📄 জিনের উপাসনা
য়াসাফ ও না-য়েলাহ: ঐতিহাসিক বর্ণনামতে এ দেবতা দু'টি মূলত 'জুরহাম' গোত্রের দু'জন মানুষ ছিল। য়াসাফ না-য়েলাহকে ভালবাসতো। একদা কা'বা শরীফের অভ্যন্তরে তারা অবৈধভাবে যৌনকর্মে লিপ্ত হলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাৎক্ষণিক শাস্তিস্বরূপ দু'টি পাথরে রূপান্তরিত করেন। সাধারণ লোকেরা যাতে এদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে সে জন্য লোকেরা এ পাথর দু'টির একটিকে কা'ba শরীফের পার্শ্বে এবং অপরটিতে যমযম কূপের পার্শ্বে স্থাপন করেছিল। দীর্ঘদিন যাবত এ পাথর দু'টি এভাবেই ছিল। যুগের পরিক্রমায় এ পাথর দু'টির বাস্তব ইতিহাসও পরবর্তী লোকেরা ভুলে যায়। এরই মধ্যে তাদের মাঝে মূর্তি পূজার প্রচলন হয়। তখন অন্যান্য মূর্তির সাথে এ-গুলোকেও তারা পূজা করতে থাকে। কুরায়েশরা পরবর্তিতে কা'বা শরীফের পাশেরটিকে অপরটির নিকটে স্থানান্তরিত করেছিল এবং এ দু'টির নিকট তারা পশু যবাই ও কুরবানী করতো।
জুল খালাসাহ : এটি ছিল একটি সাদা রঙ্গের পাথর। এর মাথায় ছিল একটি টুপির নকশা। মক্কা ও ইয়ামনের মধ্যবর্তী স্থানে এর জন্য একটি গৃহ ছিল। খাছ'আম, বুজায়লা ও অন্যান্য নিকটতম স্থানের লোকেরা এটাকে সম্মান করতো এবং তাদের মনোবাঞ্ছনা পূরণের জন্য এর উদ্দেশ্যে অর্থ সম্পদ প্রেরণ করতো। এটি ধ্বংস করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জারীর ইবন 'আব্দুল্লাহ আল-বাজালী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে একদল অশ্বারোহী বাহিনী দিয়ে প্রেরণ করেছিলেন।
জুল কাফীল : এ দেবতাটি ছিল 'দাওস' নামক গোত্রের নিকট পূজনীয়। 'আরব জনপদে এভাবে যখন মূর্তি পূজার হিড়িক পড়ে যায়, তখন মক্কা ও এর বাইরের সকল জনগণই নিজ নিজ গৃহে উপাসনার জন্য পৃথক পৃথক মূর্তি গ্রহণ করেছিল। যখন তাদের কেউ কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার জন্য তৈরী হতো, তখন সে ব্যক্তির গৃহের সর্বশেষ কাজ হতো এ মূর্তির গায়ে হাত বুলানো এবং ভ্রমণ থেকে ফিরে আসলেও গৃহে প্রবেশ করলে তাদের প্রথম কাজই হতো সম্মানের উদ্দেশ্যে এ মূর্তির গায়ে হাত বুলানো।
মুশরিকরা সাধারণত উপর্যুক্ত জড়পদার্থের মূর্তি এবং মানুষ ও ফেরেস্তাদের নামে নির্মিত মূর্তিসমূহের প্রতি এরা তাদের লাভ ও ক্ষতি করতে পারে- এ ধারণার ভিত্তিতে এদেরকে সাহায্যের জন্য যেমন আহ্বান করতো, তেমনি কোনো কোনো এলাকার লোকেরা জিনের ব্যাপারেও উপর্যুক্ত ধারণা পোষণ করে জিনদেরকেও সাহায্যের জন্য আহ্বান করতো। যেমন আল্লাহ বলেন:
﴿أُوْلَبِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ ﴾ [الاسراء: ৫৭]
“যাদেরকে তারা আহ্বান করে তারা নিজেরাই তো তাদের রবের অধিক নিকটবর্তী হওয়ার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করে, তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে।”
এ আয়াতের তাফসীরে ইবন মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে:
[قَالَ كَانَ نَفَرٌ مِنَ الجِنَّ أَسْلَمُوا وَكَانُوا يُعْبَدُوْنَ فَبَقِيَ الَّذِينَ كَانُوا يَعْبُدُوْنَ عَلَى عِبَادَتِهِمْ وَقَدْ أَسْلَمَ النَّفَرُ مِنَ الْجِنِّ]
"একদল জিন ইসলাম গ্রহণ করেছিল যাদের উপাসনা করা হতো; তাদের ইসলাম গ্রহণ করা সত্ত্বেও যারা তাদের উপাসনা করতো তারা যথারীতি তাদের উপাসনায় থেকে যায়।”
বিপদে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা আল্লাহর উপাসনা হওয়া সত্ত্বেও কোনো কোনো লোকেরা যে জিনদের উপাসনা করতো, তা জিনদের স্বীকারোক্তির দ্বারাও প্রমাণিত হয়। যেমন জিনরা বলেছিল :
﴿ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا ﴾ [الجن: ৬]
“মানুষের মধ্যকার কিছু লোকেরা জিনদের মধ্যকার কিছু জিনের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতো, ফলে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।”
এ ছাড়াও আল্লাহর অবাধ্যতায় মুশরিকরা শয়তানের নির্দেশের আনুগত্য করে মূর্তি পূজা করার কারণে তারা আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে শয়তানকে শরীক করে নিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿ وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ ﴾ [الانعام: ১০০]
'আর মুশরিকরা শয়তানকে আল্লাহর শরীক করে নিয়েছে, অথচ তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।”
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাছীর বলেন: “যারা আল্লাহর উপাসনায় জিন তথা শয়তানকে শরীক করে নিয়েছিল উক্ত আয়াতে তাদের সে উপাসনার প্রতিবাদ করা হয়েছে। তারা শয়তানের নির্দেশের আনুগত্য করার কারণেই মূর্তি পূজা করেছিল বিধায়, প্রকৃতপক্ষে তারা শয়তানেরই আনুগত্য করেছে এবং তার কাছেই সাহায্য চেয়েছে ও তারই সুপারিশ কামনা করেছে।”
টিকাঃ
৩১৭. তদেব; ২/১৭০।
৩১৮. ইবনে হাজার আসকালানী, ফতহুল বারী বিশরহিল বুখারী;, বৈরুত: দ্বারুল মা'রিফাহ, সংস্করণ বিহীন, সন বিহীন, ৮/৭১।
৩১৯. ইবন হিশাম, প্রাগুক্ত; ১/৮৩; ইবনে কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ, এগাছাতুল লহফান; ২/১৭১; ইবনে কাছীর, আল-বেদায়াতু ওয়ান নেহায়াহ; ১/১৯১- ১৯২।
৩২০. আল-কুরআন, সূরা বনী ইসরাঈল: ৫৭।
৩২১. বুখারী, প্রাগুক্ত; বাব নং ২০৬, হাদীস নং ৪৪৩৮; ৪/১৭৪৮; মুসলিম, প্রাগুক্ত; কিতাবুত তাফসীর, বাব নং ৩, হাদীস নং ৩০৩০, ৪/২৩২১; কুরতুবী, প্রাগুক্ত; ১০/২৭৯।
৩২২. আল-কুরআন, সূরা জিন: ৬।
৩২৩. আল-কুরআন, সূরা আন'আম : ১০০।
৩২৪. তিনি বলেন: هذا رد على المشركين الذين عبدوا مع الله غيره وأشركوا به في عبادته أن عبدوا الجن فجعلوهم شركاء له في العبادة تعالى الله عن شركهم وكفرهم فإن قيل فكيف عبدت الجن مع أنهم إنما كانوا يعبدون الأصنام فالجواب أنهم ما عبدوها إلا عن طاعة الجن وأمرهم إياهم بذلك كقوله إن يدعون من دونه إلا إناثا وإن يعبدون إلا شيطانا مريدا দেখুন: ইবনে কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম; ২/১৬৫।
📄 পাথর পূজা
পাথর পূজার ক্ষেত্রে তারা বহুদূর অগ্রসর হয়েছিল। প্রথমত কা'বা শরীফ ও এর প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে থাকা পাথর অন্যত্র বহন করে নিয়ে পাথর পূজার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তারা যখনই কোথাও অবতরণ করতো তখন তাদের সাথে কা'বা শরীফের প্রাঙ্গণের পাথর না থাকলে সেখানকারই একটি ভাল পাথরের পূজা করতো। কোন পাথর না পেলে কিছু মাটি বা বালু একত্রিত করে এর উপর ছাগলের দুধ দোহন করে সে মাটি বা বালু একটু শক্ত হলেই এটিকে মূর্তি মনে করেই এর চার পার্শ্বে ত্বওয়াফ করতো। এ সম্পর্কে আবু রাজা-আল আত্বারিদী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:
তিনি বলেন: هذا رد على المشركين الذين عبدوا مع الله غيره وأشركوا به في عبادته أن عبدوا الجن فجعلوهم شركاء له في العبادة تعالى الله عن شركهم وكفرهم فإن قيل فكيف عبدت الجن مع أنهم إنما كانوا يعبدون الأصنام فالجواب أنهم ما عبدوها إلا عن طاعة الجن وأمرهم إياهم بذلك كقوله إن يدعون من دونه إلا إناثا وإن يعبدون إلا شيطانا مريدا
“আমরা (পাথর না পেলে) বালু একত্রিত করতাম এবং এর উপর ছাগলের দুধ দোহন করে এর উপাসনা করতাম। আমরা সাদা পাথর পেলে কিছুদিন এর উপাসনা করতাম। অতঃপর তা ফেলে দিতাম।”
টিকাঃ
১. ইবনে কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল 'আযীম; ২/১৬৫।
📄 গৃহ পূজা
এ সকল মূর্তি ছাড়াও কা'বা শরীফের ন্যায় মর্যাদার অধিকারী তাদের আরো কিছু গৃহ ছিল। এ সব গৃহেরও খাদেম ও গিলাফ ছিল। কা'বা শরীফের ন্যায় তারা এ সব গৃহের ত্বওয়াফ করতো। এর উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করতো। এ সম্পর্কে হেশাম ইবন মুহম্মদ আল-কালবী স্বীয় 'কিতাবুল আসনাম' গ্রন্থে বলেন:
"বনী হারিছ ইবন কা'ব গোত্রের একটি কা'বা গৃহ ছিল নাজরান নামক স্থানে। তারা এর সম্মান করতো। এ গৃহের বর্ণনাই জাহেলী যুগের কবি আশা তার কবিতায় উল্লেখ করেছেন:
وكعبة نجران حتم علي ** ك حتى تناخي بأبوابها
"নাজরানের কা'বার দরজায় তোমার উট বসিয়ে দেয়া একান্ত জরুরী”
অনুরূপভাবে 'কুফা' ও 'বসরা' এর মধ্যবর্তী 'সিনদাদ' নামক স্থানেও 'ইয়াদ' গোত্রের একটি কা'বা ছিল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় প্রবেশ করে কা'বা শরীফের ভিতরে ও এর পার্শ্বে ৩৬০টি মূর্তি দেখতে পান এবং (جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا) [الاسراء: ۸۱] "সত্য সমাগত, অসত্য বিতাড়িত, আর অসত্যের পতন অবশ্যম্ভাবী।” এবং (جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ [سبا: ٤٩] "সত্য আগমন করেছে এবং অসত্য নতুন কিছু সৃজন করতে পারে না এবং এর পুনরাবর্তনও হবে না।”
এ আয়াত দু'টি পাঠ করে মূর্তিগুলোকে ধনুক দিয়ে আঘাত করতে থাকলে তা মুখ থুবড়ে পড়তে থাকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বা শরীফের ভিতরের দেয়ালে ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর চিত্র দেখতে পেলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁরা তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করছেন। তা দেখে তিনি বলেন:
(قَاتَلَهُمُ اللهُ وَاللَّهِ مَا اسْتَقْسَمَا بِهَا قَطُّ)
"মুশরিকদের আল্লাহ ধ্বংস করুন! আল্লাহর শপথ তাঁরা দু'জন কখনও তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ করেন নি।"
উপরে বর্ণিত এ সব মূর্তি ছাড়াও সাধারণ মানুষের বাড়ীতে ব্যক্তিগত এবং বিভিন্ন স্থানে গৃহ, পাথর ও গাছের আকৃতিতে যে সব মূর্তি ও প্রতিমা ছিল, আরব জনগণ বিশেষ করে বনী ইসমাঈলদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এ সব ছিল শয়তানের একেকটি পাতানো ফাঁদ বিশেষ।
টিকাঃ
১. ইবনে কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ, এগাছাতুল লহফান; ২/১৭৩।
২. ইবনে কাছীর, আল-বেদায়াতু ওয়ান নেহায়াহ; ১/১৭১।
৩. আল-কুরআন, সূরা ইসরা : ৮১।
৪. আল-কুরআন, সূরা সাবা : ৪৯।
৫. মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব, মুখতাসারু সীরাতির রাসূল; (রিয়াদ: আর-রিয়াসাতুল আ-ম্মাহ লি এদারাতিল বুহুছিল ইলমিয়্যাহ..., সংস্করণ বিহীন, ১৪০৮ হিজরী), পৃ. ২০২।
৬. সফিয়্যুর রহমান আল-মুবারকপুরী, প্রাগুক্ত; পৃ. ৪০৪।
📄 দেব-দেবীদের ধরন ও প্রকৃতি
মুশরিকরা যে সব সৎমানুষের মূর্তি, ফেরেস্তা, জিন, গাছ ও পাথরের দেব-দেবীদেরকে আল্লাহ তা'আলার রুবুবিয়্যাত অথবা উলুহিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে নিয়ে সে সবের উপাসনা করতো, সেগুলোর প্রকৃতি বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ﴾ [الاعراف: ١٩٤]
"আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে আহ্বান করো, তারা সবাই তোমাদের মতই (আমার) বান্দা। (তারা তোমাদের উপকার ও অপকার করতে পারে, এ মর্মে) তাদের ব্যাপারে তোমরা যে ধারণা করেছো, তাতে যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তা হলে তোমরা তাদের আহ্বান করো, তারাও তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিক।”
এখানে তাদের দেবতা ও দেবীদেরকে 'ইবাদ' তথা 'বান্দা' বলার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
১. তারা পাথরের যে সব প্রতিমা ও মূর্তির পূজা করতো, সে-গুলো তাদের মতই আল্লাহর মালিকানাধীন। আর যারা আল্লাহর মালিকানায় রয়েছে, তারা সবাই তাঁর বান্দা।
২. এ-পাথরের প্রতিমা ও মূর্তিগুলো তাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টি। আর সকল সৃষ্টিই আল্লাহর বান্দা।
৩. পাথরও তাদের ন্যায় আল্লাহর হুকুম ও আদেশের আওতাধীন।
৪. তারা ওয়াদ, সুয়া, য়াগুছ, য়া'উক ও নসর নামের যে- সব সৎমানুষ এবং যে সব ফেরেস্তাদের পূজা করতো, তারাও তাদের মতই আল্লাহর সৃষ্টি, তাঁর মালিকানাধীন ও তাঁর আদেশ ও নিষেধের আওতাধীন।
উপর্যুক্ত এ কারণসমূহের মধ্য থেকে যে কারণেই তাদেরকে 'ইবাদ' বলা হোক না কেন, এগুলো সর্বাবস্থায় তাদের মতই আল্লাহর বান্দা হওয়ায় কোনো অবস্থাতেই এরা আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের কোনো বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তাদের কোনো উপকার বা অপকার করতে পারে না। ইমাম কুরতুবী সৎমানুষ ও ফেরেস্তাদের সাথে সম্পর্কহীন পাথরের মূর্তিসমূহকেই এ আয়াতের উদ্দেশ্য বলে নির্ধারণ করেছেন। তবে আমার মতে এ আয়াত দ্বারা শুধুমাত্র পাথরের মূর্তিসমূহকেই উদ্দেশ্য করা হয় নি, বরং এর দ্বারা পাথরের মূর্তিসহ অন্যান্য যাবতীয় মূর্তি ও প্রতিমাসমূহকেও উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেগুলোকে তারা সৎমানুষ ও ফেরেস্তাদেরকে কেন্দ্র করেও তেরী করেছিল।
টিকাঃ
১. আল-কুরআন, সূরা আ'রাফ: ১৯৪।
২. কুরতুবী, প্রাগুক্ত; ৭/৩৪২।