📄 খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা
খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা:
খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ আহ্বান একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া বা প্রার্থনা করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত।
খাওয়াজ খিযির (আ) একজন নবী ছিলেন বলে কিছু আলেম মনে করেন, আবার কিছু আলেম তাকে ওলি মনে করেন। কিন্তু তিনি একজন মৃত ব্যক্তি। মৃত ব্যক্তিরা দুনিয়ার কোনো কিছু শুনতে বা জানতে পারে না এবং তাদের পক্ষে কাউকে সাহায্য করা সম্ভব নয়। পীর বদরও একজন মৃত ওলি। মৃত ব্যক্তিরা দুনিয়ার কোনো কিছুতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ﴾ [غافر: ٦٠]
"আর তোমাদের প্রতিপালক বলেছেনঃ তোমরা আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের আহ্বানে সাড়া দেবো। যারা (আহ্বানগত) আমার উপাসনা থেকে মুখ ফিরাবে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"
এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আহ্বান একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। কোনো মৃত নবী বা ওলির কাছে সাহায্য চাওয়া বা তাদের আহ্বান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং, খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
ভ্রমণে যাবার প্রাক্কালে নৌকায় আরোহণ করে পাঁচপীর, খাওয়াজ খিজির ও শেখ বদরকে আহ্বান করা। এ ধরনের আহ্বান দেশের সাধারণ মানুষদের মাঝে বহুল প্রচলিত রয়েছে। অনুরূপভাবে দুঃখজনকভাবে সাইমুম শিল্পীগোষ্টির শিশু-কিশোরদের গাওয়া একটি গানের কেসেটেও বদর বদর বলে বদর পীরকে আহ্বান সম্বলিত একটি গান রয়েছে।
📄 জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা
জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা:
জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ গোপন ভয় একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো অনিষ্টের গোপন ভয় করলে তাতে আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্যকে শরীক করা হয়।
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ﴾ [المائدة: ٤٤]
"সুতরাং তোমরা মানুষের কোনো অনিষ্টের ভয় করো না, ভয় কেবল আমাকেই কর।"
এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, গোপন ভয় একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। কোনো জিন-পরী, বা জীবিত বা মৃত কোনো অলি বা দরবেশ, অথবা মাযারস্থ কোনো বৃক্ষ বা অন্য কিছুর দ্বারা কোনো কারণবশত কারো কোনো অনিষ্ট হতে পারে- এমন ধারণা ও ভয় করাও আল্লাহর গোপন ভয়ের উপাসনায় শির্ক করার শামিল।
জঙ্গলের কাঠ সরদারিনী একটি কাল্পনিক সত্তা। এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই এবং এর কোনো ক্ষমতা নেই যে, সে মানুষের কোনো অনিষ্ট করতে পারে। এই ধরনের বিশ্বাস কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত এবং তা শির্কের দিকে ধাবিত করে।
সুতরাং, জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নৌকা যোগে বের হয়ে নৌকায় শয়নের সময় মুখ নিচের দিকে দিয়ে শয়ন করা থেকে বিরত থাকা, এই ভয়ে যে, এতে কাঠ সরদারিনী রাগান্বিত হবে এবং কাঠ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।
📄 মাটি ও গাছকে সালাম করা
মাটি ও গাছকে সালাম করা:
মাটি ও গাছকে সালাম করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ সালাম একটি সম্মানসূচক অভিবাদন, যা জীবিত মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত। মাটি ও গাছ জড়বস্তু এবং তাদের কোনো নিজস্ব ক্ষমতা নেই। তাদের সালাম করলে তাতে আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্যকে শরীক করা হয়।
ইসলামে সালামের বিধান:
ইসলামে সালাম হলো 'আসসালামু আলাইকুম' বলা, যার অর্থ 'আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক'। এটি মুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও দু'আ প্রকাশের একটি মাধ্যম। সালাম একমাত্র জীবিত মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত।
কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, মাটি ও গাছকে সালাম করলে তাতে বরকত হয় বা তাদের কোনো উপকার হয়। এই বিশ্বাসটি ভিত্তিহীন এবং ইসলামে এর কোনো সমর্থন নেই। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শির্কের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে আল্লাহর পাশাপাশি অন্যকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
সুতরাং, মাটি ও গাছকে সালাম করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
কাঠ সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে প্রবেশের সময় মাটি ও গাছকে সালাম করা, ললাট ও জিহ্বা দিয়ে মাটি স্পর্শ করা এবং মাগো মাগো বলে জঙ্গলে পদার্পণ করা।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন এলাকার মানুষের মাঝে এছাড়াও আরো অনেক শির্কী কর্মকাণ্ড বিদ্যমান রয়েছে। তা জানার জন্য প্রয়োজনে মো: বুরহানুদ্দিন রচিত 'শেরেক বিনাশ বা বেহেস্তের চাবি' ও মাওলানা সৈয়দ আহমদ রচিত 'শিরেক বর্জন' বই দু'টি দেখা যেতে পারে।
টিকাঃ
179. 'শেরেক বিনাশ' নামের বইটি ঢাকা থেকে আল-নাহদা প্রকাশনী কর্তৃক ১৩৯৫ বাংলা সনে এবং 'শেরেক বর্জন' বইটি সাতক্ষিরা থেকে হামিদিয়া লাইব্রেরী কর্তৃক ১৩৬৮ বাংলা সনে প্রকাশিত হয়েছে।