📘 শারহুল আক্বীদাহ আল-ওয়াসিত্বীয়া > 📄 মু‘মিনগণ ক্বিয়ামতের দিন তাদের রবকে দেখতে পাবে।

📄 মু‘মিনগণ ক্বিয়ামতের দিন তাদের রবকে দেখতে পাবে।


রাসূল বলেন: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ ليلة البدر لا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا « (বুখারী: ৫৫৪)
“কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকে দেখতে পাও, সেভাবেই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের যদি এই পরিমাণ সামর্থ থাকে, সূর্য উদয় এবং অন্তের পূর্বের সালাত হতে কোন বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না, তাহলে উক্ত সালাতদ্বয়কে তোমরা যথাসময়ে আদায় করো। "
ব্যাখ্যা: এখানে إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা দেখতে পাও: দ্বারা মুমিনদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। سترون এর মধ্যে যে অক্ষরিট প্রবেশ করেছে, তা ভবিষ্যৎকালের জন্য হলেও এখানে তা দ্বারা তাগিদ তথা বাক্যের বিষয়কে শক্তিশালী করা উদ্দেশ্য।
ترون ربكم অর্থাৎ তোমরা তোমাদের চোখ দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখবে। মুমিনগণ তাদের রবকে দেখার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো রসূল হতে মুতাওয়াতির তথা ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।৪৪
كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لِيلة البدر তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে এই চন্দ্রকে দেখতে পাও: অর্থাৎ চন্দ্র তার পরিপূর্ণ রূপ গ্রহণ করার রাতে। এটি হচ্ছে মাসের ১৪তম রাত। ঐ রাতে চন্দ্র আলোতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এখানে এই তাশবীহ তথা আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জোর দিয়ে আল্লাহর দিদারকে সত্য হিসাবে সাব্যস্ত করা এবং তার দ্বারা রূপকার্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সন্দেহকে দূর করা। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, এখানে আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতের মেঘহীন আকাশে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হয়নি। কেননা আল্লাহ তা'আলার لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ সদৃশ আর কিছুই নেই।
لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ উহাকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় না। ৮ বর্ণে পেশ দিয়ে এবং میم বর্ণে যবর দিয়ে পড়া হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কোনো যুলুম হয় না যে, ভীড়ের কারণে কেউ দেখতে পাবে আবার কেউ দেখতে পাবে না।
لا تضامون এর তা تا বর্ণে যবর দিয়ে এবং میم বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পড়া হয়েছে। এভাবে পড়া হলে এর মাসদার হবে التضام। অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের একজনকে অন্যজনের কাছে গিয়ে মিশতে হয় না। এই বর্ণনা অনুসারে অর্থ হবে, চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের সবাইকে এক স্থানে জড়ো হওয়ার প্রয়োজন হয় না। যাতে খুব ভীড় হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
উভয় বর্ণনার অর্থ একসাথে এই হবে যে, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। এই দেখা সত্য। তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকেই দেখতে পাবে।
فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا সুতরাং তোমাদের যদি সামর্থ থাকে যে, কোনো বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না: অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বের সলাতটি পড়া হতে তোমরা পরাজিত হয়ে যাবে না। এটি হচ্ছে ফজরের সলাত। আর সূর্য ডুবার পূর্বেও একটি সলাত থেকে পরাভূত হবেনা। তা হচ্ছে আসরের সলাত। তোমরা যদি উক্ত সলাত দু'টি যথা সময়ে আদায়ের সামর্থ রাখো, তাহলে সলাতদ্বয় আদায় করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি ও গাফেলতী করো না। বরং জামা'আতের সাথে এবং সঠিক সময়ে এই সলাত দু'টি আদায়ে যত্নবান হও। এই দু'টি সলাতকে খাস করে উল্লেখ করার কারণ হলো, এতে ফেরেশতাগণ একসাথে মিলিত হয়। সুতরাং আসর ও ফজরের সলাত পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই যে ব্যক্তি এই সলাত দু'টি যত্নসহকারে আদায় করবে, সে সর্বোত্তম পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত হবে। আর সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, কিয়ামাতের দিন খোলাখুলিভাবে এবং কপালের চোখ দিয়ে প্রকাশ্যভাবেই মুমিনগণ তাদের রবকে দেখতে পাবে। যে আয়াতগুলোতে আল্লাহর দিদার সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় ঐসব লোকের আলোচনা ও প্রতিবাদ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যারা এই মাসআলায় বিরোধীতা করেছে। অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন আল্লাহর দিদারকে অস্বীকার করেছে。

টিকাঃ
৪৪. সহীহ বুখারী ৫৫৪, সহীহ মুসলিম ৬৩৩, তিরমিযী ২৫৫১, আবু দাউদ ৪৭২৯, ইবনে মাজাহ ১৭৭।

রাসূল বলেন: إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ ليلة البدر لا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا « (বুখারী: ৫৫৪)
“কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রকে দেখতে পাও, সেভাবেই তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের যদি এই পরিমাণ সামর্থ থাকে, সূর্য উদয় এবং অন্তের পূর্বের সালাত হতে কোন বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না, তাহলে উক্ত সালাতদ্বয়কে তোমরা যথাসময়ে আদায় করো। "
ব্যাখ্যা: এখানে إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ কোন অসুবিধা ছাড়াই তোমরা দেখতে পাও: দ্বারা মুমিনদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। سترون এর মধ্যে যে অক্ষরিট প্রবেশ করেছে, তা ভবিষ্যৎকালের জন্য হলেও এখানে তা দ্বারা তাগিদ তথা বাক্যের বিষয়কে শক্তিশালী করা উদ্দেশ্য।
ترون ربكم অর্থাৎ তোমরা তোমাদের চোখ দ্বারা আল্লাহ তা'আলাকে দেখবে। মুমিনগণ তাদের রবকে দেখার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো রসূল হতে মুতাওয়াতির তথা ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনাকারীর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।৪৪
كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لِيلة البدر তোমরা যেমন পূর্ণিমার রাতে এই চন্দ্রকে দেখতে পাও: অর্থাৎ চন্দ্র তার পরিপূর্ণ রূপ গ্রহণ করার রাতে। এটি হচ্ছে মাসের ১৪তম রাত। ঐ রাতে চন্দ্র আলোতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এখানে এই তাশবীহ তথা আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জোর দিয়ে আল্লাহর দিদারকে সত্য হিসাবে সাব্যস্ত করা এবং তার দ্বারা রূপকার্থ উদ্দেশ্য হওয়ার সন্দেহকে দূর করা। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, এখানে আল্লাহর দিদারকে পূর্ণিমার রাতের মেঘহীন আকাশে চাঁদ দেখার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলাকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হয়নি। কেননা আল্লাহ তা'আলার لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ সদৃশ আর কিছুই নেই।
لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ উহাকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হয় না। ৮ বর্ণে পেশ দিয়ে এবং میم বর্ণে যবর দিয়ে পড়া হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কোনো যুলুম হয় না যে, ভীড়ের কারণে কেউ দেখতে পাবে আবার কেউ দেখতে পাবে না।
لا تضامون এর তা تا বর্ণে যবর দিয়ে এবং میم বর্ণে তাশদীদ দিয়ে পড়া হয়েছে। এভাবে পড়া হলে এর মাসদার হবে التضام। অর্থাৎ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের একজনকে অন্যজনের কাছে গিয়ে মিশতে হয় না। এই বর্ণনা অনুসারে অর্থ হবে, চাঁদ দেখার জন্য তোমাদের সবাইকে এক স্থানে জড়ো হওয়ার প্রয়োজন হয় না। যাতে খুব ভীড় হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
উভয় বর্ণনার অর্থ একসাথে এই হবে যে, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে। এই দেখা সত্য। তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকেই দেখতে পাবে।
فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا সুতরাং তোমাদের যদি সামর্থ থাকে যে, কোনো বস্তুই তোমাদেরকে পরাভূত করতে পারবে না: অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পূর্বের সলাতটি পড়া হতে তোমরা পরাজিত হয়ে যাবে না। এটি হচ্ছে ফজরের সলাত। আর সূর্য ডুবার পূর্বেও একটি সলাত থেকে পরাভূত হবেনা। তা হচ্ছে আসরের সলাত। তোমরা যদি উক্ত সলাত দু'টি যথা সময়ে আদায়ের সামর্থ রাখো, তাহলে সলাতদ্বয় আদায় করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি ও গাফেলতী করো না। বরং জামা'আতের সাথে এবং সঠিক সময়ে এই সলাত দু'টি আদায়ে যত্নবান হও। এই দু'টি সলাতকে খাস করে উল্লেখ করার কারণ হলো, এতে ফেরেশতাগণ একসাথে মিলিত হয়। সুতরাং আসর ও ফজরের সলাত পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে সর্বোত্তম। তাই যে ব্যক্তি এই সলাত দু'টি যত্নসহকারে আদায় করবে, সে সর্বোত্তম পুরস্কার পাওয়ার উপযুক্ত হবে। আর সেটি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকা।
হাদীস থেকে দলীল পাওয়া যাচ্ছে যে, কিয়ামাতের দিন খোলাখুলিভাবে এবং কপালের চোখ দিয়ে প্রকাশ্যভাবেই মুমিনগণ তাদের রবকে দেখতে পাবে। যে আয়াতগুলোতে আল্লাহর দিদার সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলোর ব্যাখ্যা করার সময় ঐসব লোকের আলোচনা ও প্রতিবাদ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যারা এই মাসআলায় বিরোধীতা করেছে। অর্থাৎ কিয়ামাতের দিন আল্লাহর দিদারকে অস্বীকার করেছে。

টিকাঃ
৪৪. সহীহ বুখারী ৫৫৪, সহীহ মুসলিম ৬৩৩, তিরমিযী ২৫৫১, আবু দাউদ ৪৭২৯, ইবনে মাজাহ ১৭৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00