📘 শিরক কি ও কেন > 📄 পাখি বা বানরের মাধ্যমে ভাগ্য জানার চেষ্টা করা

📄 পাখি বা বানরের মাধ্যমে ভাগ্য জানার চেষ্টা করা


ঢাকা শহরের গুলিস্তান এলাকার ফুটপাতে বসে কোনো কোন ব্যক্তিকে একটি টিয়া (Parot) বা বানরের মাধ্যমে ভাগ্যাহত মানুষের ভাগ্যের ভাল-মন্দ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে দেখা যায়। তারা তাদের সম্মুখে সাজিয়ে রাখেন কিছু খাম। খামের ভিতরে থাকে ভবিষ্যৎ জীবনে ভাগ্যের ভাল-মন্দ সম্পর্কে বিভিন্ন কথা। ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হয়ে কেউ তাদের কাছে ভাগ্য সম্পর্কে জানতে গেলে লোকটির নির্দেশে সে টিয়া পাখি বা বানর তার সামনে সাজিয়ে রাখা খামগুলো থেকে একটি খাম উত্তোলন করে। লোকটির হাতে তুলে দেয়। এবার লোকটি খামের ভিতরের কাগজটি বের করে তাতে যা লিখা রয়েছে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পড়ে শুনায় বা তাকে পড়তে দেয়। এভাবেই সাধারণ লোকেরা টিয়া পাখি বা বানরের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। খামের লিখা ভাল হলে এর দ্বারা তারা সাময়িকের জন্য হলেও আনন্দ উপভোগ করে, আর খারাপ হলে আরো হতাশাগ্রস্ত হয়। টিয়া পাখি বা বানরের মাধ্যমে সাধারণ লোকেরা নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে জানতে চাওয়ার কারণ হলো- তারা এদের ব্যাপারে এ ধারণা পোষণ করে যে, এরা অদৃশ্য সম্পর্কে অবগত থাকে।
জাহেলী যুগে আরবের মুশরিকদের মাঝেও পাখির ডানে বা বামে উড়ে যাওয়া থেকে কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার শুভ অশুভ জানার রেওয়াজ ছিল। এটি একটি শির্কী চিন্তাধারা হওয়াতে রাসূলুল্লাহ-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- তা এই বলে রহিত করেন যে, [.. وَلاَ طِيَرَةَ ..] "...পাখি ডানে বা বামে উড়ে যাওয়ার সাথে ভাগ্যের ভাল বা মন্দের কোনো সম্পর্ক নেই..."। অপর হাদীসে তিনি বলেন: [ الطَّيَرَةُ شِرْكُ الطَّيَرَةُ شِرْكٌ ثَلاثاً ] "...পাখি উড়িয়ে বা উড়ে যাওয়া থেকে ভাগ্যের শুভ বা অশুভ নির্ধারণ করা শির্ক। (এ কর্মটি যে শির্ক তা গুরুত্বের সাথে বুঝাবার জন্য) তিনি এ কথাটি তিন বার বলেন"।

টিকাঃ
57. বুখারী, প্রাগুক্ত, ৫/২২৭৭, মুসলিম, প্রাগুক্ত; ৪/১৭৪২।
58. আবু দাউদ, প্রাগুক্ত; কিতাবুত ত্বিব, বাব: পাখি উড়িয়ে ভাগ্য যাচাই করার বর্ণনা; ৪/২৩০।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 আল্লাহর ওলিগণ গায়েব সম্পর্কে জানেন?

📄 আল্লাহর ওলিগণ গায়েব সম্পর্কে জানেন?


আমাদের দেশের সাধারণ মানুষদের মাঝে বিশেষ করে পীর ভক্তদের মাঝে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে রয়েছে যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে তা আল্লাহর ওলিগণ তাঁদের রূহানী শক্তিবলে জানতে পারেন। এ ধারণার ভিত্তিতেই তারা দূর-দূরান্ত থেকে ওলিগণ কে 'ইয়া গাউস' 'ইয়া খাজা' ইত্যাদি বলে সাহায্যের জন্য আহ্বান করে থাকেন। এমনকি ভক্তির আতিশয্যে তাদের কাউকে আল্লাহর যাবতীয় গুলাবলী দ্বারা খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীকে গুণান্বিত করতেও দেখা যায়। যেমন এক ব্যক্তি খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-কে গুণান্বিত করতে গিয়ে বলেছে: সাত্তারুন মঈনুদ্দিন, ওয়াহিদুন মঈনুদ্দিন, সামী'উন মঈনুদ্দিন, আলীমুন মঈনুদ্দিন, আন-নাজিরু মঈনুদ্দিন ইত্যাদি। যার অর্থ হচ্ছে: মঈনুদ্দিন একাধারে মানুষের সকল দোষ-ত্রুটি গোপনকারী, একক, সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ ও সর্বদ্রষ্টা। না'উজু বিল্লাহ
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীকে এভাবে গুণান্বিত করার অর্থ দাঁড়ায়- তিনি যেন আল্লাহর অবতার ছিলেন। সে জন্যই তিনি তাঁর ভক্তদের যাবতীয় বিষয়ের ব্যাপারে সম্যক অবহিত রয়েছেন। তিনি তাদের আহ্বান শ্রবণ করে থাকেন। এ সব ধারণার ভিত্তিতেই বিপদের সময়ে হোক আর স্বাভাবিক সময়ে হোক সর্বাবস্থায়ই তারা তাঁদেরকে এ সব নামে আহ্বান করে থাকেন। এমনকি নামাযের মুসল্লায় দাঁড়িয়েও তাদেরকে 'ইয়া গাউছ' বলে বড়পীর আব্দুল কাদির জীলানী (রহ.)-কে আহ্বান করতে দেখা যায়।

টিকাঃ
59. এ কথাগুলো মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ.)-এর বার্ষিক ওরস উপলক্ষে তাঁর জনৈক ভক্তের দ্বারা প্রচারিত একটি দাওয়াতী হ্যান্ডবিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
60. মাদ্রাসা-ই-আলীয়া, ঢাকাতে কামিল মুহাদ্দিস শ্রেণীতে ১৯৭৯-১৯৮১ সালে অধ্যয়ন করার সময় মোঃ আব্দুল মান্নান আ'জমী নামে চট্টগ্রাম জেলার আমার এক সহপাঠি ছিল। একদিন যোহরের সালাতের জন্য মুসল্লায় দাঁড়িয়ে 'ইয়া গাউস' বলে বড়পীর আব্দুল কাদির জীলানীকে আহবান করতে শুনলাম। তাকে বললাম- নামাযের মুসল্লায় দাঁড়িয়ে গাউসকে আহবান করছো? জবাবে সে বললো- গাউস আমার আহ্বান শ্রবণ করতে পারেন, তাই তাঁকে আহ্বান করলাম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00