📘 শিরকের বেড়াজালে উম্মত বেসামাল > 📄 উম্মতে মুহাম্মদীয়ীর মাঝে শিরক

📄 উম্মতে মুহাম্মদীয়ীর মাঝে শিরক


খালেস তাওহীদের দাবীদার এবং তাওহীদের ভিত্তির ওপর যাদের জাতীয়তা প্রতিষ্ঠিত সে সব মুসলিমদের নিকটে এটা অবিসংবাদিত কথা যে, স্থান ও পাত্র পরিবর্তন দ্বারা কখনো বস্তুর মূল তত্ত্বের বিবর্তন হয় না। মুশরিকদের মধ্যে যেসব বস্তু শিক, আহলে কিতাবদের মধ্যে এবং মুনাফিকদের মধ্যে যা কিছু শির্ক, সেই বস্তুই যদি মুসলিমেদের মধ্যে পাওয়া যায়, তা কখনো তাওহীদ হবে না, বরং শিক্কই থাকবে। মলমূত্র যদিও স্বর্ণ-রৌপ্যের নির্মিত সুন্দরতম পাত্রে রাখা হয়, উভয় স্থানেই তা অপবিত্র। স্থান ও পাত্র পরিবর্তনের ফলে তার মূল গুণ ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনই পার্থক্য হয় না। অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তনের ফলে তার হুকুম অবশ্যই পরিবর্তন হয়।
মুসলিমদের অবস্থা যদি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রকৃত সত্যকে স্বীকৃতি দিতে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তবে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, প্রাচীন আরবীয় জাহিলিয়াত হতে আরম্ভ করে মুনাফিকদের পর্যন্ত শিরকের যতগুলো শ্রেণী রয়েছে, তার প্রায় সবটুকুই মুসলিমদের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। বিবর্তন শুধু রূপরেখায় এসেছে, আসল বস্তুতে নয়। জাহেলী আরবে জ্বিনদের পূজা, নক্ষত্ররাজীর পূজা, পূর্বপুরুষদের পূজা, আলিম-উলামা-পীর-পুরোহিত ও ধর্ম যাজকদের পূজা, জিবত পূজা, তাগুতের পূজা, জাতি পূজা ও শিকের সহায়তা, মুনাফিকদের তাগুত পূজা, আমিত্বের পূজা, স্বার্থের পূজা ইত্যাদি সব কিছুর মধ্যে এমন কোন পূজা নেই, যা বর্তমান মুসলিম সমাজে পাওয়া যাবে না।
বহু মুসলিম রয়েছে যারা যাদু বিদ্যা, ভাগ্য গণনা বিদ্যা ইত্যাদি অভিশপ্ত শির্কী কাজের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে। তারা তাবীজ-তুমার, যাদু-টোটকা, সোলায়মানী তেলেসমাতি ইত্যাদি শিরককে জীবিকা অর্জনের পেশা বানিয়ে নিয়েছে।
জ্বিন বশীভূত করা ও শয়তানী আমল-আক্বীদার ইলমই তাদের কাছে আসল ইলম। জ্বিন-বশীভূত করার জন্য তারা নানারূপ কঠোর যোগসাধনা করে, চিল্লায় বসে ও নযর-নিয়ায, শিন্নি ও মান্নত করে। আর জ্বিন-ভূত ইত্যাদিকে গায়েবী ইলম লাভের মাধ্যম ভেবে থাকে। তাদেরকে ক্ষতিকারক ও উপকারকারক ভাবতেও ত্রুটি করে না। বহু অবস্থায় তাদের দোহাই দেয় এবং তাদের সাথে সম্পর্কের দরুন অনেক বৈধ বস্তুকেও অবৈধ করে নেয় এবং অবৈধকেও বৈধ করে।
বর্তমান যুগের তাবীজগুলো সাধারণত মুশরিকী ও দুর্বোধ্য ভাষায় লিখিত। কুরআনের আয়াত অবলম্বনের তাবীজ লিখা হলে তাও হয় আয়াতগুলো তাহরীফ ও রদ-বদল করা অবস্থায়।
অনেক মুসলিম যারা ইলমুল আসমায়া (আল্লাহর নামসমূহের জ্ঞান) ও কালিমার খাসিয়াতসমূহের আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এ জ্ঞানকে ইয়াহুদীরা যেরূপ অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করত, একইভাবে তারাও অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করে, এমনকি কিছু যালেম লোক স্বয়ং কুরআনকে বেগানা নর-নারীর প্রেম-ভালবাসা, শত্রুতা বশীকরণ, বিচ্ছেদ ইত্যাদি কাজের দফতর বানিয়ে নিয়েছে।
বস্তুত মানুষ সর্বদা আনুষ্ঠানিকতা প্রিয় এবং অদৃশ্য সত্তার চেয়ে দৃশ্যমান বস্তুর প্রতি অধিকতর আসক্ত। ফলে নূহ (আ:)-এর যুগ থেকেই অদৃশ্য আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের অসীলা কল্পনা করে নিজেদের হাতে গড়া দৃশ্যমান মূর্তিসমূহের পূজ-অর্চনা চলে আসছে। অবশেষে আল্লাহকে ও তাঁর বিধানকে ভুলে গিয়ে মানুষ মূর্তিকে ও নিজেদের মনগড়া বিধানকে মুখ্য গণ্য করেছে। মক্কার মুশরিকরাও শেষনাবীর কাছে তাদের মূর্তিপূজাকে আল্লাহর নৈকট্যের অসীলা বলে অজুহাত দিয়েছিল। তাদের এ অজুহাত অগ্রাহ্য হয় এবং তাদের রক্ত হালাল গণ্য হয়। বদর, ওহুদ, খন্দক প্রভৃতি যুদ্ধসহ পরবর্তীকালের সকল জিহাদ মূলত এ শিরকের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়।
কিন্তু দুর্ভাগ্য সে স্থান আজ দখল করেছে মুসলিমদের মধ্যে কবর পূজা, ছবি-মূর্তি ও প্রতিকৃতি পূজা, স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার ও বেদী পূজা, শিখা ও আগুন পূজা ইত্যাদি। বস্তুত এগুলো স্পষ্ট শির্ক, যা থেকে নাবীগণ যুগে যুগে মানুষকে সাবধান বাণীর দ্বারা জন্য ধমকানোর পর তাদের হুঁশ ফিরল এবং তাঁরা বিরত হল।
সক্ষেপে বর্তমানের মুসলিম জনসাধারণের সামগ্রিক ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে এখানে উল্লেখিত হল। উম্মাতে মুহাম্মাদীর মধ্যে বিদ্যমান শির্ক সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানোর উদ্দেশ্যে আমাদের বাস্তব জীবনে ও সমাজে প্রচলিত নানা ধরনের শির্ক সম্পর্কে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আলোচনা করা হবে।

খালেস তাওহীদের দাবীদার এবং তাওহীদের ভিত্তির ওপর যাদের জাতীয়তা প্রতিষ্ঠিত সে সব মুসলিমদের নিকটে এটা অবিসংবাদিত কথা যে, স্থান ও পাত্র পরিবর্তন দ্বারা কখনো বস্তুর মূল তত্ত্বের বিবর্তন হয় না। মুশরিকদের মধ্যে যেসব বস্তু শিক, আহলে কিতাবদের মধ্যে এবং মুনাফিকদের মধ্যে যা কিছু শির্ক, সেই বস্তুই যদি মুসলিমেদের মধ্যে পাওয়া যায়, তা কখনো তাওহীদ হবে না, বরং শিক্কই থাকবে। মলমূত্র যদিও স্বর্ণ-রৌপ্যের নির্মিত সুন্দরতম পাত্রে রাখা হয়, উভয় স্থানেই তা অপবিত্র। স্থান ও পাত্র পরিবর্তনের ফলে তার মূল গুণ ও বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনই পার্থক্য হয় না। অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তনের ফলে তার হুকুম অবশ্যই পরিবর্তন হয়।
মুসলিমদের অবস্থা যদি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রকৃত সত্যকে স্বীকৃতি দিতে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, তবে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, প্রাচীন আরবীয় জাহিলিয়াত হতে আরম্ভ করে মুনাফিকদের পর্যন্ত শিরকের যতগুলো শ্রেণী রয়েছে, তার প্রায় সবটুকুই মুসলিমদের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। বিবর্তন শুধু রূপরেখায় এসেছে, আসল বস্তুতে নয়। জাহেলী আরবে জ্বিনদের পূজা, নক্ষত্ররাজীর পূজা, পূর্বপুরুষদের পূজা, আলিম-উলামা-পীর-পুরোহিত ও ধর্ম যাজকদের পূজা, জিবত পূজা, তাগুতের পূজা, জাতি পূজা ও শিকের সহায়তা, মুনাফিকদের তাগুত পূজা, আমিত্বের পূজা, স্বার্থের পূজা ইত্যাদি সব কিছুর মধ্যে এমন কোন পূজা নেই, যা বর্তমান মুসলিম সমাজে পাওয়া যাবে না।
বহু মুসলিম রয়েছে যারা যাদু বিদ্যা, ভাগ্য গণনা বিদ্যা ইত্যাদি অভিশপ্ত শির্কী কাজের মধ্যে লিপ্ত রয়েছে। তারা তাবীজ-তুমার, যাদু-টোটকা, সোলায়মানী তেলেসমাতি ইত্যাদি শিরককে জীবিকা অর্জনের পেশা বানিয়ে নিয়েছে।
জ্বিন বশীভূত করা ও শয়তানী আমল-আক্বীদার ইলমই তাদের কাছে আসল ইলম। জ্বিন-বশীভূত করার জন্য তারা নানারূপ কঠোর যোগসাধনা করে, চিল্লায় বসে ও নযর-নিয়ায, শিন্নি ও মান্নত করে। আর জ্বিন-ভূত ইত্যাদিকে গায়েবী ইলম লাভের মাধ্যম ভেবে থাকে। তাদেরকে ক্ষতিকারক ও উপকারকারক ভাবতেও ত্রুটি করে না। বহু অবস্থায় তাদের দোহাই দেয় এবং তাদের সাথে সম্পর্কের দরুন অনেক বৈধ বস্তুকেও অবৈধ করে নেয় এবং অবৈধকেও বৈধ করে।
বর্তমান যুগের তাবীজগুলো সাধারণত মুশরিকী ও দুর্বোধ্য ভাষায় লিখিত। কুরআনের আয়াত অবলম্বনের তাবীজ লিখা হলে তাও হয় আয়াতগুলো তাহরীফ ও রদ-বদল করা অবস্থায়।
অনেক মুসলিম যারা ইলমুল আসমায়া (আল্লাহর নামসমূহের জ্ঞান) ও কালিমার খাসিয়াতসমূহের আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এ জ্ঞানকে ইয়াহুদীরা যেরূপ অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করত, একইভাবে তারাও অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করে, এমনকি কিছু যালেম লোক স্বয়ং কুরআনকে বেগানা নর-নারীর প্রেম-ভালবাসা, শত্রুতা বশীকরণ, বিচ্ছেদ ইত্যাদি কাজের দফতর বানিয়ে নিয়েছে।
বস্তুত মানুষ সর্বদা আনুষ্ঠানিকতা প্রিয় এবং অদৃশ্য সত্তার চেয়ে দৃশ্যমান বস্তুর প্রতি অধিকতর আসক্ত। ফলে নূহ (আ:)-এর যুগ থেকেই অদৃশ্য আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের অসীলা কল্পনা করে নিজেদের হাতে গড়া দৃশ্যমান মূর্তিসমূহের পূজ-অর্চনা চলে আসছে। অবশেষে আল্লাহকে ও তাঁর বিধানকে ভুলে গিয়ে মানুষ মূর্তিকে ও নিজেদের মনগড়া বিধানকে মুখ্য গণ্য করেছে। মক্কার মুশরিকরাও শেষনাবীর কাছে তাদের মূর্তিপূজাকে আল্লাহর নৈকট্যের অসীলা বলে অজুহাত দিয়েছিল। তাদের এ অজুহাত অগ্রাহ্য হয় এবং তাদের রক্ত হালাল গণ্য হয়। বদর, ওহুদ, খন্দক প্রভৃতি যুদ্ধসহ পরবর্তীকালের সকল জিহাদ মূলত এ শিরকের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়।
কিন্তু দুর্ভাগ্য সে স্থান আজ দখল করেছে মুসলিমদের মধ্যে কবর পূজা, ছবি-মূর্তি ও প্রতিকৃতি পূজা, স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার ও বেদী পূজা, শিখা ও আগুন পূজা ইত্যাদি। বস্তুত এগুলো স্পষ্ট শির্ক, যা থেকে নাবীগণ যুগে যুগে মানুষকে সাবধান বাণীর দ্বারা জন্য ধমকানোর পর তাদের হুঁশ ফিরল এবং তাঁরা বিরত হল।
সক্ষেপে বর্তমানের মুসলিম জনসাধারণের সামগ্রিক ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে এখানে উল্লেখিত হল। উম্মাতে মুহাম্মাদীর মধ্যে বিদ্যমান শির্ক সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানোর উদ্দেশ্যে আমাদের বাস্তব জীবনে ও সমাজে প্রচলিত নানা ধরনের শির্ক সম্পর্কে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে আলোচনা করা হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00