📄 ওলী-আউলিয়া, দরবেশ ও বুযুর্গদের প্রতি ধারণা পোষণ সংক্রান্ত শিরক
জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-দর্শন ও প্রযুক্তির স্বর্ণ শিখরে আরোহন করেও আধুনিক সমাজে অনেক বিজ্ঞজনই এমন ধারণা পোষণ করে যে, এ পৃথিবীতে অনেক সম্মানিত ওলী, দরবেশ, কুতুব, সালেহ মনীষী আছেন, যারা মানব সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ ইলাহী শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী। তাঁরা মানুষের জীবনে উন্নতি-অবনতি, সুখ-দুঃখ, জয়-পরাজয় ও লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে উক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে অনেক কঠিন সমস্যা ও সংকটময় মুহূর্তে তাঁদেরকে সাহায্য-সমাধানের মুক্তিদাতা মনে করে স্রষ্টার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস পান। এ ছাড়া, আমাদের সমাজে এটা লক্ষ্যণীয় বিষয় যে, তথাকথিত জীবিত ওলী-সাধকদের চেয়ে মৃত ওলী ও দরবেশগণ অধিক রূপান্তর শক্তিতে মহিমান্বিত। তাই আমরা অগাধ মানসিক শ্রদ্ধা ও দৃঢ় বিশ্বাস ধারণপূর্বক তাঁদের মাযারে গমন করি এবং তাঁদের নাম ধরে সরাসরি অসিলা করে দু’আ কামনা করি। এ ধরনের কাজ ও বিশ্বাস নিঃসন্দেহে শিকের অন্তর্ভূক্ত। কঠিন সমস্যা, রোগ-ব্যাধি, মামলা-মোকদ্দমা ইত্যাদি অসুবিধায় পতিত হলে প্রচুর আহারীয় সামগ্রী, কালো টাকার বান্ডিল এবং অনেক নযর-মানত নিয়ে তাদের মাযারে গমন করি, অধিকন্তু তাদেরকে দু’আ ও মুক্তিদূত মনে করি। ইসলামী অনুশাসনের তোয়াক্কা না করে প্রবৃত্তিগতভাবে এমন ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, যা প্রকাশ্য শিক। অবশ্য এ ধরনের ক্রিয়াকলাপের পশ্চাতে তারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, আওলিয়া, মাশায়িখ ও সালেহীন মনীষীগণ যেহেতু আল্লাহর বিধানের তত্ত্ব ও অন্ত র্নিহিত আধ্যাত্মিকতা প্রসঙ্গে সাধনা করেন, সেহেতু তাদেরকে কদমবুছি, এমনকি কৃতজ্ঞতামূলক সিজদা করাতে কোন দোষ নেই। বরং এটা পালনযোগ্য শিষ্টতাও বটে। মূলত এ সবের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে শিক্ক ও বিদ’আত সংঘটিত হয়। লোকদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণেই মূলত এ পৃথিবীতে সর্বপ্রথম শিকের সূচনা হয়েছিল। তাদের যা মর্যাদা তার চাইতে বেশী তাদেরকে সম্মান করা হয়েছিল, আর এ ধরনের ক্রিয়াকলাপই শির্কের চোরা গলির দরজা উম্মুক্ত করে।
সুন্নাহ ও শিক্ সংক্রান্ত কাম্য শিক্ষা না থাকার কারণে সমাজে আজ এ জটিলতা বিদ্যমান। সুতরাং আমাদের শরীয়ত, সুন্নাহ ও শিক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি অত্যাবশ্যক বলে মনে করতে হবে।