয়যে মুহাম্মদী, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)
৯৪. হাসানুল বান্না, মাজমু'আতু রাসা-ইলিল ইমাম আশ-শহীদ; (বৈরুত: আল-মুআচ্ছাছাতুল ইসলামিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
৯৫. সাঈদ আহমদ বালনপূরী, আল-'আউনুল কবীর ফিল ফাওযিল কবীর্; (দেওবন্দ: মাকতাবাতু হেজায, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন, সংস্করণ বিহীন)।
বাংলা গ্রন্থ
৯৬. 'আব্দুল মান্নান তালিব, বাংলাদেশে ইসলাম; (ঢাকা:আধুনিক প্রকাশনী, সংস্করণ বিহীন, ১৯৮০ খ্রি.)।
৯৭. অধ্যাপক 'আব্দুলম্বুর সালাফী, তৌহিদ বনাম শির্ক; (রংপুর: সালাফিয়া প্রকাশনী, সংস্করণ বিহীন, ১৯৮৪ খ্রি.)।
৯৮. এ.এইচ.এম শামসুর রহমান, আপন গৃহে অপরিচিত; (খুলনা: জাহান প্রিন্টিং প্রেস, ১ম সংস্করণ, ২০০০ খ্রি.)।
৯৯. গোপাল হালদার, সংস্কৃতির রূপান্তর; মুহাম্মদ 'আব্দুর রহীম, মাওলানা, শির্ক ও তাওহীদ; (ঢাকা: খায়রুন প্রকাশনী, ২৫তম সংস্করণ, ১৯৯৬ খ্রি.)।
১০০. গোলাম সাকলায়েন, বাংলাদেশের সূফী সাধক; (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৫ম সংস্করণ, ১৯৯৩ খ্রি.)।
১০১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১০২. জয়ন্তানুজ বন্দোপাধ্যায়, ধর্মের ভবিষ্যৎ; (কলিকাতা: এলাইড পাবলিশারস, ১ম সংস্করণ, তারিখ বিহীন), পৃ. ২৫।
১০৩. দেওয়ান নূরুল আনোয়ার চৌধুরী, শাহ জালাল (রহ.); ৩য় সংস্করণ, ই.ফা.বা., ১৯৯৫ খ্রি.)।
১০৪. মেহরাব আলী, পীর চেহেল গাজী; (স্থান বিহীন: ১ম সংস্করণ, ১৯৬৮ খ্রি.)।
১০৫. মুহাম্মদ ইউনুছ, চৌধুরী লড়াই।
১০৬. মো: বুরহানুদ্দিন, 'শেরেক বিনাশ বা বেহেস্তের চাবি, (আল- নাহদা প্রকাশনী, ১৩৯৫ বাংলা)।
১০৭. মাওলানা সৈয়দ আহমদ, 'শেরেক বর্জন, (সাতক্ষীরা: হামিদিয়া লাইব্রেরী, ১৩৬৮ বাংলা)।
১০৮. মাওলানা আকরম খাঁ, মোসলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস; (ঢাকা: আজাদ অফিস, ১ম সংস্করণ, ১৯৬৫ খ্রি.)।
১০৯. মাহবুবে খোদা দেওয়ানবাগী, আল্লাহ কোনো পথে; (ঢাকা: সূফী ফাউন্ডেশন, আরামবাগ, ৩য় সংস্করণ, সন বিহীন)।
১১০. মাহবুবে খোদা দেওয়ানবাগী, রাসূল সত্যই কি গরীব ছিলেন; (ঢাকা: সূফী ফাউন্ডেশন, আরামবাগ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন)।
১১১. মুহাম্মদ ফযলুল করীম, তৌহীদ-রেসালত ও নূরে মুহাম্মদী (সা.)-এর সৃষ্টি রহস্য; (কুমিল্লা: জমইয়াতু 'উলামাই আহলিস সুন্নাত ওয়াল জামা'আত, ১ম সংস্করণ, ১৯৯১ খ্রি.)।
১১২. সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ; (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৭ খ্রি.)।
১১৩. সৈয়দ মোহাম্মদ এছহাক, ভেদে মা'রেফত; (ঢাকা:আল- এছহাক প্রকাশনী, সংশোধিত সংস্করণ, ১৪০২ বাংলা)।
১১৪. সৈয়দ মোহাম্মদ এছহাক, তাবিজের কিতাব; (ঢাকা: আল- এছহাক প্রকাশনী, সংশোধিত সংস্করণ, ১৩৯৭ বাংলা)।
১১৫. স্বর্গীয় রমেশ চন্দ্র সরকার, মুক্তির দরবার ; (চট্টগ্রাম : শ্রী পুলিন বিহারী শীল, সংস্করণ বিহীন, ১৯৯২ খ্রি.)।
১১৬. সৈয়দ মোস্তফা কামাল, শাহ জালাল ও তাঁর কারামত; (সিলেট : নিউ এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ১০ম সংস্করণ, ১৯৯৬ খ্রি.)।
১১৭. হাবীবুর রহমান, আছুদগানে ঢাকা, উর্দু ভাষায় রচিত, (ঢাকা: মনজর প্রেস, ১ম সংস্করণ, ১৯৪৬ খ্রি.)।
১১৮. "প্রেমের শুরা-এঙ্কের খনী (প্রকাশক: চাঁদপুরী শাহ দরবার শরীফ: খাদেম মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ১ম সংস্করণ)। লেখকের নাম বিহীন বই।
গবেষণা
১১৯. মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন, "ইসলামী দাওয়াত বিস্তারে ও ধর্মীয় সামাজিক সংস্কারে 'আব্দুল আউয়াল জৌনপুরী এর অবদান", পি.এইচ.ডি থিসিস, (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, অপ্রকাশিত, ১৯৯৮ খ্রি.),
১২০. অধ্যাপক আনতুয়ান না'মাহ ও গং, আল-মুনজিদ; বৈরুত: দারুল মাশরিক, ২১ সংস্করণ, ১৯৭২ খ্রি.
১২১. ইবনে মানজুর, লেছানুল 'আরব; (কুম:নাশরুল আদাবিল হাওযাহ, সংস্করণ বিহীন, ১৮০৫হি:।
১২২. ইব্রাহীম মুস্তফা ও গং, আল-মু'জামুল ওয়াসীত; (তেহরান: আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাঃ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন)।
১২৩. 'উমার রেজা কাহহা-লাহ, মু'জামুল মুআল্লিফীন; (বৈরুত: মুআসসাসাতুর রিসালাঃ, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৩ খ্রি.)।
১২৪. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, 'আরবী-বাংলা ব্যবহারিক অভিধান; (ঢাকা: রিয়াদ প্রকাশনী, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৮ খ্রি.।
পত্রিকা
১২৫. দৈনিক ইনকেলাব, ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ খ্রি.)।
১২৬. দৈনিক 'করতোয়া', (বগুড়া: ১৮/১২/১৯৮৭ খ্রি.)।
১২৭. সাপ্তাহিক 'সোনার বাংলা, (শুক্রবার, ৪/৮/২০০০ খ্রি.)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00