📄 রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিরকের ক্ষতিকর প্রভাব
১. জাতীয় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়: শির্ক মানব সমাজের সব ধরনের অকল্যাণ নিশ্চিত করে। ব্যক্তি মানুষের স্বকীয়তা বিনষ্ট করে তার সৃজনশীল মনন ও চিন্তাশক্তিকে এবং বাক স্বাধীনতা চিরতরে নিঃশেষ করে দেয়। একদিকে জীবনকে জটিল করার কারণে মানুষকে সে সম্পর্কে নৈরাশ্যে নিপতিত করে। ফলে সে কর্মবিমুখ ও নির্লিপ্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে মানুষ আখিরাতের জবাবদিহিতাকে উপেক্ষা করে এবং পরকালে মুক্তির মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে ইবাদাত ও সৎ আমল বিমুখ হয়ে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে গা ভাসিয়ে দেয়। ফলে মানুষের মধ্য হতে উৎপাদনমূলক কাজের আগ্রহ লোপ পায়। এভাবে শির্ক দেশের জাতীয় উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে।
২. জাতীয়ভাবে অপচয় বৃদ্ধি পায়: ইসলামী জীবনব্যবস্থায় অপব্যয়কে সর্বাবস্থায় পরিহার করে মিতব্যয়িতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কবরে বাতি জ্বালানো, কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা, কবরের ওপর ঘর তৈরি করা, কবরের ওপর লেখা ও চুনকাম করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এ নিষিদ্ধতা সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণ, ব্যাখ্যা, বিভিন্ন আয়াত বা হাদীসের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ও সম্ভাবনা দেখিয়ে এ সকল নিষিদ্ধ কাজ আমাদের সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। আজকের মুসলিম সমাজে এমন শত শত কাজ ধর্মের অংশ হয়ে পড়েছে। যেমন আমাদের দেশেরে মাযার-খানকাগুলোতে গেলাফের নামে, সজ্জিতকরণের নামে মূল্যবান ঝাড়বাতি, আলোকসজ্জা, মার্বেল পাথরের নানা কারুকার্য, নানা আকৃতির গেইট, কবরকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন কারুকার্য আমরা প্রত্যক্ষ করে থাকি। এগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে একেবারেই অর্থহীন। কারণ, ইসলামে যেখানে কোন কবরকে বাঁধাই করতেই নিষেধ করেছে, সেখানে এত আড়ম্বর সাজসজ্জা, ডেকোরেশন বাহুল্য ব্যয় ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। বছরে কয়েকবার কবরের গেলাফ পরিবর্তনের মধ্যে দ্বীনি দায়িত্ব পালন এবং পুরনো গেলাফকে বরকতময় মনে করাকে ইসলাম মোটেই সমর্থন করে না; বরং কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। কারণ এ সবের মাধ্যমেই সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে শির্ক ছড়িয়ে পড়ে, আল্লাহর অধিকার হয় ভূলুণ্ঠিত। আমাদের সমাজে খানকা ও মাযার কেন্দ্রিক এ কাজগুলোই ঘটা করে পালিত হচ্ছে। তাছাড়া উরস ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় প্রচুর টাকা-পয়সা ব্যয়ে জাঁকজমকপূর্ণ গেইট তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য যে, দেশের কোন এক খানকার বার্ষিক উরস উপলক্ষ্যে একবার সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিনশ’ তোরণ নির্মাণ করা হয়। এগুলো সবই আশেকান, মুরীদান বা ভক্তবৃন্দ সাওয়াবের আশায় করে থাকে। আর অসংখ্য মাইকের মাধ্যমে প্রচার, পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ব্যানার, ফেস্টুন, পোষ্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল বিতরণের জন্য যে খরচ হয় তার হিসাব করা কঠিন। এ সবের ব্যবস্থা যেভাবেই হোক না কেন, সবই দেশের মানুষের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করেই করা হয়। আরো লক্ষণীয় যে, পীর নেই অথচ তাঁর হুক্কায় আজও জীবিত মানুষের ন্যায় নিয়মিত আগুনসহ যথারীতি তামাক সেজে দেয়া হয়। বিশ্বাস এরূপ যে, আল্লাহর ওলীরা কখনও মৃত্যুবরণ করেন না; বরং তাঁরা সর্বদা জীবিত। মৃত্যুর আগে তিনি যা কিছু পছন্দ করতেন এবং তাঁর প্রয়োজন ছিল, তা আজও তার প্রয়োজন। এভাবে তারা বিভিন্ন উপকরণে অর্থ ব্যয় করে থাকে। এ পথে ব্যয়িত বিপুল পরিমাণ অর্থ অভাবী ও গরীব মানুষদের মধ্যে ব্যয় করা হলে, দেশের চিত্র আজ ভিন্ন হতো। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইসলামের নামে এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করা ছাড়া এর মধ্যে আর কোন কল্যাণ আছে বলে মনে করা যায় না।