📄 মুসা (আ.)-এর উম্মতের মাঝে শিরক
৫. মূসা (আ:)-এর উম্মতের মাঝে শির্ক (গোবৎস পূজার ঘটনা): বনী-ইসরাঈলকে ফির'আউনের দাসত্ব হতে মুক্ত করাই ছিল মূসা (আ:)-এর প্রধান কাজ। কেননা, কোন পরাধীন জাতির পক্ষে আল্লাহর দ্বীনকে যথাযথভাবে পালন করা কোনরূপেই সম্ভব নয়। মূসা (আ:)-এর সে কর্তব্য তিনি সমাধান করলেন।
বনী ইসরাঈল সম্প্রদায় মূসা (আ:)-এর মু'জিযার বলে লোহিত সাগরে ডুবে মরা থেকে সদ্য নাজাত পেয়ে এসেছিল এবং গোটা ফেরাউনী গোষ্ঠীকে সাগরে ডুবে মরার মর্মান্তিক দৃশ্য স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে এসেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিরিয়া আসার পথে কিছুদূর অগ্রসর হতেই তারা এমন এক জনপদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করল, যারা বিভিন্ন মূর্তির পূজায় লিপ্ত ছিল। তাদের পূজা-অর্চনার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান দেখে তাদের মন সেদিকে আকৃষ্ট হল এবং মূসা (আ:)-এর কাছে গিয়ে আবেদন করল, 'তাদের মূর্তিসমূহের ন্যায় আমাদের জন্যও একটা মূর্তি বানিয়ে দিন।” মূসা (আঃ) বললেন, 'তোমরা মূর্খতায় লিপ্ত জাতি। এরা যে কাজে নিয়োজিত রয়েছে, তা ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তারা করছে, তা সব বাতিল।' তিনি আরো বললেন, 'আমি কি তোমাদের জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য সন্ধান করব? অথচ তিনি তোমাদেরকে সারা বিশ্বের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।"
অত:পর বনী-ইসরাঈল তাঁর নিকট আরয করল, 'আমরা এখন সম্পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করেছি।' অতএব, যদি আমাদের জন্য কোন শরী'আত নির্ধারিত হয়, তবে আমাদের জীবন বিধান হিসেবে আমরা তা গ্রহণ করে নেব।' মূসা (আ:)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি পেলেন যে, 'তুমি বনী ইসরাঈলকে নিয়ে তুর পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তে চলে এস এবং তুমি তূর পর্বতে এসে এখানে অবস্থান করে একমাস পর্যন্ত 'ইবাদাতে লিপ্ত থাক। আমি তোমাকে তাওরাত দান করব। যা তোমার ও তোমার সম্প্রদায়ের জন্য কর্মপন্থা নির্দেশ করবে।'
তখন তিনি বনী ইসরাঈলকে নিয়ে তুর পাহাড়ের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। তারপর তিনি হারুণ (আ:)-এর নেতৃত্বে তাঁর সম্প্রদায়কে পশ্চাতে আসার নির্দেশ দিয়ে নিজে সাগ্রহে আগে চলে গেলেন এবং সেখানে গিয়ে ৩০ দিন সিয়াম ও ই'তেকাফে মগ্ন থাকেন। এরপর আল্লাহ আরও দশদিন মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। ইবনু আব্বাস বলেন, এ দশদিন ছিল যিলহজ্জের প্রথম দশদিন, যা অতীব বরকতময়। এভাবে চল্লিশ দিন-চল্লিশ রাত সিয়াম ও ইতেকাফে অতিবাহিত করার পর তিনি তূর পাহাড়ের দক্ষিণ পার্শ্বে নির্ধারিত স্থানে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে তাওরাত লাভ করলেন। তাঁর ধারণা ছিল যে, তার কওম নিশ্চয়ই তার পিছে পিছে তুর পাহাড়ের সন্নিকটে এসে শিবির স্থাপন করেছে। কিন্তু তাঁর এ ধারণা ছিল সম্পূর্ণ ভুল।
মূসা (আ:) ত্রিশ দিন পরে নির্দিষ্ট সময়ে তুর পর্বত হতে ফিরে না আসায়, ক্ষীণ বিশ্বাসী ইয়াহুদীরা বিচলিত হয়ে উঠল। সে সময় সামেরী নামক জনৈক দলপতি ইয়াহুদীদের সাথে অবস্থান করছিল। ওদিকে, মিসর থেকে বিদায়ের দিন যাতে ফেরাউনীরা তাদের পশ্চাদ্ধাবন না করে এবং তারা কোনরূপ সন্দেহ না করে, সেজন্য (মূসাকে লুকিয়ে) বনী ইসরাঈলরা প্রতিবেশী ক্বিবতীদের কাছ থেকে অলংকারাদি ধার নেয় এ কথা বলে যে, আমরা সবাই ঈদ উৎসব পালনের জন্য যাচ্ছি। দু'এক দিনের মধ্যে ফিরে এসেই তোমাদের সব অলংকার ফেরৎ দিব। কিন্তু সাগর পার হওয়ার পর যখন আর ফিরে যাওয়া হল না, তখন কুটবুদ্ধি ও মূসার প্রতি কপট বিশ্বাসী সামেরী মনে মনে এক ফন্দি আটলো যে, এর দ্বারা সে বনী ইসরাঈলদের পথভ্রষ্ট করবে। তারপর মূসা (আ:) যখন তাঁর সম্প্রদায়কে হারুণের দায়িত্বে দিয়ে নিজে আগেভাগে তুর পাহাড়ে চলে যান, তখন সামেরী সুযোগ বুঝে তার ফন্দি কাজে লাগায়। সে ছিল অত্যন্ত চতুর। সাগর ডুবি থেকে নাজাত পাবার সময় সে জিব্রীলের অবতরণ ও তার ঘোড়ার প্রতি লক্ষ্য করেছিল। সে দেখেছিল যে, জিব্রীলের ঘোড়ার পা যে মাটিতে পড়ছে, সে স্থানের মাটি সজীব হয়ে উঠছে ও তাতে জীবনের স্পন্দন জেগে উঠছে। তাই সবার অলক্ষ্যে এ পদচিহ্নের এক মুঠো মাটি সে তুলে সযত্নে রেখে দেয়।
মূসা (আঃ) চলে যাবার পর সে লোকদের বলে যে, 'তোমরা ফেরাউনীদের যেসব অলংকারাদি নিয়ে এসেছ এবং তা ফেরত দিতে পারছ না, সেগুলো ভোগ-ব্যবহার করা তোমাদের জন্য হালাল হবে না। অতএব এগুলো একটি গর্তে নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দাও।' এ কথাটি অবশেষে হারূণ (আ:)-এর কর্ণগোচর হয়। নাসাঈ-তে বর্ণিত 'হাদীসুল ফুতুনে' আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস এর রেওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে, হারূণ (আ:) সব অলংকার একটি গর্তে নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেবার নির্দেশ দেন, যাতে সেগুলো একটি অবয়বে পরিণত হয় এবং মূসা (আ:)-এর ফিরে আসার পর এ সম্পর্কে করণীয় নির্ধারণ করা যায়। হারূণ (আ:)-এর নির্দেশ মতে সবাই যখন অলংকার গর্তে নিক্ষেপ করছে, তখন সামেরীও হাতের মুঠি বন্ধ করে সেখানে পৌছল এবং হারূণ (আ:)-কে বলল, আমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হৌক- এ মর্মে আপনি দু'আ করলে আমি নিক্ষেপ করব, নইলে নয়।' হারূণ (আ:) তার কপটতা বুঝতে না পেরে সরল মনে দু'আ করলেন। আসলে তার মুঠিতে ছিল জিব্রীলের ঘোড়ার পায়ের সেই অলৌকিক মাটি। ফলে উক্ত মাটির প্রতিক্রিয়ায় হৌক কিংবা হারূণ (আ:)-এর দু'আর ফলে হৌক, সামেরীর উক্ত মাটি নিক্ষেপের পরপরই গলিত অলংকারাদির অবয়বটি একটি গো-বৎসের রূপ ধারণ করে হাম্বা হাম্বা রব করতে থাকে। মুনাফিক সামেরী ও তার সঙ্গী-সাথীরা এতে উল্লসিত হয়ে বলে উঠল,
'এটাই হল তোমাদের উপাস্য ও মূসার উপাস্য। যা সে পরে ভুলে গেছে।' [সূরা ত্ব-হা (২০): ৮৮]
মূসা (আ:) এর তুর পাহাড়ে গমনকে সে অপব্যাখ্যা দিয়ে বলল, 'মূসা বিভ্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে কোথাও চলে গেছে। এখন তোমরা সবাই গো-বৎসের পূজা কর।' কিছু লোক তার অনুসরণ করল। বলা হয়ে থাকে যে, বনী ইসরাঈল এ ফিৎনায় পড়ে তিন দলে বিভক্ত হয়ে গেল। ফলে মূসা (আ:)-এর পিছে পিছে তুর পাহাড়ে গমনের প্রক্রিয়া পথিমধ্যেই বানচাল হয়ে গেল।
হারূণ (আ:) তাদেরকে বললেন,
'হে আমার জাতির লোকেরা! এর (অর্থাৎ গো-বৎসের) দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে, তোমাদের প্রতিপালক হলেন দয়াময় (আল্লাহ), কাজেই তোমরা আমার অনুসরণ কর আর আমার কথা মান্য কর। তারা বলল, 'আমাদের কাছে মূসা ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সদাসর্বদা এর সাথেই সংযুক্ত হয়ে থাকব।' [সূরা ত্ব-হা (২০): ৯০-৯১] তাছাড়া, মূসা (আ:)-কে আল্লাহ্ তা'আলা যে দশটি বিধান দিয়েছিলেন সেখানে এবং পুরাতন বাইবেলেও প্রতিমূর্তি অংকণ ও তৈরিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে:
'পূজার উদ্দেশ্যে তোমরা কোন মূর্তি তৈরি করবে না, তা আকাশের কোন কিছুর মতো হোক বা মাটির উপরকার কিছুর মতো হোক কিংবা পানির মধ্যকার কোন কিছুর মতো হোক। তোমরা তাদের পূজাও করবে না, তাদের সেবাও করবে না, কারণ কেবলমাত্র আমিই তোমাদের মা'বুদ।"
টিকাঃ
১. [সূরা আ'রাফ (৭): ১৩৮]
২. [সূরা আ'রাফ (৭): ১৪০]
৩. Exodus 20: 4 (হিজরত ২০:৪)
📄 সুলায়মান (আ.)-এর উম্মতের মাঝে শিরক
সুলায়মান (আ:)-এর সময়কালে বর্তমান সাবা জাতি ছিল মুশরিক ও প্রতীমা পূজারী, সূর্যই ছিল তাদের সর্বপ্রধান দেবতা। তাছাড়া এরা তারকারাজির পূজাও করত। ইয়াহুদী বিশ্বকোষেও এদের সূর্য পূজার কথা বলা হয়েছে।
টিকাঃ
১. বিস্তারিত জানতে (সূরা আন্-নামাল (২৭): ২৪-২৬)-এর বিশুদ্ধ তাফসীর দেখুন।
২. আম্বিয়া-ই-কুরআন, ২ খণ্ড, পৃ. ১৬৪-এর বরাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ‘সীরাত বিশ্বকোষ’-এর সুলায়মান (আ:) সম্পর্কিত বর্ণনা দেখুন।
📄 ইলিয়াস (আ.)-এর উম্মতের মাঝে শিরক
ইলিয়াস (আ:)-এর সম্প্রদায় আল্লাহ্র নির্ভেজাল তাওহীদ হতে বিমুখ হয়ে কুফর ও শির্কে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। তারা বা’আলের পূজারী ছিল। এমনকি ইলিয়াস (আ:)-এর স্ত্রী ঈযবীল ‘বা’আল’ নামক এ দেবমূর্তির পূজা করত। সে ইসরাঈলে বা’আলের নামে সুবিশাল বধ্যভূমি নির্মাণ করে বনী ইসরাঈলকে মূর্তি পূজায় আকৃষ্ট করেছিল। এ বা’আল মূর্তিটি প্রাচ্যে বসবাসকারী সেমিটিক (সামী) জাতিসমূহের নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় ও পূজনীয় দেবতা ছিল। ‘বা’আল’-এর আভিধানিক অর্থ স্বামী, মালিক ইত্যাদি। আর এ মূর্তিটি ছিল পুরুষ। একে শনি ও বৃহস্পতি নামক নারী নক্ষত্র দেবীদ্বয়ের স্বামী বলে মনে করা হতো। ফিনিশীয়, কিন’আনী, মুআবী ও মাদয়ানী লোকেরা বিশেষভাবে এর পূজা করত। বস্তুত বা’আলের পূজা অনেক প্রাচীন কাল হতে চলে আসছিল। মু’আবী ও মাদয়ানীরা মূসা (আ:)-এর সময় হতে এর পূজা করত। সিরিয়ার বিখ্যাত শহর বা’আলবাক্ক মূলত এ দেবতার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। শু’আয়ব (আ:) মাদয়ানে এ বা’আলের পূজারীদেরই হিদায়াতের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে, হিজাজের দেবতা হুবালও এ বা’আলের আরেক নাম।
বা’আল দেবতার মাহাত্ম ও দানের কথা কল্পনা করে লোকেরা একে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করত। কেননা সেমিটিক জাতিগুলোর বা’আল পূজার উল্লেখ করে তাওরাতে বা’আলকে বা’আল বারীস ও বা’আল ফাযূর নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকার লোকের নিকটে এ দেবতাটি ‘বা’আল যাবুর’ বা ‘বি’ল’ অথবা ‘বি’লুস’ বা বা’লুস’ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত ছিল।
টিকাঃ
১. ১১ খণ্ড, পৃ. ২৩৬-এর বরাতে আম্বিয়া-ই-কুরআন, ৩ খণ্ড, পৃ. ১২২।
২. বিস্তারিত দেখুন সূরা আস্-সাফ্ফাত (৩৭): ১২৩-১৩২ নং আয়াতের তাফসীর।
📄 ঈসা (আ.)-এর উম্মতের মাঝে শিরক
ঈসা (আ:)-কে আকাশে উঠিয়ে নেয়ার পর তাঁর উম্মতের মাঝে শিকের প্রবর্তন ঘটে। ‘বুলিস’ নামক জনৈক ধোঁকাবাজ, প্রতারক ঈসা (আ:)-এর ওপর বাহ্যিক ঈমান আনার নাম করে খ্রিস্টান ধর্মে ত্রিত্ববাদ, ক্রুশের পূজাসহ বিভিন্ন মূর্তিপূজার প্রচলন ঘটায়।
একত্ববাদী ইয়াহুদী ধর্ম হতে বহু-ঈশ্বরবাদী খ্রিস্টান ধর্মের ঐতিহাসিক উৎপত্তি হচ্ছে মূলধর্ম থেকে বিচ্যুত হওয়ার এক অন্যতম প্রমাণ। যিশু [ঈসা (আ)। কর্তৃক প্রদর্শিত স্রষ্টার একত্বকে ধ্বংসের মাধ্যমে দ্বিত্ববাদের উত্থান ঘটানো হল। দ্বিত্ববাদ অনুযায়ী যিশু [ঈসা (আ)। স্বয়ং স্রষ্টা ছিলেন না, বরং তাঁর সৃষ্ট পুত্র ছিলেন। অ্যানাক্সাগৌরাস থেকে এরিস্টোটল পর্যন্ত প্রচারিত গ্রীক মতাদর্শে গ্রীকরা যিশুকে [ঈসা (আ:)-কে ‘লৌগাস’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারপর রোমানদের মধ্যে এ দ্বিত্ববাদের অধঃপতন ঘটে। ফলে ত্রিত্ববাদের উন্মেষ ঘটে। এমনকি ত্রিত্ববাদকে তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদন করে। অবশেষে রোমান ক্যাথলিক গির্জায় সম্পূর্ণরূপে ত্রিত্ববাদের চর্চা চালু হয়। এ ক্ষেত্রে যিশুর [ঈসা (আ:)] মা মেরি [মারিয়াম (আ:)] এবং তথাকথিত অন্যান্য অনেক সন্তদেরকে মানুষ ও স্রষ্টার মাঝে মধ্যস্থতাকারী বলে দাবী করা হয়। শুধু তাই নয়, মানুষের নিরাপত্তা বিধানের ক্ষমতাও এদের উপরে অর্পণ করা হয়।
নাবী যিশু [ঈসা (আ:)] কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষানুসারে আদি খ্রিষ্টধর্ম স্রষ্টার একত্বে বিশ্বাসী ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে গ্রীক ও রোমানদের মতাদর্শের প্রভাবে তা সম্পূর্ণরূপে বিকৃত হয়ে যায়। এর ফলে মূর্তি তৈরির জন্য সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ল। সাধারণ যুদ্ধ বা ধর্মযুদ্ধে নিহতদের, বিভিন্ন পর্যায়ের ধর্মযাজক (সন্ত), ধর্ম সংস্কারক, মেরি (মারিয়াম), যিশু [ঈসা (আ:)] এবং এমনকি স্বয়ং স্রষ্টার মূর্তি তৈরি করা হল।
টিকাঃ
১. এ দার্শনিকদের মতানুসারে, মহাবিশ্বের নিয়ন্ত্রণকারী অশরীরী আত্মা হল নাউস এবং লৌগাস হল নাউস-এর দৈহিক প্রকাশ। (Dictionary of Philosophy and Religions, ৩১৪ পৃ.।)
২. ক্যাপ্পাডোসিয়ানরা ত্রিত্ববাদের পূর্ণাঙ্গ মৌলিক সূত্রের প্রণয়ন করেন এবং কন্সট্যান্টিনোপলের রোমান কাউন্সিল কর্তৃক ৩৮১ খ্রিস্টাব্দে তা অনুমোদিত হয়। এ ত্রিত্ববাদ অনুযায়ী স্রষ্টা মাত্র একজন হলেও স্রষ্টা মূলত পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মা- এ তিনজনের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রকাশ ঘটে। (Dictionary of Philosophy and Religions, ৫৮৬ পৃ.।)
৩. ঈশ্বরে (স্রষ্টায়) বিশ্বাসের নিদর্শন হিসেবে মূর্তি নির্মাণে নিসিয়ার দ্বিতীয় কাউন্সিল (৭৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) সরকারিভাবে অনুমোদন করেছিল। তাদের ধারণা মতে, স্বর্গীয় Logus (অর্থ ‘শব্দ’) যেহেতু সম্পূর্ণরূপে মানবীয় রূপে আবির্ভূত হয়েছিল, তাই তাঁকে যেকোন রূপে রূপায়িত করা যায়। (Dictionary of Religions, ১৫৯ পৃ.)