📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কবরমুখী হয়ে বা কবরের পার্শ্বে নামায আদায় করা

📄 কবরমুখী হয়ে বা কবরের পার্শ্বে নামায আদায় করা


আল্লাহর উপাসনাকে শির্কমুক্ত রাখার জন্য কবরমুখী হয়ে বা কবরের পার্শ্বে নামায আদায় করা থেকে নিষেধ করে দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لَا تُصَلُّوا إِلَى الْقُبُورِ»
“তোমরা কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে না।”
যদি কেউ তা করে তবে তার এ সালাত দ্বারা আল্লাহর তা'যীম আদায় না হয়ে কবরবাসীরই তা'যীম প্রকাশিত হয়ে থাকবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনো কোনো কবরের ভক্তদের মধ্যে এমনটি করার প্রচলন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ শরীয়তপুর জেলার 'শুরেশ্বর' কবরের ভক্তদের কথাই বলা যায়। তাদের অনেকেই তাদের পীরের কবরকে ক্বিবলার মত গণ্য করে সে দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে থাকে। কবরের পার্শ্বে কবরের তা'যীম করার উদ্দেশ্য ছাড়া সালাত আদায় করা হারাম, শির্ক নয়। তবে কেউ যদি কবরের তা'যীম করার উদ্দেশ্যে এর পার্শ্বে সালাত আদায় করে, তা হলে শির্ক হিসাবে গণ্য হবে। মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী উপর্যুক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন:
ولو كان هذا التعظيم حقيقة للقبر و لصاحبه لكفر المعظم
"এ তা'যীম যদি কবর ও কবরস্থ ব্যক্তির জন্যে হয়ে থাকে, তা হলে তা'যীমকারী কাফের হয়ে যাবে।"

টিকাঃ
106. মুসলিম, প্রাগুক্ত; কিতাবুল জানাইয, ২/৬৬৮; নাসাঈ, প্রাগুক্ত; ২/৬২; আহমদ, প্রাগুক্ত; ৪/১৩৫।
107. মুল্লা আলী ক্বারী আল-হানাফী, আল-মিরক্কাত ফী শরহিল মিশকাত; ২/৩৭২।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 দ্রুত দো'আ কবুল হওয়ার আশায় মুরশিদ বা পীরের বৈঠকখানার দিকে মুখ করে দো'আ করা

📄 দ্রুত দো'আ কবুল হওয়ার আশায় মুরশিদ বা পীরের বৈঠকখানার দিকে মুখ করে দো'আ করা


মহান আল্লাহ বলেন:
﴿ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ﴾ [البقرة: ١١٥]
"তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাওনা কেন সে দিকেই আল্লাহর দিক রয়েছে”
এ আয়াতের ভিত্তিতে যে কোনো দিকে মুখ করে আল্লাহকে ডাকা যেতে পারে। কিন্তু কেউ যদি আল্লাহর দিকে মুখ না করে দ্রুত দো'আ কবুলের জন্য তার মুরশিদ বা পীরের বৈঠকখানার দিকে মুখ করে, তা হলে এ উপাসনা আল্লাহর জন্য না হয়ে তার মুরশিদ বা পীরের জন্যেই হবে। এ জাতীয় কর্মের প্রচলন ফরিদপুর জেলার আটরশির বিশ্বজাকির মঞ্জিলের ভক্তদের মাঝে রয়েছে। অথচ আল্লাহর নিকট কিছু চাইতে হলে সরাসরি তা তাঁরই কাছে চাওয়ার নির্দেশ করে তিনি বলেছেন:
﴿ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ﴾ [غافر: ٦٠]
"তোমরা আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব"। আমরা যদি আল্লাহ- মুখী হয়ে তাঁর কাছে সরাসরি না চেয়ে অপর কোনো মৃত মানুষের মাধ্যমে তাঁর কাছে কিছু চাই, তা হলে এ চাওয়া আল্লাহর কাছে না হয়ে মধ্যস্থ সে ব্যক্তির কাছেই চাওয়া হিসেবে গণ্য হবে। কেননা; এ জাতীয় চাওয়া আল্লাহর নিকট সরাসরি চাওয়ার উপাসনায় তাঁর সাথে মধ্যস্থ ব্যক্তিকে শরীক করে নেয়া হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। আর এ জাতীয় উপাসনার ব্যাপারে হাদীসে কুদসীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
مَنْ عَمِلَ عَمَلاً وَأَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَ شِرْكَهُ وَجَعَلْتُ الْعَمَلَ لِلَّذِي أَشْرَكَهُ
“যে ব্যক্তি কোনো কাজে আমার সাথে অপর কাউকে শরীক করে, আমি তাকে ও তার কর্মকে ছেড়ে দেই এবং এ কাজে যাকে সে শরীক করেছে, তাকেই সে কাজটি দিয়ে দেই।”

টিকাঃ
108. আল-কুরআন, সূরা বাক্বারাঃ :১১৫।
109. আল-কুরআন, সূরা গাফির: ৬০।
110. মুসলিম, প্রাগুক্ত; কিতাবুয যুহদ, বাব নং: ৫, হাদীস নং ২৯৮৫; ৪/২২৮৯; আহমদ, প্রাগুক্ত; ২/২০১।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 ওলীদের নিকট কিছু কামনা করা

📄 ওলীদের নিকট কিছু কামনা করা


মানুষের জীবনে এমন অনেক প্রয়োজন রয়েছে যা একমাত্র আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অপর কেউ পূরণ করতে পারে না। সে সব প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে : সন্তান দান, রোগ মুক্তি, ব্যবসায় উন্নতি ইত্যাদি। এ জাতীয় বিষয় প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত কর্ম ক'রে তা আল্লাহ তা'আলার কাছেই কামনা করতে হয়। কিন্তু অনেক কবর যিয়ারতকারী এ জাতীয় বিষয়াদিও অলিগণের নিকট কামনা করে থাকেন, যা সুস্পষ্ট শির্ক।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 ওলীদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করা

📄 ওলীদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করা


স্বাভাবিক অবস্থায় কাউকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করাকে বলা হয় ইস্তে'আনাহ (استعانة), আর বিপদমুহূর্তে সাহায্যের জন্য কাউকে আহ্বান করাকে বলা হয় 'ইস্তেগাছাহ' (استغاثة), এ উভয় অবস্থায় সাহায্যের জন্য কেবল সে মানুষকেই আহ্বান করা যেতে পারে যিনি জীবিত এবং উপস্থিত। কোনো অনুপস্থিত বা মৃত মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য তাদের নিকট সাহায্য চেয়ে আহ্বান করা যায় না; যদি কেউ তা করে, তবে ধরে নিতে হবে যে, সে তাদের প্রতি গায়েব সম্পর্কে জানার ধারণা পোষণ করে এবং আল্লাহর ন্যায় অলৌকিকভাবে তারা মানুষের সাহায্য করতে পারেন বলেও বিশ্বাস করে, যা সুস্পষ্ট শির্ক। আমাদের দেশের সাধারণ লোকেরা ওলীদেরকে উপর্যুক্ত দুই ধারণার ভিত্তিতেই 'ইয়া গউছ, ইয়া খাজা, ইয়া গরীব নেওয়াজ' ইত্যাদি বলে দূর-দূরান্ত থেকে তাঁদেরকে সাহায্যের জন্য আহ্বান করে থাকেন।

টিকাঃ
111. সুতরাং দেখা গেল যে, এ ধরনের আহ্বান ও সাহায্যপ্রার্থনা দু'দিক থেকে শির্ক। এক. সে মনে করছে যে এ ব্যক্তি তার আহ্বান সম্পর্কে দূরে থেকেও জানছে, যা ইলমে গায়েবের জ্ঞানের অংশ, আবার ধারণা করছে যে এমন সময়ে সে সাহায্য করতে সক্ষম, যা আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ শক্তির সাথে শরীক করা। এ দুটোই শির্ক ফির রবুবিয়্যাহ। আর সে যে আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের আহ্বান করছে সেটা উলুহিয়্যতে শির্ক। [সম্পাদক]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00