📘 শিরক কি ও কেন > 📄 ওলীদের নিকট কিছু কামনা করা

📄 ওলীদের নিকট কিছু কামনা করা


মানুষের জীবনে এমন অনেক প্রয়োজন রয়েছে যা একমাত্র আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অপর কেউ পূরণ করতে পারে না। সে সব প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে : সন্তান দান, রোগ মুক্তি, ব্যবসায় উন্নতি ইত্যাদি। এ জাতীয় বিষয় প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত কর্ম ক'রে তা আল্লাহ তা'আলার কাছেই কামনা করতে হয়। কিন্তু অনেক কবর যিয়ারতকারী এ জাতীয় বিষয়াদিও অলিগণের নিকট কামনা করে থাকেন, যা সুস্পষ্ট শির্ক।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 ওলীদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করা

📄 ওলীদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করা


স্বাভাবিক অবস্থায় কাউকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করাকে বলা হয় ইস্তে'আনাহ (استعانة), আর বিপদমুহূর্তে সাহায্যের জন্য কাউকে আহ্বান করাকে বলা হয় 'ইস্তেগাছাহ' (استغاثة), এ উভয় অবস্থায় সাহায্যের জন্য কেবল সে মানুষকেই আহ্বান করা যেতে পারে যিনি জীবিত এবং উপস্থিত। কোনো অনুপস্থিত বা মৃত মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য তাদের নিকট সাহায্য চেয়ে আহ্বান করা যায় না; যদি কেউ তা করে, তবে ধরে নিতে হবে যে, সে তাদের প্রতি গায়েব সম্পর্কে জানার ধারণা পোষণ করে এবং আল্লাহর ন্যায় অলৌকিকভাবে তারা মানুষের সাহায্য করতে পারেন বলেও বিশ্বাস করে, যা সুস্পষ্ট শির্ক। আমাদের দেশের সাধারণ লোকেরা ওলীদেরকে উপর্যুক্ত দুই ধারণার ভিত্তিতেই 'ইয়া গউছ, ইয়া খাজা, ইয়া গরীব নেওয়াজ' ইত্যাদি বলে দূর-দূরান্ত থেকে তাঁদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করে থাকেন।

টিকাঃ
111. সুতরাং দেখা গেল যে, এ ধরনের আহ্বান ও সাহায্যপ্রার্থনা দু'দিক থেকে শির্ক। এক. সে মনে করছে যে এ ব্যক্তি তার আহ্বান সম্পর্কে দূরে থেকেও জানছে, যা ইলমে গায়েবের জ্ঞানের অংশ, আবার ধারণা করছে যে এমন সময়ে সে সাহায্য করতে সক্ষম, যা আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ শক্তির সাথে শরীক করা। এ দুটোই শির্ক ফির রবুবিয়্যাহ। আর সে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের আহ্বান করছে সেটা উলুহিয়্যতে শির্ক। [সম্পাদক]

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 ওলীদের কবরের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে বিনয় প্রকাশ করা

📄 ওলীদের কবরের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে বিনয় প্রকাশ করা


নামায হচ্ছে আল্লাহর সাথে বান্দার সাক্ষাতের সুবর্ণ সুযোগ ও মুনাজাত। এর মাধ্যমে বান্দা যেমন আল্লাহর তা'যীম প্রকাশ করে, তেমনি অত্যন্ত সংগোপনে আল্লার কাছে তার মনের আকুতি, মিনতি ও প্রয়োজনের কথা প্রকাশ করে। এ জন্য প্রয়োজন হয় বিনয় ও একাগ্রতার। সে জন্য আল্লাহ তা'আলা নামাযে তাঁর সম্মুখে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দাঁড়াবার নির্দেশ করে বলেছেন:
﴿وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ﴾ [البقرة: ٢٣٨]
"তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে (সালাত আদায় করার সময় তাঁর সামনে) অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দাঁড়াও।” কেউ নামায আদায় করার উদ্দেশ্যে বিনয়ের সাথে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ালে বাহ্যিক দৃষ্টিতে তা উপাসনার মত দেখালেও প্রকৃত অর্থে তা নামায হিসেবে তখনই গণ্য হবে যখন এর সাথে ভালবাসা ও এখলাসের সংমিশ্রণ হবে। নামাযে দাঁড়িয়ে একজন নামায আদায়কারী এভাবে আল্লাহর সম্মান ও তা'যীম প্রকাশ করে থাকে। মানুষের পক্ষে এ ধরনের তা'যীম প্রকাশ একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জন্যে করা শির্ক। কিন্তু অনেক পীর ও আউলিয়া ভক্তদের দেখা যায় তারা নিজ পীর ও ওলিদের তা'যীম করার জন্য তাঁদের পীরের সামনে বা ওলিদের কবরে অনুরূপ বিনয় প্রকাশের মাধ্যমে তাঁদের তা'যীম করে থাকেন। সাথে সাথে কবরস্থ ওলিদের নিকট তাদের প্রয়োজনের কথাও অত্যন্ত বিনয়ের সাথে পেশ করে থাকেন যা সম্পূর্ণ শির্ক।

টিকাঃ
112. আল-কুরআন, সূরা বাক্বারাহ: ২৩৮।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 আল্লাহর এবাদতের জন্য কবরের পার্শ্বে ই'তিকাফ বা অবস্থান করা

📄 আল্লাহর এবাদতের জন্য কবরের পার্শ্বে ই'তিকাফ বা অবস্থান করা


ই'তিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে কোনো উদ্দেশ্যে কোথাও অবস্থান গ্রহণ করা। শর'য়ী পরিভাষায় আল্লাহর উপাসনার উদ্দেশ্যে দশ দিন বা এর কম-বেশী সময়ের জন্য কোনো মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করাকে ই'তিকাফ বলা হয়। এটি আল্লাহর একটি বিশেষ ধরনের উপাসনা। যা মসজিদেই কেবল করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন:
﴿ وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَابِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ ﴾ [الحج: ٢٦]
"তুমি আমার গৃহ (মাসজিদুল হারাম)-কে ত্বাওয়াফকারী, অবস্থান তথা ই'তিকাফকারী, রূকু' ও সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।"
কোনো কবর বা দরবার যেহেতু মসজিদ নয়, সুতরাং আল্লাহর উপাসনার জন্য সেখানে অবস্থান গ্রহণ করা জায়েয নয়। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করলে তা বেদ'আতী কর্ম হিসেবে গণ্য হবে। কেউ যদি কোনো কবরে অবস্থানের দ্বারা কবরস্থ ওলির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে চায়, তা হলে তার এ অবস্থান শির্কী কর্ম হিসেবে গণ্য হবে; কেননা যুগে যুগে মুশরিকরা তাদের দেবতাদের পার্শ্বে এ জাতীয় উদ্দেশ্যেই অবস্থান গ্রহণ করতো। এর প্রমাণ আমরা প্রথম অধ্যায়ে দিয়ে এসেছি। তাওহীদকে যথাযথভাবে অনুধাবন করে থাকলে কোনো মু'মিনের পক্ষে এ ধরনের কর্ম করা কখনও সম্ভব হতে পারে না। তবে আমাদের দেশের অনেক মুসলিমকে এ-ধরনের কর্ম করতে দেখা যায়। শাহজালাল (রহ.) বা হাইকোর্টে অবস্থিত শরফুদ্দিন চিন্তি বেহেশতী (রহ.)-এর কবরে গেলে অসংখ্য লোককে এ জাতীয় কর্ম করতে দেখা যায়। এমনকি কোনো কোনো কবরে যিয়ারতের সময় কিভাবে, কতদূরে বসতে হবে, তাও বোর্ডে লিখিত দেখতে পাওয়া যায়।

টিকাঃ
113. আল-কুরআন, সূরা বাক্বারাহ: ১২৫।
114. ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর জাতির মুশরিকদের লক্ষ্য করে বলেন, ﴿مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ ﴾ [الانبياء: ٥২] "এ মূর্তিগুলো কি যে তোমরা এর পার্শ্বে অবস্থান গ্রহণ করছো।" সূরা ত্বা-হা: ৯১। মুসা আলাইহিস সালাম-এর জাতির মুশরিকরা গরু পূজা করা উপলক্ষ্যে বলেছিল: ﴿قَالُوا لَن تَبْرَحَ عَلَيْهِ عَكِفِينَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى ﴾ [طه: ۹১] "মুসা আলাইহিস সালাম ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এর পার্শ্বে অবস্থান করেই যাব।” সূরা আম্বিয়া: ৫২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00