📄 কবরে সংঘটিতব্য বিষয় সমূহ।
শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন:
مِنَ الْإِيمَانِ بِالْيَوْمِ الْآخِرِ الْإِيمَانُ بِكُلِّ مَا أَخْبَرَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّا يَكُونُ بَعْدَ الْمَوْتِ فَيُؤْمِنُونَ بِفِتْنَةِ الْقَبْرِ وَبِعَذَابِ الْقَبْرِ وَنَعِيمِهِ فَأَمَّا الْفِتْنَةُ فَإِنَّ النَّاسَ يُمْتَحَنُونَ فِي قُبُورِهِمْ فَيُقَالُ لِلرَّجُلِ: مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينَكَ؟ وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ فَيُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ رَبِّيَ اللَّهُ وَالْإِسْلَامُ دِينِي وَمُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيِّي وَأَمَّا الْمُرْتَابُ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ فَيُضْرَبُ بِمِرْزَبَةٍ مِنْ حَدِيدٍ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ وَلَوْ سَمِعَهَا الْإِنْسَانُ لَصُعِقَ ثُمَّ بَعْدَ هَذِهِ الْفِتْنَةُ إِمَّا نَعِيمٌ وَإِمَّا عَذَابٌ
মৃত্যুর পর যা কিছু হবে বলে নাবী সংবাদ দিয়েছেন, তার সবগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাও আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনয়নের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা কবরের ফিতনা (পরীক্ষা), কবরের আযাব এবং কবরে মুমিনদেরকে যেই নেয়ামাত প্রদান করা হবে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।
সকল মানুষকেই কবরে পরীক্ষা করা হবে। মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর জিজ্ঞেস করা হবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নাবী কে? আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ الله الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
ঈমানদারদেরকে আল্লাহ সঠিক কথার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন দুনিয়ার জীবনে এবং আখেরাতে আর যালেমদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন (সূরা ইবরাহীম ১৪:২৭)।
মুমিন ব্যক্তি তখন বলবে: আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম এবং মুহাম্মাদ আমার নাবী। ৪৯ আর আখেরাতের বিষয়সমূহে সন্দেহ পোষণকারী বলবে: হায় আফসোস! হায় আফসোস! এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তবে লোকেরা যা বলতো আমিও তাই বলেছি। অতঃপর লোহার ভারী একটি হাতুরি দিয়ে তাকে প্রহার করা হবে। এতে সে এমন উচ্চস্বরে চিৎকার করবে, যা মানুষ ব্যতীত অন্যান্য সবসৃষ্টিই শুনতে পাবে। কোন মানুষ যদি তা শুনতো, তাহলে বেহুশ হয়ে পড়ে যেতো। কবরের এ ফিতনার পর রয়েছে নিয়ামত কিংবা আযাব।
ব্যাখ্যা: আখেরাত দিবস বলতে কিয়ামতের দিনকে বুঝানো হয়েছে। আখেরাত দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অন্যতম রূকন। মানুষের পরিশুদ্ধ বিবেক ও বোধশক্তি এবং সৃষ্টিগত স্বভাব এ কথাই প্রমাণ করে। সমস্ত আসমানী কিতাব এই কথাটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট করেই বলেছে। সমস্ত নাবী-রাসূল ইহা বিশ্বাস করার প্রতি মানুষকে আহবান করেছেন। কিয়ামত দিবসকে আখেরাত দিবস বা শেষ দিবস হিসাবে নামকরণ করার কারণ এই যে, দুনিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই দিন আগমন করবে।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনয়নের তাৎপর্য সম্পর্কে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি উল্লেখ করেছেন। তা এই যে, মৃত্যুর পর যা হবে বলে নাবী সংবাদ দিয়েছেন, তার সবগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকেই আখেরাতের প্রতি ঈমান বলা হয়। সুতরাং দলীল-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত প্রত্যেকটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনয়নের মধ্যে শামিল। যেমন মুমূর্ষু ব্যক্তির অবস্থা, কবরে মৃত ব্যক্তির অবস্থা, কবর থেকে পুনরুত্থান এবং পুনরুত্থানের পর মানুষের অন্যান্য অবস্থা। অতঃপর শাইখুল ইসলাম আখেরাতের অনেক বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
আখেরাতের বিষয়গুলো হতে কবরে যা হবে সে সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম বলেন: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের লোকেরা কবরের ফিতনা, কবরের আযাব এবং কবরে মুমিনদেরকে যেই নেয়ামাত প্রদান করা হবে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। এখানে শাইখ মূলত দু'টি বিষয় উল্লেখ করেছেন।
প্রথম বিষয়: কবরের ফিতনা। الفتنة শব্দের আভিধানিক অর্থ পরীক্ষা করা। এখানে ফিতনা দ্বারা কবরে মুনকার- নাকীর নামক দু'জন ফেরেশতার প্রশ্ন উদ্দেশ্য। তারা মৃত ব্যক্তিকে বসিয়ে প্রশ্ন করবেন।
শাইখুল ইসলাম বলেন: فَأَمَّا الْفِتْنَةُ فَإِنَّ النَّاسَ يُمْتَحَنُونَ فِي قُبُورِهِم فيقال للرجل সকল মানুষকেই কবরে পরীক্ষা করা হবে। মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার পর জিজ্ঞেস করা হবে: তোমার রব কে? মৃত ব্যক্তি পুরুষ হোক বা নারী হোক। অধিকাংশ সময় যেহেতু পুরুষের কথাই উল্লেখ করা হয়, তাই এখানেও পুরুষকে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর শাইখ ঐসব প্রশ্ন উল্লেখ করেছেন, যা মৃত ব্যক্তির সামনে পেশ করা হবে। মুমিন ব্যক্তি প্রশ্নগুলোর কী উত্তর দিবে এবং কাফের বা মুনাফেক কী উত্তর দিবে এবং প্রশ্নের জবাবের পরে কাফের বা মুনাফেক যেই আযাবের সম্মুখীন হবে এবং মুমিন ব্যক্তি যেই নিয়ামতের মধ্যে থাকবে, শাইখ তাও উল্লেখ করেছেন।
মুনকার- নাকীর ফেরেশতাদ্বয় যেই প্রশ্ন করবেন, তার প্রতি ঈমান আনয়ন করা ওয়াজিব। কেননা তা নাবী থেকে এত সংখ্যক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, হাদীসগুলো একসাথে মিলালে মুতাওয়াতিরের সীমায় পৌঁছে যায়। কুরআনুল কারীম দ্বারা কবরে ফিতনা বা প্রশ্নের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিকে পরীক্ষার বিষয়টি সুপ্রমাণিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন: يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ الله الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
মুমিনদেরকে আল্লাহ দুনিয়ার জীবনে সঠিক কথার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং আখেরাতেও। আর যালেমদেরকে আল্লাহ ভুলিয়ে দিবেন। আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। (সূরা ইবরাহীম ১৪:২৭)
ইমাম বুখারী ও মুসলিম উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বারা বিন আযিব হতে বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। নাবী বলেন: কবরের আযাবের ব্যাপারে উক্ত আয়াতটি নাযিল হয়েছে। ৪৮ ইমাম মুসলিম একটু বাড়িয়ে বলেছেন যে,
يقال له من ربك فيقول ربي الله ونبيي محمد فذلك قوله: يثبت الله الذين "آمنوا بالقول الثابت মৃত ব্যক্তিকে কবরে বলা হবে, তোমার রব কে? মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমার রব আল্লাহ এবং আমার নাবী মুহাম্মাদ। আল্লাহর এই বাণীতে উক্ত কথার সত্যতা মিলে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ "মুমিনদেরকে আল্লাহ সঠিক কথার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন দুনিয়ার জীবনে এবং আখেরাতে।
সঠিক কথা বলতে এখানে তাওহীদের ঐ কালেমা উদ্দেশ্য, যা দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে দৃঢ়ভাবে গেঁথে গেছে। দুনিয়াতে মুমিনদেরকে তাওহীদের বাক্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখার অর্থ হলো, সত্যের পথে যত কষ্ট ও নির্যাতন আসুক, তা সহ্য করে তারা উহাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে। আর আখেরাতে উহার উপর প্রতিষ্ঠিত রাখার অর্থ হলো নাকীর-মুনকার নামক ফেরেশতাদ্বয়ের প্রশ্নের জবাব দেয়ার তাওফীক দান করা।
وَأَمَّا الْمُرْتَابُ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ
বিষয়সমূহে সন্দেহ পোষণকারীকে প্রশ্ন করা হলে সে বলে: হায় আফসোস! হায় আফসোস! هاه هاه এটি দ্বিধা-দ্বন্ধ, ব্যথা, বেদনা ও কষ্টের আওয়াজ। মুনাফেক বা সন্দেহ পোষণকারী আরো বলবে: এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তবে লোকেরা যা বলতো আমিও তাই বলেছি। কেননা সে রসূল যা নিয়ে এসেছেন, তাতে বিশ্বাস করেনি। কাজেই তাঁর পক্ষে সঠিক জবাব দেয়া অসম্ভব হবে। যদিও সে হয়ে থাকে দুনিয়াতে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং সুস্পষ্টভাষী। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ "আর যালেমদেরকে আল্লাহ তা'আলা ভুলিয়ে দিবেন"।
فَيُضْرَبُ بِمِرْزَبَةٍ مِنْ حَدِيدٍ অতঃপর লোহার ভারী একটি হাতুড়ি দিয়ে তাকে প্রহার করা হবে: লোহার বড় হাতুড়িকে مرزبة মারযাবা বলা হয়। এই হাতুরি দিয়ে তাকে প্রহার করা হবে। আঘাতের কারণে সে এমন উঁচু আওয়াজে চিৎকার করতে থাকবে, যার আওয়াজ মানুষ ব্যতীত অন্যান্য সব সৃষ্টিই শুনতে পাবে। মানুষ সেই চিৎকার শুনলে কী অসুবিধা হতো অর্থাৎ মানুষকে সেই আওয়াজ না শুনানোর মধ্যে কী হিকমত রয়েছে, নাবী তা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মানুষ যদি তা শুনতে পেত, তাহলে বেহুশ হয়ে পড়ে যেতো। অর্থাৎ মরে যেতো অথবা অজ্ঞান হয়ে যেতো। তাই আল্লাহ তা'আলার হিকমাতের দাবী এই যে, কবরে মৃত ব্যক্তির যা হবে, জীবিতরা তা অনুভব করবেনা। কেননা আল্লাহ তা'আলা কবরের আযাবকে গাইবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি যদি তা প্রকাশ করতেন, তাহলে যেই উদ্দেশ্যে তা গোপন রাখা হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য ও হিকমত ঠিক থাকতো না। সেটি হচ্ছে গায়েবের প্রতি ঈমান।
দ্বিতীয় বিষয়: কবরে মৃত ব্যক্তির আরো যা হবে, শাইখুল ইসলাম তার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন: অতঃপর কবরের ফিতনা (প্রশ্নোত্তর পর্ব) শেষ হবার পর থেকে মহাপ্রলয় সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কবরবাসী কবরে শান্তি পেতে থাকবে অথবা শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। শাইখুল ইসলাম এই উক্তির মাধ্যমে কবরের আযাব ও নেয়ামাত সাব্যস্ত করেছেন। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের মাযহাব হচ্ছে প্রত্যেক মৃত ব্যক্তি তার কবরে নেয়ামাতের মধ্যে ডুবে থাকবে অথবা শাস্তিতে নিপতিত হবে। আর এটি হবে রূহ এবং দেহ উভয়ের জন্যই। যেমন এ ব্যাপারে রসূল থেকে মুতাওয়াতির হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং কবরের আযাব ও নেয়ামাতের প্রতি ঈমান আনয়ন করা ফরয। এর ধরণ এবং বৈশিষ্ট সম্পর্কে কথা বলা যাবেনা। মানুষের বোধশক্তি তা উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। কেননা উহা আখেরাতের বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। আখেরাতের বিষয়গুলো আল্লাহ ছাড়া এবং তিনি যাদেরকে উহা থেকে যা কিছু জানিয়েছেন তারা ব্যতীত অন্য কেউ জানেনা। আল্লাহ তা'আলা রসূলদেরকে কবরের আযাবের কিছু কিছু আযাব শুনিয়েছেন। ৪৯
মুতাযেলা সম্প্রদায়ের লোকেরা কবরের আযাবকে অস্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে তাদের দলীল হচ্ছে তারা কবরের আযাব শুনে না এবং মৃত ব্যক্তি কবরে শাস্তি ভোগ করছে এবং তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে, এটি তারা দেখে না।
তাদের এই দলীলের জবাব হলো, আমরা যদি কোন জিনিস খুঁজে না পাই এবং না দেখি, তার অর্থ এই নয় যে, ঐ জিনিসটি আসলেই নাই অথবা কোন ঘটনা যদি আমরা ঘটতে না দেখি, তাহলে এমন কিছু বুঝার সুযোগ নেই যে, ঐ ঘটনা আসলেই সংঘটিত হয়নি।
এমন অনেক জিনিস আছে, যা আমরা দেখি না, অথচ উহা বিদ্যমান রয়েছে। কবরের আযাব অথবা নিয়ামাত ঐ বিষয়াবলীরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা আখিরাত এবং উহার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গায়িব তথা অদৃশ্যের বিষয় হিসাবে নির্ধারণ করেছেন এবং এ পৃথিবীর মানুষের বোধশক্তির আয়ত্তের বাইরে রেখেছেন। যাতে গায়েবের প্রতি বিশ্বাসী মুমিনগণ অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। সর্বোপরি আখিরাতের বিষয়গুলোকে দুনিয়ার বিষয়াদির উপর কিয়াস করা যাবে না।
কবরের আযাব দুই প্রকার।
(১) চিরস্থায়ী আযাব। চিরস্থায়ী আযাব হবে কাফিরের। যেমন, ফেরাউন সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা সূরা গাফেরের ৪৬ নং আয়াতে বলেন:
النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ
"দোযখের আগুনের সামনে তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়। কিয়ামত সংঘটিত হলে নিদের্শ দেয়া হবে, ফেরাউনের অনুসারীদেরকে কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করো"।
(২) এমন আযাব, যা নির্দিষ্ট একটি মেয়াদ পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর উহা স্থগিত রাখা হবে। আর এটি হবে কতিপয় গুনাহগার মুমিনের আযাব। তাদেরকে অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে। অতঃপর তার আযাব কমানো হবে। জীবিত কোন ব্যক্তির দু'আ অথবা সাদকা কিংবা ক্ষমা প্রার্থনার কারণে তার আযাব একেবারেই বন্ধ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে。
টিকাঃ
৪৯. সহীহ হাদীসে এসেছে একদা রসূল মক্কা অথবা মদীনার দু'টি নতুন কবরের নিকট দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন: إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ ثُمَّ قَالَ : بَلَى أَما أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَسْعَى بِالنَّمِيمَةِ, وَأَمَّا الْآخَرَ فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ "কবর দু'টির অধিবাসীদেরকে আযাব দেয়া হচ্ছে। আযাবের কারণ খুব বড় নয়। হ্যাঁ উহা বড় পাপই তো। তাদের একজন ছিল চোগলখোর এবং অপরজন পেশাব থেকে ভালভাবে পবিত্রতা অর্জন করতো না” (বুখারী ২১৮ ও মুসলিম ২৯২)
📄 মহা প্রলয় এবং তাতে সংঘটিতব্য বিষয় সমূহ।
শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইমাম ইবনে তাইমীয়া বলেন:
إِلَى أَنْ تَقُومَ الْقِيَامَةُ الْكُبْرَى فَتُعَادُ الْأَرْوَاحُ إِلَى الْأَجْسَادِ وَتَقُومُ الْقِيَامَةُ الَّتِي أَخْبَرَ اللَّهُ بِهَا فِي كِتَابِهِ وَعَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ وَأَجْمَعَ عَلَيْهَا الْمُسْلِمُونَ فَيَقُومُ النَّاسُ مِنْ قُبُورِهِمْ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا
কবরের ফিতনার পর কারো শাস্তি বা নিয়ামাত মহাপ্রলয় সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। তখন সমস্ত মানুষের রূহগুলোকে তাদের দেহে ফিরিয়ে দেয়া হবে। কিয়ামত সংঘটিত হবে, এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে এবং রসূল তাঁর হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন। মুসলিমগণ এ বিষয়ে ইজমা পোষণ করেছেন। 'লোকেরা কিয়ামাতের দিন সমস্ত সৃষ্টির প্রভুর সামনে খালী পায়ে, উলঙ্গ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় হাযির হবে। ৫০
ব্যাখ্যা: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া এ অধ্যায়ে এবং তার পরবর্তী অধ্যায়সমূহে ঐসব বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা আখেরাতে সংঘটিত হবে। আর এ সব বিষয় কিয়ামাত সংঘটিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হবে। মোট ঘর বা বাসস্থান হলো তিনটি।
(১) দুনিয়ার ঘর (دار الدنيا)
(২) বারযাখ তথা কবর জগতের ঘর (دار البرزخ)
(৩) আখেরাতের ঘর (الدار الآخرة)।
এই তিনটি ঘরের প্রত্যেকটির জন্য বিশেষ বিশেষ হুকুম-আহকাম রয়েছে এবং এগুলোর জন্য এমন এমন ঘটনা রয়েছে, যা তাতে সংঘটিত হবে। বারযাখের গৃহে যা হবে, শাইখ তা পূর্বের অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন।
এখানে তিনি ঐসব বিষয়ের আলোচনা শুরু করেছেন, যা আখেরাতের ঘরে সংঘটিত হবে। তিনি বলেন:
কবরের ফিতনার পর কারো শাস্তি অথবা নিয়ামত মহাপ্রলয় সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। কিয়ামাত দু'টি। ছোট কিয়ামত ও বড় কিয়ামত। মৃত্যু হলো ছোট কিয়ামাত। এই ছোট কিয়ামত প্রত্যেক মানুষের জন্য আলাদাভাবে কায়েম হবে। দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর এবং দেহ থেকে রূহ বের হওয়ার দিনই তার উপর এই কিয়ামাত প্রতিষ্ঠিত হবে। ৫১
আর বড় কিয়ামাত সমস্ত মানুষের উপর একসাথে কায়েম হবে এবং সব মানুষকে দুনিয়া থেকে একসাথেই উঠিয়ে নিবে। এই দিনকে কিয়ামাত (দন্ডায়মান) দিবস হিসাবে নাম দেয়ার কারণ হলো তাতে শেষ ফুৎকারের সাথে সাথে সকল মানুষ তাদের কবর থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে দন্ডায়মান হবে। তাই শাইখুল ইসলাম বলেছেন, তখন রূহগুলোকে দেহের মধ্যে ফিরিয়ে দেয়া হবে। আর এটি তখনই হবে, যখন ইসরাফীল সিঙ্গায় ফুঁ দিবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَن بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا﴾
"তারপর শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে এবং সহসা তারা নিজেদের রবের সামনে হাযির হবার জন্য নিজেদের কবর থেকে বের হবে। ভীত হয়ে বলবে, হায় আফসোস! কে আমাদেরকে আমাদের সমাধি থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো? (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫১-৫২)। আল্লাহ তা'আলা সূরা ঘুমারের ৬৮ নং আয়াতে আরো বলেন:
﴿ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَىٰ فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنظُرُونَ﴾
"অতঃপর আরেকবার শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে তখন হঠাৎ সবাই দন্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে"।
الروح শব্দের বহুবচন হচ্ছে الأرواح অর্থাৎ রূহসমূহ। মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণী যার বদৌলতে বেঁচে থাকে, তার নাম রূহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ রূহের হাকীকত তথা আসল অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي *
"এরা তোমাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। বলে দাও, রূহ আমার রবের আদেশ মাত্র”। (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:৮৫)
কিয়ামাত সংঘটিত হবে, সে সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে এবং রসূল তাঁর হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন। মুসলিমগণ এ বিষয়ে ইজমা পোষণ করেছেন: শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া এখানে কিয়ামাতের দিন সৃষ্টির পুনরুত্থানের দলীলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহর কিতাব, রসূলের সুন্নাত এবং মুসলিমদের ইজমা, মানুষের বোধশক্তি এবং ফিতরাত পরিশুদ্ধ সৃষ্টিগত স্বভাব দ্বারা পুনরুত্থান প্রমাণিত। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে পুনরুত্থান সম্পর্কে খবর দিয়েছেন, এর উপর দলীল কায়েম করেছেন এবং কুরআনের অধিকাংশ সূরাতেই পুনরুত্থানে অবিশ্বাসীদের প্রতিবাদ করেছেন। আমাদের নাবী মুহাম্মাদ যেহেতু সর্বশেষ নাবী, তাই তিনি আখেরাতের বিষয়গুলোর এমন খোলাখুলি বিবরণ দিয়েছেন, যা অনেক নাবীর কিতাবসমূহেই পাওয়া যাবে না।
আমলের বিনিময় দেয়া মানুষের বিবেক ও বোধশক্তি দ্বারাই প্রমাণিত। আর শারীয়াত এটিকে সুসাব্যস্ত করেছে। কেননা আল্লাহ তা'আলা কুরআনের অনেক স্থানেই মানুষের বোধশক্তিকে পুনরুত্থানের প্রতি সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তা'আলা সেখানে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ কি মনে করে, তাকে বিনা হিসাবে ছেড়ে দেয়া হবে? অথবা তারা কি মনে করে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছেন? তাদেরকে আদেশ-নিষেধ করা হবেনা? তাদেরকে পুরস্কার কিংবা শাস্তি দেয়া হবেনা? আল্লাহ তা'আলার হিকমাতের সাথে মোটেই শোভনীয় ও সঙ্গতিপূর্ণ নয় যে, তিনি মানুষকে অযথা সৃষ্টি করবেন, কোন দায়িত্ব না দিয়েই তাদেরকে ছেড়ে দিবেন, আদেশ-নিষেধ করবেন না এবং তাদের কর্ম অনুপাতে ছাওয়اب বা শাস্তি দিবেন না। আল্লাহর হিকমাত এটি সমর্থন করে না।
এ রকম কোন সম্ভাবনা নাই যে, আল্লাহ তা'আলা সৎকর্মশীলকে অসৎকর্মীর সমান করবেন কিংবা মুসলিমদেরকে অপরাধীদের কাতারে শামিল করবেন। কেননা কতক সৎকর্মশীল ব্যক্তি তার সৎকর্মের বিনিময় পাওয়ার আগেই মৃত্যু বরণ করে এবং কতিপয় অপরাধী তার অপরাধের উপযুক্ত সাজা ভোগ করার আগেই মারা যায়। সুতরাং এমন একটি জগৎ অবশ্যই থাকা দরকার যেখানে উপরোক্ত উভয় শ্রেণীর লোকই ন্যায্য বিনিময় পেয়ে যাবে। পুনরুত্থানে অবিশ্বাসী কাফের হিসাবে গণ্য হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَن لَّن يُبْعَثُوا )
"কাফেররা ধারণা করে বলেছে যে, মরার পরে আর কখনো তাদের জীবিত করে উঠানো হবেনা"। (সূরা তাগাবুন ৬৪:৭)
فَيَقُومُ النَّاسُ مِنْ قُبُورِهِمْ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا : 1019 102 101
কিয়ামাত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর লোকেরা সমস্ত সৃষ্টির প্রভুর সামনে খালী পায়ে, উলঙ্গ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় দন্ডায়মান হবে: حفاة শব্দটি حاف এর বহুবচন। যার পায়ে জুতা কিংবা মোজা থাকে না, তাকে حاف বলায় হয়। عراق )উলঙ্গ, বস্ত্রহীন) ১৬ এর বহুবচন। যার শরীরে কোন কাপড় থাকে না, সেই হচ্ছে । আর غراً শব্দটি أغرل এর বহুবচন। খাতনাবিহীন লোককে আগরাল বলা হয়। যার পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া কেটে খাতনা করা হয়নি, সেই আগরাল। লোকেরা যখন কবর থেকে উঠে হাশরের মাঠে দন্ডায়মান হবে, তখন এই তিনটি বৈশিষ্ট তাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে। আয়েশা হতে বর্ণিত সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীসে এই কথা পাওয়া যাচ্ছে। রসূল বলেন:
إنكم تعشرون إلى اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا
"কিয়ামাতের দিন নগ্নপদ, উলঙ্গ, এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় তোমাদেরকে আল্লাহর নিকট উপস্থিত করা হবে"। ৫২
টিকাঃ
৫০. সহীহ বুখারী ৪৬২৫, সহীহ মুসলিম ২৮৫৯, তিরমিযী ২৪২৩, নাসাঈ ২০৮৩, মুসনাদে আহমাদ ২০৯৬, দারিমী ২৮৪৪।
৫১. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমীয়া কিয়ামাত এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনার সাথে কিয়ামতের আলামতগুলো উল্লেখ করেননি। কিয়ামতের আলামতগুলো যেহেতু কিয়ামাতের মতই গায়েবী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই অন্যান্য আলেমগণ আকীদাহর বিষয়গুলোর সাথে কিয়ামতের বড় বড় আলামতগুলোও উল্লেখ করেছেন। তাই আমরা বিশ্বাস করি যে, কুরআন ও সহীহ হাদীসে কিয়ামাতের যেসমস্ত আলামতের কথা বর্ণিত হয়েছে তা প্রকাশ হওয়ার পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে না। কিয়ামতের ছোট আলামতগুলোর অধিকাংশই প্রকাশিত হয়েছে। যা এখনও প্রকাশিত হয়নি তা অবশ্যই প্রকাশিত হবে। সহীহ মুসলিম (২৯০১) হুযায়ফা হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
اطَّلَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ مَا تَذَاكَرُونَ قَالُوا تَذْكُرُ السَّاعَةَ قَالَ إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ فَذَكَرَ الدُّعَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلَاثَةَ حُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسَفَ بِالْمَغْرِبِ وَحَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ
"একদা রসূল আমাদের নিকট আগমন করলেন। আমরা তখন কিয়ামাতের আলামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন: যতদিন তোমরা দশটি আলামত না দেখতে পাবে ততদিন কিয়ামত হবে না। (১) ধোঁয়া (২) দাজ্জালের আগমন (৩) ভূগর্ভ থেকে নির্গত দাব্বাতুল আরদ্ নামক অদ্ভুত এক জানোয়ারের আগমন ৪) পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় (৫) ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমন (৬) ইয়াজুয-মা'জুযের আবির্ভাব (৭) পূর্বে ভূমিধবস (৮) পশ্চিমে ভূমিধবস (৯) আরব উপদ্বীপে ভূমিধবস (১০) সর্বশেষে ইয়ামান থেকে একটি আগুন বের হয়ে মানুষকে সিরিয়ার দিকে হাঁকিয়ে নিবে"।
আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের বিশ্বাস হচ্ছে কিয়ামাতের এ সমস্ত আলামতের একটিও এখনো প্রকাশিত হয়নি। কিয়ামাতের পূর্বে এগুলো প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত তা সংঘটিত হবে না।
৫২. সহীহ বুখারী ৪৬২৫, সহীহ মুসলিম ২৮৫৯, তিরমিযী ২৪২৩, নাসাঈ ২০৮৩, মুসনাদে আহমাদ ২০৯৬, দারিমী ২৮৪৪।