📄 শিরক: পরিচয় ও প্রকারভেদ
'শিক' শব্দটি কুরআন ও হাদীসে বহুল ব্যবহৃত একটি আরবী শব্দ। আভিধানিক অর্থে শির্ক হল 'অংশীদারীত্ব' (partnership), 'বণ্টন' (sharing) বা 'সহযোগী বানানো' (associating)।' কিন্তু ইসলামী পরিভাষায়, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেকোন প্রকারে আল্লাহ্র সাথে শরীক বা অংশীদার সাব্যস্ত করাই শির্ক। অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে আল্লাহর কোন বিষয়ে আল্লাহ্র সমকক্ষ মনে করা বা আল্লাহ্র প্রাপ্য কোন 'ইবাদাত আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো জন্য পালন করা বা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকাকে শির্ক বলা হয়।
শিরকের পারিভাষিক সংজ্ঞায় আল্লামা ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহি.) বলেছেন, 'শিক হল আল্লাহ্র সাথে অন্য কাউকে আল্লাহ্র সমকক্ষ রূপে গ্রহণ করা এবং আল্লাহ্র মত তাকে ভালবাসা।'২
মূলত আল্লাহ তা'আলা যে সকল কথা, কাজ ও বিশ্বাসকে ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত বা মুস্তাহাব রূপে নির্ধারণ করেছেন, সেগুলোর সব কিংবা কোন একটি গায়রুল্লাহ তথা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে করাই হল শির্ক। অর্থাৎ আল্লাহর সাথে শিক করার অর্থ হল, কোন সত্তাকে-
১. আল্লাহ তা'আলার সাথে একজন সঙ্গী জুড়ে দেয়া,
২. সহায়ক বা অংশীদার মনে করা,
৩. আল্লাহ্র সমকক্ষ মনে করা,
৪. আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদাত করা,
৫. বহু উপাস্যবাদে বিশ্বাস করা,
৬. কোন সৃষ্টিকে আল্লাহ্র সম্মান ও মর্যাদায় শরীক করা,
৭. তার নিকট প্রার্থনা জ্ঞাপন করা
৮. কোন কিছু আশা করা,
৯. তাকে ভয় করা,
১০. তার ওপর ভরসা করা,
১১. তার নিকট সুপারিশ চাওয়া,
১২. তার নিকট বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য ফরিয়াদ করা,
১৩. তার নিকট এমন বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা যার সমাধান আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারে না,
১৪. তার নিকট মীমাংসা চাওয়া,
১৫. আল্লাহর অবাধ্যতা করে তার আনুগত্য করা,
১৬. তার কাছ থেকে শারীয়াতের বিধান গ্রহণ করা,
১৭. তার জন্য কিংবা তার নামে যবেহ করা,
১৮. তার নামে মানত করা,
১৯. তাকে এতটুকু ভালবাসা যতটুকু আল্লাহকে ভালবাসা উচিত।
অন্য কথায়, আল্লাহ্র সাথে অন্য কাউকে ইলাহ বা মা'বুদ সাব্যস্ত করা সাধারণত শিক হিসেবে গণ্য। মূলত শির্ক হচ্ছে সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা। অর্থাৎ স্রষ্টা হওয়ার জন্য যেসব গুণাবলী প্রয়োজন, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা বা সাদৃশ্যপূর্ণ করলে, সে মুশরিক হয়ে যাবে। ক্ষতি করা, উপকার করা, দান করা ও দান না করার একক অধিকারী হওয়া ইলাহীর বৈশিষ্ট্য, তথা একমাত্র আল্লাহ্ জন্য নির্দিষ্ট গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত। আর এ সব গুণাবলীর একক অধিকারী হওয়ার কারণে প্রার্থনা করা, ভয় করা, কোন কিছুর আশা করা এবং ভরসা করা কেবলমাত্র তাঁর সাথেই সম্পৃক্ত হতে পারে। সুতরাং, যদি কোন ব্যক্তি এ সব গুণকে কোন মাখলুক বা সৃষ্টির সাথে সম্পৃক্ত করে, তাহলে সে যেন সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে শরীক সাব্যস্ত করল। আর দুর্বল, নিঃস্ব ও সসীম কোন কিছুকে ক্ষমতাবান, স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তার সাথে তুলনা করা খুবই নিকৃষ্ট মানের তুলনা।
যে আল্লাহ্র সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন ক'রে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব, বড়ত্ব প্রকাশ করে এবং তার প্রশংসা করার জন্য, তাকে সম্মান করার জন্য, তার কাছে অবনত হওয়া ও আশা করার জন্য মানুষকে আহ্বান করে, তাহলে ঐ ভয় করা, আশা করা, আশ্রয় প্রার্থনা করা, সাহায্য চাওয়া ইত্যাদির ক্ষেত্রে মানুষের অন্তরকে তার সাথে সম্পৃক্ত করার কারণে নিশ্চয়ই সে আল্লাহ্র একত্ব ও প্রভুত্বের ক্ষেত্রে সংঘর্ষে লিপ্ত হল। আসলে শিরক হল আল্লাহ্র প্রতি অতি নিকৃষ্ট ও জঘন্যতম একটা ধারণা বা বিশ্বাস। অতএব, আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মধ্যে কোন প্রকার মাধ্যম দাঁড় করানো, তাঁর প্রভুত্ব, রবুবিয়্যাত ও একত্বের প্রতি চরম আঘাত এবং তাঁর সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করার শামিল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর বান্দাদের জন্য এরূপ ধারণা করাকে কিছুতেই অনুমোদন করেন না। তাছাড়া, স্বাভাবিক জ্ঞান ও নিষ্কলুষ প্রকৃতিও একে পরিত্যাগ করে এবং সুস্থ প্রকৃতি ও উন্নত স্বভাবের নিকট এটা সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় বলে বিবেচিত।
টিকাঃ
১. The Hans Wehr Dictionary of Modern Written Arabi, পৃ. ৪৬৮।
২. মাসিক আল-বায়ান, সংখ্যা ৬৯, নভেম্বর ১৯৯৭; গৃহীত: মাদারেজুস সালেকীন, ১/৩৩৯।
📄 শিরকের তাৎপর্য
শিকের অর্থ শুধু এটা নয় যে, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বা তাঁর প্রতিপক্ষ মনে করা হবে। আরবের মুশরিকরাও কাউকে আল্লাহর সমান বা প্রতিপক্ষ মনে করত না। বরং শিৰ্কের প্রকৃত তাৎপর্য হল, যেসব বস্তু একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, সেগুলোকে অন্য কারো জন্য করা, যেমন- অন্যকে সিজদা করা, অন্যের উদ্দেশ্যে মাথা নত করা, বিপদে অন্যকে আহ্বান করা, জীবিত পীর-খাজা-গাউস-কুতুবের কাছে সন্তান, রোগ নিরাময়, ব্যবসায়ে উন্নতি, বিপদ হতে পরিত্রাণ ও পারলৌকিক সুপারিশ ও মুক্তির প্রার্থনা করা, কাউকে আইন দাতা বিধান দাতা মনে করা অর্থাৎ হুকুম ও বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করা এবং কুরআন-সুন্নাহ আইনের বিরোধী মানব রচিত সংবিধানের আনুগত্য করা, কাউকে গাউসূল আযম বা মহান ফরিয়াদ শ্রবণকারী ধারণা করা, ইবাদাতের সময় পীরের কল্পনা করা ইত্যাদি।
শির্ক হল জঘন্যতম গুনাহ। এটা এমন এক গুনাহ যার জন্য কোন ক্ষমা অবশিষ্ট নেই আল্লাহর নিকটে, যদিও তিনি অতীব ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
﴿إِنَّ اللهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْماً عَظِيماً) (سورة النساء: ٤٨) 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ব্যতীত অন্য সব, যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। আর যে আল্লাহর সাথে শরীক করল, বস্তুত সে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করল। [সূরা নিসা (৪): ৪৮]
অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالاً بَعِيدًا (سورة النساء: ١١٦) 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, এছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে, সে চরমভাবে গোমরাহীতে পতিত হল।' [সূরা নিসা (৪): ১১৬]
শির্ক মিশ্রিত যেকোন 'আমল ইসলামের দৃষ্টিতে মূল্যহীন এবং আল্লাহর নিকটে তা প্রত্যাখ্যাত। ফলে একজন মানুষের ঈমান, সারা জীবনের 'আমল বিফল হয়ে যেতে বাধ্য কেবলমাত্র শির্কী কর্মকাণ্ডের কারণে। মূলত শির্ক মানুষের ধ্যান-ধারণা, কর্ম ও অভ্যাসের মধ্যকার যেখানেই হোক, এটা এমন একটা বিষক্রিয়া যে, যদি কারো জীবনে কখনও একটি মাত্র শিকও সংঘটিত হয় এবং সে ব্যক্তি তা থেকে তাওবা করে মৃত্যুবরণ করতে না পারে, তাহলে কেবল এই একটিমাত্র শিকই তার ঈমান ও জীবনের যাবতীয় সৎকর্মকে নিষ্ফল করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। এ ধরনের লোকদের ঈমান ও 'আমলের পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً ، الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعاً (سورة الكهف: ١٠٤-١٠٣) "বল, 'আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেব নিজেদের 'আমালের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?' তারা সেসব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা-সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সৎকর্ম করছে।" [সূরা আল-কাহফ (১৮): ১০৩-১০৪]
﴿وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا ) (سورة الفرقان (۲۳) 'আর আমি তাদের আমলের দিকে অগ্রসর হব, অতঃপর তা (তাওহীদ শূন্য হওয়ার কারণে) বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার ন্যায় উড়িয়ে দিব।' [সূরা ফুরক্বান (২৫): ২৩]
কেবলমাত্র আল্লাহর তাওহীদের স্বীকৃতি দান, এর সংরক্ষণ, প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। ফলে এ পৃথিবীতে আগমনকারী প্রতিটি নবী বা রাসূল সর্বপ্রথম তাওহীদের দিকেই আহ্বান এবং শির্ক থেকে বেঁচে থাকার জন্য বারবার তাকিদ জানিয়েছিলেন।' তাওহীদের মর্মবাণী প্রচারের জন্য জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত করেছেন তাওহীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রচারক রাসূলুল্লাহ ()। এ বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এ সম্পর্কে খুব কমই গুরুত্বারোপ করা হয়। এমনকি ইসলামের অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় এ বিষয়ে তেমন লেখালেখিও হয় না। ফলে, তাওহীদ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার জন্য তাওহীদ পরিপন্থী বিষয় তথা শির্ক আমাদের মুসলিম সমাজের প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। আর শির্ক এমনই ভয়াবহ ও জঘন্যতম পাপ যা থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মানুষের আবশ্যিক কর্তব্য। শিরকের ব্যাপারে রাসূল মুহাম্মাদ ()-কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ) (سورة الزمر: ٦٥) '(হে নবী) কিন্তু তোমার কাছে আর তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাছে ওয়াহী করা হয়েছে যে, তুমি যদি (আল্লাহ্) শারীক স্থির কর, তাহলে তোমার কর্ম অবশ্য অবশ্যই নিস্ফল হয়ে যাবে, আর তুমি অবশ্য অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।' [সূরা আয-যুমার (৩৯): ৬৫]
﴿.. إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ... (سورة المائدة: (٧٢) 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অংশীস্থাপন করে তার জন্য আল্লাহ অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন আর তার আবাস হল জাহান্নাম।' [সূরা মায়িদাহ (৫): ৭২]
এ কারণে বান্দার ওপর সর্বপ্রথম অপরিহার্য বিষয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল তাওহীদের বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করা এবং নিজের ঈমান, আক্বীদা ও যাবতীয় 'আমল শিক মুক্ত রাখা, যাতে কোন 'আমল বরবাদ না হয়। তাওহীদের প্রকৃত জ্ঞান না থাকলে, কোন জ্ঞানই পরিপূর্ণ নয়। তাওহীদ বিহীন কোন 'আমলও গ্রহণীয় নয়। তাছাড়া, আল্লাহ্র দ্বীন তথা ইসলাম প্রতিষ্ঠার মূলকথাই হচ্ছে কালিমায়ে তাওহীদকে সঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম করা ও এর উপর মৃত্যু পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত থাকা। আর এর উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকার দাবী হচ্ছে এ তাওহীদকে বিনষ্টকারী শির্ক নামের মহা অপরাধটি কী এবং সমাজে এটি কেন সংঘটিত হয়, সে সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান রাখা। তা না হলে যেকোন সময় শয়তানের খপ্পরে পড়ে যে কারো ঈমান ও জীবনের সৎকর্মের যাবতীয় সাধনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। এহেন গুরুতর পরিণতির হাত থেকে যেমন নিজেকে রক্ষা করা আবশ্যক, তেমনি এ থেকে অন্য সকল মুসলমানকেও রক্ষা করা আবশ্যক।
টিকাঃ
১. সূরা আন-নাহল, ৩৬ নং আয়াত।
২. শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কিত আয়াতগুলো হচ্ছে: ২/২১-২২, ৫১, ৫৪, ৫৭, ৫৯, ৯২, ১৬৫; ৪/৩৬, ১১৬; ৫/১৭, ৭২, ৭৩; ৬/১৯, ৪৫, ৮২, ৮৮, ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮, ১৩৯, ১৪০, ১৫০, ১৫১; ৭/৫, ৩৩, ৩৭; ৯/৩, ২৮, ১১৩; ১০/১০৬-৭, ১২/৩৮, ৪০; ১৫/৯৬, ২২/৩১, ২৫/৬৮, ২৬/৭১, ৭৪; ৩১/১৩, ৪৭/১৯।