📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কোন ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা

📄 কোন ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা


কোন ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা:
কোন ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ সম্মান ও আনুগত্য প্রকাশের একমাত্র যোগ্য সত্তা আল্লাহ তা'আলা। কোনো ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে থাকলে তাতে আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্যকে শরীক করা হয়।

ইসলামে সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি:
ইসলামে সম্মান প্রদর্শনের জন্য শরী'আতসম্মত কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যেমন: সালাম দেওয়া, মুসাফাহা করা, আলিঙ্গন করা, মেহমানদারি করা, উপদেশ গ্রহণ করা ইত্যাদি। কিন্তু কোনো ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা ইসলামে অনুমোদিত নয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ، فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ»
"তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রিস্টানরা মারইয়ামের পুত্র ঈসার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে। আমি তো আল্লাহর বান্দা, সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"

এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোনো ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা নিষেধ। ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধের প্রতি নিরবে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা বাড়াবাড়ির অন্তর্ভুক্ত এবং এটি শির্কের দিকে ধাবিত করতে পারে।

সুতরাং, কোনো ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধ মানুষ বা অপর কোনো প্রাণীর আকৃতিতে নির্মাণ করা এমনিতেই শরী’আতে হারাম, কেননা এতে আল্লাহর সৃষ্টির সাথে পাল্লা দেয়া ও সাদৃশ্য প্রকাশ করা হয়। যারা এমনটি করে হাদীসের বর্ণনানুযায়ী আখেরাতে তাদেরকে সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। কারো স্মরণার্থে কোনো প্রাণীর আকৃতি ব্যতীত অন্যভাবে কোনো উপায়ে ভাস্কর্য বা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা যেতে পারে, তবে এ শর্তে যে, সেখানে কোনো ফুল দিয়ে বা নীরবে দাঁড়িয়ে সেটাকে কোনো প্রকার সম্মান প্রদর্শন করা যাবে না। কেননা; এটি মানুষকে সম্মান প্রদর্শনের ইসলামী পদ্ধতি নয়। বরং এ-জাতীয় সম্মান প্রদর্শনকে ইসলাম বাড়াবাড়ি বলে মনে করে এবং এটাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূজা হিসেবে গণ্য করে। এ-ছাড়া এটি খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি, যা অনুসরণ করা থেকে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-মুসলিমদেরকে নিষেধ করেছেন।

টিকাঃ
178. হাদীসে এসেছে, ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত রাসূল-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন:
إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوَّرُوْنَ
"কেয়ামতের দিন সবচেয়ে অধিক শাস্তি ভোগ করবে মূর্তি নির্মাণকারীগণ"। বুখারী, প্রাগুক্ত; ৫/২২২০; মুসলিম, প্রাগুক্ত; ৩/১৬৭০।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 শিখা অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়ে আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করা

📄 শিখা অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়ে আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করা


শিখা অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়ে আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করা:
শিখা অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়ে আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ সম্মান ও আনুগত্য প্রকাশের একমাত্র যোগ্য সত্তা আল্লাহ তা'আলা। আগুন আল্লাহরই সৃষ্টি এবং এর কোনো নিজস্ব ক্ষমতা নেই। আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করলে তাতে আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্যকে শরীক করা হয়।

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ ﴾ [فصلت: ٣٧]
"সূর্য ও চন্দ্রকে সেজদা করো না, সেজদা করো কেবল সেই আল্লাহকে যিনি এদের সৃষ্টি করেছেন।"

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর সৃষ্টিকে সেজদা করা বা সম্মান প্রদর্শন করা হারাম। আগুনও আল্লাহরই সৃষ্টি এবং এর কোনো নিজস্ব ক্ষমতা নেই। আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করা পারসিকদের অগ্নিপূজার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

কিছু মানুষ শিখা অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়ে আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শির্কের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে আল্লাহর পাশাপাশি অন্যকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

সুতরাং, শিখা অনির্বাণের পাশে দাঁড়িয়ে আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

মানুষের উপকারের জন্য আল্লাহ আগুনকে সৃষ্টি করেছেন। তাই আগুনের কাজ হচ্ছে তা মানুষের উপকারে ও তাদের খেদমতে ব্যবহৃত হবে। মানুষ কোনো অবস্থাতেই আগুনের খাদেম হতে পারে না। এক সময় পারস্যে অগ্নিপূজা হতো। তাই তাদেরকে অগ্নিপূজক বলা হতো। তারা আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে সেটাকে সম্মান প্রদর্শন করতো। অগ্নিপূজারী না হয়েও যারা আগুনকে সম্মান প্রদর্শন করবে, তারা অগ্নিপূজারীদেরই একজন হিসেবে গণ্য হবে। অথচ এ-কাজটিও বর্তমানে আমাদের দেশের রাজধানীর সেনাকুঞ্জে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হয়ে থাকে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশের রাজনীতিবিদগণ এমনকি অনেক সময় সেনাবাহিনীর উর্ধতন অফিসারগণ সেখানে অবস্থিত শিখা অনির্বাণে যেয়ে আগুনকে নির্দিষ্ট একটি কায়দায় সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা

📄 কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা


কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা:
কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ সম্মান ও আনুগত্য প্রকাশের একমাত্র যোগ্য সত্তা আল্লাহ তা'আলা। টাকা একটি জড়বস্তু এবং এর কোনো নিজস্ব ক্ষমতা নেই। টাকাকে সম্মান প্রদর্শন করলে তাতে আল্লাহর ইবাদতের সাথে অন্যকে শরীক করা হয়।

ইসলামে সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি:
ইসলামে সম্মান প্রদর্শনের জন্য শরী'আতসম্মত কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যেমন: সালাম দেওয়া, মুসাফাহা করা, আলিঙ্গন করা, মেহমানদারি করা, উপদেশ গ্রহণ করা ইত্যাদি। কিন্তু কোনো জড়বস্তু বা টাকাকে কপালে স্পর্শ করে সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামে অনুমোদিত নয়।

কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, টাকাকে কপালে স্পর্শ করে সম্মান প্রদর্শন করলে তাতে বরকত হয় বা তাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। এই বিশ্বাসটি ভিত্তিহীন এবং ইসলামে এর কোনো সমর্থন নেই। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শির্কের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে আল্লাহর পাশাপাশি অন্যকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

সুতরাং, কপালে টাকা স্পর্শ করে তা সম্মান করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

টাকা-পয়সা মানুষের সম্পদ। তা মানুষের জীবনের প্রয়োজন মিটানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সে হিসেবে টাকা মানুষের খাদিম। মানুষ টাকার খাদিম বা গোলাম নয়। সম্পদের সম্মান হচ্ছে তাকে সংরক্ষণ করা, তাকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ জ্ঞান না করা। পায়ের নিচে ফেলে এটাকে দলিত-মথিত না করা। মাথা ও কপাল ঠেকিয়ে আল্লাহর উপাসনা ও তাঁকে সম্মান করতে হয়। তাই কপালে টাকা স্পর্শ করে টাকাকে সম্মান করা টাকাকে পূজা করারই শামিল। এ-কাজটিও অনেক মুসলিম ব্যবসায়ীদের মাঝে পরিলক্ষিত হয়। দোকান খোলার পর প্রথম বিক্রি হলেই তারা এ-কাজটি করে থাকেন।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া

📄 জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া


জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া:
জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া শির্কের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশ্বাসটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, কারণ আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। কোনো জিন বা অন্য কোনো সৃষ্টির অলৌকিক ক্ষমতা নেই যে, তারা মানুষকে অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে বা আশ্রয় দিতে পারে।

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

﴿وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا ﴾ [الجن: ٦]
"মানুষের মধ্যকার কিছু লোকেরা জিনদের মধ্যকার কিছু জিনের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতো, ফলে আশ্রিত জিনেরা তাদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনাকারীদের ভয় আরো বাড়িয়ে দিতো।"

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জিনদের কাছে আশ্রয় চাওয়া বা তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া শির্কের অন্তর্ভুক্ত। জিনদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশ্রয় চাইতে হবে এবং তাঁর কাছেই দু'আ করতে হবে।

জাহেলী যুগে আরবের মুশরিকরা সফরে গিয়ে কোনো উপত্যকায় অবতরণ করলে সে উপত্যকার জিন সরদারের নিকট তারা আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতো: «أَعُوذُ بِسَيْدِ هَذَا الْوَادِي مِنْ شَرِّ سُفَهَاءِ قَوْمِهِ» "এই উপত্যকার সরদারের নিকট তার জাতির দুষ্টদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

সুতরাং, জঙ্গলের জিনের কাছে আশ্রয় চাওয়া শির্কের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

কাঠ বা গাছ কাটার জন্য জঙ্গলে যাওয়ার পূর্বে জঙ্গলের সরদারকে এই বলে আহ্বান করা: "মাগো! জঙ্গলে তোমার সন্তানরা এসেছে, মাগো! আশা করি তোমার অন্তরে দয়া থাকবে, হে জঙ্গলের সরদারিনী মা! তোমার সন্তানদের রক্ষা কর, তাদের তুমি ভুলে যেওনা। জঙ্গলের সিংহ, বাঘ ও জিনদের এক পাশে রেখে দিও।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00