📘 শিরকের বেড়াজালে উম্মত বেসামাল > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


খালেস ঈমান তথা সঠিক আক্বীদা মুসলিম জীবনের মূল বুনিয়াদ। এ বুনিয়াদের উপকরণে কলুষ, কালিমা ও ভেজালের অনুপ্রবেশ ঘটলে সমস্ত 'আমল বরবাদ ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। অন্যভাবে বলতে গেলে, মূলোৎপাটিত বৃক্ষের মাথায় পানি দিলে যেমন কোন ফল লাভ হয় না, ঠিক তেমনি আক্বীদা বিশুদ্ধ না হলে ব্যক্তি হয়ে যাবে 'আমল শূন্য। তাই আক্বীদার সংশোধনই হওয়া উচিত সর্বপ্রথম। তাছাড়া, জান্নাতে যাওয়া ও না যাওয়া নির্ভর করে মূলত আক্বীদা বিশুদ্ধ হওয়ার উপর। যদি আক্বীদা বিশুদ্ধ হয় তবে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব, আর যদি আক্বীদা অশুদ্ধ হয় তবে জান্নাতে যাওয়ার প্রবেশাধিকার পাওয়া অসম্ভব।
তাই, একজন মুসলিমের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন তার আক্বীদা বিশুদ্ধ হওয়া এবং বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণের মাধ্যমেই কেবল সে দ্বীনের ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করতে পারে। ঈমান ও আক্বীদা সংক্রান্ত বিষয়সমূহ কুরআনে এবং এর ব্যাখ্যাস্বরূপ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহীহ হাদীছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে পৃথিবীতে প্রচলিত বাতিল ধর্মমত এবং বিশেষত গ্রীক দর্শনের কুপ্রভাবে মুসলিমদের ঈমান ও আক্বীদায় বিভ্রান্তির মায়াজাল ছড়িয়ে পড়ে। তারই ফলশ্রুতিতে, অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলেও, মুসলিম সমাজে অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় ঈমানীয়তের মূল 'আক্বীদা' সংক্রান্ত ব্যাপারেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয় এবং নানা ভ্রান্ত মতবাদের উদ্ভব ঘটে। এভাবে অখণ্ড মুসলিম সমাজে পরস্পর বিরোধী মতবাদের টানাপোড়নে সংশয় ও সংঘাত দেখা দেয়। আক্বীদায় সীমালংঘন ও বাড়াবাড়ী প্রশ্রয় প্রাপ্ত হয়। এ সকল সংশয় ও সংঘাত নিরসন এবং সীমালংঘন ও বাড়াবাড়ির প্রতিরোধ করার মাধ্যমে মুসলিমদের আক্বীদাকে সঠিক ও কলুষমুক্ত রাখার জন্য ইসলামের অবিমিশ্র মত ও সঠিক পথের অনুসারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের প্রকৃত বিদ্বানগণ সময়ের প্রয়োজনে আবির্ভূত হন এবং আক্বীদার ব্যাপারে সৃষ্ট সমূদয় ধূম্রজাল ছিন্ন করে কুরআন ও সহীহ হাদীছের আলোকে সঠিক ও নির্ভেজাল বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
আজ ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণকারীদের অপপ্রচারে এ দেশে শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে বৃহত্তর মুসলিম সমাজ ব্যাপক আকারে বিভ্রান্তির শিকারে পতিত হয়েছে। গোটা বাংলাদেশের মুসলিমরা দিবানিশি শির্ক ও কুফরীযুক্ত শত-সহস্র কুসংস্কার ঘেরা এক স্বপ্নিল জীবন-যাপন করে। কাজেই অজ্ঞ ও শিক্ষিত সকলেই যে কুসংস্কারে থাকবে সর্ববিষয়ে তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। শির্ক ও কুসংস্কারের প্রতি এ মোহমুক্তি না ঘটলে মুসলিমরা কখনোই স্ব-ধর্মের আলোকোজ্জ্বল পথ তথা কুরআন ও সহীহ হাদীসের পথের সন্ধান পাবে না। শির্ক, বিদআত ও কুসংস্কারের চর্চা গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই না।
অথচ, শির্ক সবচেয়ে বড় অপরাধ। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণার বিষয়। অন্যান্য গুনাহ তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দিবেন, কিন্তু শির্কের অপরাধ তিনি ক্ষমা করবেন না। এর মূল কারণ হল, শির্ক হচ্ছে মূলত আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদারিত্বের আক্বীদা পোষণ করা। শির্কের মাধ্যমে আল্লাহর নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। এ কারণেই শির্ক জঘন্যমত অপরাধ। অন্যান্য কবীরা গুনাহে আল্লাহর একক প্রভুত্ব ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয় না। সেখানে হয় আদেশ লংঘন। কিন্তু শির্কে আল্লাহর একক প্রভুত্ব ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। শির্ক ও অন্যান্য গুনাহের মধ্যে এটাই হচ্ছে মৌলিক পার্থক্য।
আরেকটি পার্থক্য হল, অপরাপর কবীরা গুনাহে গুনাহগারের মনে অপরাধবোধ কাজ করে। এ অপরাধবোধ এক সময় তাকে অনুতপ্ত করে তোলে, ফলে সে তওবা করে। সকল ধরনের কবীরা গুনাহের ক্ষেত্রেই এ সম্ভাবনা আছে। কিন্তু শিরকের ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা নেই। যে শির্ক করে তার মধ্যে অপরাধবোধ সৃষ্টি হওয়ার কোন সুযোগ থাকে না। সে তো তা করে থাকে নেকবোধ নিয়েই। তার বিশ্বাস, সে যা করছে তাতে তার দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ হবে। সে যা করছে, তা যে অপরাধ, এ বোধ তার মধ্যে কখনো সৃষ্টি হয় না। যে মদ পান করে, সে জানে যে, সে মদ পান করে। যে ব্যভিচার করে, সে জানে যে, সে ব্যভিচার করছে। যে মিথ্যা বলছে, সে জানে যে, সে মিথ্যা বলছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, যে শির্ক করছে সে জানে না যে, সে শির্ক করছে। ফলে তার মধ্যে কখনো পাপবোধ সৃষ্টি হয় না। কখনো সে মনে করে না যে, সে এমন একটি কাজ করে যাচ্ছে যাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট। তার ধারণা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই সে কখনো তাওবা করার সুযোগ পায় না। আর এ অবস্থায় তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
অতএব, তাওহীদী আক্বীদাকে সকল প্রকার কুফরী, শির্ক্বী ও বিদআতী আক্বীদা হতে পরিচ্ছন্ন করা ব্যতীত সত্যিকারের মুমিন হওয়ার কোন পথ নেই। দেহের জন্য যেমন বিষাক্ত খাবার ক্ষতিকর রূহের জন্য তেমনি ঐসব বিষাক্ত আক্বীদা অত্যন্ত ক্ষতিকর যার চূড়ান্ত পরিণাম জাহান্নাম।

📘 শিরকের বেড়াজালে উম্মত বেসামাল > 📄 সহায়ক গ্রন্থপুঞ্জী

📄 সহায়ক গ্রন্থপুঞ্জী


১. অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, তাফসীর তাইসীরুল কুরআন, (ঢাকা: তাওহীদ পাবলিকেশন্স, প্রকাশকাল: ২০০৭ ঈসায়ী)।
২. ইমাম বুখারী, সহীহুল বুখারী (১-৬), (ঢাকা: তাওহীদ পাবলিকেশন্স, প্রকাশকাল: ২০০৭ ঈসায়ী)।
৩. Tafsir Ibn Kathir (1-10), (Darussalam Publication, Riyad, Saudi Arabia)।
৪. ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিন্স, তাওহীদের মূল নীতিমালা, (ভাষান্তর: ইঞ্জি. মুহাম্মাদ হাছান; ঢাকা: তাওহীদ পাবলিকেশন্স; প্রকাশকাল: ২০০৮ ঈসায়ী)।
৫. সালিহ আল-উছায়মীন, ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, (তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ঢাকা, বাংলাদেশ; প্রকাশকাল, ২০০৭ ঈসায়ী)।
৬. মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনু, মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পথ নির্দেশিকা, (তাওহীদ পাবলিশেন্স, ঢাকা, বাংলাদেশ।)।
৭. আবু তাহের বর্ধমানী, পীরতন্ত্রের আজবলীলা, (তাওহীদ পাবলিশেন্স, ঢাকা, বাংলাদেশ।)।
৮. শফীউর রহমান মুবারাকপুরী, আর-রাহিকুল মাখতুম, (তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ঢাকা, প্রকাশকাল ২০০৯ ঈসায়ী)।
৯. ড. মুহাম্মাদ মুয্যাম্মিল আলী, শিরক কী ও কেন, (তাওহীদ পাবলিকেশন্স, ঢাকা; প্রকাশকাল: ২০০৭ ঈসায়ী)।
১০. ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, ইসলামী আক্বীদা, (আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স, ঝিনাইদহ।)।
১১. ঐ, এহইয়াউস সুনান।
১২. ড. মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-উরাইফী, তাওহীদের কিশতী, (ঢাকা: আন্-নূর ইসলামিক লাইব্রেরী, প্রকাশকাল: ২০০৮ ঈসায়ী)।
১৩. মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহ্হাব, কিতাবুত তাওহীদ ও এর ব্যাখ্যা, (ঢাকা: আন্-নূর ইসলামিক লাইব্রেরী, প্রকাশকাল: ২০০৯ ঈসায়ী)।
১৪. ওয়ামী, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শিরকের প্রভাব, (ওয়ামী বুক সিরিজ-২৫; প্রকাশকাল: জানুয়ারী ২০০৭)।
১৫. হাফেজ মাহমুদুল হাসান, কবর ও মাযার কেন্দ্রিক শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার, (ওয়ামী বুক সিরিজ-৬, প্রথম প্রকাশ: মে-২০০৪)।
১৬. মাওলানা আব্দুর রহীম, আল-কুরআনের আলোকে শির্ক ও তাওহীদ, (ঢাকা: খায়রুন প্রকাশনী, ৩য় প্রকাশ ১৯৯৯)।
১৭. মাওলানা রফিকুল ইসলাম, তাসাউফের মর্মকথা, (ইমাম ফাউন্ডেশন, ৫০ বাংলাবাজার, ঢাকা)।
১৮. অধ্যাপক এ. এফ. ছাদুল হক ফারুক, পীরবাদের বেড়াজালে ইসলাম, (আল-ফুরকান পাবলিকেশন, ৪৯১ বড় মগবাজার, ঢাকা)।
১৯. মুহাম্মাদ আব্দুল মজীদ, শিরক ও বিদআত, ঐ।
২০. জহুরী, অপসংস্কৃতির বিভীষিকা (১-৩), (তাসনিয়া বই বিতান, ৪৯১/১ বড় মগবাজার, ঢাকা)।
২১. ঐ, শব্দ সংস্কৃতির ছোবল।
২২. মাওলানা মুহা: হেমায়েত উদ্দীন, ইসলামী আক্বীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ, (থানভী লাইব্রেরী, ৫০ বাংলাবাজার, ঢাকা)।
২৩. আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-হুয়াইল, সহজ তাওহীদ, (আল মুনীর পাবলিকেশন্স, ৫৫ পুরানা পল্টন, ঢাকা)।
২৪. মমতাজ দৌলতানা, মাযার জিয়ারত, (জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, ৩৮/২-ক, বাংলাবাজার, ঢাকা)।
২৫. আইয়ুব হোসেন, সংস্কার নয়, কুসংস্কার, (সুবর্ণ, ১৫০ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা)।
২৬. ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাহি.), মহা উপদেশ, (সালাফী রিসার্চ ফাউন্ডেশন, ধারাবারিষা বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর)।
২৭. আ.ন.ম. রশীদ আহমাদ, প্রশ্নোত্তরে ইসলামী আক্বীদাহ।
২৮. মুহাম্মাদ বিন সুলায়মান আত-তামীমী (রাহি.), ইসলাম ও জাহেলিয়াতের দ্বন্দ্ব।
২৯. ইসলামী বিশ্বকোষ, (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ)।
৩০. সীরাত বিশ্বকোষ, ঐ, ১ম ও ২য় খণ্ড।
৩১. বাংলা পিডিয়া, (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, প্রথম প্রকাশ: চৈত্র ১৪০৯/মার্চ ২০০৩)।
৩২. বিজ্ঞান জ্যোতিষ সমাজ, বিজ্ঞান-অবিজ্ঞান-অপবিজ্ঞান, (উৎস মানুষ সংকলন)।
৩৩. এটা কি ওটা কেন, (উৎস মানুষ সংকলন)।
৩৪. বিজ্ঞান-অবিজ্ঞান-অপবিজ্ঞান, ঐ।
৩৫. ভবানী প্রসাদ সাহু, সংস্কার-কুসংস্কার।
৩৬. মাসিক আত-তাহরীক, (হাদীস ফাউন্ডেশন, কাজলা, রাজশাহী)।
৩৭. দৈনিক সংগ্রাম, ২৭ অগাস্ট, ১৯৯৭ খ্রি.।
৩৮. দৈনিক ইনকিলাব, ৩ জুলাই, ২০০০ খ্রি.।
৩৯. সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান, ১৮-২৪ ডিসেম্বর, ২০০২ খ্রি.।
৪০. দৈনিক আমার দেশ, ১ নভেম্বর, ২০০৮ খ্রি.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00