📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কুরায়শ ও আরবদের জ্ঞানগত শির্কী কর্ম

📄 কুরায়শ ও আরবদের জ্ঞানগত শির্কী কর্ম


কাহিনদের কাছে ভাগ্য জানার জন্য যাওয়া : তৎকালের আরবের জনগণ কাহিন (Diviner) বা (গণক), আররাফ (Fortune teller) ও জ্যোতির্বিদদের (Astrologer) কথায় বিশ্বাস করতো এ ধারণার ভিত্তিতে যে, এরা গায়েব সম্পর্কে কম-বেশী জ্ঞান রাখে। সে জন্য তারা যা বলে তা অনেকটা সত্য হয়ে থাকে। এরা সবাই মানুষের ভাগ্য ও অদৃশ্য বিষয়াদি সম্পর্কে মন্তব্য করতো, শর'য়ী দৃষ্টিতে কারো ব্যাপারে অদৃশ্য সম্পর্কে অবহিত থাকার ধারণা করা শির্ক। সে জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের কাছে যাওয়া ও তাদের কথায় বিশ্বাস করা থেকে মু'মিনদের বারণ করে বলেন:

مَنْ أَتَى كَاهِنًا، أَوْ عَرَّافًا، فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ

"যে ব্যক্তি কোন কাহিন তথা গণক অথবা ভবিষ্যত বক্তার কাছে গেল এবং সে-যা বলে তা বিশ্বাস করলো, সে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সাথে কুফরী করলো।”

জ্যোতির্বিদদের সম্পর্কে তিনি বলেন:

مَنْ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السَّحْرِ زَادَ مَا زَادَ

"যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যা অর্জন করলো সে যেন জাদু বিদ্যার একটি অংশ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করলো, যে যত বেশী জানলো সে তত বেশী জাদু বিদ্যা অর্জন করলো।”

সে সময়ের কাহিনরা ছিল জিন সাধক। জিনের সহযোগিতায়ই তারা মানুষের ভাগ্য ও অদৃশ্যে সংঘটিত হওয়া বিষয়াদি সম্পর্কে কথা বলতো। জিনরা উর্ধ্বাকাশে যেয়ে ফেরেশতাদের কথোপকথন শুনার জন্য ওৎ পেতে বসে থাকতো। কখনও একটি কথা শুনলে এর সাথে একশ'টি মিথ্যা কথা মিশিয়ে তাদের বন্ধু কাহিনের কাছে এসে বলতো। এভাবে জিনদের সহযোগিতায় তারা পার্থিব দিক দিয়ে উপকৃত হতো। আর জিনরা সাধারণ জনমনে কাহিনদের ব্যাপারে অদৃশ্য সম্পর্কে জানার শির্কী ধ্যান-ধারণা ছড়িয়ে দিতে পারাকেই নিজেদের জন্য উপকার হিসেবে গণ্য করতো। জিনরা যে ফেরেশতাদের কথা শুনার জন্য উর্ধ্বাকাশে যেতো সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন- জিনেরা বলে:

وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاءَ فَوَجَدْنَهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا * وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَن يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَّصَدًا ﴾ [الجن: ۸، [۹

"আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করে তা কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা পরিপূর্ণ দেখতে পেয়েছি। আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনলে সে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডকে ওৎ পেতে থাকতে দেখে।”

কাহিন ও জিনদের পরস্পরের দ্বারা উপকৃত হওয়া ও আখেরাতে তাদের কী পরিণতি হবে সে সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

﴿وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَمَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُم مِّنَ الْإِنسِ وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُم مِّنَ الْإِنسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَلْتَ لَنَا قَالَ النَّارُ مَثْوَنَكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ ﴾ [الأنعام: ١٢٨]

"যে দিন আমি সকলকে একত্রিত করবো, সেদিন জিনদেরকে লক্ষ্য করে বলবো: হে জিনসকল শুনো: তোমরা মানুষদের দ্বারা অতিমাত্রায় উপকৃত হয়েছো, (তখন) তাদের মানুষ বন্ধু (কাহিনরা) বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা পরস্পরের দ্বারা উপকৃত হয়েছি, আমাদের জন্য আপনি যে সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, আমরা সে সময়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছি। তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের চিরস্থায়ী আবাস স্থল, তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক খুবই বিজ্ঞ ও জ্ঞানী।"

টিকাঃ
১. কাহিন বলা হয় সে ব্যক্তিকে যে গোপন তথ্যাদি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানার দাবী করে এবং সে অনুযায়ী ভবিষ্যতে কার ভাগ্যে কী ঘটবে, সে সম্পর্কে জনগণকে আগাম সংবাদও দিয়ে থাকে। দেখুন: আল-জুরজানী, প্রাগুক্ত; পৃ. ১৮৩; সফিয়্যুর রহমান মুবারকপুরী আরেকটু বাড়িয়ে বলেন: "এদের কেউ কেউ দাবী করে যে, তাদের আনুগত্যকারী একটি জিন রয়েছে, আর সে জিনই তাদেরকে গোপন খবরাদি সরবরাহ করে।" দেখুন : সফিয়্যুর রহমান আল-মুবারকপুরী, প্রাগুক্ত; পৃ. ৩৮।
২. আর-রাফ: এ ব্যক্তিও একধরনের গণক। কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা কারো কোন কাজ বা অবস্থা থেকে আগাম কিছু বিষয়াদি ও কারণ জানার মাধ্যমে গোপন জিনিষের স্থান সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করে। দেখুন: সফিয়্যুর রহমান আল-মুবারকপুরী, প্রাগুক্ত; পৃ. ৩৮।
৩. 'মুনাজ্জিম' বলা হয় সে ব্যক্তিকে, যে তারকারাজির গতিবিধি ও স্থানসমূহ লক্ষ্য করে এর মাধ্যমে সে ভবিষ্যতে জগতের অবস্থাদি ও ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে জানতে চায়। দেখুন: মুল্লাহ 'আলী আল-কারী, মিরক্কাতুল মাফাতীহ; (মুলতান: মাকতাবাহ ইমদাদিয়‍্যাহ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন), ২/২, ৩।
৪. ইমাম আহমদ, প্রাগুক্ত; ২/৪০৮, ৪২৯, ৪৭৬।
৫. আবু দাউদ, প্রাগুক্ত; কিতাবুত ত্বিব, বাব: তারকারাজী সম্পর্কে রাসূল যা বলেন; ৪/২২৬।
৬. ইবনে কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম; ২/৫৬৮।
৭. আল-কুরআন, সূরা জিন: ৯, ১০।
৮. আল-কুরআন, সূরা আন'আম : ১২৮। শেখ আব্দুর রহমান ইবন হাসান আলুশ্ শায়খ, ফতহুল মাজীদ; (লাহুর : আনসারুস সুন্নাতিল মুহাম্মদিয়্যাহ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন), পৃ. ২৯৮।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 কুরায়শ ও আরবদের পরিচালনাগত শির্কী কর্ম

📄 কুরায়শ ও আরবদের পরিচালনাগত শির্কী কর্ম


দেবতারা আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিতে সক্ষম : তারা মনে করতো যে, ওয়াদ, সুয়া' ও অন্যান্য আউলিয়া ও ফেরেস্তাদের নামে নির্মিত লাত, উজ্জা ও মানাত নামের মূর্তি সমূহের আল্লাহর নিকটে অনেক মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে, তারা তাদের সে মর্যাদার মাধ্যমে তাদের ভক্তদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিতে সক্ষম। সে জন্যই শরীর ও অন্তরের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন উপাসনার মাধ্যমে তারা সে সব দেবতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে চাইতো। মূর্তির উপাসনার পিছনে এটাই যে তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সে সম্পর্কে তারা স্পষ্ট করেই বলতো :

﴿مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى ﴾ [الزمر: 3]

"দেবতারা যাতে আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়, কেবল সে উদ্দেশ্যেই আমরা তাদের উপাসনা করি।" তারা যেহেতু আখেরাতে বিশ্বাসী ছিল না, সেহেতু দেবতাদের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পেরে আল্লাহর পক্ষ থেকে পার্থিব আরাম, আয়েশ ও সুখ, শান্তি লাভ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

আউলিয়া নামের দেবতাদেরকে শাফা'আতকারী মনে করা:
তারা আউলিয়াদের নামে নির্মিত মূর্তি ও অন্যান্য দেবতাদের ব্যাপারে এ ধারণা পোষণ করতো যে, আল্লাহর সাথে এদের যে সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর দরবারে এদের যে মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে, সে সবের বদৌলতে তারা আল্লাহর দরবারে শাফা'আত করে তাদের ভক্তদের পার্থিব কল্যাণ এনে দিতে এবং অকল্যাণ দূর করতে সক্ষম। তারা যে এমন ধারণা পোষণ করতো সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন :

﴿ وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَؤُنَا عِندَ اللَّهِ ﴾ [يونس: ١٨]

"তারা বলতো: এরা (দেবতারা) আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য শাফা'আতকারী।"

আর এ-ধারণার ভিত্তিতেই তারা দেবতাদেরকে আহ্বান করে সেগুলোর নিকট তাদের বিভিন্ন আবেদন ও নিবেদন করতো।

দেবতার নিকট থেকে ভাগ্য যাচাই করা:
কোথাও যাওয়া বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কর্ম করার পূর্বে তারা হুবল দেবতার নিকটে রাখা ভাগ্য নির্ধারক তীর দ্বারা ভাগ্য পরীক্ষা করে নিতো। 'কাজ কর' এ মর্মে লিখিত তীর উঠলে এতে তারা দেবতার অনুমতি রয়েছে বলে মনে করতো। তাদের এ কর্মসহ আরো কিছু কর্মের সমালোচনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে:

﴿إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ ﴾ [المائدة: ٩٠]

"নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ আর কিছু নয়।"

পৃথিবীর ঘটনা প্রবাহে নক্ষত্রের প্রভাবে বিশ্বাস করা:
পৃথিবীর ঘটনা প্রবাহে তারা নক্ষত্রের প্রভাবে বিশ্বাস করতো। কোন কোন তারকার প্রভাবে বৃষ্টি হতো বলেও বিশ্বাস করতো। হাদীসে কুদসীতে এ-জাতীয় বিশ্বাসকে কুফরী বিশ্বাস বলে আখ্যায়িত করে মহান আল্লাহ বলেন,

﴿مَن قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءٍ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي وَمَؤْمِنُ بِالْكَوْكَبِ﴾ "... যে বলে অমুক অমুক তারকা উদিত বা অস্ত যাওয়ার ফলে বৃষ্টি হয়েছে, সে আমার সাথে কুফরী করলো এবং তারকার প্রভাবের প্রতি বিশ্বাসী হলো।"

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদেরকে প্রতিপালকের বৈশিষ্ট্য দান করা:
তৎকালের ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্মীয় আহবার ও রুহবানদেরকে হালাল ও হারাম নির্বাচনকারী বানিয়ে নিয়েছিল। তারা কোনো বস্তুকে হালাল বা হারাম বললে তারা সে বস্তুকে তা-ই জ্ঞান করতো। তাদের কিতাবাদিতে সে বস্তুটির বিধান তাদের কথার বিপরীত লেখা থাকলেও তারা সে লেখার প্রতি কোন কর্ণপাত করতো না। আল্লাহ তা'আলা তাদের এ জাতীয় কর্মের সমালোচনা করে বলেন:

﴿اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ ﴾ [التوبة: ٣١]

"ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা তাদের ধর্মগুরুদেরকে আল্লাহ তা'আলার বদলে অসংখ্য প্রতিপালক বানিয়ে নিয়েছিল।"

কোন কোন রোগ নিজ থেকে সংক্রমিত হয় বলে বিশ্বাস করা:
দাদ, একজিমা ও প্লেগ ইত্যাদি রোগ আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে নিজ থেকে অন্যের গায়ে সংক্রমিত হয়ে থাকে বলে তারা বিশ্বাস করতো। অনুরূপভাবে কোথাও যাওয়ার সময় পথিমধ্যে সামনে দিয়ে কোনো পাখি বা বন্য হরিণ বাম দিক থেকে ডান দিকে গেলে এটাকে তারা যাত্রা শুভ বলে মনে করতো, আর ডান দিক থেকে বাম দিকে গেলে এটাকে যাত্রা অশুভ বলে মনে করতো। এমনিভাবে রাতের বেলা গাছের ডালে বা ঘরের উপরে বসে পেঁচা অথবা নাম না জানা কোনো পাখি আওয়াজ করলে এটাকেও তারা অশুভ লক্ষণ বলে মনে করতো। তাদের এ জাতীয় শির্কী বিশ্বাসের সমালোচনা করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَلَا هَامَ "আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছার বাইরে কোনো রোগ নিজ থেকে অন্যত্র সংক্রমিত হয় না, কোনো পাখিও কারো ভাগ্যের মঙ্গল অমঙ্গল জেনে ডানে বা বামে উড়ে যায় না, পেঁচা বা নাম না জানা কোনো পাখি গাছের ডালে বা কারো ঘরের উপর বসে রাতের বেলায় ডাকলে তাতে কোন অমঙ্গল নেই।"

টিকাঃ
১. আল-কুরআন, সূরা যুমার: ৩।
২. আল-কুরআন, সূরা ইউনুস: ১৮।
৩. আল-কুরআন, সূরা মায়েদাহ্ :৯০।
৪. মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব, মাসাইলুল জাহিলিয়্যাহ; (মদীনা: মাতাবিউ জামে'আতিল ইসলামিয়্যাহ, সংস্করণ বিহীন, ১৩৯৬হিজরী), পৃ১২৮।
৫. ৬১ নং টীকা দ্রষ্টব্য।
৬. আল-কুরআন, সূরা তাওবাহ: ৩১।
৭. ইবনে হাজার আল-আস-কালানী, ফতহুল বারী বিশরহিল বুখারী; কিতাবুত্ত্বিব, বাব: কুষ্ঠরোগের বিবরণ, ১/১৫৮; মুসলিম, প্রাগুক্ত; ৪/১743; ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, প্রাগুক্ত; ১/১৭৪।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 আরব জনপদে প্রচলিত উপাসনাগত শির্কী কর্ম

📄 আরব জনপদে প্রচলিত উপাসনাগত শির্কী কর্ম


চন্দ্র ও সূর্যকে সেজদা করা:
তারা অন্যান্য দেবতাদের পাশাপাশি চন্দ্র ও সূর্যকেও তাদের দেবতা হিসেবে মনে করতো এবং তাদের সেজদা করতো। আল্লাহ মুশরিক ও মুসলিম নির্বিশেষে সকলের জন্য এদের সেজদা করতে নিষেধ করে বলেন:

﴿لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ ﴾ [فصلت: [٣٧

"সূর্য ও চন্দ্রকে সেজদা করোনা, সেজদা করো কেবল সেই আল্লাহকে যিনি এদের সৃষ্টি করেছেন।"

সূর্যের উপাসনা ও এর উপাসকদের উপাসনার সাথে যাতে আল্লাহর উপাসনার কোনরূপ সাদৃশ্য না হয় সে জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় করতে মুসলিমদের নিষেধ করেছেন।

দেবতাদের যিয়ারত করতে দূর-দূরান্তে গমন করা:
তারা বিভিন্ন গৃহ ও দেবতাদের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহকে কা'বা শরীফ ও এর প্রাঙ্গণের ন্যায় পবিত্র, বরকতময় ও শরীফ মনে করতো। সে জন্য পুণ্যার্জন, পবিত্রতা অর্জন ও দেবতাদের নিকটবর্তী হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার উদ্দেশ্যে তারা কা'বা শরীফের ন্যায় সে সব গৃহ ও দেবতাদেরকে দূর- দূরান্ত থেকে যিয়ারত করতে যেতো। মহান আল্লাহ তাদের অন্যান্য সকল গৃহ ও স্থানসমূহের পবিত্রতা বাতিল পূর্বক পবিত্রতা, পূণ্যার্জন ও তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য সাধারণ উপাসনাদির পাশাপাশি যিয়ারতের জন্য শুধুমাত্র কা'বা শরীফের যিয়ারতের বিষয়টিকে যথারীতি বহাল রেখে এর সাথে অতিরিক্ত হিসেবে মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসা যিয়ারতে যাওয়ার অনুমোদন দান করেন এবং কেবলমাত্র সামর্থ্যবানদের উপরেই কা'বা গৃহের যিয়ারত ফরয করে দিয়ে বলেন:

﴿ وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ﴾ [آل عمران: ٩٧] "যারা কা'বা শরীফ যিয়ারতে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তা যিয়ারতে যাওয়া ফরয।"

কোনো মুসলিম যাতে পুণ্যার্জন, পবিত্রতা ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে উক্ত এ তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদ বা অপর কোনো স্থানে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে না যায়, সে জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

«لا تَشُدُّ الرِّجَالُ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: مَسْجِدِي هَذَا وَالْمَسْجِدُ الْحَرَامِ وَالْمَسْجِدُ الْأَقْصَى»

“(পুণ্যার্জনের জন্য) তিন মসজিদ ব্যতীত অপর কোথাও সফর করা বৈধ নয়: (সেই মসজিদ তিনটি হচ্ছে:) আমার মসজিদ, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে আকসা।”

দেবতাদের চারপার্শ্বে প্রদক্ষিণ করা:
তারা তাদের তৈরী গৃহ, পবিত্র স্থান ও দেবতাদের শরীফ মনে করে এর চার পার্শ্বে কা'বা শরীফের ন্যায় ত্বওয়াফ করতো। মহান আল্লাহ তাদের অন্যান্য সব কিছুর ত্বওয়াফ বাতিল করে দিয়ে কেবলমাত্র কা'বা শরীফের ত্বওয়াফ করাকে যথারীতি বহাল রেখে বলেন:

﴿ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ ﴾ [الحج: ٢٩]

"তারা যেন প্রাচীন পবিত্র গৃহের ত্বওয়াফ করে।"

দেবতাদের পার্শ্বে অবস্থান করা:
তারা দেবতাদের সন্তুষ্টি ও নিজেদের মানসিক প্রশান্তি লাভের জন্য নূহ আলাইহিস সালাম-এর জাতির লোকদের ন্যায় দেবতাদের পার্শ্বে বসে সময় কাটাতো। দেবতাদের পার্শ্বে এভাবে অবস্থান গ্রহণের ব্যাপারে আমাদের আদি পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম-এর জাতির লোকেরাও অভ্যস্ত ছিল। কুরাইশগণ ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর ধর্মের অনুসারী বলে দাবীদার হওয়াতে এ জাতীয় অবস্থানের ফলে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর জাতির লোকদেরকে যা বলে তিরস্কার করেছিলেন, তা বর্ণনা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাদের এ অবস্থানের সমালোচনা করেন। ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর পিতা ও জাতির লোকদের বলেছিলেন:

﴿مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَكِفُونَ ﴾ [الأنبياء: ٥٢]

"এ মূর্তিগুলো কী, যাদের পার্শ্বে তোমরা অবস্থান গ্রহণ করো।" উল্লেখ্য যে, আল্লাহর তা'আলার সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে কিছু দিন নির্জনে একাগ্রচিত্তে অবস্থান করে আল্লাহ তা'আলার যিকির ও ধ্যান করা একটি উত্তম কাজ। ইসলামী পরিভাষায় এ কাজকে এ’তেকাফ (اعتکاف) বলা হয়। তবে ইসলামে বৈরাগ্যপনা স্বীকৃত নয় বলে এ কাজটি শুধুমাত্র রমাযান মাসের শেষ দশ দিনে মসজিদে করার বিধান রয়েছে। কোন কবর, মাযার বা দরগাহে রমাযান মাসে বা অন্য সময়েও তা করা বৈধ নয়।

দেবতাদের নিকট প্রার্থনা করা: তারা পার্থিব কল্যাণার্জন ও অকল্যাণ দূরীকরণের জন্য সরাসরি আল্লাহর নিকট তা প্রার্থনা না করে লাত, উয্যা ও মানাতের নিকট প্রার্থনা করতো এবং তারা আল্লাহর নিকট থেকে শাফা'আত করে তা এনে দিতে পারে বলে মনে করতো। মুসলিম ও মুশরিক নির্বিশেষে কেউ যাতে প্রার্থনা করার জন্য অন্য কারো শরণাপন্ন না হয় সে জন্য আল্লাহ তা'আলা বলেন :

﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ﴾ [غافر: ٦٠]

"তোমরা আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের আহ্বানে জবাব দেব। যারা (আহ্বানগত) আমার উপাসনা থেকে মুখ ফিরাবে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।"

দেবতাদের উদ্দেশ্যে হাদিয়া ও মানত দেওয়া:
তারা দেবতাদের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রকমের বস্তু হাদিয়া ও মানত দিত। মানতের জন্তুসমূহ প্রতিমাদের উপর যবাই করে এর মাংস ভাগাভাগি করে নিতো। আল্লাহ তাদের এ জাতীয় মাংস হারাম করে দিয়ে বলেন:

﴿وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ﴾ [المائدة: ٣]

"যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে (পাথরের প্রতিমার উপর) যবাই করা হয় (তা তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে)।"

এ ছাড়াও দেবতাদের সন্তুষ্টি বিধানের উদ্দেশ্যে তারা কোনো কোনো খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যাদি এবং ক্ষেত ও চতুষ্পদ জন্তুতে দেবতাদের অংশ নির্ধারণ করতো। তাদের এ জাতীয় কর্মের সমালোচনাপূর্বক আল্লাহ তা'আলা বলেন,

﴿وَجَعَلُوا لِلَّهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعَامِ نَصِيبًا فَقَالُوا هَذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَذَا لِشُرَكَابِنَا﴾ [الانعام: ١٣٦]

"আল্লাহ যে সব শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে, অতঃপর নিজ ধারণা অনুসারে বলে: এটা আল্লাহর এবং এটা আমাদের অংশীদারদের।"

তাদের এ জাতীয় কর্মের সমালোচনা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ আরো বলেন,

(وَقَالُوا هَذِهِ أَنْعَمْ وَحَرْثٌ حِجْرٌ لَّا يَطْعَمُهَا إِلَّا مَن نَّشَاءُ بِزَعْمِهِمْ وَأَنْعَمُ حُرِّمَتْ ظُهُورُهَا وَأَنْعَمٌ لَّا يَذْكُرُونَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا افْتِرَاءٌ عَلَيْهِ) [الانعام: [۱۳۸]

"তারা বলে- এ সব চতুষ্পদ জন্তু, শস্যক্ষেত্র ও নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ তাদের ধারণামতে আমরা যাকে ইচ্ছা করি কেবল সে ছাড়া অন্য কেউ তা খেতে পারবে না। আর কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহণ হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারণাবশত আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না।"

বরকত হাসিলের জন্য দেবতাদের গায়ে হাত বুলানো :
তারা বরকত ও কল্যাণ হাসিলের জন্য মূর্তির গায়ে হাত বুলাতো। কোথাও সফরে যাওয়ার পূর্বে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাদের সর্বশেষ কাজই হতো মূর্তির গায়ে হাত বুলানো এবং সফর শেষে বাড়ী ফিরলে ঘরে প্রবেশ করে প্রথম কাজই হতো মূর্তির গায়ে হাত বুলানো। তাদের এ জাতীয় বরকত হাসিলের কর্ম নিষিদ্ধ করে দিয়ে কেবল কা'বা শরীফের ডান পার্শ্ব, কৃষ্ণ পাথর ( الحجر الأسود ) ও কা'বা শরীফের দরজা থেকে হাত্বীম পর্যন্ত দেয়ালকে বরকত হাসিলের জন্য স্পর্শ বা চুম্বন করার অনুমতি প্রদান করা হয়। যার প্রমাণ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

টিকাঃ
১. আল-কুরআন, সূরা ফুসসিলাত : ৩৭।
২. মুসলিম, প্রাগুক্ত; কিতাবুল হজ্জ, বাব নং ৭৪, হাদীস নং ১৩৩৯; ২/৯৭৫; ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, প্রাগুক্ত; ২/১৩৪। এ তিন মসজিদ ছাড়া পৃথিবীর সকল মসজিদই আল্লাহর গৃহ হওয়া সত্ত্বেও যদি পুণ্যার্জনের উদ্দেশ্যে অপর কোন মসজিদে দূর থেকে ভ্রমণ করে যাওয়া বৈধ না হয়, তবে দূর-দূরান্তে অবস্থিত কোন পীর বা আউলিয়াদের মাযারে পুণ্যার্জনের জন্য ভ্রমণ করে যাওয়া কোন ভাবেই বৈধ হতে পারে না। লেখক।
৩. কুরাইশগণ কা'বা গৃহের চার পার্শ্বে ত্বওয়াফ করার সময় বলতো:
واللات والعزى ومناة الثالثة الأخرى فإنهن الغرانيق العلى وإن شفاعتهن لترتجى লাত, উয্যা ও তৃতীয় মানাত নামের দেবতা, তারা অত্যন্ত শক্তিধর, তাদের শাফা'আত কামনা করা যায়।" দেখুন: ড. হাসান ইব্রাহীম হাসান, প্রাগুক্ত; পৃ. ৬২।
৪. আল-কুরআন, সূরা হাজ্জ: ২৯।
৫. আল-কুরআন, সূরা আম্বিয়া: ৫২।
৬. তবে এ উপাসনা কোন কবর, মাযার, দরবার, দরগাহ বা মানুষের দ্বারা গৃহীত কোনো পবিত্র স্থানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে করা বেদ'আত। এর মাধ্যমে কবরস্থ অলির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাইলে তাতে শির্ক হবে।- লেখক
৭. আল-কুরআন, সূরা গাফির: ৬০।
৮. আল-কুরআন, সূরা মায়েদাহ্: ৩।
৯. আল-কুরআন, সূরা আন'আম : ১৩৬।
১০. আল-কুরআন, সূরা আন'আম : ১৩৮।
১১. আমরা আগেই জেনেছি যে কৃষ্ণ পাথর ও কাবার ডান পার্শ্ব ব্যতীত আর কোনো অংশ ধরা বা ছোঁয়ার ব্যাপারে সহীহ হাদীস নেই। [সম্পাদক]

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 অন্তরের উপাসনার ক্ষেত্রে তাদের শির্ক

📄 অন্তরের উপাসনার ক্ষেত্রে তাদের শির্ক


দেবতাদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা : তারা তাদের দেবতাদেরকে আল্লাহর ন্যায় ভালবাসতো। আল্লাহকে ভালবেসে যেমন আল্লাহর উপাসনা করতো, তেমনি দেবতাদের ভালবেসে তাদেরও উপাসনা করতো। তাদের এমন ভালোবাসার প্রতি ইঙ্গিত করেই মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ﴾ [البقرة:
[١٦٥

"মানুষের মাঝে এমনও কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর অনেক সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাদেরকে আল্লাহর ভালোবাসার মতই ভালবাসে।"

দেবতাদের অনিষ্টের গোপন ভয় করা :
তারা মনে করতো যে, তাদের দেবতাদের কেউ বেয়াদবী করলে বা তাদের সমালোচনা করলে দেবতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যে কোন অনিষ্ট সাধন করতে সক্ষম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের দেবতা ও মূর্তিসমূহের সমালোচনা করার ফলে তাঁকেও তারা তাদের দেবতাদের অনিষ্টের গোপন ভয় দেখাতো। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِن دُونِهِ ﴾ [الزمر: ٣٦]

"আল্লাহ ব্যতীত তাদের যে সব দেবতা রয়েছে, তারা তোমাকে সে সবের অনিষ্টের ভয় প্রদর্শন করে।"

বিপদে দেবতাদের শরণাপন্ন হওয়া:
ইহকালীন প্রয়োজন বা বিপদাপদ দূরীকরণের জন্য তারা তাদের দেবতাদের শরণাপন্ন হতো। আল্লাহর কল্যাণ তাঁর নিকট সরাসরি না চেয়ে নিজেদের অক্ষমতা দেবতাদের কাছে পেশ করে, তাদের নিকট অনুনয় বিনয় করে তাদের মাধ্যমে আল্লাহর অনুকম্পা ও কল্যাণ লাভ করতে চাইতো। আল্লাহর দয়া ও অনুকম্পা লাভের জন্য এ পদ্ধতি পরিহার করে সরাসরি আল্লাহর নিকটে তাঁর দয়া কামনা প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

﴿وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ ﴾ [الزمر: ٥٤]

"তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও এবং তাঁরই নিকট আত্মসমর্পণ কর।"

বিপদে দেবতাদেরকে আশ্রয়স্থল হিসাবে মনে করা:
কোন বিপদ হলে বা কোন অকল্যাণ পেয়ে বসলে তারা তাদের দেবতাদের শরণাপন্ন হতো, তাদেরকে তাদের আশ্রয় স্থল হিসেবে মনে করতো। আল্লাহর এ জগতে তিনি ব্যতীত মানুষের জন্য অপর কোন আশ্রয় স্থল নেই; সে জন্য তিনি তাঁর রাসূলকে দিয়ে এ ঘোষণা দিতে বলেন:

قُلْ إِنِّي لَن يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا ﴾ [الجن: [٢٢

"আপনি তাদের বলুন: আল্লাহ তা'আলার পাকড়াও থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং তিনি ব্যতীত আমি অপর কোন আশ্রয়স্থলও পাব না।"

দেবতাদের উপর ভরসা করা:
তারা বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণে তাদের দেবতাদের উপর ভরসা করতো। তাই মহান আল্লাহ বলেন : وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴾ [المائدة: ٢٣] "যদি তোমরা মু'মিন হয়ে থাকো, তা হলে একমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করো।"

টিকাঃ
১. আল-কুরআন, সূরা আন'আম : ২৭।
২. আল-কুরআন, সূরা যুমার: ৩৬।
৩. আল-কুরআন, সূরা যুমার: ৫৪।
৪. আল-কুরআন, সূরা জিন: ২২, ২৩।
৫. আল-কুরআন, সূরা মায়েদাহ্: ২৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00