📘 শিরক কি ও কেন > 📄 পাথর পূজা

📄 পাথর পূজা


পাথর পূজার ক্ষেত্রে তারা বহুদূর অগ্রসর হয়েছিল। প্রথমত কা'বা শরীফ ও এর প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে থাকা পাথর অন্যত্র বহন করে নিয়ে পাথর পূজার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তারা যখনই কোথাও অবতরণ করতো তখন তাদের সাথে কা'বা শরীফের প্রাঙ্গণের পাথর না থাকলে সেখানকারই একটি ভাল পাথরের পূজা করতো। কোন পাথর না পেলে কিছু মাটি বা বালু একত্রিত করে এর উপর ছাগলের দুধ দোহন করে সে মাটি বা বালু একটু শক্ত হলেই এটিকে মূর্তি মনে করেই এর চার পার্শ্বে ত্বওয়াফ করতো। এ সম্পর্কে আবু রাজা-আল আত্বারিদী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:

তিনি বলেন: هذا رد على المشركين الذين عبدوا مع الله غيره وأشركوا به في عبادته أن عبدوا الجن فجعلوهم شركاء له في العبادة تعالى الله عن شركهم وكفرهم فإن قيل فكيف عبدت الجن مع أنهم إنما كانوا يعبدون الأصنام فالجواب أنهم ما عبدوها إلا عن طاعة الجن وأمرهم إياهم بذلك كقوله إن يدعون من دونه إلا إناثا وإن يعبدون إلا شيطانا مريدا

“আমরা (পাথর না পেলে) বালু একত্রিত করতাম এবং এর উপর ছাগলের দুধ দোহন করে এর উপাসনা করতাম। আমরা সাদা পাথর পেলে কিছুদিন এর উপাসনা করতাম। অতঃপর তা ফেলে দিতাম।”

টিকাঃ
১. ইবনে কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম; ২/১৬৫।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 গৃহ পূজা

📄 গৃহ পূজা


এ সকল মূর্তি ছাড়াও কা'বা শরীফের ন্যায় মর্যাদার অধিকারী তাদের আরো কিছু গৃহ ছিল। এ সব গৃহেরও খাদেম ও গিলাফ ছিল। কা'বা শরীফের ন্যায় তারা এ সব গৃহের ত্বওয়াফ করতো। এর উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতো। এ সম্পর্কে হেশাম ইবন মুহম্মদ আল-কালবী স্বীয় 'কিতাবুল আসনাম' গ্রন্থে বলেন:

"বনী হারিছ ইবন কা'ব গোত্রের একটি কা'বা গৃহ ছিল নাজরান নামক স্থানে। তারা এর সম্মান করতো। এ গৃহের বর্ণনাই জাহেলী যুগের কবি আশা তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন:

وكعبة نجران حتم علي ** ك حتى تناخي بأبوابها

"নাজরানের কা'বার দরজায় তোমার উট বসিয়ে দেয়া একান্ত জরুরী”

অনুরূপভাবে 'কুফা' ও 'বসরা' এর মধ্যবর্তী 'সিনদাদ' নামক স্থানেও 'ইয়াদ' গোত্রের একটি কা'বা ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় প্রবেশ করে কা'বা শরীফের ভিতরে ও এর পার্শ্বে ৩৬০টি মূর্তি দেখতে পান এবং (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا) [الاسراء: ۸۱] "সত্য সমাগত, অসত্য বিতাড়িত, আর অসত্যের পতন অবশ্যম্ভাবী।” এবং (جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ [سبا: ٤٩] "সত্য আগমন করেছে এবং অসত্য নতুন কিছু সৃজন করতে পারে না এবং এর পুনরাবর্তনও হবে না।”

এ আয়াত দু'টি পাঠ করে মূর্তিগুলোকে ধনুক দিয়ে আঘাত করতে থাকলে তা মুখ থুবড়ে পড়তে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বা শরীফের ভিতরের দেয়ালে ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর চিত্র দেখতে পেলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁরা তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করছেন। তা দেখে তিনি বলেন:

(قَاتَلَهُمُ اللهُ وَاللَّهِ مَا اسْتَقْسَمَا بِهَا قَطُّ)

"মুশরিকদের আল্লাহ ধ্বংস করুন! আল্লাহর শপথ তাঁরা দু'জন কখনও তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করেন নি।"

উপরে বর্ণিত এ সব মূর্তি ছাড়াও সাধারণ মানুষের বাড়ীতে ব্যক্তিগত এবং বিভিন্ন স্থানে গৃহ, পাথর ও গাছের আকৃতিতে যে সব মূর্তি ও প্রতিমা ছিল, আরব জনগণ বিশেষ করে বনী ইসমাঈলদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ সব ছিল শয়তানের একেকটি পাতানো ফাঁদ বিশেষ।

টিকাঃ
১. ইবনে কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ, এগাছাতুল লহফান; ২/১৭৩।
২. ইবনে কাছীর, আল-বেদায়াতু ওয়ান নেহায়াহ; ১/১৭১।
৩. আল-কুরআন, সূরা ইসরা : ৮১।
৪. আল-কুরআন, সূরা সাবা : ৪৯।
৫. মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব, মুখতাসারু সীরাতির রাসূল; (রিয়াদ: আর-রিয়াসাতুল আ-ম্মাহ লি এদারাতিল বুহুছিল ইলমিয়্যাহ..., সংস্করণ বিহীন, ১৪০৮ হিজরী), পৃ. ২০২।
৬. সফিয়্যুর রহমান আল-মুবারকপুরী, প্রাগুক্ত; পৃ. ৪০৪।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 দেব-দেবীদের ধরন ও প্রকৃতি

📄 দেব-দেবীদের ধরন ও প্রকৃতি


মুশরিকরা যে সব সৎমানুষের মূর্তি, ফেরেস্তা, জিন, গাছ ও পাথরের দেব-দেবীদেরকে আল্লাহ তা'আলার রুবুবিয়‍্যাত অথবা উলুহিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে নিয়ে সে সবের উপাসনা করতো, সেগুলোর প্রকৃতি বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ﴾ [الاعراف: ١٩٤]

"আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে আহ্বান করো, তারা সবাই তোমাদের মতই (আমার) বান্দা। (তারা তোমাদের উপকার ও অপকার করতে পারে, এ মর্মে) তাদের ব্যাপারে তোমরা যে ধারণা করেছো, তাতে যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তা হলে তোমরা তাদের আহ্বান করো, তারাও তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিক।”

এখানে তাদের দেবতা ও দেবীদেরকে 'ইবাদ' তথা 'বান্দা' বলার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:

১. তারা পাথরের যে সব প্রতিমা ও মূর্তির পূজা করতো, সে-গুলো তাদের মতই আল্লাহর মালিকানাধীন। আর যারা আল্লাহর মালিকানায় রয়েছে, তারা সবাই তাঁর বান্দা।
২. এ-পাথরের প্রতিমা ও মূর্তিগুলো তাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টি। আর সকল সৃষ্টিই আল্লাহর বান্দা।
৩. পাথরও তাদের ন্যায় আল্লাহর হুকুম ও আদেশের আওতাধীন।
৪. তারা ওয়াদ, সুয়া, য়াগুছ, য়া'উক ও নসর নামের যে- সব সৎমানুষ এবং যে সব ফেরেস্তাদের পূজা করতো, তারাও তাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টি, তাঁর মালিকানাধীন ও তাঁর আদেশ ও নিষেধের আওতাধীন।

উপর্যুক্ত এ কারণসমূহের মধ্য থেকে যে কারণেই তাদেরকে 'ইবাদ' বলা হোক না কেন, এগুলো সর্বাবস্থায় তাদের মতই আল্লাহর বান্দা হওয়ায় কোনো অবস্থাতেই এরা আল্লাহর রুবুবিয়‍্যাতের কোনো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তাদের কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না। ইমাম কুরতুবী সৎমানুষ ও ফেরেস্তাদের সাথে সম্পর্কহীন পাথরের মূর্তিসমূহকেই এ আয়াতের উদ্দেশ্য বলে নির্ধারণ করেছেন। তবে আমার মতে এ আয়াত দ্বারা শুধুমাত্র পাথরের মূর্তিসমূহকেই উদ্দেশ্য করা হয় নি, বরং এর দ্বারা পাথরের মূর্তিসহ অন্যান্য যাবতীয় মূর্তি ও প্রতিমাসমূহকেও উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেগুলোকে তারা সৎমানুষ ও ফেরেস্তাদেরকে কেন্দ্র করেও তেরী করেছিল।

টিকাঃ
১. আল-কুরআন, সূরা আ'রাফ: ১৯৪।
২. কুরতুবী, প্রাগুক্ত; ৭/৩৪২।

📘 শিরক কি ও কেন > 📄 মুশরকিরা পাথরের মূর্তি ছাড়াও ফেরেশতা, মানুষ ও জিনদের উপাসনা করতো?

📄 মুশরকিরা পাথরের মূর্তি ছাড়াও ফেরেশতা, মানুষ ও জিনদের উপাসনা করতো?


আমাদের মাঝে মুশরিকদের ব্যাপারে একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে, তাদের বানানো মূর্তিগুলোর সাথে কোন সৎ মানুষ অথবা আল্লাহর নিকটতম কোনো জীবের সম্পর্ক নেই। তারা মিছেমিছি জড়পদার্থ তথা গাছ ও পাথরের মূর্তি বানিয়ে সেগুলোর পূজা করতো বলেই আল্লাহ তাদেরকে মুশরিক বলে অভিহিত করেছেন।

তবে কাফিরদের মূর্তিসমূহের ব্যাপারে কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন স্থানে যে সব আয়াত বর্ণিত হয়েছে, তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, তাদের প্রতিমা ও মূর্তিসমূহের ব্যাপারে আমাদের উক্ত ধারণা কোনো কোনো মূর্তির বেলায় সঠিক হলেও সকল প্রতিমা ও মূর্তির ক্ষেত্রে সঠিক নয়।

আমরা একটু আগেই অবহিত হয়েছি যে, মুশরিকরা যাদেরকে আহ্বান করতো সেগুলোকে আল্লাহ তাঁর বান্দা বলে অভিহিত করেছেন। এগুলোকে বান্দা বলার কারণ সম্পর্কে আমরা আরো জেনেছি যে, তারা ফেরেস্তা ও জিনদের উপাসনা করার কারণে এগুলোকে বান্দা বলা হয়ে থাকতে পারে। এতে প্রমাণিত হয় যে, মুশরিকদের যাবতীয় প্রতিমা ও মূর্তিসমূহ মিছেমিছি পাথর সর্বস্বই ছিল না। বরং এগুলোর কোনো কোনোটি সুদূর অতীতে কোনো সৎমানুষ ও ফেরেস্তাদেরকে কেন্দ্র করেই নির্মাণ করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ ওয়াদ্দ, সুয়া', ইয়াগুছ, ইয়া'উক ও নসর নামের মূর্তিসমূহের কথা বলা যায়। আমরা ইতোপূর্বে অবগত হয়েছি যে, এ মূর্তিগুলো পাঁচজন অলির নামে নূহ আলাইহিস সালাম এরও পূর্ব যুগে নির্মিত হয়েছিল। এগুলো ছাড়াও ইয়াসাফ ও না-ইলাহ নামের প্রতিমাদ্বয়ও মূলত দু'জন মানুষ কেন্দ্রিক ছিল। আখেরাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেস্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, মুশরিকরা তাঁদেরও পূজা করতো। সূরায়ে বনী ইসরাঈলের ৫৭ নং আয়াত দ্বারা জিনদের উপাসনা করার কথাও প্রমাণিত হয়। সর্বোপরি নিম্নে বর্ণিত আয়াতদ্বয় দ্বারাও এ সত্যই প্রমাণিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন:

﴿ وَإِذَا رَمَا الَّذِينَ أَشْرَكُوا شُرَكَاءَهُمْ قَالُوا رَبَّنَا هَؤُلَاءِ شُرَكَاؤُنَا الَّذِينَ كُنَّا نَدْعُوا مِن دُونِكَ فَأَلْقَوْا إِلَيْهِمُ الْقَوْلَ إِنَّكُمْ لَكَاذِبُونَ ﴾ [النحل: ٨٦]

"যখন মুশরিকরা তাদের শরীকদের (আখেরাতে) দেখবে, তখন বলবে: প্রভু হে! এরাই হচ্ছে আমাদের ঐসব শরীক যাদেরকে আমরা তোমার পরিবর্তে আহ্বান করতাম। শরীকগণ তাদের এ কথার প্রতিবাদ করে বলবে: তোমরা মিথ্যাবাদী।"

এ আয়াত দ্বারা 'শুরাকা' বলতে যেমন চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারকা, আগুন ও পাথর ইত্যাদির কথা বুঝার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি এর দ্বারা ফেরেস্তাদেরকে বুঝারও সম্ভাবনা রয়েছে। ইমাম কুরতুবী স্বীয় তাফসীরে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় উভয় সম্ভাবনার কথাই বর্ণনা করেছেন। ফেরেস্তা ব্যতীত অন্যান্য উপাস্যদের আখেরাতে মুশরিকদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দানের জন্য হাজির করা আল্লাহর পক্ষে কোনো কঠিন কাজ নয়। তাই এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আখেরাতে যেমন সকল উপাস্যদের হাজির করা হবে, তেমনি সে দিন ফেরেস্তাদেরকেও হাজির করা হবে এবং মুশরিকরা তাদেরকে দেখে উক্ত ধরনের কথা বলবে। এতে প্রমাণিত হয় যে, মুশরিকরা শুধু জড়পদার্থ বা চন্দ্র ও সূর্যেরই উপাসনা করে নি, তারা কোনো কোনো মূর্তিকে ফেরেশতাদের মূর্তি মনে করে তাদেরও উপাসনা করতো।

অপর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন:

﴿وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَنتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّواْ السَّبِيلَ قَالُوا سُبْحَانَكَ مَا كَانَ يَنْبَغِي لَنَا أَن نَّتَّخِذَ مِن دُونِكَ مِنْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِن مَّتَعْتَهُمْ وَءَابَاءَهُمْ حَتَّى نَسُوا الذِّكْرَ وَكَانُوا قَوْمًا بُورًا ﴾ [الفرقان: ۱۷، ۱۸]

"সে দিন আল্লাহ একত্রিত করবেন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদাত করতো তাদেরকে, সে দিন তিনি উপাস্যদেরকে বলবেন: তোমরাই কি আমার এই বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলে, না তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছিল? তারা বলবে: আপনি পবিত্র, আমাদের পক্ষে আপনার পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করা কোনভাবেই সম্ভবপর ছিল না; তবে তাদের পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ হলো: আপনিই তো তাদেরকে এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগসম্ভার দিয়েছিলেন, ফলে তারা আপনার স্মৃতি বিস্মৃত হয়েছিল এবং তারা ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি।"

এ আয়াত দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সে সময়ের মুশরিকরা শুধু জড়পদার্থের মূর্তি বানিয়েই সেগুলোর পূজা করতো না। বরং তাদের অনেক মূর্তির পিছনে অতীতের জানা বা অজানা কোনো মানুষ ও ফেরেস্তার সম্পর্ক ছিল। সে জন্যই ইমাম ইবনে জারীর ত্ববারী এ আয়াতের অর্থ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:

يقول تعالى ذكره ويوم نحشر هؤلاء المكذبين بالساعة العابدين الأوثان وما يعبدون من دون الله من الملائكة والإنس والجن

"মহান আল্লাহ বলেন: যেদিন আমি আখেরাতে অবিশ্বাসী প্রতিমা পূজকদের এবং আল্লাহকে ব্যতীত তারা যে সব ফেরেস্তা, মানুষ ও জিনদের উপাসনা করতো তাদেরকে একত্রিত করবো...।" এ ছাড়াও উপরে বর্ণিত আখেরাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেস্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত আয়াত থেকেও এ-কথা সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, কিছু লোকেরা ফেরেস্তাদেরও উপাসনা করতো। আর সে কারণেই আল্লাহ ফেরেস্তাদেরকে সে লোকদের দ্বারা তাদের উপাসনা করার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

উল্লেখ্য যে, আখেরাতে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত এ সব আয়াত দ্বারা যাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে তারা যেমন আরবের মুশরিকরা হতে পারে, তেমনি এ সবের উদ্দেশ্য সে সময়ের আরবের খ্রিষ্টান ও ইয়াহুদীরাও হতে পারে; কেননা, সে সময়ের অনেক খ্রিষ্টান ঈসা আলাইহিস সালাম-কে আল্লাহর পুত্র মনে করে তাঁর মূতি বানিয়ে পূজা করতো। তাদের মধ্যকার সৎমানুষদের কবরে গির্জা ও মূর্তি বানিয়ে সেখানে তাদের আরাধনা করতো। অনুরূপভাবে ইয়াহুদীরাও 'উযায়ের আলাইহিস সালাম-কে আল্লাহর পুত্র মনে করে তাঁর উপাসনা করতো।

টিকাঃ
১. আল-কুরআন, সূরা নাহাল: ৮৬।
২. ইমাম কুরতুবী উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: قوله تعالى وإذا رأى الذين أشركوا شركاءهم أي أصنامهم وأوثانهم التي عبدوها وذلك أن الله يبعث معبوديهم فيتبعونهم حتى يوردوهم الناروفي صحيح مسلم من كان يعبد شيئا فليتبعه فيتبع من كان يعبد الشمس الشمس ويتبع من كان يعبد القمر القمر ويتبع من كان يعبد الطواغيت الطواغيت الحديث خرجه من حديث أنس والترمذي من حديث أبي هريرة وفيه فيمثل لصاحب الصليب صليبه ولصاحب التصاوير تصاويره ولصاحب النار ناره فيتبعون ما كانوا يعبدون وذكر الحديث قالوا ربنا هؤلاء شركاؤنا الذين كنا ندعو من دونك أي الذين جعلناهم لك شركاء فألقوا إليهم القول إنكم لكاذبون أي ألقت إليهم الآلهة القول أي نطقت بتكذيب من عبدها بأنها لم تكن آلهة ولا أمرتهم بعبادتها فينطق الله الأصنام حتى تظهر ثم ذلك فضيحة الكفار وقيل المراد بذلك الملائكة الذين عبدوهم
আল-কুরতুবী, আবু অব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ, প্রাগুক্ত; ১০/১৬৩।
৩. আল-কুরআন, সূরা ফুরকান: ১৬-১৭।
৪. ইবনে জারীর আত্ ত্বাবারী, প্রাগুক্ত; ১৮/১৮৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00