📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা

📄 কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা


কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা:
কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ সম্মান ও আনুগত্য প্রকাশের একমাত্র যোগ্য সত্তা আল্লাহ তা'আলা। টাকা একটি জড়বস্তু এবং এর কোনো নিজস্ব ক্ষমতা নেই। টাকাকে সম্মান প্রদর্শন করলে তাতে আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্যকে শরীক করা হয়।

ইসলামে সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি:
ইসলামে সম্মান প্রদর্শনের জন্য শরী'আতসম্মত কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যেমন: সালাম দেওয়া, মুসাফাহা করা, আলিঙ্গন করা, মেহমানদারি করা, উপদেশ গ্রহণ করা ইত্যাদি। কিন্তু কোনো জড়বস্তু বা টাকাকে কপালে স্পর্শ করে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।

কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, টাকাকে কপালে স্পর্শ করে সম্মান প্রদর্শন করলে তাতে বরকত হয় বা তাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। এই বিশ্বাসটি ভিত্তিহীন এবং ইসলামে এর কোনো সমর্থন নেই। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শির্কের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে আল্লাহর পাশাপাশি অন্যকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

সুতরাং, কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

টাকা-পয়সা মানুষের সম্পদ। তা মানুষের জীবনের প্রয়োজন মিটানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সে হিসেবে টাকা মানুষের খাদিম। মানুষ টাকার খাদিম বা গোলাম নয়। সম্পদের সম্মান হচ্ছে তাকে সংরক্ষণ করা, তাকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ জ্ঞান না করা। পায়ের নিচে ফেলে এটাকে দলিত-মথিত না করা। মাথা ও কপাল ঠেকিয়ে আল্লাহর উপাসনা ও তাঁকে সম্মান করতে হয়। তাই কপালে টাকা স্পর্শ করে টাকাকে সম্মান করা টাকাকে পূজা করারই শামিল। এ-কাজটিও অনেক মুসলিম ব্যবসায়ীদের মাঝে পরিলক্ষিত হয়। দোকান খোলার পর প্রথম বিক্রি হলেই তারা এ-কাজটি করে থাকেন।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া

📄 জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া


জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া:
জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। কোনো জিন বা অন্য কোনো সৃষ্টির অলৌকিক ক্ষমতা নেই যে, তারা মানুষকে অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে বা আশ্রয় দিতে পারে।

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا ﴾ [الجن: ٦]
"মানুষের মধ্যকার কিছু লোকেরা জিনদের মধ্যকার কিছু জিনের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতো, ফলে আশ্রিত জিনেরা তাদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনাকারীদের ভয় আরো বাড়িয়ে দিতো।"

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জিনদের কাছে আশ্রয় চাওয়া বা তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া শির্কের অন্তর্ভুক্ত। জিনদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাইতে হবে এবং তাঁর কাছেই দু'আ করতে হবে।

জাহেলী যুগে আরবের মুশরিকরা সফরে গিয়ে কোনো উপত্যকায় অবতরণ করলে সে উপত্যকার জিন সরদারের নিকট তারা আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতো: «أَعُوذُ بِسَيْدِ هَذَا الْوَادِي مِنْ شَرِّ سُفَهَاءِ قَوْمِهِ» "এই উপত্যকার সরদারের নিকট তার জাতির দুষ্টদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

সুতরাং, জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

কাঠ বা গাছ কাটার জন্য জঙ্গলে যাওয়ার পূর্বে জঙ্গলের সরদারকে এই বলে আহ্বান করা: "মাগো! জঙ্গলে তোমার সন্তানরা এসেছে, মাগো! আশা করি তোমার অন্তরে দয়া থাকবে, হে জঙ্গলের সরদারিনী মা! তোমার সন্তানদের রক্ষা কর, তাদের তুমি ভুলে যেওনা। জঙ্গলের সিংহ, বাঘ ও জিনদের এক পাশে রেখে দিও।"

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা

📄 খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা


খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা:
খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ আহ্বান একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া বা প্রার্থনা করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত।

খাওয়াজ খিযির (আ) একজন নবী ছিলেন বলে কিছু আলেম মনে করেন, আবার কিছু আলেম তাকে ওলি মনে করেন। কিন্তু তিনি একজন মৃত ব্যক্তি। মৃত ব্যক্তিরা দুনিয়ার কোনো কিছু শুনতে বা জানতে পারে না এবং তাদের পক্ষে কাউকে সাহায্য করা সম্ভব নয়। পীর বদরও একজন মৃত ওলি। মৃত ব্যক্তিরা দুনিয়ার কোনো কিছুতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ﴾ [غافر: ٦٠]
"আর তোমাদের প্রতিপালক বলেছেনঃ তোমরা আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের আহ্বানে সাড়া দেবো। যারা (আহ্বানগত) আমার উপাসনা থেকে মুখ ফিরাবে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আহ্বান একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। কোনো মৃত নবী বা ওলির কাছে সাহায্য চাওয়া বা তাদের আহ্বান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং, খাওয়াজ খিযির ও পীর বদরকে আহ্বান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

ভ্রমণে যাবার প্রাক্কালে নৌকায় আরোহণ করে পাঁচপীর, খাওয়াজ খিজির ও শেখ বদরকে আহ্বান করা। এ ধরনের আহ্বান দেশের সাধারণ মানুষদের মাঝে বহুল প্রচলিত রয়েছে। অনুরূপভাবে দুঃখজনকভাবে সাইমুম শিল্পীগোষ্টির শিশু-কিশোরদের গাওয়া একটি গানের কেসেটেও বদর বদর বলে বদর পীরকে আহ্বান সম্বলিত একটি গান রয়েছে।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা

📄 জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা


জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা:
জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ গোপন ভয় একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো অনিষ্টের গোপন ভয় করলে তাতে আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্যকে শরীক করা হয়।

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ﴾ [المائدة: ٤٤]
"সুতরাং তোমরা মানুষের কোনো অনিষ্টের ভয় করো না, ভয় কেবল আমাকেই কর।"

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, গোপন ভয় একমাত্র আল্লাহরই জন্য নির্ধারিত। কোনো জিন-পরী, বা জীবিত বা মৃত কোনো অলি বা দরবেশ, অথবা মাযারস্থ কোনো বৃক্ষ বা অন্য কিছুর দ্বারা কোনো কারণবশত কারো কোনো অনিষ্ট হতে পারে- এমন ধারণা ও ভয় করাও আল্লাহর গোপন ভয়ের উপাসনায় শির্ক করার শামিল।

জঙ্গলের কাঠ সরদারিনী একটি কাল্পনিক সত্তা। এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই এবং এর কোনো ক্ষমতা নেই যে, সে মানুষের কোনো অনিষ্ট করতে পারে। এই ধরনের বিশ্বাস কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত এবং তা শির্কের দিকে ধাবিত করে।

সুতরাং, জঙ্গলের কাঠ সরদারিনীকে ভয় করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নৌকা যোগে বের হয়ে নৌকায় শয়নের সময় মুখ নিচের দিকে দিয়ে শয়ন করা থেকে বিরত থাকা, এই ভয়ে যে, এতে কাঠ সরদারিনী রাগান্বিত হবে এবং কাঠ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00