📄 বিয়ের কবিতা : জীবনের কবিতা
এক
ভালোবাসার মানুষগুলোর বিয়েতে দাওয়াত পাওয়ার পর আমি সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও গিফটটা পাঠিয়ে দিতে চেষ্টা করি। আমার পক্ষ থেকে গিফট সব সময়-ই এক রকম, খুব সাধারণ: দুইজনের জন্যে দুইটা বই, আর দুইজনের প্রতি দু'আ ও ভালোবাসা জানিয়ে উভয়ের নামের অদ্যাক্ষর দিয়ে মিলিয়ে একটা কবিতা লিখে বাঁধাই করে দেই। এবার দুইটা গল্প বলি।
ক
যেই দিনটার কথা বলছি, তার পরেরদিন ছিলো ডাক্তারনি বুবুর বিয়ে। পরীক্ষার কারণে আমি ওয়ালিমায় উপস্থিত থাকতে পারছিলাম না। তবুও কবিতা লিখতে বসে গেলাম। মজার বিষয়, উভয়ের নামের সবগুলো বর্ণ মিলালে ১৪টা হয়। তার মানে একটা সনেট লিখে ফেলা যায় অনায়াসে! কিন্তু যথারীতি দ্বিধায় পড়ে গেলাম, কার নাম দিয়ে শুরু করবো, এই নিয়ে। আমি জানতে চাইলাম,
: বুবু, কার নামটা আগে দেবো?
: তোর ইচ্ছা!
: উঁহু! বলে দে প্লিজ।
: আচ্ছা, তোর ভাইয়ারটা আগে দে।
মোটামুটি নিকটাত্মীয় বলা যায়, এমন একজন ভাইয়ার বিয়ের দাওয়াত পেলাম। আমি যেহেতু অখন্ড অবসরে আছি, এমনিতেই কবিতা লিখে দিতাম একটা, কিন্তু ভাইয়াটা দাওয়াত দেয়ার সাথে সাথে স্মিত হেসে বললেন, 'একটা কবিতার আবদার রাখতে পারি তো!' তার মানে আমাকে দ্বিগুণ উৎসাহে কবিতা লিখতে হবে! যথারীতি বসে গেলাম। এবারও দ্বিধায় পড়লাম। আমার কবিতা লেখার স্টাইলটা বুঝিয়ে দিয়ে তাঁকেও জিজ্ঞেস করলাম। আলাপনটা প্রায় একই রকমের,
: ভাইয়া, কার নামটা আগে রাখবো?
: আপনার যেটা সুবিধা হয়।
: আপনি বললেই খুশি হবো ভাইয়া।
: তাহলে উনার নামটা আগে রাখো।
দুই
আমি আসলে দুটো গল্প শোনাতে চাই নি, দুটো বাক্য শোনাতে চেয়েছি:
'তোর ভাইয়ারটা আগে দে।'
'উনার নামটা আগে রাখো।'
তিন
খাতা-কলমের কবিতার ক্ষেত্রে এই দুটো বাক্য যেমন প্রোজ্জ্বল আভায় দীপ্যমান, জীবনের কবিতায় বাক্য দুটোর সার্থক প্রয়োগ কেমন স্বর্ণোজ্জ্বল দ্যুতি ছড়াতে পারে?
ভাবছিলাম, এই দুটো বাক্যের যে দর্শন, দুটো হৃদয়ের যুগল পথচলায় বিশ্বাস ও বিশুদ্ধতাকে অমলিন রাখার জন্যে এর চে' বেশি কিছু দরকার আছে কি না!
📄 পরীক্ষার গল্প
এক
পরীক্ষার হলে উপস্থিত হলেন। ইনভিজিলেটর আসলেন। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু হোল। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে আপনি এক দফা হেসে নিলেন। আপনার জানাশোনা বিষয়-আশয় থেকেই প্রশ্ন এসেছে। শতভাগ 'কমন'। হলের ভেতর কেউ ভ্রু কুঁচকাচ্ছে, কেউ মাথার চুল ছিঁড়ছে, আর কারো চোখ ছানাবড়া হয়ে আছে। বাকিরা যে যার মত লেখা শুরু করেছে। আপনি মোটামুটি আত্মবিশ্বাসী, আপনি এদের সবার চেয়ে ভালো উপস্থাপনা করতে পারবেন। ভাবতে ভাবতে আপনি খাতায় কিছুই লিখছেন না। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ধীরে ধীরে ফুরিয়ে এসেছে। আপনি আগাগোড়া সাদা খাতা জমা দিয়ে এলেন। ইনভিজিলেটর অবাক!
: কী ব্যাপার? তুমি কিচ্ছু লিখলে না? পুরোদস্তুর সাদা খাতা জমা দিয়ে যাচ্ছো!
: স্যার, আমার জ্ঞান, প্রশ্নকৃত বিষয় সম্পর্কিত সব প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ - সব তো আমার মস্তিষ্কে জমা আছে! খাতায় লেখার কী দরকার?
পরীক্ষার দিন স্যার কিছু বললেন না। রেজাল্ট প্রকাশের দিন দেখলেন, আপনার নামটা কোথাও নেই! স্যার সেদিন আপনাকে একঝলক দেখে যখন 'বোকা ছেলে কোথাকার!' বলে ভর্ৎসনা করলেন, তখন আপনার বুক ভেঙ্গে গেল। এত্ত পড়ালেখা আর জানাশোনা সব অর্থহীন হয়ে গেল!
দুই
আপনি বিশ্বাস করেন, পৃথিবীটা আপনার জন্যে একটি পরীক্ষাক্ষেত্র, আখিরাতে সব পরীক্ষার্থীর রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে।
আপনি এই পৃথিবীতে আল্লাহ্ তা'আলা প্রদত্ত সিলেবাস- আল-কুরআন এবং আস-সুন্নাহ সম্পর্কে ওয়াকিফহাল। সাধ্যানুসারে জানার চেষ্টা করেন, পড়েন, লিখেন, ভাবেন অনেক কিছু। অথচ আপনার দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরায়, উঠা-বসায়, কথা-বার্তায় কিংবা আচরণে একটু-ও প্রতিফলন ঘটে না তার। আপনি ঠিক সেই পরীক্ষার্থীর মতই দিব্যি বলে বেড়ান,
'ইসলাম তো আমার অন্তরেই আছে। বাইরে প্রকাশের কী হোল?'
তিন
আপনাকে দুটো সমীকরণ আবার দেখাই:
ক) আমার জ্ঞান তো আমার মস্তিষ্কে জমা আছে! খাতায় লেখার কী দরকার?
খ) ইসলাম তো আমার অন্তরেই আছে। বাইরে প্রকাশের কী হোল?
এবার একটু ভেবে দেখুন...
প্রথম ব্যক্তিটার মতো আপনার চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশিত হবার দিন আল্লাহ্র কাছে আপনিও ঠিক এভাবে বোকা হয়ে যাবেন না তো! আপনার জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা সব অর্থহীন হয়ে যাবে না তো!?
চিন্তা করা দরকার না!?
চার
একটু চিন্তা করার কথা বলছি কেনো জানেন? কারণ, দ্বিতীয় পরীক্ষার রেজাল্টের পর আপনার চিন্তা করার অবকাশ-ই থাকবে না। কিংবা চিন্তা করলেও তা কোনো কাজে আসবে না।
প্রথমে উল্লিখিত পরীক্ষায়, মানে পার্থিব কোন পরীক্ষায় যদি আপনি অকৃতকার্য হন, তাহলে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয়বার কোমর বেঁধে পড়াশোনা করে আবারো পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে। প্রথমবারের ব্যর্থতাকে দ্বিতীয়বার সফলতায় রূপান্তর করার ফুরসত আছে। কিন্তু কিয়ামাতের দিন রেজাল্ট পাবার পর আপনাকে সে সুযোগ দেয়া হবে না! আল-কুরআন কী বলছে শুনুন:
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّnَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ
"সেখানে তারা আর্তচিৎকার করে বলবে, হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করুন। আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা সময় দেই নি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় তা চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব (আযাবের স্বাদ) আস্বাদন কর। সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।" [১]
তাহলে চলুন, সময় থাকতেই আমরা চিন্তা করি, সতর্ক হই, সচেষ্ট হই! অবহেলায়, অবচেতনে অকৃতকার্য হতভাগ্যদের কাতারে যেনো না পড়ি আমরা! চূড়ান্ত সাফল্যের আনন্দে যেনো আমরা এক চিলতে হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে দিতে পারি, তার জন্যে আজ থেকে, এখন থেকেই মনোযোগী হই...!
টিকাঃ
১ সূরা ফাতির ৩৫:৩৭
এক
পরীক্ষার হলে উপস্থিত হলেন। ইনভিজিলেটর আসলেন। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু হোল। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে আপনি এক দফা হেসে নিলেন। আপনার জানাশোনা বিষয়-আশয় থেকেই প্রশ্ন এসেছে। শতভাগ 'কমন'। হলের ভেতর কেউ ভ্রু কুঁচকাচ্ছে, কেউ মাথার চুল ছিঁড়ছে, আর কারো চোখ ছানাবড়া হয়ে আছে। বাকিরা যে যার মত লেখা শুরু করেছে। আপনি মোটামুটি আত্মবিশ্বাসী, আপনি এদের সবার চেয়ে ভালো উপস্থাপনা করতে পারবেন। ভাবতে ভাবতে আপনি খাতায় কিছুই লিখছেন না। পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ধীরে ধীরে ফুরিয়ে এসেছে। আপনি আগাগোড়া সাদা খাতা জমা দিয়ে এলেন। ইনভিজিলেটর অবাক!
: কী ব্যাপার? তুমি কিচ্ছু লিখলে না? পুরোদস্তুর সাদা খাতা জমা দিয়ে যাচ্ছো!
: স্যার, আমার জ্ঞান, প্রশ্নকৃত বিষয় সম্পর্কিত সব প্রসঙ্গ-অনুষঙ্গ - সব তো আমার মস্তিষ্কে জমা আছে! খাতায় লেখার কী দরকার?
পরীক্ষার দিন স্যার কিছু বললেন না। রেজাল্ট প্রকাশের দিন দেখলেন, আপনার নামটা কোথাও নেই! স্যার সেদিন আপনাকে একঝলক দেখে যখন 'বোকা ছেলে কোথাকার!' বলে ভর্ৎসনা করলেন, তখন আপনার বুক ভেঙ্গে গেল। এত্ত পড়ালেখা আর জানাশোনা সব অর্থহীন হয়ে গেল!
দুই
আপনি বিশ্বাস করেন, পৃথিবীটা আপনার জন্যে একটি পরীক্ষাক্ষেত্র, আখিরাতে সব পরীক্ষার্থীর রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে।
আপনি এই পৃথিবীতে আল্লাহ্ তা'আলা প্রদত্ত সিলেবাস- আল-কুরআন এবং আস-সুন্নাহ সম্পর্কে ওয়াকিফহাল। সাধ্যানুসারে জানার চেষ্টা করেন, পড়েন, লিখেন, ভাবেন অনেক কিছু। অথচ আপনার দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরায়, উঠা-বসায়, কথা-বার্তায় কিংবা আচরণে একটু-ও প্রতিফলন ঘটে না তার। আপনি ঠিক সেই পরীক্ষার্থীর মতই দিব্যি বলে বেড়ান,
'ইসলাম তো আমার অন্তরেই আছে। বাইরে প্রকাশের কী হোল?'
তিন
আপনাকে দুটো সমীকরণ আবার দেখাই:
ক) আমার জ্ঞান তো আমার মস্তিষ্কে জমা আছে! খাতায় লেখার কী দরকার?
খ) ইসলাম তো আমার অন্তরেই আছে। বাইরে প্রকাশের কী হোল?
এবার একটু ভেবে দেখুন...
প্রথম ব্যক্তিটার মতো আপনার চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশিত হবার দিন আল্লাহ্র কাছে আপনিও ঠিক এভাবে বোকা হয়ে যাবেন না তো! আপনার জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা সব অর্থহীন হয়ে যাবে না তো!?
চিন্তা করা দরকার না!?
চার
একটু চিন্তা করার কথা বলছি কেনো জানেন? কারণ, দ্বিতীয় পরীক্ষার রেজাল্টের পর আপনার চিন্তা করার অবকাশ-ই থাকবে না। কিংবা চিন্তা করলেও তা কোনো কাজে আসবে না।
প্রথমে উল্লিখিত পরীক্ষায়, মানে পার্থিব কোন পরীক্ষায় যদি আপনি অকৃতকার্য হন, তাহলে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয়বার কোমর বেঁধে পড়াশোনা করে আবারো পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে। প্রথমবারের ব্যর্থতাকে দ্বিতীয়বার সফলতায় রূপান্তর করার ফুরসত আছে। কিন্তু কিয়ামাতের দিন রেজাল্ট পাবার পর আপনাকে সে সুযোগ দেয়া হবে না! আল-কুরআন কী বলছে শুনুন:
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّnَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ
"সেখানে তারা আর্তচিৎকার করে বলবে, হে আমাদের রব্ব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করুন। আমরা সৎকাজ করব, পূর্বে যা করতাম, তা করব না। (আল্লাহ বলবেন) আমি কি তোমাদেরকে এতটা সময় দেই নি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় তা চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিল। অতএব (আযাবের স্বাদ) আস্বাদন কর। সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্যে কোন সাহায্যকারী নেই।" [১]
তাহলে চলুন, সময় থাকতেই আমরা চিন্তা করি, সতর্ক হই, সচেষ্ট হই! অবহেলায়, অবচেতনে অকৃতকার্য হতভাগ্যদের কাতারে যেনো না পড়ি আমরা! চূড়ান্ত সাফল্যের আনন্দে যেনো আমরা এক চিলতে হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে দিতে পারি, তার জন্যে আজ থেকে, এখন থেকেই মনোযোগী হই...!
টিকাঃ
১ সূরা ফাতির ৩৫:৩৭
📄 পারঘাটা পার হলে
এক
এই প্রথম নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হোল আমার। কখনো নৌকা ভ্রমণ করি নি জানার পর থেকে মাসুম পরিকল্পনা করে বসে ছিলো আমাকে বুড়িগঙ্গা নদীতে নিয়ে যাবার। কোনো অজুহাতে কাজ হোল না, অবশেষে তিনি নিয়েই ছাড়লেন! এই নদী দূষিত হতে হতে পানির রঙ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়ে গেছে। সদরঘাটের কাছেই একটা খেয়াঘাট থেকে আমরা নৌকায় চড়ে বসলাম। অন্য ধরনের পুলক অনুভূত হয়েছে। মৃদু ঢেউয়ের তালে তালে নৌকার দোদুল দুল বেশ উপভোগ্য, আসলেই! আমি প্রথমবার নৌকায় চড়ার কারণে হয়তো এত বেশি উৎফুল্ল ছিলাম।
সেদিন মোটামুটি মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছিলো। আবার নৌকায় যাত্রীও ছিলো পূর্ণ। একে তো আমি ভীতু প্রকৃতির, তার ওপর সামান্য দুলতেই বুকের ভেতরটা কেমন আঁতকে ওঠে। দুরু দুরু কাঁপতে থাকি অজানা কোনো শঙ্কায়। মাঝ নদীতে এসে যখন ঢেউয়ের ভাঁজের সাথে নৌকার চলা খানিক বেঁকে যায়, তখন অনায়াসেই আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের চিন্তাটা মনে এসে যায়। অসহায়ত্বের ক্ষণগুলো বিমূর্ত হয়ে ওঠে আল্লাহর স্মরণ ও শরণ-প্রার্থনায়।
দুই
নৌকায় বসে ভাবছিলাম, আচ্ছা, এই যে আমি, ওপারে গিয়ে কি আল্লাহর স্মরণে বিগলিত হৃদয় আর তাঁর কাছে নিজের ক্ষুদ্রত্ব নিবেদনের কথা ঠিক এভাবে মনে থাকবে তো আমার?
জীবনচক্রের ঘূর্ণিতে কী ঘটছে আসলে? যাপিত জীবনের পথচলায় আমরা প্রতিটি ক্ষণেই আল্লাহকে ভুলে চলেছি। কিন্তু যখনই বিপদ-শঙ্কা আর অসহায়ত্বের কাছে হেরে যেতে বসি, তখন আবার আল্লাহর কাছেই ফিরে আসি। কিন্তু আল্লাহ তাঁর করুণায় যখন আমাদের উদ্ধার করেন সেই সঙ্গিন অবস্থা থেকে, আমরা বরাবরের মতোই অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হই।
কুরআনের এই আয়াতটি বারবার মনে পড়ছিলো আর নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবছিলাম:
فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ
"তারা যখন জলযানে আরোহণ করে, তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা আল্লাহর সাথে শরীক করতে থাকে।" [১]
তিন
ভাবছিলাম, এই বিপদসংকুল, ফেনিল স্রোতে উত্তাল মাঝনদীতে আমিও তো পরম আকুতির প্রেক্ষণে তাঁকে দেখছি, চরম অসহায়ত্ব নিবেদন করছি সপ্রীত স্মরণে। আল্লাহ্ তীরে পৌঁছে দেয়ার পর আমার সকৃতজ্ঞ হৃদয় কি ঠিক এভাবেই তাঁর স্মরণে বিগলিত হবে?
প্রভু! নদীপার হবার মতই জীবনের নানা পর্যায়ে পারঘাটা পার হলেও যেন তোমার স্মরণ থেকে গাফেল না হই।
'জলযানে আরোহী' আমি এবং 'স্থলে পৌঁছে যাওয়া' আমি- দুই 'আমি'কে তুমি এক করে দাও, মালিক।
টিকাঃ
১ সূরা আল-'আনকাবূত ২৯:৬৫
এক
এই প্রথম নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হোল আমার। কখনো নৌকা ভ্রমণ করি নি জানার পর থেকে মাসুম পরিকল্পনা করে বসে ছিলো আমাকে বুড়িগঙ্গা নদীতে নিয়ে যাবার। কোনো অজুহাতে কাজ হোল না, অবশেষে তিনি নিয়েই ছাড়লেন! এই নদী দূষিত হতে হতে পানির রঙ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়ে গেছে। সদরঘাটের কাছেই একটা খেয়াঘাট থেকে আমরা নৌকায় চড়ে বসলাম। অন্য ধরনের পুলক অনুভূত হয়েছে। মৃদু ঢেউয়ের তালে তালে নৌকার দোদুল দুল বেশ উপভোগ্য, আসলেই! আমি প্রথমবার নৌকায় চড়ার কারণে হয়তো এত বেশি উৎফুল্ল ছিলাম।
সেদিন মোটামুটি মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছিলো। আবার নৌকায় যাত্রীও ছিলো পূর্ণ। একে তো আমি ভীতু প্রকৃতির, তার ওপর সামান্য দুলতেই বুকের ভেতরটা কেমন আঁতকে ওঠে। দুরু দুরু কাঁপতে থাকি অজানা কোনো শঙ্কায়। মাঝ নদীতে এসে যখন ঢেউয়ের ভাঁজের সাথে নৌকার চলা খানিক বেঁকে যায়, তখন অনায়াসেই আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের চিন্তাটা মনে এসে যায়। অসহায়ত্বের ক্ষণগুলো বিমূর্ত হয়ে ওঠে আল্লাহর স্মরণ ও শরণ-প্রার্থনায়।
দুই
নৌকায় বসে ভাবছিলাম, আচ্ছা, এই যে আমি, ওপারে গিয়ে কি আল্লাহর স্মরণে বিগলিত হৃদয় আর তাঁর কাছে নিজের ক্ষুদ্রত্ব নিবেদনের কথা ঠিক এভাবে মনে থাকবে তো আমার?
জীবনচক্রের ঘূর্ণিতে কী ঘটছে আসলে? যাপিত জীবনের পথচলায় আমরা প্রতিটি ক্ষণেই আল্লাহকে ভুলে চলেছি। কিন্তু যখনই বিপদ-শঙ্কা আর অসহায়ত্বের কাছে হেরে যেতে বসি, তখন আবার আল্লাহর কাছেই ফিরে আসি। কিন্তু আল্লাহ তাঁর করুণায় যখন আমাদের উদ্ধার করেন সেই সঙ্গিন অবস্থা থেকে, আমরা বরাবরের মতোই অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভূক্ত হই।
কুরআনের এই আয়াতটি বারবার মনে পড়ছিলো আর নিজের অবস্থান নিয়ে ভাবছিলাম:
فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ
"তারা যখন জলযানে আরোহণ করে, তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে এনে তাদেরকে উদ্ধার করেন, তখনই তারা আল্লাহর সাথে শরীক করতে থাকে।" [১]
তিন
ভাবছিলাম, এই বিপদসংকুল, ফেনিল স্রোতে উত্তাল মাঝনদীতে আমিও তো পরম আকুতির প্রেক্ষণে তাঁকে দেখছি, চরম অসহায়ত্ব নিবেদন করছি সপ্রীত স্মরণে। আল্লাহ্ তীরে পৌঁছে দেয়ার পর আমার সকৃতজ্ঞ হৃদয় কি ঠিক এভাবেই তাঁর স্মরণে বিগলিত হবে?
প্রভু! নদীপার হবার মতই জীবনের নানা পর্যায়ে পারঘাটা পার হলেও যেন তোমার স্মরণ থেকে গাফেল না হই।
'জলযানে আরোহী' আমি এবং 'স্থলে পৌঁছে যাওয়া' আমি- দুই 'আমি'কে তুমি এক করে দাও, মালিক।
টিকাঃ
১ সূরা আল-'আনকাবূত ২৯:৬৫
📄 কল্পকথার গল্প নয়
সাহাবাদের প্রখর উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্বীনের জ্ঞানে তাঁদের পান্ডিত্যপূর্ণ প্রজ্ঞার কিছু গল্প পড়ছিলাম ‘তরীকুল ইসলাম’ থেকে। দুটো গল্প খুব চিন্তাজাগানিয়া বলে মনে হোল। আমরা সে দুটো গল্প অনুবাদের চেষ্টা করবো, ইন শা আল্লাহ।
এই ঘটনা দুটো থেকে বোঝা যায়, ইসলামের সূচনাপর্ব থেকেই আল-কুরআন এবং আস-সুন্নাহ'র নির্দেশনার ব্যাপারে কোন কোন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রান্তিকতা অবস্থান নিয়েছিলো। এখনো আমরা অনেককে দেখতে পাই, যাঁরা (১) কারো ঈমান-আমল নিয়ে বাহ্যিক বিচারে একটি নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান, সুস্থির হয়ে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ পান না। (২) আবার অনেকেই খুব সহজে বলে ফেলেন: 'এই কথা কুরআনে কোথাও নাই, মানতে হবে কেন?'
আমি এই নিয়ে আমার কোন পর্যালোচনা বা মতামত পেশ করছি না। সাহাবাদের [রা.] জীবন থেকে ক্রমানুসারে দুটো গল্প শুধু উল্লেখ করছি। এই দুটো গল্প উপরিউক্ত দুই প্রান্তিকতা নিরসনে সহায়ক হবে, ইন শা-আল্লাহ।
এক
একজন রমণী বিবাহ করলেন এবং ছয় মাস পরে একজন শিশু জন্ম দিলেন। সবাই প্রধানত এটাই জানত যে, কোন রমণী সাধারণত গর্ভধারণের নয় মাস অথবা সাত মাস পরে সন্তান জন্ম দেন। সুতরাং, কিছু লোক ধারণা করলো যে ঐ রমণী তাঁর স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত নন এবং বিবাহের আগেই অন্য কারো সন্তান তিনি গর্ভে ধারণ করেছেন。
তারা সবাই মহিলাকে খলিফার কাছে নিয়ে চললো শাস্তি প্রদানের জন্যে। ঐ সময় খলিফা ছিলেন 'উসমান ইবন 'আফফান [রা.]। তাঁরা যখন খলিফার কাছে গেলেন, তখন 'আলী [রা.]-কে খলিফার কাছে বসা পেলেন। 'আলী [রা.] বললেন: এই ব্যাপারে তোমাদের তো মহিলাকে শাস্তি দেবার কিছুই নেই। তারা অবাক হলো এবং জিজ্ঞেস করলো: সেটা কিভাবে?
অতঃপর তিনি বললেন:
“আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا )'তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লেগেছে ত্রিশ মাস')[১] অর্থাৎ, গর্ভ ধারণ ও দুগ্ধপ্রদানের মোট সময় হোল ত্রিশ মাস。
আবার আল্লাহ এ-ও বলেছেন: وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَا دَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ )'আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু বছর দুধ খাওয়াবে')[২] অর্থাৎ, দুগ্ধপ্রদানের সময় হোল দুই বছর। মানে চব্বিশ মাস。
সুতরাং, গর্ভ ধারণের সময় তো মাত্র ছয় মাস হওয়াও সম্ভব!”
দুই
একজন মহিলা শুনলেন যে, 'আব্দুল্লাহ ইবন মাস'ঊদ [রা.] ঐ মহিলাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা সৃষ্টিগত গঠনকে বদলে ফেলে, অতঃপর সৌন্দর্যের জন্যে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে এবং ভ্রু উপড়ে ফেলে। মহিলা তাঁর কাছে গেলেন এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। তিনি মহিলাকে বললেন:
"স্বয়ং রাসূলুল্লাহ [ﷺ] যাকে অভিসম্পাত করেছেন, আমি তাকে কিভাবে অভিসম্পাত না করে পারি? এ যে আল্লাহর কিতাবেই আছে!"
মহিলা বিস্মিত এবং অবাক হয়ে বললেন, "আমি পুরো কুরআন পড়েছি, কিন্তু এমন কিছু পাই নি, যা এ সবকিছু সম্পাদনকারী মহিলাদের অভিসম্পাত করাকে নির্দেশ করে।"
এখানে ফাক্বীহ 'আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ [রা.]-এর প্রজ্ঞা প্রকাশ পায়, যেহেতু তিনি দ্বীনকে ভালোভাবেই বুঝেছেন। তিনি মহিলাকে প্রশ্ন করলেন,
"আপনি কি কুরআনের এ আয়াতটি পড়েন নি, وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا تَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো, এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকা?
মহিলা বললেন: বটে!
ইবন মাস'ঊদ [রা.] বললেন: তাহলে তো বোঝা যাচ্ছে, এ সব কাজ থেকে কুরআনও নিষেধ করে!
টিকাঃ
১ সূরা আল-আহক্বাফ ৪৬:১৫
২ সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৩৩
৩ 'আলী [রা.] এভাবে হিসেবটি করেছেন: কুরআনের দুইটি আয়াত অনুযায়ী, গর্ভ ধারণ + দুগ্ধপ্রদানের সময় = ৩০ মাস দুগ্ধপ্রদানের সময় = ২৪ মাস সুতরাং, গর্ভধারণের সময় = (৩০ - ২৪) = ৬ মাস
১ সূরা আল-হাশর ৫৯:৭
সাহাবাদের প্রখর উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্বীনের জ্ঞানে তাঁদের পান্ডিত্যপূর্ণ প্রজ্ঞার কিছু গল্প পড়ছিলাম ‘তরীকুল ইসলাম’ থেকে। দুটো গল্প খুব চিন্তাজাগানিয়া বলে মনে হোল। আমরা সে দুটো গল্প অনুবাদের চেষ্টা করবো, ইন শা আল্লাহ।
এই ঘটনা দুটো থেকে বোঝা যায়, ইসলামের সূচনাপর্ব থেকেই আল-কুরআন এবং আস-সুন্নাহ'র নির্দেশনার ব্যাপারে কোন কোন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রান্তিকতা অবস্থান নিয়েছিলো। এখনো আমরা অনেককে দেখতে পাই, যাঁরা (১) কারো ঈমান-আমল নিয়ে বাহ্যিক বিচারে একটি নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যান, সুস্থির হয়ে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ পান না। (২) আবার অনেকেই খুব সহজে বলে ফেলেন: 'এই কথা কুরআনে কোথাও নাই, মানতে হবে কেন?'
আমি এই নিয়ে আমার কোন পর্যালোচনা বা মতামত পেশ করছি না। সাহাবাদের [রা.] জীবন থেকে ক্রমানুসারে দুটো গল্প শুধু উল্লেখ করছি। এই দুটো গল্প উপরিউক্ত দুই প্রান্তিকতা নিরসনে সহায়ক হবে, ইন শা-আল্লাহ।
এক
একজন রমণী বিবাহ করলেন এবং ছয় মাস পরে একজন শিশু জন্ম দিলেন। সবাই প্রধানত এটাই জানত যে, কোন রমণী সাধারণত গর্ভধারণের নয় মাস অথবা সাত মাস পরে সন্তান জন্ম দেন। সুতরাং, কিছু লোক ধারণা করলো যে ঐ রমণী তাঁর স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত নন এবং বিবাহের আগেই অন্য কারো সন্তান তিনি গর্ভে ধারণ করেছেন。
তারা সবাই মহিলাকে খলিফার কাছে নিয়ে চললো শাস্তি প্রদানের জন্যে। ঐ সময় খলিফা ছিলেন 'উসমান ইবন 'আফফান [রা.]। তাঁরা যখন খলিফার কাছে গেলেন, তখন 'আলী [রা.]-কে খলিফার কাছে বসা পেলেন। 'আলী [রা.] বললেন: এই ব্যাপারে তোমাদের তো মহিলাকে শাস্তি দেবার কিছুই নেই। তারা অবাক হলো এবং জিজ্ঞেস করলো: সেটা কিভাবে?
অতঃপর তিনি বললেন:
“আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا )'তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়াতে লেগেছে ত্রিশ মাস')[১] অর্থাৎ, গর্ভ ধারণ ও দুগ্ধপ্রদানের মোট সময় হোল ত্রিশ মাস。
আবার আল্লাহ এ-ও বলেছেন: وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَا دَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ )'আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু বছর দুধ খাওয়াবে')[২] অর্থাৎ, দুগ্ধপ্রদানের সময় হোল দুই বছর। মানে চব্বিশ মাস。
সুতরাং, গর্ভ ধারণের সময় তো মাত্র ছয় মাস হওয়াও সম্ভব!”
দুই
একজন মহিলা শুনলেন যে, 'আব্দুল্লাহ ইবন মাস'ঊদ [রা.] ঐ মহিলাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা সৃষ্টিগত গঠনকে বদলে ফেলে, অতঃপর সৌন্দর্যের জন্যে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে এবং ভ্রু উপড়ে ফেলে। মহিলা তাঁর কাছে গেলেন এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। তিনি মহিলাকে বললেন:
"স্বয়ং রাসূলুল্লাহ [ﷺ] যাকে অভিসম্পাত করেছেন, আমি তাকে কিভাবে অভিসম্পাত না করে পারি? এ যে আল্লাহর কিতাবেই আছে!"
মহিলা বিস্মিত এবং অবাক হয়ে বললেন, "আমি পুরো কুরআন পড়েছি, কিন্তু এমন কিছু পাই নি, যা এ সবকিছু সম্পাদনকারী মহিলাদের অভিসম্পাত করাকে নির্দেশ করে।"
এখানে ফাক্বীহ 'আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ [রা.]-এর প্রজ্ঞা প্রকাশ পায়, যেহেতু তিনি দ্বীনকে ভালোভাবেই বুঝেছেন। তিনি মহিলাকে প্রশ্ন করলেন,
"আপনি কি কুরআনের এ আয়াতটি পড়েন নি, وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا تَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো, এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকা?
মহিলা বললেন: বটে!
ইবন মাস'ঊদ [রা.] বললেন: তাহলে তো বোঝা যাচ্ছে, এ সব কাজ থেকে কুরআনও নিষেধ করে!
টিকাঃ
১ সূরা আল-আহক্বাফ ৪৬:১৫
২ সূরা আল-বাক্বারাহ ২:২৩৩
৩ 'আলী [রা.] এভাবে হিসেবটি করেছেন: কুরআনের দুইটি আয়াত অনুযায়ী, গর্ভ ধারণ + দুগ্ধপ্রদানের সময় = ৩০ মাস দুগ্ধপ্রদানের সময় = ২৪ মাস সুতরাং, গর্ভধারণের সময় = (৩০ - ২৪) = ৬ মাস
১ সূরা আল-হাশর ৫৯:৭